এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • লিওনটিভের দৃষ্টিতে ভারতের ধর্মীয় সংকট: শ্রেণী-সংকটের একটি প্রকাশ

    albert banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৪৮ বার পঠিত
  •  
     মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি এবং সামাজিক বাস্তবতা

    সোভিয়েত মনস্তত্ত্ববিদ আলেক্সেই নিকোলায়েভিচ লিওনটিভ (১৯০৩-১৯৭৯) তার কার্যকলাপ তত্ত্বের মাধ্যমে মানব চেতনা ও সমাজবিশ্লেষণের একটি মৌলিক কাঠামো প্রদান করেছেন। লিওনটিভের মতে, ব্যক্তির চেতনা গঠিত হয় সামাজিক-ঐতিহাসিক কার্যকলাপের মাধ্যমে, যেখানে বস্তুগত উৎপাদন প্রক্রিয়া ও সামাজিক সম্পর্ক মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তাঁর বিশ্লেষণে, ধর্ম বা অন্যান্য আদর্শিক গঠন কখনই স্বাধীন বা স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়; বরং সেগুলো সমাজের বস্তুগত ভিত্তি ও শ্রেণী কাঠামোর প্রকাশ মাত্র।

    ভারতবর্ষের প্রেক্ষাপটে লিওনটিভের এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করলে দেখা যায়, এখানকার ধর্মীয় সংকট ও সাম্প্রদায়িকতা আসলে গভীরতর শ্রেণী-সংকটেরই বহিঃপ্রকাশ। ভারতের বহুস্তরীয় সামাজিক ব্যবস্থা—যা বর্ণ, শ্রেণী, লিঙ্গ ও সম্প্রদায়ের জটিল আন্তঃসম্পর্কে নির্মিত—সেখানে ধর্মীয় পরিচয় প্রায়শই সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে আড়াল করতে বা বৈধতা দিতে ব্যবহৃত হয়।

    এই রচনায় আমরা লিওনটিভের তাত্ত্বিক কাঠামো ব্যবহার করে ভারতের ধর্মীয় সংকটকে বিশ্লেষণ করব, দেখাব কীভাবে এই "ধর্মীয়" সংঘাত আসলে অর্থনৈতিক বৈষম্য, বর্ণভিত্তিক শ্রেণীকাঠামো এবং নব্য-উদারবাদী অর্থনীতির প্রভাবে সৃষ্ট শ্রেণী-সংকটেরই বহিঃপ্রকাশ।

     প্রথম অধ্যায়: লিওনটিভের কার্যকলাপ তত্ত্ব ও সামাজিক বিশ্লেষণের কাঠামো

     কার্যকলাপ তত্ত্বের মূলনীতি
    লিওনটিভের কার্যকলাপ তত্ত্ব তিনটি মৌলিক স্তরে সংগঠিত: কার্যকলাপ, ক্রিয়া এবং প্রক্রিয়া। মানুষের চেতনা গঠিত হয় সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে, বিশেষত উৎপাদনমূলক কার্যকলাপের মাধ্যমে। লিওনটিভের মতে, "চেতনা নির্মিত হয় কার্যকলাপের মাধ্যমে, কার্যকলাপের জন্য নয়।" এই দৃষ্টিভঙ্গি মার্কসীয় ঐতিহ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে আদর্শিক উপকরণসমূহ (ধর্ম, সংস্কৃতি, রাজনীতি ইত্যাদি) সামাজিক-অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর নির্মিত উপরিকাঠামো।

     শ্রেণীচেতনা ও ধর্মের সম্পর্ক
    লিওনটিভের বিশ্লেষণে ধর্মকে দেখা হয় একটি সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক গঠন হিসেবে, যা নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে উৎপাদন সম্পর্কের প্রতিফলন। ভারতে ধর্ম শুধু ব্যক্তিগত বিশ্বাস নয়, বরং একটি সামাজিক-রাজনৈতিক শক্তি যা শ্রেণী সম্পর্ককে রূপদান করে এবং বৈধতা দেয়। লিওনটিভের দৃষ্টিতে, ভারতের ধর্মীয় পরিচয় ও সংঘাত আসলে সামাজিক শ্রেণী ও বর্ণভিত্তিক শ্রেণীবিন্যাসের মনস্তাত্ত্বিক অভিব্যক্তি।

     সামাজিক স্তরবিন্যাসের মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি
    লিওনটিভের বিশ্লেষণে, সামাজিক অসমতা শুধু বস্তুগত অবস্থার পার্থক্য নয়, বরং তা চেতনার স্তরেও অভ্যন্তরীণভাবে গৃহীত হয়। ভারতের বর্ণব্যবস্থা ও ধর্মীয় বিভাজন এই প্রক্রিয়ার জ্বলন্ত উদাহরণ—যেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে একটি স্তরবিন্যাসিত সামাজিক কাঠামো শুধু আইনি বা অর্থনৈতিকভাবে নয়, মনস্তাত্ত্বিকভাবেও স্বীকৃত ও পুনরুৎপাদিত হয়েছে।

     দ্বিতীয় অধ্যায়: ভারতের সমাজ কাঠামো: বর্ণ, শ্রেণী ও ধর্মের আন্তঃসম্পর্ক

     ঐতিহাসিক গঠন প্রক্রিয়া
    ভারতীয় সমাজব্যবস্থার একটি স্বাতন্ত্র্য হচ্ছে বর্ণ ও শ্রেণীর জটিল আন্তঃসম্পর্ক। ঐতিহাসিকভাবে, বর্ণব্যবস্থা শুধু একটি সামাজিক শ্রেণীবিন্যাস নয়, বরং একটি উৎপাদন সম্পর্কও বটে, যেখানে শ্রম বিভাজন বর্ণভিত্তিকভাবে সংগঠিত। লিওনটিভের কার্যকলাপ তত্ত্বের আলোকে দেখলে, এই বর্ণভিত্তিক শ্রম বিভাজন কেবল অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং তা চেতনা গঠনেরও একটি মুখ্য নির্ধারক।

     ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতা ও তার প্রভাব
    ঔপনিবেশিক যুগে ব্রিটিশ শাসকরা ভারতের সমাজকে ধর্মীয় (হিন্দু-মুসলিম) সংগঠিত করার যে প্রচেষ্টা চালায়, তা বস্তুত শ্রেণী সম্পর্ককে পুনর্গঠনের একটি কৌশল ছিল। জমি বন্দোবস্ত নীতি, শুল্ক ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে ব্রিটিশরা ভারতের traditional সামাজিক-অর্থনৈতিক কাঠামোকে এমনভাবে রূপান্তরিত করে যা পরবর্তীতে ধর্মভিত্তিক পরিচয়কে রাজনীতিকরণের ভিত্তি তৈরি করে।

     স্বাধীনোত্তর ভারত: সংবিধানিক প্রচেষ্টা ও বাস্তবতা
    ভারতের সংবিধান বর্ণ ও ধর্মভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করলেও, অর্থনৈতিক কাঠামো ও সম্পদের বণ্টনে গভীর অসমতা অব্যাহত থাকে। লিওনটিভের দৃষ্টিতে, এই অসমতা শুধু আইন বা নীতির ব্যর্থতা নয়, বরং উৎপাদন সম্পর্ক ও সামাজিক কার্যকলাপের কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য। ধর্মীয় পরিচয় প্রায়শই এই অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে আড়াল করার একটি আদর্শিক সরঞ্জাম হিসেবে কাজ করে।

     তৃতীয় অধ্যায়: অর্থনৈতিক রূপান্তর ও ধর্মীয় রাজনীতির উত্থান

     নব্য-উদারবাদী নীতি ও সামাজিক পরিবর্তন
    ১৯৯০-পরবর্তী নব্য-উদারবাদী অর্থনৈতিক সংস্কার ভারতে নতুন ধরনের শ্রেণী গঠনের প্রক্রিয়া সূচনা করে। এই সংস্কারের ফলে একদিকে যেমন একটি নতুন ধনী মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উত্থান ঘটে, অন্যদিকে কৃষি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিশাল জনগোষ্ঠী আরও প্রান্তিক অবস্থানে চলে যায়। লিওনটিভের বিশ্লেষণে, এই অর্থনৈতিক পরিবর্তন সামাজিক চেতনার গভীর রূপান্তর ডেকে আনে, যা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রাজনীতিতে প্রকাশ পায়।

     সাম্প্রদায়িক রাজনীতির শ্রেণী ভিত্তি
    ভারতে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উত্থানকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর সমর্থকদের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট শ্রেণী-গঠন বিদ্যমান। হিন্দুত্বের রাজনীতি ঐতিহ্যগতভাবে উচ্চবর্ণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে শক্ত ভিত্তি পেলেও, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে এটি নিম্নবর্ণ ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেও প্রসার লাভ করেছে। লিওনটিভের তত্ত্ব অনুযায়ী, এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে বুঝতে হলে অর্থনৈতিক হতাশা, সামাজিক মর্যাদার সংকট এবং শ্রেণী উত্তরণের আকাঙ্ক্ষার মতো গভীরতর প্রক্রিয়াগুলো বোঝা প্রয়োজন।

     ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ ও অর্থনৈতিক বৈশ্বিকীকরণ
    বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের উত্থান ও অর্থনৈতিক বৈশ্বিকীকরণের মধ্যে একটি জটিল সম্পর্ক বিদ্যমান। লিওনটিভের দৃষ্টিতে, বৈশ্বিক পুঁজিবাদের চাপে জাতীয় অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে যে সংকট সৃষ্টি হয়, ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ তার একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া। ভারতের প্রেক্ষাপটে, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি এই বৈশ্বিক চাপের বিরুদ্ধে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের কথা বলে, কিন্তু বাস্তবে এটি প্রায়শই নব্য-উদারবাদী অর্থনৈতিক নীতির সাথে সহাবস্থান করে।

     চতুর্থ অধ্যায়: ধর্মীয় সংঘাতের শ্রেণী-গতিশীলতা

     দাঙ্গা ও সহিংসতার সামাজিক অর্থনীতি
    ভারতে ধর্মীয় দাঙ্গা ও সহিংসতার ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এই সংঘাতগুলোর পেছনে অর্থনৈতিক কারণ ও শ্রেণী-গতিশীলতা গভীরভাবে কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, দাঙ্গাপ্রবণ এলাকাগুলো প্রায়শই অর্থনৈতিক অবনতি, উচ্চ বেকারত্ব ও সম্পদের অসম বণ্টনের সম্মুখীন। লিওনটিভের তত্ত্ব অনুসারে, এই বস্তুগত অবস্থাই ধর্মীয় পরিচয়ের রাজনীতিকরণের জন্য উপযুক্ত মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করে।

     সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক অবস্থান
    ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রান্তিক। শিক্ষা, চাকরি ও সম্পদের অ্যাক্সেসে তাদের বৈষম্যের শিকার হওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। লিওনটিভের বিশ্লেষণে, এই অর্থনৈতিক প্রান্তিকতা যখন ধর্মীয় পরিচয়ের রাজনীতির সাথে মিলিত হয়, তখন তা একটি স্থায়ী সংকটের জন্ম দেয়, যেখানে ধর্মীয় পরিচয় শ্রেণী-অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করে এবং শ্রেণী-বৈষম্য ধর্মীয় বিভাজনকে শক্তিশালী করে।

     মধ্যবিত্ত শ্রেণী ও ধর্মীয় পরিচয়
    ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে ধর্মীয় পরিচয়ের নতুন রাজনীতি লক্ষ্য করা যায়। নব্য-উদারবাদী অর্থনীতিতে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অনিশ্চয়তা ও প্রতিযোগিতামূলক চাপ তাদের মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রত্যাবর্তনের মনস্তত্ত্ব তৈরি করেছে। লিওনটিভের মতে, এই প্রবণতা শ্রেণী-সংকটের একটি অভিব্যক্তি—যেখানে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনমনীয়তার মাধ্যমে মোকাবিলা করা হয়।

     পঞ্চম অধ্যায়: রাজনৈতিক অর্থনীতি ও ধর্মের ব্যবহার

     সংখ্যাগরিষ্ঠবাদী রাজনীতি ও শ্রেণী জোট
    ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠবাদী রাজনীতি বিভিন্ন শ্রেণীর একটি জোট গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। এই জোটে উচ্চবর্ণের ঐতিহ্যগত প্রভুত্ব, মধ্যবিত্তের আকাঙ্ক্ষা এবং নিম্নবর্ণের অংশগ্রহণ—সবই ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের ছাতার নিচে একত্রিত হয়েছে। লিওনটিভের কার্যকলাপ তত্ত্বের আলোকে, এই জোটকে বুঝতে হলে প্রতিটি শ্রেণীর বস্তুগত অবস্থা ও কার্যকলাপের স্বতন্ত্রতা বোঝা প্রয়োজন।

     উন্নয়নের রাজনীতি ও ধর্মীয় বিভাজন
    রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন নীতি ও সম্পদের বণ্টন প্রক্রিয়ায় ধর্মীয় পরিচয় ক্রমবর্ধমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত এলাকাগুলো প্রায়শই সরকারি বিনিয়োগ ও উন্নয়ন প্রকল্প থেকে বাদ পড়ে। লিওনটিভের বিশ্লেষণে, এই বঞ্চনা কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং এটি একটি আদর্শিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে প্রান্তিক রাখা হয়।

     গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও পরিচয়ের রাজনীতি
    ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ধর্মীয় পরিচয় ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে লিওনটিভের দৃষ্টিতে, এই রাজনীতি আসলে শ্রেণী স্বার্থেরই প্রকাশ। যখন অর্থনৈতিক ইস্যুগুলো সরাসরি সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়ে, তখন রাজনৈতিক দলগুলো পরিচয়ের রাজনীতির দিকে ঝুঁকে—যা সাময়িকভাবে শ্রেণী সংঘাতকে ধর্মীয় সংঘাতে রূপান্তরিত করে।

     ষষ্ঠ অধ্যায়: নিম্নবর্ণ ও আদিবাসী সম্প্রদায়: শ্রেণী ও ধর্মের সংযোগস্থল

     দলিত সম্প্রদায়ের দ্বিবিধ সংকট
    ভারতের দলিত (তফসিলি জাতি) সম্প্রদায় বর্ণ ও শ্রেণী—উভয় স্তরেই নিপীড়নের শিকার। ঐতিহাসিকভাবে হিন্দু বর্ণব্যবস্থার নিম্নস্তরে অবস্থান করায় তারা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রান্তিক। লিওনটিভের বিশ্লেষণে, দলিতদের ধর্মান্তর (বৌদ্ধধর্ম, ইসলাম বা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ) শুধু ধর্মীয় নয়, বরং বর্ণভিত্তিক শ্রেণী নিপীড়ন থেকে মুক্তির একটি কৌশল।

     আদিবাসী সম্প্রদায় ও উন্নয়নের সংকট
    ভারতের আদিবাসী (তফসিলি উপজাতি) সম্প্রদায়ের সাথে রাষ্ট্র ও পুঁজির সম্পর্ক গভীর শ্রেণী-সংঘাতের প্রতিফলন। ভূমি, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে উচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় আদিবাসীরা ক্রমাগত প্রান্তিকীকরণের শিকার। লিওনটিভের তত্ত্ব অনুসারে, তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় এই অর্থনৈতিক সংগ্রামেরই অংশ—যেখানে সাংস্কৃতিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবি আসলে ভূমি ও জীবিকার অধিকারের দাবির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

     ধর্মান্তর বিতর্কের শ্রেণী-দৃষ্টিকোণ
    ভারতে ধর্মান্তর বিতর্ক প্রায়শই ধর্মীয় স্বাধীনতা বনাম সংখ্যাগরিষ্ঠ সংস্কৃতির বিতর্ক হিসেবে উপস্থাপিত হয়। কিন্তু লিওনটিভের বিশ্লেষণে, এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সামাজিক-অর্থনৈতিক উত্তরণের সংগ্রাম। দলিত ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য ধর্মান্তর প্রায়শই বর্ণব্যবস্থার নিপীড়ন থেকে মুক্তি ও সামাজিক মর্যাদা অর্জনের একটি পথ। এই প্রেক্ষাপটে ধর্মান্তর বিরোধী আইনসমূহ কেবল ধর্মীয় স্বাধীনতা সীমিত করে না, বরং নিম্নবর্ণের সামাজিক-অর্থনৈতিক উত্তরণের পথও বাধাগ্রস্ত করে।

     সপ্তম অধ্যায়: লিঙ্গ, শ্রেণী ও ধর্মের ছেদবিন্দু

     নারীর শরীর ও ধর্মীয় রাজনীতি
    ভারতে নারীর শরীর প্রায়শই ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী প্রকল্পের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। লৈঙ্গিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ধর্মীয় সীমানা রক্ষার এই রাজনীতি আসলে শ্রেণী-সংকটের একটি প্রকাশ। লিওনটিভের কার্যকলাপ তত্ত্বের আলোকে, ধর্মীয় নিয়মের মাধ্যমে নারীর শ্রম, যৌনতা ও প্রজনন নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যা উৎপাদন সম্পর্ক ও সম্পদের বণ্টনের সাথে সরাসরি যুক্ত।

     ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ আইন ও নারীর শ্রেণী অবস্থান
    ভারতের ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ আইন (যা বিবাহ, তালাক, উত্তরাধিকার ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে) বিভিন্ন ধর্মের জন্য ভিন্ন। লিওনটিভের বিশ্লেষণে, এই আইনসমূহ কেবল ধর্মীয় নয়, বরং শ্রেণী স্বার্থও রক্ষা করে। বিশেষত সম্পত্তির উত্তরাধিকার সংক্রান্ত নিয়ম নারীর অর্থনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা আবার ধর্মীয় পরিচয়ের সাথে জড়িত।

     নারীবাদী সংগ্রাম ও শ্রেণী-সচেতনতা
    ভারতের নারীবাদী আন্দোলন ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণীর ছেদবিন্দুতে কাজ করছে। এক uniform civil code-এর দাবি শুধু ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্ন নয়, বরং এটি নারীর শ্রেণী অবস্থানেরও প্রশ্ন। লিওনটিভের দৃষ্টিতে, নারীর মুক্তির সংগ্রামকে ধর্মীয় সংকটের প্রেক্ষাপটে বুঝতে হলে, এই সংগ্রামের সাথে উৎপাদন সম্পর্ক ও শ্রেণী কাঠামোর যোগাযোগ বুঝতে হবে।

     অষ্টম অধ্যায়: শিক্ষা, চেতনা গঠন ও ধর্মীয় বিভাজন

     শিক্ষাব্যবস্থার ভূমিকা
    লিওনটিভের তত্ত্বে শিক্ষা চেতনা গঠনের একটি কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়া। ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণীর বিভাজন পুনরুৎপাদনে কী ভূমিকা পালন করে, তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি বিদ্যালয়গুলোর অবনতি ও বেসরকারি শিক্ষার সম্প্রসারণ শিক্ষায় প্রবেশাধিকারে নতুন ধরনের বিভাজন তৈরি করেছে, যা প্রায়শই ধর্মীয় ও বর্ণভিত্তিক বিভাজনের সাথে সমান্তরাল।

     ইতিহাসের পাঠ ও পরিচয় গঠন
    ইতিহাস পাঠ্যক্রমে ধর্মীয় পরিচয়ের উপস্থাপনা বিতর্কের একটি বড় বিষয়। লিওনটিভের মতে, ইতিহাস চেতনা গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ভারতে ইতিহাসের পাঠ কীভাবে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ বা সম্প্রদায়িক চেতনা গঠনে ভূমিকা রাখে, তা শ্রেণী-সংকটের আলোকে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

     মিডিয়া ও চেতনা শিল্প
    সমসাময়িক ভারতে মিডিয়া ও জনসংস্কৃতি ধর্মীয় পরিচয় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লিওনটিভের "চেতনা শিল্প" ধারণা অনুযায়ী, মিডিয়া শুধু তথ্য পরিবেশন করে না, বরং তা বাস্তবতা নির্মাণেও অংশ নেয়। ভারতের টেলিভিশন, সোশ্যাল মিডিয়া ও সিনেমায় ধর্মীয় উপস্থাপনা শ্রেণী-সংকটকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

     নবম অধ্যায়: শ্রেণী সংগ্রামের নতুন রূপ ও ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া

     কৃষক আন্দোলন ও ধর্মীয় রাজনীতি
    সম্প্রতি ভারতে কৃষক আন্দোলন একটি বড় শ্রেণী সংগ্রামের রূপ নিয়েছে। লিওনটিভের বিশ্লেষণে, এই আন্দোলন শুধু কৃষি নীতির বিরোধিতা নয়, বরং বৃহত্তর অর্থনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধে একটি সংগ্রাম। মজার বিষয় হল, এই আন্দোলন ধর্মীয় বিভাজন অতিক্রম করে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কৃষকদের একত্রিত করতে পেরেছে, যা প্রমাণ করে যে বস্তুগত স্বার্থ চিহ্নিত হলে ধর্মীয় বিভাজন অতিক্রম করা সম্ভব।

     শ্রমিক আন্দোলন ও ধর্মীয় বিভাজন
    শিল্পখাত ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার প্রচেষ্টায় ধর্মীয় বিভাজন প্রায়শই একটি বাধা হিসেবে কাজ করে। লিওনটিভের কার্যকলাপ তত্ত্বের আলোকে, শ্রমিকদের একত্রিত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের দৈনন্দিন উৎপাদন কার্যকলাপ ও বস্তুগত অবস্থার সাধারণতা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ধর্মীয় পরিচয় প্রায়শই এই শ্রেণী চেতনাকে খণ্ডিত করে।

     নাগরিকত্ব আইন বিতর্ক: শ্রেণী, ধর্ম ও রাষ্ট্র
    ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বিতর্ক ধর্ম, শ্রেণী ও রাষ্ট্রের সম্পর্কের একটি জটিল দিক উন্মোচন করে। লিওনটিভের বিশ্লেষণে, এই আইন শুধু ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্বের প্রশ্ন নয়, বরং রাষ্ট্র কীভাবে শ্রেণী গঠনে হস্তক্ষেপ করে, তারও একটি উদাহরণ। আইনটি যে নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারীদের জন্য নাগরিকত্বের পথ সুগম করে, তা আসলে শ্রেণী গঠনের একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া।

     দশম অধ্যায়: সমাধানের পথ: লিওনটিভের দৃষ্টিতে বিকল্প

     শ্রেণী-সচেতন রাজনীতির প্রয়োজন
    লিওনটিভের বিশ্লেষণের আলোকে, ভারতের ধর্মীয় সংকটের সমাধান requires শ্রেণী-সচেতন রাজনীতির বিকাশ। ধর্মীয় বিভাজন অতিক্রম করে অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, ভূমি সংস্কার, বেতন বৈষম্য দূরীকরণ এবং সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্নগুলোকে কেন্দ্রীয় করা প্রয়োজন।

     ধর্মনিরপেক্ষতার পুনর্গঠন
    ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ প্রায়শই ধর্মের রাজনীতিকরণের বিরোধিতা করে, কিন্তু শ্রেণী প্রশ্নটিকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেয় না। লিওনটিভের দৃষ্টিতে, একটি কার্যকর ধর্মনিরপেক্ষতা কেবল ধর্মীয় সমতার কথাই বলবে না, বরং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারকেও কেন্দ্রে রাখবে।

     বহুত্ববাদী সংস্কৃতির শ্রেণী ভিত্তি
    ভারতের বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে হলে, এর বস্তুগত ভিত্তি রক্ষা করা প্রয়োজন। লিওনটিভের মতে, সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ তখনই টিকতে পারে যখন অর্থনৈতিক অসমতা হ্রাস পায় এবং সকল সম্প্রদায়ের জন্য ন্যায়সঙ্গত উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।

     শিক্ষা ও চেতনা পরিবর্তনের ভূমিকা
    লিওনটিভের তত্ত্ব শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যকলাপকে চেতনা পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করে। ভারতের প্রেক্ষাপটে, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈজ্ঞানিক ও সমালোচনামূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা ধর্মীয় কুসংস্কার ও শ্রেণী-বৈষম্য চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম।

     শ্রেণী সংকটের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ধর্মীয় সংকট

    লিওনটিভের কার্যকলাপ তত্ত্ব ও সামাজিক বিশ্লেষণের কাঠামো ব্যবহার করে আমরা দেখাতে পেরেছি যে, ভারতের ধর্মীয় সংকট আসলে গভীরতর শ্রেণী-সংকটেরই বহিঃপ্রকাশ। ধর্মীয় পরিচয়, সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি—এগুলো কখনই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়; বরং এগুলো সমাজের বস্তুগত ভিত্তি, উৎপাদন সম্পর্ক ও শ্রেণী কাঠামোর প্রতিফলন।

    ভারতের বর্ণভিত্তিক সামাজিক কাঠামো, ঔপনিবেশিক ইতিহাস, স্বাধীনোত্তর অর্থনৈতিক বিকাশের বৈষম্য এবং নব্য-উদারবাদী নীতির প্রভাব—এই সমস্ত মিলিয়ে একটি জটিল শ্রেণী-সংকট তৈরি করেছে, যা প্রায়শই ধর্মীয় সংঘাতের আকারে প্রকাশ পায়। ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ধর্মান্তর বিতর্ক, নাগরিকত্ব সংকট—এই সবই আসলে শ্রেণী-সংগ্রামেরই বিভিন্ন রূপ।

    লিওনটিভের দৃষ্টিতে সমাধানের পথ হলো এই সম্পর্কগুলোকে স্বীকার করে নেওয়া এবং শ্রেণী-সংকটের মূলে আঘাত করা। অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, সামাজিক সমতা এবং রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ছাড়া ধর্মীয় সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী ঐতিহ্য রক্ষা করতে হলে, এর অর্থনৈতিক ভিত্তি রক্ষা করতে হবে এবং একটি ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

    ভারতের ধর্মীয় সংকটকে শ্রেণী-সংকটের প্রকাশ হিসেবে বোঝার এই দৃষ্টিভঙ্গি শুধু তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং ব্যবহারিক রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের জন্যও অপরিহার্য। মানুষের চেতনা ও সামাজিক সম্পর্ক গঠনে বস্তুগত কার্যকলাপের ভূমিকা মুখ্য। তাই ভারতের ধর্মীয় সংকটের সমাধানও খুঁজতে হবে বস্তুগত অবস্থার পরিবর্তনে, আদর্শিক লড়াইয়ে নয়।

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে মতামত দিন