আমার মনে হয় দুয়েকটা ফ্যাক্টর আলোচনা করা উচিত।
একটা ফ্যাক্টর হলো, সারা দেশে, পুরো পপুলেশানের মধ্যে পুলিশ-প্রশাসন-বিচারব্যবস্থার ক্রেডিবিলিটি ০%। শুধু পবতে না, সব রাজ্যেই। আর এর কৃতিত্বও সব পার্টিরই, কং-বিজেপি-বাম পার্টিরা-সব লোকাল পার্টিরা যারা যখন ক্ষমতায় থেকেছে পুলিশ আর বিচারব্যবস্থা নিজেদের সুবিধেমতো ব্যবহার করেছে। গুজরাট গণহত্যার পরেও মোদির কিছু হয়নি, সুপ্রিম কোর্ট সার্টিফিকেট দিয়ে দিয়েছে। জাস্টিস লোয়া হত্যাকান্ডের কোন সুরাহা হয়নি। এরকম অজস্র উদাহরন আছে, যার ফলে "সরকারি বয়ান" কেউ বিশ্বাস করে না। ফলে যেকোন ঘটনাতেই গুজব ছড়ায় বা ছড়ানো হয়।
দ্বিতীয়, আর জি করের ঘটনার পর তিনো সরকার, পুলিশ, আর ছোটবড়ো নেতারা যেভাবে সন্দীপ ঘোষ আর আরও দুয়েকজনকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে সেটাও সবাই দেখেছে, ফলে একটা অ্যাসোসিয়েশান, আর সেখান থেকে কজেশান এর পার্সেপশান সহজে তৈরি হয়েছে। সন্দীপ ঘোষকে যদি ইমিডিয়েট প্রাইজ পোস্টিং না দেওয়া হতো, পুলিশ যদি অন্য দুয়েকজনকে আড়াল করার চেষ্টা না করতো, তাহলে হয়তো গুজবগুলো এতোটা এফেক্টিভ হতো না। যদি দিল্লির নির্ভয়া কেসের সাথে তুলনা করি, ধরুন সেই সময়ের শীলা দিক্ষিত সরকার যদি ইমিডিয়েটলি ঐ বাস ড্রাইভারকে অন্য কোন চাকরির অফার দিত, বা কং নেতা-কাম-গুন্ডারা যদি পুরো ঘটনাটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করতো তাহলে পাবলিক পার্সেপশান কিরকম হতো?
পবতে অনেক দুর্ঘটনা, মার্ডার, রেপ, মোলেস্টেশান ইনসিডেন্ট হয় যেখানে দিদি নিজে বা তিনো নেতারা একটু দেরি না করে ভিক্টিম ব্লেমিং শুরু করে দেয়। সব ঘটনা মনে নেই, তবে মনে পড়ছে পার্ক স্ট্রিট ঘটনা, যেখানে দিদি ভিক্টিমকেই দায়ী করেছিলেন। পাবলিক এগুলো মনে রাখে, এইসব ঘটনা থেকেই ট্রেন্ড তৈরি হয়। ফলে, আর জি করে হয়তো সঞ্জয় একাই কান্ডটা করেছিল, কিন্তু পাবলিক যখন দেখে তিনো পার্টির তরফে দুয়েকজনকে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে, তখন স্বাভবিকভাবেই পাবলিক সন্দেহ করতে শুরু করে, গুজব ছড়ানোর ফার্টাইল গ্রাউন্ড তৈরি হয়।