এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বেলার আশ্চর্য নাম- অরিত্র আহমেদ 

    Aritra Ahamed লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২ বার পঠিত
  • *
    বেলা, যে গান গাইছো তুমি, রক্তে তোমার
    যে সুর মাছের মতো সাঁতরাচ্ছে ঘূর্ণিপাকে,
    ফেলে রাখো যে শব্দমালা তোমার আত্মার
    একটি কোণে- আমি সব লিখে নিচ্ছি, জেনো,
    তোমার সুঘ্রাণ, সিক্ত নামাবলি, তৃপ্তি, জীবনের
    মিথ্যা বালুকারাশি, যৌবনের বিষণ্ণ বিস্ময়!

    *
    যখন রুপালি বেলা খুলে দিলো তুষারের মতো গাঢ় চুল,
    যখন তুষার বেলার হাসিতে মিশে ঝরে ঝরে পড়লো,
    যখন অ্যাপোলো চাইলেন বেলা ফুলশয্যায় ডুবে যাক,
    যখন বেলাও চাইলো অ্যাপোলো বুকের বোতাম খুলে নিক,
    যখন তুষারে বেলা ভিজে গেলো, অ্যাপোলো দিলেন আশ্রয়,
    যখন অ্যাপোলো হলেন ক্ষুধাতুর, বেলা হেসে খুলে দিলো নিজেকে-

    তখন আমার কিছু নেই, আমি গান, আমি তখনো গানের রাজা!
    বৃথাই গাইছি, হে তুষার, হে তুষার, তুমি আমার ঊষর জীবনে
    কী চাষ করবে, কী ফোঁটাবে? বেলা সমস্ত ফুল নিয়ে উধাও!
    বেলা তুষারের মতো নববধূ, আজ আমার স্বপ্ন বেলার কপালে কুমকুম!
    আমার স্বপ্ন বেলার আফিমে চঞ্চল, তুমি বেলাকেই এনে দাও!
    আমি অ্যাপোলোর কাছে হেরে গেছি, হে তুষার, তুমি মিছে আর ঝরে পোড়ো না!

    *
    কেনো ফেলে রাখা ফুল, শুভ্র ফুল? হে ফাগুনদগ্ধা,
    শ্রেয়সী তুমি, যখন অগ্নিশিখা বৃষ্টিতে মিশে স্নাত
    সময়ের ছাই, আর যখন হৃদয় এক টকটকে সূর্যাস্ত,
    ক্ষুধার্ত তোমার জন্য, যে তুমি গোধূলি, আর
    অগ্নিশিখা, প্রজাপতি- যে তোমাকে জিয়াই আশ্চর্য ফুলেঃ
    মুছে যাক সৌন্দর্য, ধুয়ে যাক স্মৃতির শোভন লাভা,
    এই খুন্ন পৃথিবীতে তুমি কি বসন্ত নও, হে মর রূপসী?

    *
    যে তোমাকে জাগাতে পারে না, শুধু তারই হাতে
    কেমন মিতালি খুঁজে ক্রমশঃ নিজেকে মিইয়ে দাও,
    জিইয়ে রাখো যা তোমারই নয়! ক্রুর, অবিনাশী, রাঙা,
    পাঁকা আগুনের ফুল, যা বসন্ত বুক ফাঁকা করে,
    সুরে সুরে তোমাকে দিয়েছে; এই অফুরান ছলাকলা
    বসন্তেরই দীক্ষা! তাই হঠাৎ নিঃশস্য ঋতু এলে
    গর্ভিনীর আহ্লাদে ঘুমাও তুমি, মোহিনী স্মৃতির চুলে
    নিমেষেই ফুল হয়ে মেশো, জাদু স্মৃতিই কেবল জানে!
    আর তুমি জাদুর কুমারী, বেলা, ঘুমাও, তোমারই পিছে
    কাঠবিড়ালির মতো বসন্তেরও নেশায় নেশায় জাগে গান!

    *
    আমার কোনো স্বপ্নই
    ততোটা স্বপ্ন নয়, যতোটা তুমি!
    আমার কোনো কামনাই
    তোমাকে গ্রাস করতে পারে না।
    এই দুনিয়ার মায়াবী গতরে
    রোদসী রিরংসা হয়ে ঘুমায়িত তুমি;
    রুপালি বর্শার মতো
    মৃত্যুর মখমল বুকে গেঁথে আছো;
    আর তোমার সৌন্দর্য
    যেনো ঈশ্বরের অশ্রুবিন্দু, ঝরোঝরো,
    বসন্তে বৃষ্টির মতো,
    কেননা আনন্দ পেলে তিনিও কাঁদেন!

    *
    চপল হও, হে মরমিতা! হবো পৃথিবীর শুভ্র ঢেউ!
    আজকের ধনুকে গেঁথে আগামীকালের বর্শা
    ছুঁড়ে দেবো অনন্তের বুকে; যদি সে পাখিই হয়,
    তার রক্ত, তার মৃত্যু, শুভ্র স্মৃতি, তোমারই জন্যে রইলো!

    ওগো নিঃসঙ্গীতা, এই বাতাসের আত্মায়
    মিশে যাও, যেনো ক্রন্দসী; আর বুকে ধরো
    মৃত্যুর সুমসাম শিশু, স্মরণ করো না-ফোঁটা ফুলের গান!
    আমাদের বানপ্রস্থে মৃত্যু হোক রঙিলা রামধনু!

    এই শরৎ প্রতারক, এই আকাশ ঝিমে ধরা শেফালি,
    তুমিও বলেছো এই মহাবিশ্বও নিঃশেষে
    ফুল হ’য়ে ঝরে যাবে আমাদের বুকে, তবে কী সেই জাদু,
    আর কী সেই গোপন অমৃত-বাণ, অমৃতরূপিনী?

    আমাদের বাসি গান তোমার কণ্ঠে তুলে
    করো পরিশ্রুতবাদ্য, মুখর শিশুর মতো,
    যে নরক প্রচ্ছন্ন, সুপ্ত- তারই তীব্র অগ্নিশিখা
    বাতাসে ভিড়িয়ে দাও বাসনার সুরেলা সেরেনাদ!

    তুমি কোন হিম স্মৃতি, বসন্তের হে সতী দুহিতা?
    এ পৃথিবী তোমার বিপণি নয়, এই সূর্য অপারগ
    তোমার শীতল সুরে। রেখো এই অমর প্রণাম তবু
    বাতাসের বহ্নিশাখে, দেবোত্তর সুরেলা হাওয়ায়!

    আমাদের দীপ্তিনাশে থেমো না, অনন্তে রাখো
    দুই ওষ্ঠ, ভুলে যাও মৃত্যুর শ্মশ্রুল মুখ, যেনো এই
    কান্তিময়ী সুরের ছায়ায় হই আমরা দলচ্ছুট, শান্তা,
    অসীমের স্নেহধন্যা, স্মৃতির আরক্ত নীবি, হে উভচরিনী!

    আর যে-ই বলে, ‘তক্ষক সময়ই বিজয়ী', রেখো
    তারও জন্যে উদ্বারিত উর্বর খড়ের শয্যা, কোরো তাকে
    স্মৃতির আসবচ্যুত; এই খিন্ন সময় জানুক যেনো-
    তোমারই চরণপাতে এ মর বিশাখা আজও ঈশ্বরের ঈর্ষার কারণ!

    [রচনাকাল: ২০১৮-১৯]

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন