হেলিকপ্টারের নীচে চাপা পড়া ভবিষ্যৎ: ভিআইপি কালচারের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে কোন রাজনীতি?
অয়ন মুখোপাধ্যায়
হেলিকপ্টারের শব্দে আর শোনা যায় না মানুষের দীর্ঘশ্বাস।বিদেশি গাড়ির কাঁচ এতটাই কালো যে ভেতরে বসে থাকা নেতার চোখে পড়ে না রেশন লাইনের মুখ, বন্ধ স্কুলের গেট, কিংবা বেকার যুবকের ভাঙা স্বপ্ন। দামি সানগ্লাসে সূর্যটা ফিল্টার হয়ে যায়—কিন্তু বাস্তবটা নয়। এই রাজনীতিতে আলো নেই, আছে শুধু ঝলকানি।
আপনি কাদের নেতা বানিয়েছেন?
চকচকে জামা-কাপড়, লক্ষ লক্ষ টাকার বডিগার্ড, চারপাশে ধান্দাবাজ আর দালালের ভিড়—আর কানে দুল, বড় চুল, ফুল-ট্যাটু নিয়ে যে মানুষগুলো জনতার নামে ক্ষমতায় বসে আছে, তারা কি কখনও আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভেবেছে? না কি তারা শুধু জানে—কোথায় কত লুট আছে, কোন ফাইলে কত কাটমানি, কোন প্রকল্পে কত কমিশন, আর কোন ধর্মীয় উন্মাদনায় কত ভোট তোলা যাবে?
এই টক্সিক ভিআইপি কালচারের মোহে আপনি কী পেলেন?
ওরা লুটে-পুটে খেলো।ওদের সন্তানেরা পড়াশোনা করল বিদেশে, চিকিৎসা নিল নামী হাসপাতালে, ভবিষ্যৎ কিনে নিল আগাম।আর আপনি পেলেন ভবিষ্যৎহীনতা, অনিশ্চয়তা, আর প্রতিদিন একটু একটু করে হারিয়ে যাওয়া আত্মসম্মান।
তৃণমূলের দুর্নীতির পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপির তথাকথিত ‘জাতীয়তাবাদ’ আদতে আরেক রকম ব্যবসা।
একদিকে কমিশনের খাতা, অন্যদিকে ধর্মের পোস্টার।
দুটোতেই বাঙালি সংস্কৃতি অপমানিত।প্রশ্ন করার অধিকার দমবন্ধ, যুক্তি নিষিদ্ধ।ইতিহাসকে মুছে দিয়ে আবেগকে বসানো হয়েছে পাঠ্যসূচিতে।একটা দল বলে—চুরি করলেও “আমাদের লোক”।আরেকটা দল বলে—ভাবতে শিখলে “দেশদ্রোহী”।
ফারাক কোথায়?
দু’জনেই চায় আপনি আবেগে ভাসুন, প্রশ্ন না করুন।
দু’জনেই চায়—আপনি ধর্মে লড়ুন, চাকরির প্রশ্ন ভুলে যান।দু’জনেই চায়—আপনি নেতা পূজো করুন, নিজের অধিকার নয়।এই রাজনীতিতে নাগরিক নেই—আছে শুধু ভক্ত।এই ভিড়ে দাঁড়িয়ে বাস্তবের মাটিতে একমাত্র বামপন্থীরাই এখনও সাধারণ মানুষের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলে।স্কুল, হাসপাতাল, কাজ, মজুরি, কৃষক, শ্রমিক—এই শব্দগুলো এখনও যাদের রাজনীতির কেন্দ্রে আছে। যাদের ভাষায় এখনও বাজারের নয়, মানুষের হিসাব।
বামপন্থা কোনো হেলিকপ্টারের রাজনীতি নয়।
এটা হাঁটা মানুষের রাজনীতি।ঘামে ভেজা, ধুলো মাখা, প্রশ্ন করা মানুষের রাজনীতি—যেখানে নেতা সামনে নয়, পাশে হাঁটে।বাংলা বাঁচবে না ধর্মের হুঙ্কারে।
বাংলা বাঁচবে না ভিআইপি গাড়ির সাইরেনে।
বাংলা বাঁচবে মানুষের সচেতন চেতনায়, যুক্তির সাহসে, প্রতিবাদের ধারাবাহিকতায়।
এই সাধারণ বাংলার যুবসমাজের সুস্থতার পক্ষে আপনার ভাবনা, আপনার প্রশ্ন, আপনার চেতনা—আজ সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি।নেতাদের দান বা আশীর্বাদ চাই না।চাই পাশে থাকা।কারণ ভবিষ্যৎ কোনো নেতার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।ভবিষ্যৎ আমাদের সকলের।
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।