এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • অভয়া বিচার পায় নাই?

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ২০ মার্চ ২০২৬ | ১৭৮ বার পঠিত
  • যাঁরা এখনও নাগাড়ে "অভয়া বিচার পায় নাই" বলে যাচ্ছেন, তাঁদের কাছে এবার স্পষ্ট করে জানতে চাইবার  সময় এসে গেছে, ঠিক কী বলতে চাইছেন? ১। সঞ্জয় রাই খুনি না। ২। সঞ্জয় রাই খুনি, কিন্তু আরও কেউ জড়িত। এই দুটোর কোনো একটা হতেই পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে পরিষ্কার করে বলতে হবে, তাহলে খুনি কে, এবং/অথবা, খুনে আর কে জড়িত ছিল।  এই দুটো না জানলে তো কথাগুলো বলা যায়না। এবং অবশ্যই তার পক্ষে কিছু যুক্তিও পেশ করতে হবে। আমি মনে করতেই পারি রাজীব গান্ধির মৃত্যুর জন্য আমার পাশের বাড়ির ভুলুপিসিমা দায়ী, কারণ উনি রাজীব গান্ধিকে টিভিতে দেখলেই গালাগাল দিতেন, এছাড়া ওঁর বাড়িতে চকলেট বোমও ছিল। কিন্তু সেটা বললে লোকে হাসবে। তো, এইরকম কিছু বস্তু ছাড়া আর কিছু যদি থাকে তো পেশ করুন। গোদি-মিডিয়ার মতো গুলবাজি করে দিলে তো হবেনা। তারপর সাংবাদিক সম্মেলন করুন, সোশাল মিডিয়া লাইভ করুন, যা খুশি করুন। আমিই আরজিকর নিয়ে একটা বই লিখেছি, সেরকম একটা কিছুও বিশদে লিখতে পারেন। যুক্তিসংগত কিছু থাকলে নিশ্চয়ই, লোকে বুঝবে। এই আমিই ব্যক্তিগতভাবে সঙ্গে থাকব, আপনাদের পক্ষে বলব, লিখব। এখনও পর্যন্ত বলার বা লেখার মতো কিছু পাইনি। দু-একটা যা পেয়েছি, তা নেহাৎই ভুলে ভর্তি, প্রায় শিশুসুলভ।  তাই, এসব করার আগে, অবশ্যই আদালতের রায়, সাক্ষীদের বয়ান পড়ুন, এই নিয়ে কথা বলার থাকলে ওগুলো সহজপাঠের মতো আগে পড়তে হবে। তারপর নিশ্চয়ই ফাঁক-ফোকর দেখবেন, যুক্তি দেবেন, আদালতের রায় তো গীতার অধ্যায় নয়, যে, সব নতমস্তকে মেনে নিতে হবে।  কাজেই, অবশ্যই নিজেদের বক্তব্যটা জানাবেন। আর সেটা যদি না করে, স্রেফ ধোঁয়াশা তৈরি করে চলেন, তবে বলতেই হবে, বিজেপির পক্ষে জনসমর্থন তৈরি করার সক্রিয় চেষ্টা করছেন। 

    এছাড়াও আরও কিছু জিনিসেরও ব্যাখ্যা চাইবার সময় এসে গেছে। সেটা ঘটনাপরম্পরা নিয়ে। ৯ তারিখ ঘটেছিল মর্মান্তিক ব্যাপারটা । প্রশাসনের নাকের ডগায়, হাসপাতালের মধ্যে একজন সরকারি চিকিৎসক ধর্ষিতা এবং খুন হলেন। এর দায় অবশ্যই প্রশাসনের। অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার, ফোনে আত্মহত্যা বলার চেষ্টা করলেন। জুনিয়ার ডাক্তাররা গর্জে উঠলেন। তাঁদের দাবীতেই হাসপাতালে, সেদিনই, অন ক্যামেরা, ময়নাতদন্ত হল। মীনাক্ষি মুখার্জি, অগ্নিমিত্রা পলরা এলেন। টিভিতে খবর হল। 

    এ পর্যন্ত যা হবার তাইই হয়েছিল। একটু কমই হয়েছিল, কারণ শুধু খুন তো না, নিরাপত্তা-ব্যবস্থার এই অবস্থার জন্য দায়ীদেরও শাস্তি প্রাপ্য।  কিন্তু সেসব নিয়ে আওয়াজ না তুলে তারপরেই ছড়াতে থাকা হল গুজব। মীনাক্ষী, কলতান গাড়ি আটকেছেন, নইলে কিছুই হতনা, এটা প্রথম ভুয়ো খবর, যদিও খুবই খুচরো। কিন্তু তারপরের গুলো আর খুচরো রইলনা। তিনদিন পরে,  আগস্টের ১২ তারিখ, সুবর্ণ গোস্বামী আনন্দবাজার অনলাইনে বললেন "পোস্টমর্টেম রিপোর্টে যা লিখেছে, তাতে একটা হিউজ পরিমান, প্রায় দেড়শো গ্রামের বেশি লিকুইড স্যাম্পল তারা পেয়েছে, সেটা হয়তো কিছুটা রক্তমাখা সিমেন হতে পারে, কিন্তু এতটা ভারি স্যাম্পল, আমাদের যা মনে হয়, এটা একজনের বীর্য হতে পারেনা।" পরের দিন, ১৩ তারিখ, হাইকোর্টের  শুনানিতে অধুনা-বিজেপি-প্রার্থী মৃতার মা এবং বাবার হয়ে সওয়াল করছিলেন অধুনা সিপিএম-প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। সেখানে তিনি খুব স্পষ্ট করে বললেন, কাল (অর্থাৎ ১২ তারিখ) যখন উনি ওই জায়গায় (আরজি করেই হবে) সহমর্মিতা জানাতে গিয়েছিলেন, তখন, ফরেনসিক এক্সপার্টের সঙ্গে কথা হয়। তিনি পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দেখে বলেছেন, এই ধরণের আঘাত একজনের পক্ষে করা সম্ভব না। অনেক লোকের অনেক কাজকর্ম থাকতেই হবে।

    এই দুটো, নিঃসন্দেহে ভুয়ো খবর। সেই তথাকথিত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের আর খবর পাওয়া যায়নি, পরে সর্বভারতীয় বিশেষজ্ঞরা যা রিপোর্ট দিয়েছিলেন, তা ঠিক উল্টো। এবং ততক্ষণে বাজারে এসে গেছে ভুয়ো খবরের ওভারডোজ, "আমি সোমা বলছি"। মেয়েটির উপর কীকরে অত্যাচার হল, তার গ্রাফিক বর্ণনা। একটি মেয়ে নাকি তিলোত্তমার মুখ চেপে ধরে রেখেছিল, যখন বাকিরা অপকর্ম করছিল। কারা সেই বাকিরা? সেই নামও হয়ে গেল ভাইরাল, অবশ্যই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছেলের নাম আছে সেখানে। সঙ্গে চলতে লাগল মিডিয়া জুড়ে আরও অনেক গল্পকথা। এই সব কটা বিদ্যুৎগতিতে ছড়িয়ে পড়ল সমাজমাধ্যমে, মিডিয়ায়। স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ ভয়ানক ক্ষুব্ধ হলেন। 'কাটার-বাচ্চা'র উপর রাগটা ফাউ। কিন্তু ক্ষুব্ধ হলেই তো রাস্তায় নেমে পড়া যায়না। ততক্ষণে রাতদখলের ডাক এসে গেছে। জায়গায় জায়গায় তৈরি হল মঞ্চ। যাঁরা প্রাথমিকভাবে ডাক দিয়েছিলেন, এত উদ্যোগে তাঁরাও গেলেন বোমকে। এবং কার্যত টিভিতে কোলাজ করে যখন দেখানো হল, দেখা গেল, সর্বত্র একই স্লোগান, একই ধ্বনি। এই মঞ্চ কারা করলেন, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে কো-অর্ডিনেশন কারা করলেন, কেউ জানেনা। 

    যে ব্যাখ্যাটা এখানে চাওয়া হচ্ছে, সেটা হল, এই ভুয়ো খবরের স্রোত কি আপনারা জানতেন না? পিছনে থাকা আয়োজকদের কথা জানতেন না? না জানা অসম্ভব। কাজেই সেটা প্রশ্নই নয়। যে ব্যাখ্যাটা দরকার, সেটা হল, "ভুয়ো খবর হচ্ছে হোক, আন্দোলনটা চললেই হল" এইরকম সুবিধেবাদী অবস্থান নিয়েছিলেন, নাকি ভুয়ো খবরের পিছনে আপনাদেরও অবদান আছে? এই ব্যাখ্যাটাও স্পষ্ট করে এবং প্রকাশ্যে না পেলে, সত্যিই ভাবতে হবে, নারায়ণ ব্যানার্জি বা তিলোত্তমার বাবা-মা নন, হিন্দুবীরদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা একটি যুক্তফ্রন্টে আরও অনেক ছুপা রুস্তম আছে, যারা এই কান্ডগুলো ঘটিয়েছে, যাতে বিজেপি এর ফসল তুলতে পারে। বিজেপি যে গোদি মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে সংগঠিত পরিকল্পনা করে, এতে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু তাদের জাল কদ্দুর, এটাও জানা দরকার।

    নিজেদের বিজেপি-বিরোধী হিসেবে আদৌ যদি প্রোজেক্ট করতে হয়, তো এগুলো জানান। নইলে, যখন আন্দোলনের খুঁটিরা একে একে বিজেপি চলে যাচ্ছেন, তখন আর ন্যূনতম বিশ্বাসযোগ্যতাও থাকবেনা, সত্যিই বিজেপির হাতে তামুক খেয়ে এসব হয়েছে কিনা প্রশ্ন উঠে যাবে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:b942:53ee:8fd2:***:*** | ২০ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪১739277
  • আমার মনে হয় দুয়েকটা ফ্যাক্টর আলোচনা করা উচিত। 
     
    একটা ফ্যাক্টর হলো, সারা দেশে, পুরো পপুলেশানের মধ্যে পুলিশ-প্রশাসন-বিচারব্যবস্থার ক্রেডিবিলিটি ০%। শুধু পবতে না, সব রাজ্যেই। আর এর কৃতিত্বও সব পার্টিরই, কং-বিজেপি-বাম পার্টিরা-সব লোকাল পার্টিরা যারা যখন ক্ষমতায় থেকেছে পুলিশ আর বিচারব্যবস্থা নিজেদের সুবিধেমতো ব্যবহার করেছে। গুজরাট গণহত্যার পরেও মোদির কিছু হয়নি, সুপ্রিম কোর্ট সার্টিফিকেট দিয়ে দিয়েছে। জাস্টিস লোয়া হত্যাকান্ডের কোন সুরাহা হয়নি। এরকম অজস্র উদাহরন আছে, যার ফলে "সরকারি বয়ান" কেউ বিশ্বাস করে না। ফলে যেকোন ঘটনাতেই গুজব ছড়ায় বা ছড়ানো হয়। 
     
    দ্বিতীয়, আর জি করের ঘটনার পর তিনো সরকার, পুলিশ, আর ছোটবড়ো নেতারা যেভাবে সন্দীপ ঘোষ আর আরও দুয়েকজনকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে সেটাও সবাই দেখেছে, ফলে একটা অ্যাসোসিয়েশান, আর সেখান থেকে কজেশান এর পার্সেপশান সহজে তৈরি হয়েছে। সন্দীপ ঘোষকে যদি ইমিডিয়েট প্রাইজ পোস্টিং না দেওয়া হতো, পুলিশ যদি অন্য দুয়েকজনকে আড়াল করার চেষ্টা না করতো, তাহলে হয়তো গুজবগুলো এতোটা এফেক্টিভ হতো না। যদি দিল্লির নির্ভয়া কেসের সাথে তুলনা করি, ধরুন সেই সময়ের শীলা দিক্ষিত সরকার যদি ইমিডিয়েটলি ঐ বাস ড্রাইভারকে অন্য কোন চাকরির অফার দিত, বা কং নেতা-কাম-গুন্ডারা যদি পুরো ঘটনাটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করতো তাহলে পাবলিক পার্সেপশান কিরকম হতো? 
     
    পবতে অনেক দুর্ঘটনা, মার্ডার, রেপ, মোলেস্টেশান ইনসিডেন্ট হয় যেখানে দিদি নিজে বা তিনো নেতারা একটু দেরি না করে ভিক্টিম ব্লেমিং শুরু করে দেয়। সব ঘটনা মনে নেই, তবে মনে পড়ছে পার্ক স্ট্রিট ঘটনা, যেখানে দিদি ভিক্টিমকেই দায়ী করেছিলেন। পাবলিক এগুলো মনে রাখে, এইসব ঘটনা থেকেই ট্রেন্ড তৈরি হয়। ফলে, আর জি করে হয়তো সঞ্জয় একাই কান্ডটা করেছিল, কিন্তু পাবলিক যখন দেখে তিনো পার্টির তরফে দুয়েকজনকে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে, তখন স্বাভবিকভাবেই পাবলিক সন্দেহ করতে শুরু করে, গুজব ছড়ানোর ফার্টাইল গ্রাউন্ড তৈরি হয়। 
  • দীপ | 2402:3a80:1975:4970:678:5634:1232:***:*** | ২০ মার্চ ২০২৬ ১০:০৯739278
  • আপনার গায়ে মানুষের চামড়া আছে?
    মনে তো হয়না!
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:b942:53ee:8fd2:***:*** | ২০ মার্চ ২০২৬ ১০:১৩739279
  • হ্যাঁ, এই হলো উদাহরন। দীপচাড্ডির মতো জিনিসগুলো এইসবের সুযোগ নেয়। 
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ২০ মার্চ ২০২৬ ১০:১৮739280
  • ডিসির এই বক্তব্যটা বেশ ঠিকঠাক মনে হল। রাজ্য সরকারের শুরু থেকেই আরও বেশি সাবধানী হওয়া উচিত ছিল যাতে ঘটনাটা ঘিরে এত বেশি ধোঁয়াশা না তৈরি হয়, সন্দীপ ঘোষ কে তার অপদার্থতা ও অন্যান্য দুর্নীতির জন্য অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত ছিল এবং দুর্নীতি চক্রের বাকিদেরও। 
     
    আমার ব্যক্তিগত ধারণা সঞ্জয় রাই একমাত্র ধর্ষক ছিল, এবং পুলিশ ও সিবিআই এর রিপোর্ট ও সেই কথা বলছে। কিন্তু শুরু থেকে এত বেশি গুজব ছড়িয়েছে তার ফলেই ওই ব্যাপারটা নিয়ে বেশ কিছু লোকের বদ্ধমূল ধারণা হয়ে গেছে যে আরো অনেক লোকের কাজ, 'প্যাংলা' সঞ্জয় একা পারবে কি করে, এইসব। আসলে মানুষ যেটা বিশ্বাস করতে চায়, সেটাই দেখে। যেমন এখনো অনেকে বিশ্বাস করেন সুশান্ত সিং রাজপুত এর ঘটনা আত্মহত্যা নয়, তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল। 
     
    তবে এই ঘটনায় ধর্ষক শুধু সঞ্জয় হলেও প্রচন্ড নিরাপত্তার অভাব ছিল এটা সত্যি ঘটনা। এর জন্য যারা দায়ী তাদেরও শাস্তি হওয়া উচিত। তবে যারা বলছেন এটা বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা, তাই ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল, তাঁদেরকে বলি ফাঁসি সঠিক শাস্তি কিনা আমার কোনো বক্তব্য নেই সেটা নিয়ে। কিন্তু এই ধর্ষণ বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা নয়, ভারতবর্ষে প্রতি মিনিটে চারটে ধর্ষণ হয় (আমি অফিসিয়াল তথ্যসূত্র চেক না করে লিখছি, আসল সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে)। কিন্তু এটা যেহেতু আপার মিডল ক্লাস পরিবারের ঘটনা তাই সমাজ এতটা আলোড়িত হয়েছে, ওই ঘটনার আশেপাশেই আরেকটা ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল, যেটা পেপারে এসেছিল,  কজন গুগল না করে সেই স্থানটুকুর নাম বলতে পারবেন। সেটা নিয়ে কেন একটুও আলোড়ন হল না? আর্থ সামাজিক স্তর আলাদা বলে?
  • দীপ | 2402:3a80:198b:6cfa:678:5634:1232:***:*** | ২০ মার্চ ২০২৬ ১০:১৮739281
  • "অভয়া, তামান্না; দু'জনের মায়েরাই বুঝেছেন বিচার পেতে হলে ক্ষমতা চাই। 
    মায়েদের নিয়ে একটাও কটু কথা নয়, একদম নয়। ওঁরা প্রকৃতই সর্বহারা। বরং মায়েদের জন্য রইল আন্তরিক সমবেদনা। ওঁরা ওদের মনের যন্ত্রণায় যা করেছেন, তা নিয়ে কারুর বিচার করার অধিকার নেই। 
     
    তবে এটা তো বুঝেছেন ক্ষমতা থাকে না বলেই সাধারণ মানুষ বিচার পায় না!!
     
    অবশ্য ভোট মিটে গেলে, এঁরাও কি আর বিচার পাবেন? কে জানে!!"
     
    আরেক মা লিখেছেন।
     
    গায়ে মানুষের চামড়া থাকলে এঁদের নিয়ে কটূক্তি করতেন না!
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:b942:53ee:8fd2:***:*** | ২০ মার্চ ২০২৬ ১০:৩১739282
  • "কিন্তু এটা যেহেতু আপার মিডল ক্লাস পরিবারের ঘটনা তাই সমাজ এতটা আলোড়িত হয়েছে, ওই ঘটনার আশেপাশেই আরেকটা ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল, যেটা পেপারে এসেছিল,  কজন গুগল না করে সেই স্থানটুকুর নাম বলতে পারবেন"
     
    হ্যাঁ আর্থসামাজিক কারন তো আছেই। তাছাড়া আর জি করের মতো ব্যাস্ততম হাসপাতালে এরকম ঘটনা ঘটলো, ফলে মিডিয়া কভারেজ করতেও সুবিধা হয়েছে। 
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ২০ মার্চ ২০২৬ ১০:৩২739283
  •  অভয়ার বাবার এই বক্তব্যটা আমার খুবই সমস্যাজনক লাগল।

    “(বিজেপির) প্রস্তাব অনেকদিন আগেই এসেছিল। তবে মানসিক প্রস্তুতি নিতে সময় লেগেছে। আমরা বারবার বলেছিলাম আমার মেয়ের মৃত্যুর উপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করতে দেব না। সেটাই করল। বামপন্থী দলগুলি আন্দোলন করেছে, বিচার যাতে না পাই সেই কাজটা করেছে। বিচার পাওয়ার কাজ তারা করেনি। বিচার যাতে না পাই, তাই বাধা দিয়ে যাচ্ছে।”
     
    বামফ্রন্ট কিভাবে বাধা দিল এটা আমি বুঝতে পারলাম না, বামফ্রন্ট তো শুরু থেকেই পাশে থেকে আন্দোলন করে গেছে। আর বিজেপি এসে নারী সুরক্ষার উন্নতি করবে এ যে অলীক কল্পনা মাত্র সেটা বলার আর অপেক্ষা রাখে না।
  • এখানে | 103.5.***.*** | ২০ মার্চ ২০২৬ ১০:৩৮739284
  • মেনশন করার উপায় নাই? তাইলে ডট কে ডেকে নিন, উনি চাড্ডিদের লজিকটা বুঝিয়ে যাবেন
  • ডন | 2a03:4000:6:e047:6494:62ff:fe3f:***:*** | ২০ মার্চ ২০২৬ ১০:৪৭739285
  • তিনোগিরি ভি হোগা অউর মানুষের চামড়া ভি হোগা ইয়ে মুশকিল নেহি, নামুমকিন হ্যায়।
  • দীপ | 2402:3a80:198b:6cfa:678:5634:1232:***:*** | ২০ মার্চ ২০২৬ ১১:৪০739287
  • মনপ্রাণ দিয়ে চাই;
    অভয়ার মা ভোটে জিতুন,
    তামান্নার মা ভোটে জিতুন।
     
    তৃতীয় বিশ্বের দেশে এতে বিশেষ কোনো পরিবর্তন হবেনা।
    তবে এইটুকু অন্তত হোক।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন