"...অনেকে এই ভাবলে কেনই বা ভোট দেবে, লোকে যদি ভাবে একটা পার্টি একটা অতি উন্নত শহর, রাজ্য ও জনগোষ্ঠীর সর্বনাশ করে দিয়েছে তাহলে সেই পার্টিকে আগামে চৌতিরিশ তো দূরে থাক, চোষট্টি বছরেই বা কেন ভোট দেবে?
বড় পুঁজি ও ভারি শিল্প বিষয়েও একবিংশ শতকের বঙ্গবামেদের অবস্থানই বা ডানেদের থেকে বেশি নির্ভরযোগ্য কেন মনে হবে, তার সদুত্তরও আমি অন্তত কোথাও পাইনি। কৃষকের জমি নিয়ে শিল্পপতিদের কারখানা বা আবাসন বানানোর জন্য দেওয়ার ব্যাপারই যদি হয়, সে তো দক্ষিণপন্থীরা বরাবরই করে। একই জিনিস সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার নিয়েও। এই কন্যাশ্রী টন্যাশ্রী। এইটা আমি বারবারই বলি- ত্রিপুরার উমা পাশ করা কলেজগামী মেয়েদের একটা ভালো রকম স্কলারশিপ ছিল - ভারতভুক্তির পর থেকেই, ঘোর বাম আমলেও তার মধ্যে নেতিবাচক কিছু থাকতে পারে- এমন ধারনা ঘুনাক্ষরে কারও মাথায় আসতে দেখিনি।"
র২্হ এর সাথে একেবারেই একমত হলাম না।
প্রথম, ভারতের অনেক রাজ্যেই নিয়ম করে ক্ষমতা বদল হয়, একটা পার্টি একবার বা বড়োজোর দুবার ক্ষমতায় আসে, খুব রেয়ার অকেশানে হয়তো তিনবার থাকে (গুজরাট আরেকটা ব্যাতিক্রম)। যখন অপোজিশানে থাকে তখন সরকারি পার্টির মুন্ডুপাত করে, রাজ্যটাকে রসাতলে নিয়ে গেল বলে অভিযোগ করে, আবার যখন নিজেরা ক্ষমতায় আসে তখন নিজেরা চুরি করে, তখন আবার অপোজিশান পার্টি তাদের মুন্ডুপাত করে। এই যে রেগুলার ক্ষমতা বদল হয়, তাতে পার্টিগুলোও সচল থাকে, সাধারন মানুষও সব সরকার থেকেই কিছু কিছু বেনিফিট পায়।
দ্বিতীয়, সিপিএম সত্তর-আশি-নব্বুই দশকে ভুলভাল নীতি নিয়ে পবর ইন্ডাস্ট্রির বারোটা বাজিয়েছে, সেসব বহুদিন আগের কথা। পঁচিশ বছর পেরিয়ে এখন সেগুলো আর ভোটের ইস্যু হওয়ার কথা না, যদি লাল পাট্টির কর্মীরা গ্রাসরুট লেভেলে তিন আর বিজেপির দুর্নীতি, ফ্যাসিজম ইত্যাদি নিয়ে ঠিকমতো প্রচার করতে পারে। এরও অনেক উদাহরন অন্যান্য রাজ্যে আছে, যেমন ধরুন অন্ধ্রতে চন্দ্রবাবু নাইডু বহুকাল আগে পপুলার ছিলেন, তারপর ক্ষমতা হারান, কিন্তু ২০২৪ সালে আবার সিএম হয়েছেন। আসল কথা হলো একটা পার্টির কর্মীরা নেতারা কতোটা সক্রিয় থাকেন, গ্রাসরুট লেভেলে কর্মীদের কতোটা মোটিভেট করেন, সেই কর্মীরা কতোটা প্রচার করে।
আর তৃতীয়, ভারতের বেশীর ভাগ রাজ্যেই সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার বা অন্যান্য নীতিয়ে ডানপন্থী / বামপন্থী ডিসটিংশান নেই। ডিএমকে আর এআইডিএমকে, দুদলই একই সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার নীতি নিয়ে চলে, কর্ণাটকে কং আর বিজেপিও একই নীতির কথা বলে, অন্ধ্রতেও টিডিপি আর কং তাই করে, মহারাষ্ট্রেও তাই। কাজেই তিনোরা কন্যাশ্রী দেয় বলে মানুষ সিপিএমকে ভোট দেবেনা, এটা আমার মনে হয় না।
আমার মতে ভোটে জেতার জন্য সবথেকে বড়ো ফ্যাক্টর হলো নেতাদের অ্যাক্টিভ থাকা, কর্মীদের সচল রাখা। সিপিএম ২০১২তে সেই যে ক্ষমতা হারালো, তারপর পুরো পার্টিটাই একেবারে বসে গেল। লাস্ট ১৫ বছরে বহু ইস্যু এসেছে, তিনোদের পাহাড়প্রমান দুর্নীতি আর আরও অনেক কিছু নিয়ে সাধারন মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগাতেই পারে। আসল কথা হলো গ্রাসরুট লেভেলে সিপিএম কতোটা অ্যাক্টিভ।