সাংবাদিক।। স্যার, কবি সুনীল গাঙ্গুলী লিখেছিলেন, “কেউ কথা রাখে নি … কেউ কথা রাখে না”। লোকে বলছে , এই কথা আপনার ক্ষেত্রে নিদারুণভাবে সত্যি হয়ে গেছে। আপনি এ-ব্যাপারে কী বলবেন ? মোন্ত্রী।। য়ে বাত সরাসর ঝুট হ্যায় ! য়ে বাত মেরে কানোঁ কি আন্দার যানে সে-এঁ – কান দুখতা হ্যায় … দিল ভি দুখতে হ্যায়…! যারা এসব বলছে , তারা হয় দেশদ্রোহী, না হয় আরবান নকশাল। সাং।। কিন্তু স্যার, আপনি বলেছিলেন ‘সব কা সাথ সব কা বিকাশ’। বাস্তবে তো সেরকম কিছু দেখা যাচ্ছে না। মো।। আপনাদের দেখার চোখ নেই তাই দেখতে পাচ্ছেন না। অথবা, দেখতে চাইছেন না। লেকিন ম্যায় দাবে কে ... ...
অন্ধ প্যাঁচাকে টানে ইঁদুরের ঘ্রাণহনন ঘেমেছে রতিসুখ উল্লাসেসোনালী চিলের ডানার ভস্মরেণুপারমাণবিক ধূসরিমা হয় গূঢ়। সিন্ধুসারস ভুলে গেছে কথকতাস্বরলিপি সাধে বিষণ্ণ ভাতিয়ারহিজল ছায়ায় কূটনীতি বিনিময়বনলতা সেন পিৎজাকে ভালোবাসে।ধানের শীষেরা ইংরাজি মাধ্যমদূরভাষ জানে, জেতা বা হারার খেলালাশকাটা ঘরে উৎসব সমারোহবুড়ি চাঁদ ভাসে দূষণের বেনোজলে।রোগা শালিকের ইচ্ছে রক্তমাখাহাজার বছর পথ হেঁটে, অবশেষেডেস্টিনেশিয়া কাঙ্খিত আজ ব্যাধিএখনও কি তুমি জীবনানন্দ পড় ? ... ...
There’s a thin line between sanity and insanity, and I crave to cross the line. একটা ইনফার্নো আমাকে দেখলেই আলাপ করতে এগিয়ে আসে। প্রতিবারই ওকে কোন না কোনভাবে এড়িয়ে সটকে পড়তে পেরেছি কারণ ওর ঐ ইমপ্যাসিভ মুখটা দেখলে আমার লুকা ব্রাসি ছাড়া আর কারও কথা মনে পড়ে না, আর আমি পারতপক্ষে লুকা ব্রাসির ত্রিসীমানায় ঘেঁষতে চাইনা, কিন্তু এবার আর এড়াতে পারলাম না। বাজারে যাচ্ছিলাম। আচমকা সামনে এসে দাঁড়াল। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে পিছু হটতে লাগলাম। পেছাতে পেছাতে একটা জাহাজ পেয়ে তাতে উঠে পড়লাম। জাহাজটা ভোঁ বাজিয়ে যাত্রা শুরু করল। ভাবলাম, যাক, এবারের মতো রেহাই পেলাম, কিন্তু দেখলাম, সেই আগুনের দলা জাহাজে উঠে ... ...
না, না – সে কাহিনি বা এ কাহিনির কোনোটারই কাহিনিকার আমি নই আমি আদৌ কাহিনিকারই নই কারণ গল্পের প্রোট্যাগনিস্ট এগারো বছর বয়সী শানু যে ক্লাস ফাইভ থেকে সিক্সে উঠবে সে যখন অসময়ে স্কুল থেকে প্রজাপতির ওড়ার সঙ্গে মিল রেখে উড়তে উড়তে এসে ওদের রংচটা প্লাস্টার খসা একতলা বাড়ির বাঁশের বাখারির গেট খুলে একচিলতে বাগান পেরিয়ে তিন ধাপ ওপরে সারা মুখ বসন্তের দাগে ভরা বারান্দায় উঠে ঘরে ঢুকতে যায় কারণ সে একটা প্রাইজ পেয়েছে শঙ্খ ঘোষের ‘মিথ্যে কথা’ আবৃত্তি করে আর স্কুলে বার্ষিক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হওয়ার পর দুপুরেই ছুটি হয়ে গেছে তখন আমি কোথায় ? আমি তখন উর্দি গায়ে সকাল ... ...
“বাবা, নিরবচ্ছিন্ন মানে কী ?” একটা বই হাতে করে পড়ার ঘর থেকে বাবার ঘরে এসে ডেভিড জিজ্ঞেস করল। সময়, সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা। রিচার্ড ঘন্টাখানেক আগে দপ্তর থেকে ফিরেছেন। একটা আরামকেদারায় আধশোয়া হয়ে ‘ফেলুদা সমগ্র’-র দ্বিতীয় খণ্ডটা পড়ছিলেন। ছেলের প্রশ্ন শুনে, হাতের বইটা কোলের ওপরে রেখে, ছেলের দিকে হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, “কই , দেখি কোথায় লেখা আছে ?” ডেভিড বইটা বাবার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “এই যে, এই পাতার পঞ্চম সারির প্রথম বাক্যে শব্দটা আছে।“ রিচার্ড চশমা খুলে ধুতির খুঁটে মুছে নিয়ে ছেলের হাত থেকে বইটা নিয়ে পাতাটার ওপরে চোখ বোলাতে শুরু করলেন। ‘নিরবচ্ছিন্ন’ শব্দটা তিনি এর আগে পড়েছেন কিনা, মনে করতে ... ...
১ ... তদনন্তর, ঈশ্বর মনুষ্য সৃষ্টির বাসনা করিলেন এবং মনুষ্যগণ সৃষ্ট হইল। কিছুকাল অতিবাহিত হইবার পর, ঈশ্বর লক্ষ করিলেন মনুষ্যগণ ক্রমে ক্রমে খাদ্যের নিমিত্ত পশু শিকার শিখিল, পুষ্টিকর ফলমূলাদির চয়ন রপ্ত করিল ; বসবাসের নিমিত্ত কন্দরকে ব্যবহার করিতে শিখিল, পশুচর্ম এবং বল্কলের সাহায্যে আপন অঙ্গ আবরিত করিতেও শিখিল, কিন্তু তাহাদিগের সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের বিষয়ে বিন্দুমাত্র জ্ঞান অর্জন করিতে পারিল না। ঈশ্বর চিন্তিত হইলেন। ঐ জ্ঞান ব্যতিরেকে তাহাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, মনুষ্যগণ, কোনওপ্রকার মনুষ্যসুলভ গুণাবলী অর্জন করিতে পারিবে না। ফলতঃ, উহারা প্রাণীজগতে শ্রেষ্ঠত্ব ... ...
১ শোভনলাল তাহার জ্ঞান হইবার পর হইতে তাহাদিগের বনহুগলির বসতবাটীর বসিবার ঘরে রাখা একখানি ঢাউস রেডিওর সহিত পরিচিত ছিল। এবং বাপ খুড়াদিগকে প্রত্যহ একাধিকবার উহাকে চালাইতে দেখিয়া দেখিয়া সেও একটু বড় হইয়া উঠিতে উঠিতে ঐ রেডিও চালাইবার সমস্ত কৌশল রপ্ত করিয়া ফেলিয়াছিল। তাহার যখন চার বৎসর বয়স তখন সে একবার তাহার মায়ের সহিত শ্রীরামপুরের মাহেশে, তাহার মাতুলালয়ে বেড়াইতে গিয়া তথায় অনুরূপ একখানি রেডিও দেখিয়া, উহাকে চালাইয়া, মাতামহীর বলিয়া দেওয়া একখানি স্টেশন ধরিয়া দেওয়ায় শোভনলালের মাতামহী সরলাবালা যাহার পর নাই বিস্মিত হইয়াছিলেন, এবং স্বামী আপিস হইতে ফিরিবামাত্র তাঁহাকে সেই বিস্ময়কর সংবাদ, প্রভূত উত্তেজনার সহিত সবিস্তারে কীর্তন করিয়াছিলেন। ইহার পর, দ্বিতীয়বার মাতামহীর নির্দেশে ... ...
তুমি বলেছিলে, লাল রঙ এমনিতে তোমার ভাল্লাগেনা কিন্তু কলাবতী ফুলের লাল-টা তোমাকে মুগ্ধ করে। তাই আমি জানালা দিয়ে বাগানের কলাবতী ফুলের লালের ওপরে রাস্তার টিউব লাইট থেকে পিছলে পড়া সাদা আলো দেখতে দেখতে আমার চাদ্দিক, তোমার প্রিয় কলাবতীর লালে ঢেকে নিলাম। এরকম করে একটা প্রেমের গপ্পো শুরু করলে সেটা শেষ পর্যন্ত কতটা নিম্নমানের ক্লিশে-তে পরিণত হতে পারে, গেলাসে চুমুক মারতে মারতে সেটাই ভাবছিলাম। ভাবছিলাম আর সিগারেটের ধোঁয়া টানছিলাম। ভাবছিলাম আর নুন মাখানো কাঁচা ছোলা চিবোচ্ছিলাম। সম্পাদক মশাই বলেছেন, এবারে একটা প্রেমের গল্প ... ...
১ কথাটা কানে যেতেই , বিরক্তিতে কুশলের মুখটা বিকৃত হয়ে গেল। ঝাঁজালো স্বরে বলে উঠল – তোমার এই বাড়াবাড়িগুলো আমার অসহ্য লাগে, মা ! কী বলছিস তুই ! – মায়ের গলায় ব্যথা মেশানো বিস্ময়। ঠিকই বলছি – দাড়ি কামাতে কামাতে, আয়নার ভেতর দিয়ে মায়ের দিকে চেয়ে কঠিন স্বরে বলল কুশল – এই সব ধান্ধাবাজ গরিব লোকগুলোকে আমি একদম টলারেট করতে পারি না ! তোমাকে ভালোমানুষ পেয়ে ভজিয়ে ভাজিয়ে ক্যাটারাক্ট অপারেশনের জন্য একগাদা টাকা নিয়েছে। কাঙ্গাল টাইপের লোক এরা। অন্যের থেকে কী করে টাকা আর সুবিধে বাগিয়ে নেওয়া যায়, শুধু সেই ফিকিরে থাকে, আর ভালোমন্দ খাওয়ার সুযোগ পেলেই এদের জিভ লকলক করে ... ...
(parental advisory - explicit content) বটাদার চায়ের দোকানে পিলু এসে বসল সকাল এগারোটা নাগাদ। স্কুলে আজ প্রজাতন্ত্র দিবসের ছুটি। সকালে তাই ব্রেকফাস্ট করেই ঠেকে চলে এসেছে। এই সময়টাতে সাধারণতঃ ওদের ঠেকের কেউ না কেউ থাকে এখানে, কিন্তু আজ এখনও কারোর পাত্তা নেই। অগত্যা পিলু একাই চায়ের অর্ডার দিল। বটাদার হাঁটুর ব্যথার খোঁজ নিল। ওর ছেলের পরীক্ষার রেজাল্ট কেমন হলো, সেই খোঁজও নিল। আরও কয়েকজন ... ...