এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • নৌকো

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ২৩ বার পঠিত
  • বড় পুকুরটার পাশে একটা আড়াই কামরার বাড়ি, শৌচাগার এবং ছোট একটা রান্নাঘর সমেত। গায়ে কোন রঙ চঙ নেই। শুধু সিমেন্টের প্লাস্টার হয়ে পড়ে আছে প্রায় বছর দশেক। অনেকদিনের নি:সঙ্গ অবহেলায় চারপাশে ঘাস এবং আগাছার আলিঙ্গনে সমর্পণ করে আছে। অনাদি কারক ও ঘরখানা তুলছিল। গোবিন্দ কারকের দাদা অনাদি কারক। দুজনেই চাষ আবাদ করা লোক। সে যাই হোক, অনাদি ঘর তুলতে তুলতেই মারা গেল দু বছর আগে শীতকালে বুকে কফ জমে। হাঁফানির রোগ ছিল। খুব বাড়াবাড়ি হতে বাসন্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বাঁচাতে পারেনি তারা। তাই ওই আধা তৈরি পাকা ঘর অমনি পড়ে রইল। অনাদির বৌ শ্যামলীর ছেলেপুলে হয়নি। মাঝে মাঝে দেওর গোবিন্দকে সঙ্গে নিয়ে ঘরখানা দেখে যায়। পাকা ঘর যখন তুলছিল দুপয়সা জমিয়েছিল নিশ্চয়ই অনাদি। যেভাবেই হোক দুপয়সা করেছিল।
    এই মৌসুনিতে আর কারো পাকা বাড়ি নেই। সব মাতলার পাড়ে মেঠো ডাঙার মেটে বাড়ি।
    গোবিন্দ নিজেও তাই। মেঠো ঘরে থাকে। তেঁতুল পান্তা আর চুনো মাছের ঝাল খায় আর চাষবাস নিয়ে থাকে। তার বৌয়ের নাম চন্দ্রিমা। দুটো ছেলেও আছে। একজনের বয়েস নয়, একজনের সাত।
    চন্দ্রিমা বড় জা শ্যামলীকে দুচক্ষে দেখতে পারে না। বেড়াল চোখো মেয়েছেলে। কেমন যেন খাই খাই ভাব। কোন প্রমাণ নেই কিন্তু। চন্দ্রিমার মনে হয় এরকম। সব কাজে গোবিন্দকে এসে ডাকাডাকি করে এটা চন্দ্রিমা একদম পছন্দ করে না। সে ভাবে তার বরটাও একটা হাবাগোবা। ডাকলেই কি যেতে হবে নাকি ! কম পয়সা রেখে গেছে নাকি তার ভাসুর। ক' বিঘে ধানজমি আছে তার ঠিক নেই। শুধু মৌসুনিতে নয়। কাকদ্বীপে আছে, গোসাবায় আছে, সন্দেশখালিতেও আছে।

    সেদিন ভীষণ ঘূর্ণির পরে জলের ধাক্কায় যখন নদীর পাড় ভাঙছে তখন ওই রাত্তিরবেলায় গ্রামের লোক জড়ো হয়ে গেল অনাদি কারকের কোঠার সামনে। সারা গ্রামে এই একটাই পাকা কোঠা।

    শোনা যায় গাঁয়ের দু একটা কাঁচা বয়সের ছেলে সিরিয়া না ইরাকে কোথায় যেন চলে গেছে জেহাদি হতে। বড্ড গরীব ছিল। বাপ মা খাওয়াতে পারছিল না। অনেক কষ্টে মাতলার জলে কাঁকড়া ধরে ঘোড়ামারার হাটে গিয়ে বিক্রি করত। দুবার বাঘের পেটে যেতে যেতে যায়নি। কি করে যেন একটা লোকের সঙ্গে আলাপ হল ওই ঘোড়ামারার হাটে। সে ওদের দুজনকে দুটো মোবাইল ফোন দিয়েছিল। ভারা ভারা স্বপ্নিল উজ্জীবনের কথা বলে ওদের ঘুলিয়ে দেবার পর দুজনের হাতে নগদ চল্লিশ হাজার করে টাকা দিয়েছিল। পাসপোর্ট ভিসা সব এক সপ্তাহের মধ্যে হয়ে গেল। একজন এসে ওদের কলকাতায় নিয়ে গেল। ওখান থেকে গেল মুম্বাই। সেখানে সান্টাক্রুজ এয়ারপোর্ট থেকে সোজা দামাস্কাস। চল্লিশ হাজারের প্রায় অর্ধেক পরিবারের হাতে দিয়ে এসেছে দুজনেই। বাপ মাকে জানিয়ে শুনিয়েই বেরিয়ে এসেছে দুজনে। তারা চোখের জল ফেললেও নতুন আশায় বুক বেঁধে স্থির হয়ে রইল।

    ঘূর্ণিঝটিকা লন্ডভন্ড শুরু করার আগেই গ্রাম শুদ্ধু লোক ঢুকে পড়ল অনাদির পাকা বাড়িতে। সারা দ্বীপে আঁধার নামার পর উথাল পাথাল ঝড় জলের মধ্যে ছোট্ট বাড়িটার মধ্যে গোটা গ্রাম হাত পা গুটিয়ে বসে রইল। ভাগ্যিস দরজা জানলা সব ঠিক ঠাক ছিল তাই রক্ষে। জলে স্থলে তখন দৈত্য দানবের ভয়ঙ্কর দাপাদাপি চলছে। ঝাঁকুনি দিচ্ছে দরজা জানলায় দক্ষিণ রায়ের ক্ষুধার্ত চেলার মতো।

    ঝড় জলের উদ্দাম হামলায় শিউরে উঠতে উঠতে মৌসুনির শত্রু মিত্র নারী পুরুষ কচি ঝুনো সব ঝাঁক বেঁধে প্রহর গুনতে লাগল। তার মধ্যে শ্যামলী আর চন্দ্রিমাও ছিল। পরষ্পরের গা ঘেঁসে বসে রইল। ছেলেপুলেরা রইল সামনে দাঁড়িয়ে। এসব তারা এর মধ্যেই বেশ কয়েকবার দেখে ফেলেছে।

    এইভাবে রাত কাটল দুরু দুরু বুকে, বুকে পাথর চাপা দিয়ে মাঝরাত থেকে ঘুমে ঢুলতে ঢুলতে। রাত পোহাল একসময়ে। বৃষ্টির বেগ এখন আর তেমন নেই। তবে হাল্কা ঝিরিঝিরি ঝরেই যাচ্ছে। আকাশের ছাদ ঘোলাটে মেঘে লেপা। সাতসকালে মনে হচ্ছে যেন সন্ধে ঘনিয়ে এসেছে।

    একে একে ঘরের বাইরে বেরিয়ে এল সবাই। বেরিয়ে দেখে চারপাশ জলে টইটুম্বুর। সামনের জমি দিয়ে হাঁটু সমান জল কলকল করে বয়ে যাচ্ছে। পাশের বড় পুকুরটা আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মজিদ শা বলে উঠল, ‘ আমার সুপুরি বাগানটা নির্ঘাত শেষ হয়ে গেছে গো.... ওই তো ওদিকে তোড়ে জল ছুটছে .... ধানজমির বীজতলা সবশুদ্ধু লিচ্চয় জলের তলায়.... কি সব্বনাশ হল গো আমার .....’। মজিদ বুক চাপড়াতে থাকে। তবে মৌসুনির তো শুধু এই কজন লোক নয়। বিশ হাজারের ওপর বাসিন্দা এ দ্বীপের।

    পিয়ালি এ পাড়ায় নতুন বিয়ে হয়ে এসেছে। ওই ওদিকে প্রায় পাঁচ মাইল পশ্চিমে তার বাপের বাড়ি। কিছুটা পাকা কিছুটা কাঁচা গড়নের বাড়ি। এর আগের ঝড়ের সময় অর্ধেক বাড়ি জলের তলায় ছিল। একটা গরু জলে ভেসে গেল। কিচ্ছু করা গেল না। তিনটে কুকুর সাঁতার কেটে কেটে আধাডুবো বাড়ির টিনের চালের ওপরে গিয়ে উঠেছিল। সেই সব মনে পড়ে গিয়ে আঠারো বছরের পিয়ালির বুকের ভিতর দুশ্চিন্তার কান্না পাকিয়ে উঠতে লাগল। চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে লাগল। চিত্তব্রত আওনের বয়েস মোটে বাইশ। বাপ সকাল সকাল বিয়ে দিয়েছে। মনটা খুব নরম। নতুন বউকে আগলে আগলে রাখছে যতটা পারে। বৌয়ের চোখে জল দেখে তার বুক উথাল পাথাল করতে লাগল। মেঘলা আকাশের নীচে একগাদা লোক। কিছু বাইরে, কিছু বারান্দায় আর ঘরে। ওর মধ্যেই যতটা পারে বউয়ের কাছ ঘেঁসে এল। বিড়ম্বিত স্বরে বলে, ‘ এই দেখ দিকিনি ..... কি জ্বালা .... আবার কান্নাকাটি করে .... আরে বাবা আমরা তো এতজনে আছি, নাকি ? ..... এত ভয় পেলি চলে নাকি .... ‘
    বউ কান্নাজড়ানো গলায় বলল, ‘ ঘোঘাডাঙার ওদের জন্যি বড্ড চিন্তা হচ্ছে। একটু খবর যদি পাওয়া যেত .....’
    — ‘ ও এই কতা .... তা জল একটু কমলিই আমি গে খবর নে আসপ.... চিন্তা কিসির ? ‘
    ...., বউয়ের বাপের বাড়ির চিন্তায় চিত্তব্রতর চিত্ত বেশ বিচলিত হয়। তবে বাইরে কিছু ভাঙে না। বলে, ‘কিচ্ছু ভয় নেই .... আমি বাজি ফেলছি ... ন্যাও .....ঘোঘাডাঙার কারো কিস্যু হবেনা। বাজি ফেললাম .... ন্যাও, দেখে নিও।’
    চিত্ত নানাভাবে পিয়ালির চিন্তা হাল্কা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

    কোলে আটমাসের ছেলে নিয়ে বসে ছিল খাদিজা খাতুন। সঙ্গে তার বোন সাবিনা। তার এখনও নিকা হয়নি। দুইবোন একসঙ্গে থাকে। খাদিজার বর মুম্বাইয়ে থাকে। কোন হোটেলে যেন কাজ করে।
    জেলেপাড়ার বেশ কিছু লোক লোক রয়েছে এ দঙ্গলে। বলতে গেলে জলেই তাদের বাস। ঘোর বর্ষা, দুরন্ত তুফানেও জলে ভেসে বেড়ায়। শুধু মৌসুনি ঘেঁসে নয়, সন্দেশখালি, পাথরপ্রতিমা, সাগর, নামখানা সব জায়গার জলে ভেসে বেড়ায় মাছধরা ডিঙি নৌকায়। প্রাণ হাতে করে উথাল পাথাল জলের ঢেউয়ে দোল খায় ভরা বর্ষায়।পেটের দায়ে ডিঙি নিয়ে ভেসে যায় গহীন মাঝ নদীতে।এত কষ্ট আর সয় না শরীরে। কটা ছেলে গ্রামে গেড়ে বসা দালাল কৃষ্ণপদ গুছাইতকে ধরে ধার দেনা করে টাকা পয়সা যোগাড় করে তামিলনাড়ুতে চলে গেছে বাজির কারখানায় কাজ করবে বলে।
    তাদের একজন বলল, ‘ পরের কোটাল আসতে তো কদিন দেরি আছে। এখন এ বৃষ্টিটা যদি ধরে যায়, জল নামতে মেলা সময় লাগবে না। এখন দেখি, যদি ঠাকুরের কৃপায় মেঘটা একটু কাটে।’
    এখন জল ভেঙে ভেঙে, কেউ কোলে ছেলে নিয়ে, কেউ এমনি এদিক ওদিক যেতে লাগল বসত ভিটে জলের ওপর জেগে আছে কিনা দেখতে। কে যেন বলল, ‘খাওয়া দাওয়া কি হবে কি জানি।’ পঞ্চানন মন্ডল বলল, ‘ বিকেলের মধ্যে রিলিফের দল এসে পড়বে নিশ্চই। ততক্ষণ পেটে কিল মেরে বসে থাকা ছাড়া উপায় নেই। কাচ্চাবাচ্চাদের জন্যেই চিন্তা।দেখি... জলটা একটু কমুক, মনসাতলার ওদিকে গিয়ে কিছু চিড়ে মুড়ি বিস্কুট ফিস্কুট যোগাড় করা যায় কিনা..... ‘।

    চন্দ্রিমা এত ধুন্ধুমার দুর্যোগের মধ্যেও তার বর গোবিন্দ আর বড় জা শ্যামলীর ওপর নজর রেখে চলেছে। যার যা চিন্তা। সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়েনি অবশ্য। প্রকৃতির রাগী ঝটকায় নাকানিচোবানি খাচ্ছে মানুষ প্রাণটুকু হাতের মুঠোয় করে, এর মধ্যে কি আর ওসব শৌখিন কান্ড মাথায় আসে কারও। চন্দ্রিমাও যেমন !

    পঞ্চানন কিছু কাজের লোক যাহোক। ওই জল ঠেঙিয়েই এদিক ওদিক থেকে চিড়ে মুড়ি বাতাসা, দুকাঁদি পাকা কাঠালি কলা যোগাড় করে নিয়ে এল বেলা দুটো নাগাদ। বলল, ‘ ওই মনসাতলায় একটা দোকান খুলেছে। সে খবর পেয়েছে কাল রিলিফের দল আসছে। আজকের রাতটা ভালোয় ভালোয় কাটিয়ে দিতি পারলি একটা গতি কিছু হতি পারে। ’

    এদিকে খাবার জলে টান পড়ল। যার কাছে বোতল টোতল যা ছিল প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। এখনও অর্ধেক দিন এবং সারারাত বাকি। সবাই মিলে ঠিক করল পাশের বড় পুকুরের জল তুলে এনে ন্যাকড়া দিয়ে ছেঁকে খাওয়া হবে। তাছাড়া উপায় কি। একটা টিউকল আছে ওই বাজারের ওদিকে। সেটা তো জলের তলায় কোথায় আছে খুঁজে পাওয়া যাবে না এখন।

    পৃথিবীর নিজের নিয়মেই রাত কেটে আবার দিন হল। অবশ্য সকাল কি সন্ধে এখনও বোঝার উপায় নেই। ঝড় অনেক দূরে উড়ে গেছে। সবাই বলছে ওপারে বাংলাদেশের দিকে গেছে। আকাশ কিন্তু এখনও ঘোলাটে এবং ঝিরঝিরে জলও ঝরছে।তবে এই কোঠা বাড়িটার সামনে জল মাতলার দিকে, মানে মাদারপুরের দিকে নেমে যাচ্ছে একটু একটু করে।
    চিত্তব্রতর মুখ আশার আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠল। সে তার বালিকা বধূ পিয়ালির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ দেখতি পেলে তো ..... বলিল্লাম না .... আজই যাব ঘোঘাডাঙায় খবর নিতি ...’।
    চিত্তর মুখের আলোর ছটা মেঘ ছিঁড়ে তার বৌয়ের মুখে গিয়েও লাগে।

    ****** **** ** ******* ******

    তিনদিন হয়ে গেল। ঘূর্ণির ঝটকা দুরমুশ করেছে প্রায় সাত কিলোমিটার লম্বা বাঁধের আগল। বাঁধের ইঁট পাটকেল মরা মানুষের ভাঙা পাঁজরের মতো ছত্রাকার হয়ে আছে নদীর ধার বরাবর তাল তাল এঁটেল কাদায়। বিডিও,এস ডি ও অফিস থেকে আট দশ জন বাবু এসে ভাঙা বাঁধের ধারে কিসব পরীক্ষা টরিক্ষা করছে। গ্রামেরও কজন তাদের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরছে। পঞ্চানন
    মন্ডলও তাদের সঙ্গে আছে। তার সব ব্যাপারে কৌতূহল। কান পেতে শুনছে বাবুরা কি বলে। শুনতে পেল এক বাবু বলছে, ঘোঘাডাঙায় দুটো দল রিলিফ নিয়ে এসেছিল। কে আগে রিলিফ দেবে সেই নিয়ে নাকি ওরা খুব মারপিট করেছে। পঞ্চাননের মনে পড়ল আগের ঘূর্ণির সময়ও একই কারবার হয়েছিল। সে মুখ ফস্কে বলে ফেলল, ‘ তা মৌসুনিতে রিলিফ এসে পৌঁছবে তো। একটু দেখুন না ছ্যার ..... বড্ড কষ্টে আছে সব। ’
    — ‘ না না ওসব কিচ্ছু চিন্তা করো না। ওরা এল বলে ....’
    তারপর হাতের ঘড়ির সময় দেখে নিয়ে সেই সাহেব বলল, ‘ বাজি ফেলে বলছি, আর ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে এসে পড়বে।’
    — ‘ হ্যাঁ তা অনেক ধন্যবাদ ছ্যার .... দ্যাখেন একটু ... ’
    পাড় থেকে বেশ খানিকটা দূরে লাইন দিয়ে তেরপলের ছাউনি পড়েছে। যাদের ঘর এখনও ঢোকার মতো হয়নি তারা ওখানে মাথা গুঁজেছে। মেয়ে বউরা অনেকেই আবার ওই অনাদি কারকের খালি পাকা কোঠায় গিয়ে উঠল।
    চিত্ত শ্বশুরবাড়ি গিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে এসেছে। জলের তোড়ে বিরাট বিপাকে পড়লেও সবাই বেঁচেবত্তে আছে। পিয়ালির চোখে মুখে ফের আলোর ছটা পড়ল।

    দুদিন বাদেই নতুন খবর এল, আকাশে নাকি জলজ বাতাসের নতুন চাপ চাক বেঁধেছে। কদিন ধরে তোড়ে জল ঝরাবে উপকূলের আকাশ। জল সবে ডাঙা ছেড়ে সরতে শুরু করেছিল.... এরমধ্যে আবার নতুন দুর্যোগের বার্তা শুনে সবার মনে ঘন কালো মেঘ ঘনিয়ে এল। সবাই জানে একই সময়ে আছে ভরা কটাল। এখন এতগুলো মানুষ কোথায় কোন বাজি ফেলবে বাঁচার জন্য ভেবে আকুল হতে লাগল।

    ************** ***********

    মাতলার পাড়ে নৌকো দাঁড়িয়ে আছে। মেয়ে পুরুষ একে একে সব নৌকোয় উঠতে লাগল দূর কোন নিরাপদ গাঁয়ের দিকে ভেসে যাবার জন্য। আপাতত পেছনে পড়ে রইল ঘর দোর, ভাসুর-জা সন্দেহ-বাতিক বা নবনীত মধুরতা। ‘ দাঁড়াও দাঁড়াও .... এই এসে পড়িছি ....’ ঘোঘাডাঙা থেকেও তড়িঘড়ি লোক এসে উঠল বড় নৌকোটায়। বাপের বাড়ির লোকজন দেখে পিয়ালির মুখ ভেসে যেতে লাগল শরতের রোদ্দুরের মতো হাসিতে। নৌকো ভরে গেল নানা লোকে।
    নৌকোর লোকটা ভাবল একবারে এত লোক তোলা ঠিক না। নৌকোর রশিতে পাক মারতে লাগল পাড়ের থাম্বা থেকে ছাড়ানোর জন্য। পঞ্চানন মন্ডল হঠাৎ চেঁচিয়ে বলল, ‘ আরে .... দাঁড়াও .... দাঁড়াও। দাঁড়াও একটু.... ওই নকুড় আসছে। ও-ও উঠবে। দাদা একটু জায়গা করেন দেখি ....’

    দেখা গেল তিরতির করে বয়ে যাওয়া জলের ওপর দিয়ে ছুটতে ছুটতে আসছে নকুড়। একটা বাদামী রঙের ভোলাভালা বছর দশেকের কুকুর। ওরও বোধহয় নিজের জীবন বাঁচানোর বাজি আছে মৌসুনির মায়া ফেলে রেখে একটা চওড়া নৌকোয় কোন দূর দ্বীপে ভেসে গিয়ে।

    ************ *********** ********* **********
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন