পুটিন গ্রিন্যান্ড কমলাদাদুকে ছেড়ে দিচ্ছে এরম মনে হল কেন? সিএস বোধহয় লিখেছে। লেকিন কিঁউ? গ্রিনল্যান্ড মোটামুটি আর্কটিক ওশানের মাঝামাঝি। গ্রিনল্যান্ড একটা মস্তবড় দ্বীপ।
এখন এই বিশাল দ্বীপের পূর্ব আর পশ্চিম দিকে দুটো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ বা ম্যারিন ট্রেড রুট আছে। তার একটা হল রাশিয়ার নর্দার্ন সি রুট, ৫৩০০ কিলোমিটার লম্বা এই পথটি বেয়রিং স্ট্রেট থেকে মারমান্সক অব্দি চলে গেছে। এই পথ দিয়ে যে কার্গো পাঠানো হয়, গত বছর তার মোট ওজন ছিল ৩৭.৯ মিলিয়ন টন (২০৩০ আসতে আসতে যা বছরে ১৫০ মিলিয়ন টন হবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন) আর ট্র্যাডিশনাল রুটের চেয়ে নর্দার্ন সি রুটের এই প্যাসেজে জাহাজদের ৪২০০ কিলোমিটার কম দূরত্ব পাড়ি দিতে হয়েছিল, ফলে ইন্ধনও লাগে কম। এইবার, চীন আর রাশিয়া মিলে যে 'আইস সিল্ক রোড' প্রজেক্ট শুরু করেছে, তাতে এই পথটা আরো অনেক বেশি উন্নত করা হবে। অসংখ্য বন্দর, হার্বর, সাপ্লাই হাব তো হবেই, ম্যারিন টেকও ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক ঘরানার।
এইবার গ্রিনল্যান্ডের পশ্চিম দিকে আছে নর্থওয়েস্ট প্যাসেজ, সেটা কানাডিয়ান ন্যাশনাল ওয়াটার চিরে এগোয়। পানামা ক্যানালের জায়গায় যদি এশিয়ার ইস্ট কোস্ট থেকে ইউএসের ইস্ট কোস্ট আসতে এই পথটি নেওয়া হয়, তাহলে দূরত্ব অনেকটা কম হয়, যথারীতি ফুয়েলের টাকাও বাঁচে। এখন সবচেয়ে বড় ঘটনা হল, উষ্ণায়নের ফলে গ্রিনল্যান্ড এর বরফ যেভাবে গলছে, তাতে বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস যে আর্কটিক ওশানের আকার বিশাল হতে চলেছে। কয়েক দশকের মধ্যেই এই সমুদ্রের বরফ গলে যাবে আর একটা নতুন সমুদ্র তৈরি হবে। প্রকাণ্ড সে সমুদ্র। সেটা হওয়ার ফলে সামুদ্রিক পথ আরো বেশি ব্যবহার করা হবে, নতুন বাণিজ্যপথও আবিষ্কার হবে, ম্যারিন কার্গো উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়বে আর এশিয়া ইউরোপ আর আমেরিকার মধ্যে সাপ্লাই চেনের জন্য এই দুটো পথই প্রধান হয়ে উঠবে। কিন্তু ঝামেলা হল, এই বিশাল অংকের বিজনেস বুমের কোনও লাভই আমেরিকা পাবে না। পাবে রাশিয়া। কারণ, আর্কটিক সি আর গ্রিনল্যান্ড অঞ্চলে তাদের গুরুত্ব অনেক বেশি। এখনও তাই। ন্যাটোর তুলনায় এই অঞ্চলে রাশিয়া প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি মিলিটারি বেস তৈরি করে রেখেছে, চীনের সঙ্গে 'আইস সিল্ক রোড' ডেভেলাপ করার কারণে একাধিক দেশ তাদের বন্দর আর এয়ারপোর্ট তাদের ব্যবহার করতে দিচ্ছে।
আমেরিকার দিক থেকে দেখতে গেলে ঘটনা শুধু আইস মেল্ট করার ফলে নতুন নতুন ম্যারিন রুট আবিষ্কার হওয়া আর সেখানে প্রফিট করতে না পারাই নয়! পাওয়ার ব্যালেন্স যেমন ভাবে এগোচ্ছে, তাতে গোটা আর্কটিকের ওপর আমেরিকার কোনও সামরিক দখল নেই। এমনকি, ন্যাটোরও নেই। ডেনমার্কের আর্কটিক প্রেজেন্সের কথা শুনলে হাসি পাবে। নর্ড বলে একটা পোস্টে ছ’জন কর্মী আছে, Mestersvig এর রিসার্চ পোস্টে শুধু বিজ্ঞানী আছে, কুকুর টানা স্লেজগাড়িতে পেট্রোল করা কিছু সৈনিকের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দশ হাজার কিলোমিটার লম্বা উপকূলের ওপর নজর রাখার জন্য, এ ছাড়া Kangerlussaq একটা চ্যালেঞ্জার জেট আছে।
ওদিকে রাশিয়ার একটা পোস্টের নমুনা শুনুন। Pittufik এ একটা দশ হাজার ফুটের রানওয়ে আছে, ডিপ ওয়াটার পোর্ট আছে, অধ্যাধুনিক জাহাজ আর সাবমেরিন ডক করার ব্যবস্থা আছে, ৬০০জন স্পেশাল আর্মড ফোর্স পার্সোনাল আছে। জায়গাটা রাশিয়ার নর্থ কোস্ট থেকে তিন বা চার ঘণ্টা মাত্র দূরে। এই হল এই মুহূর্তে ন্যাটো আর ডেনমার্কের হাল।
* টাইপের খাটনি বাঁচাতে সুদীপ চ্যাটার্জির থেকে ক]ই করলাম।