মাপ করবেন ভাই, প্রথমে ক্ষমা চেয়ে নিছি। একটু কড়া করেই বলি। আগের পোস্টে খুবই সীমিত ভাবনা। প্রায় বাংলার অ্যাভারেজ সিপিএম সমার্থক এর মতো। বা বাংলার লিবেরেল মেডিয়া বা তৃণমূলের ইন্ডাস্ট্রির অখাইদ্য সিরিয়াল দের মত ও বলা যেতে পারে। বিজেপি মনুষ্যেতর বা নারান ব্যানার্জি বা কুনাল সরকার বলে এই আলোচনায় তাদের ধরা হয় নি। ঠিক অন্য রাজ্যের শ্রমিকদের মতই, পশ্চিমবংগের শ্রমিক, দক্ষ বা আধা দক্ষ, অদক্ষ শ্রমিক, পেশা অনুযায়ী হোয়াইট বা ব্লু কলার রা নানা কারণে রাজ্যের বাইরে যান। তার মধ্যে নিজের রাজ্যের শহরে কাজ কম থাকা একটা কারণ মাত্র।
পস্চিমবংগের থেকে ঢের বেশি মাইনে অনেক রাজ্যে। কাজের সুযোগ বেশি। আবার অন্যদিকে অদক্ষ শ্রমিকের ক্ষেত্রে, পশ্চিমবঙ্গের শিল্পাঞ্চলে বা শহরে বিহার উড়িষ্যার প্রচুর লোক আছে। এটা কলোনিয়াল ইতিহাস, চটকলের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত। কমিউনিস্ট রা শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন করতেন, সুনীল সেনগুপ্ত, ননী ভৌমিক দের ১৯৪৯ এর চটকল স্ট্রাইকে কারখানার গেটে বোমা মারার হিলারিয়াস গল্প বিখ্যাত। তাঁরা শ্রেণী ভিত্তিক অধিকারের আন্দোলন করতেন। বিভিন্ন ধরণের ইতিহাসের গতি আছে। দু ধরণের অ্যানালিসিস পাওয়া যায় দীপেশ চক্রবর্তি আর শুভ বসু র লেখায়।
বম্বে শহরকে মাহারাষ্ট্র রাজ্যের আন্দোলনে পরিণত করেছিল মহরাষ্ট্রের কৃষিপ্রধান অঞ্চল থেকে আসা সুতো আর বস্ত্র শ্রমিক। তারাই ১৯৪৬ নৌ বিদ্রোহের সমর্থক আবার ১৯৬০ এর গুজরাটি বিরোধী মারাঠি জাতি রাষ্ট্রের আন্দোলন গড়ে। তারাই চীন যুদ্ধের সময়ে কমিউনিস্ট ও সোশালিট খুন করা শুরু করে। এবং ১৯৮৪তে কংগ্রেস এর শেষ বড় ট্রেড ইউনিয়ন নেতা দত্তা সামান্থ খুন হবার পরে, শিব সেনা ১৯৮৫ তে প্রথম বার গ্রেটার মুম্বাই মিউনিসিপাল ইলেকশন যেতে। জাতি টিকিটে।
ব্যবসার ক্ষেত্রে মারোয়াড়ি গুজরাটিদের লোক জন বেশি। পৃথিবীর যে কোনো শহরাঞ্চলে ইমিগ্রান্ট লোক অপর্চুনিটির খোঁজে যায়। ইনভেস্টমেন্ট ক্যাপিটাল বর্ডার পেরোবে, মানুষ পেরোবে না এই ধারণাটি ট্রাম্প এবং অন্যান্য কমলালেবু মার্কা ভক্ত মুর্খরা পোষণ করে। কাশ্মীর দখলে আগ্রহ দেখায়, আদিবাসীর জংগল খনিজর জন্য দখল করে, কিন্তু আসামে শুধু বাঙালী খুন করবে বলে এন আর সি বানায়।
সাশারণত গ্রোথ ইকোনোমিতে মুভমেন্ট চালু থাকে, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা তে ব্যাপক ইমিগ্রেশনই তাদের অর্থনৈতিক সাফল্যের ভিত্তি। রাশিয়া ভর্তি ছিল চীন কোরিয়ার ইমিগ্রান্ট এ, একটা সময়ে, সে সব খবর বেশি আসতো না। চীন ভারত বড় দেশে, জনসংখ্যা বেশি বলে কাজের ইমিগ্রেশনকে ভয় পাওয়ার রীতি আছে, কিন্তু যারা ভয়্টা বাড়ায় তারাই আবার কাজের অধিকারের স্বীকৃতি দেয় না, রাজনৈতিক সমীকরণ বুঝে ইনার লাইন পারমিট তৈরী করে।
সুস্থ সমাধান খুব একট নেই, তবে মানুষকে নিজের বাড়ির কাছে অধিকার আর মাইনেটা ভালো করে দেওয়া গেলে, আর বড় মার্কেটে কম্পিট করতে দিলে মানুষ নিজেরটা বুঝে নিতে পারে। চীনে অনেক রিজিয়ন এর মানুষকে অন্যায় ভাবে শিল্পোন্নত রিজিয়নে সব সময়ে আসতে দেয় না। ইন্টারনাল ভিসা ওয়ার্ক পারমিট ইত্যাদি আছে। আরো কোন কোন দেশে আছে। এগুলি সবই শ্রমিক মানুষের বিরুদ্ধে ঘটে চলা পাপ।
একটাই আনন্দের কথা। এ আই এসে গেছে। প্রতিভা নিরপেক্ষে অনেকের বেকার হওয়ার এবং ভাতা নিয়ে বাঁচার সময় এসেছে। শ্রমিকের মুভমেন্ট এর আভ্যন্তরীন রেস্ট্রিকশন তৈরী করাটা সোজা রাস্তা তবে গভীর ভাবে চিন্তিত রাস্তা কিনা বোঝা কঠিন। তার চেয়ে বিজেপিকে দিকে দিকে ভোটে প্রাকটিকালি শুন্য করা সোজা।