পাগলা গণেশ কে?
পাগলা গণেশ কী? ছাদের ফুটো দিয়ে জল ঝরে পড়ে নোংরা অ্যালুমিনিয়ামের জামবাতিতে,সেখানে জীবাণু জন্মায়,বেড়ে ওঠে।ওরা কি জানে,ওরা অ্যালুমিনিয়ামের জামবাটিতে থাকে?ওদের ভবিতব্য কে লিখে? আমার মৃত্যুর পরোয়ানা আজ সাতাশ বছর আগে লেখা হয়ে গেছে,যখন ন মাস গর্ভাবাসের পর আমি ভূমিষ্ঠ হলাম,আমি জানতাম না,আমার মাও আমার মুখ দেখে যখন খুশি হয়েছিল,সেও কি জানত?জানলে কি আমায় খুন করত তক্ষুনি?তাহলে এই এখনকার যন্ত্রণা থেকে তো মুক্তি পেত!জানি না। শীতের নিঃস্বতার পর বসন্ত তার বিষাক্ত বাতাস নিয়ে আসে।কেউ জলবসন্তে পড়ে,কেউ হামে,আর বাকিরা প্রেমে।অসহ্য লাল - হলুদ তীব্র রং সব আমার চোখ ঝলসে দেয়।আমি এখন প্রেমের নাম শুনলে ভয় পাই।আমার বুকের উপর সব স্মৃতি চেপে বসে ক্রমশ,আমার দম বন্ধ হয়ে আসে,আমার ... ...
এ রাস্তা আমার নয়,আমি ল্যাংড়া মানুষ,আমি একটাও পাথর বয়ে আনিনি এর আগে,কোনো রাস্তা নেই আমার চলার,আমার কোনো পূর্বপুরুষ নেই,থাকলেও আমি জানি না।তারা কোথায় রাস্তা বানিয়েছে তাও জানিনা তাই।জানলে হেঁটে দেখতাম,কেমন লাগে বাপের রাস্তায় চলতে।ওরা আমার ধাক্কা মেরে ফেলে দিতে পারত না তাহলে।দিলেও আমি ঘুঁষি মেরে মুখ ফাটিয়ে দিতাম।তার জন্য আমায় জরিমানা দিতে হত না,তারপরেও রাস্তায় চলা বন্ধ হত না জীবনভর। আমি কিন্তু আমার অপত্যদের এর থেকে ভালো জীবন দেব,রাস্তা দেব চলার,হাত দেব ঘুঁষি মারার।তাই আমি এই খোঁড়া পায়েও পাথর বয়ে দিয়েছি ওদের,ওরা বলেছে চলতে দেবে।ওদের বিশ্বাস নেই,কিন্তু আমি আমার সন্তানকে প্রতিদিন ঘুঁষি পাকানো শেখাচ্ছি। ... ...
<a href="https://ibb.co/WNLn7Gqm"><img src="
alt="file-0000000052147208a65a5a61172fd81e" border="0"></a> প্রতিদিন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি।একটা বাচ্চা ছেলে বিকৃত মুখ,বিকলাঙ্গ শরীর নিয়ে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করছে।তার পাগুলো সরু সরু,কাঠির মতো,হাঁটুর কাছে ভেতরের দিকে মোড়া।হাতদুটোর অবস্থা তার থেকেও খারাপ।কাঁধ থেকে শীর্ণ হাতদুটি নেমে এসে কনুইয়ের কাছে পাগলা বাঁক নিয়েছে,তারপর কব্জির কাছে আবার একবার। এরূপ শ্রীর জন্য সে কাছে যেতে চাইলেই লোকেরা নাক মুখ শিঁটকে দূর দূর করে তাড়াত।তাতে সে কিন্তু হতোদ্যম হতো না,বরং একই ঘ্যানঘ্যানে নাকি গলায় বলত,"বাবু,কিছু দ্যান,কিচ্ছু খাইনি।" বা "দিদি কিছু দ্যান,কিচ্ছু খাইনি।"এর বাইরে সে একটি কথাও বলত না।কিন্তু তার এই রূপের জন্য রোজগার তার ভালোই হতো।অন্তত ওই এলাকার আর দশজনের থেকে বেশিই হতো।আর যে ... ...
১ আমিশা অবিনাশের হাত ধরে ফেলল।"তুমি আমাকে ছেড়ে যেও না, প্লিজ। তুমি জানো আমি মরে যাব।" কিন্তু অবিনাশ আবার নিস্পৃহ ভঙ্গিতে বলল, "মরলে মরবে। আমার হাত ছাড়ো, লোক দেখছে।" আমিশা - "দেখুক। তুমি আমায় ছেড়ে যেও না। তুমি যা বলবে আমি তাই করব, আমাকে তোমার দাসী করে রেখো, ছেড়ে যেও না।" অবিনাশকে খুব বিব্রত দেখায়। চারিদিকে চেয়ে দেখে, প্রায় সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে। এমন সময় পেছন থেকে একজন ধাক্কা দিয়ে বলল, "আরে এখানে দাঁড়িয়ে ন্যাকামি করছেন কেন, এগোন না মশায়। ওসব করতে গেলে সিঁড়ির কোণে গিয়ে করুন। সবার আপনাদের মতো এত বাজে সময় নেই।" অবিনাশ খুব বিব্রত হল, "সরি, সরি, মাফ করবেন।" বলেই ঘুরে দাঁড়াল আমিশার দিকে। তারপর তার হাত ধরে হিড়হিড় ... ...
দিনবদলের দিনগুলো,রঙিন,দ্রুত,অবিরাম,আনন্দময়।রাতগুলো গাঢ়,ধীরে চলে,পুরোনো কাঁথায় মোড়া,তেলচিটে বালিশ।পুরোনো ঘামের গন্ধ,যে কটা অশ্রু ফোঁটা ওখানে পড়েছিল,রয়ে গেছে।তারা বড্ড ধারালো হয়ে ফিরে আসে,প্রতিশোধ নিতে চায়। কাটে রাত, গাল কাটে।দিনে অ্যাড্রিনালিন মেশে রক্তে,সব ব্যাথা ভুলে যাই।তারপর বিকেল হলেই এখন,ভয় চেপে বসে বুকের উপর,ঘর যেতে মন চায় না।ঘুম লাগে খুব,ফিরে যেতে হয়। ক্রমে আমি ঘরের অন্ধকারে আমার ভয়ের প্রতিভূ দেখতে পাই,ও শরীর ধারণ করে।আমাকে আমন্ত্রণ জানায়,ডাকে -আমার বুকের রক্ত হিম হয়ে আসে।দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ক্লান্তি পেছন থেকে ঠেলে,রাত বাড়তে তার জোর বাড়ে,এদিকে বাড়ে ভয়ের আকর্ষণ,সে আরো লোভ দেখায়। আবার ফিরতে হয় ঘরে,সেই কামরায় -যেখানে আমার ভূত আছে,আমার শৈশব কলকল করে লাফিয়ে পড়ে আমার বুকের উপর;আমার দমবন্ধ হয়ে আসে। ক্ষুধিত পাষাণ।আমার ... ...
https://www.guruchandali.com/comment.php?topic=33827 ... ...
ঘোড়া।দাঁড়িয়ে আছে কংক্রিটের শহরে,একচিলতে ঘাসের মধ্যে।ওর সামনে ওর মৃত পূর্বপুরুষেরা,ওকে ধিক্কার দিচ্ছে,ও দেখতে পাচ্ছে তাদের ,ওরা প্রাগৈতিহাসিক,বিরাট,পেশীবহুল, বীর্য্যবান,বীর।আজকের আমাদের ঘোড়াটি ওদের দেখে লজ্জা পাচ্ছে।ওরা স্বাধীন,আমাদের ঘোড়া নিজেকে বিক্রি করে দিয়েছে,দুমুঠো খাবারের জন্য।কিন্তু তবু আমাদের ঘোড়াটি মালিককে ছাড়তে চায় না,স্বাধীনতা চায়, বেইমান হতে চায় না। ওর ছেলেমেয়েও দাস হবে,কিন্তু তারা কোনো কাজে লাগবে না আর এ সভ্যতায়,ওদের বিকল্প আছে।ও একইসাথে পূর্বপুরুষ আর উত্তরপুরুষদের দিকে তাকিয়ে আছে,তবে এখানে একটা অমিল আছে,ও নিজের উত্তরপুরুষদের,সন্তানদের, অপত্যদের ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখছে না,করুণা ঝরে পড়ছে ওর চোখ দিয়ে,নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছে আমাদের ঘোড়া।ও খুব দূর্বল হয়ে পড়ছে,অশ্রুঝাপসা দৃষ্টিতে ওদের দেখছে,নিপীড়িত,অবহেলিত,ব্রাত্য পশুগুলো ওর আজকের দুর্বলতার ফল,দ্বিধার ফল।ও চাইলেই চক্র ... ...
একটা ছবির কথা খুব মনে পড়ে।আমি,আমার মা নীচে বসে আছি,হাসছি।আব্বু বিছানার উপর রুটিটা ঝোল ডুবিয়ে মুখে তুলতে যাচ্ছে।আমি আঠাশ,আম্মা পঞ্চাশ আর আব্বু ষাট।দেখলে সুখী পরিবার মনে হয়।কিন্তু আমি আমার আব্বুকে খুব ঘৃণা করি,প্রাণপণে।আমার আম্মা চির নিপীড়িত বঞ্চিত।আমিও বঞ্চনা করি,কিন্তু আম্মা কিছু বলে না,আমাকেও না,ভাইকেও না,আব্বুকে তো নয়ই।আমার আম্মা ধর্মভীরু মানুষ,খুব আল্লাকে মানে।আব্বুও তাই,তবে সে তার মর্জির মালিক,তার মতের বিরুদ্ধে আল্লা দাঁড়ালে তাকেও রেয়াত করবে না আমি জানি।আমার ভাই এই ছবিতে নেই,সে দিল্লিতে।জরির কাজের নকশা তৈরি করে। কয়েক বছর কেটে গেছে এরপর,আব্বু মরে গেছে,ঘুমের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক করেছিল,হাসপাতাল যেতে হয়নি।আম্মা অশক্ত,আমি মধ্য তিরিশে।ওই ছবিটা দেখি আর ভাবি,আব্বুর উপর প্রতিশোধ নেওয়া হল ... ...
যেসব নদীর বুকে পিলার গেঁথে দিয়েছ, তারা কী করে সুখী হবে? তোমার নদীর উপর দিয়ে যেতে ভালো লাগে, ভালো লাগে চুম্বনরত বা আলিঙ্গনাবদ্ধ শুকসারি - কিন্তু যার বুকে ক্ষত, টন টন ভার বয়ে সুখী হতে পারে কি সে? তোমার শহরে যেতে কম সময় লাগে, সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরতে পারো, সেগুলো তোমার লাভ। কিন্তু নদীর তো বুকের রক্ত বাধা পায়, বইতে পারে না, গান গায় না বহুদিন। ওর করোনারি আর্টারি ব্লক হয়ে ... ...