এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • একটি পর্নোকাহিনি অবলম্বনে 

    Anindya Rakshit লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১০৩ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • না, না – সে কাহিনি বা এ কাহিনির কোনোটারই কাহিনিকার আমি নই আমি আদৌ কাহিনিকারই নই কারণ গল্পের প্রোট্যাগনিস্ট এগারো বছর বয়সী শানু যে ক্লাস ফাইভ থেকে সিক্সে উঠবে সে যখন অসময়ে স্কুল থেকে প্রজাপতির ওড়ার সঙ্গে মিল রেখে উড়তে উড়তে এসে ওদের রংচটা প্লাস্টার খসা একতলা বাড়ির বাঁশের বাখারির গেট খুলে একচিলতে বাগান পেরিয়ে তিন ধাপ ওপরে সারা মুখ বসন্তের দাগে ভরা বারান্দায় উঠে ঘরে ঢুকতে যায় কারণ সে একটা প্রাইজ পেয়েছে শঙ্খ ঘোষের ‘মিথ্যে কথা’ আবৃত্তি করে আর স্কুলে বার্ষিক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হওয়ার পর দুপুরেই ছুটি হয়ে গেছে তখন আমি কোথায় ? আমি তখন উর্দি গায়ে সকাল আটটা টু রাত আটটার ডিউটিতে গল্পের পরের অংশটা সবচেয়ে জঘন্য বলুন কি জমজমাট বলুন কি যা নয় তাই বলুন শানু দেখল তাদের শোবার ঘরের দরজাটা বন্ধ ও দরজায় টোকা দিতে গেছিল দিল না পিনাকীর মতে ‘লা ইনক্রেইব্লে ই ত্রিস্তে ইস্তোরিয়া লা কান্দিদা এরিন্দিরা ই দে সু আবুয়েলা সাল্মাদা’-তে নাকি ঠাকুমা কর্তৃক এরিন্দিরাকে দিয়ে বেশ্যাবৃত্তি করিয়ে আসলে ঠাকুমার অবচেতনের যৌন-তাড়নাকেই প্রকট করে দেখানো হয়েছে। ঠাকুমার ঐ সবুজ রক্তও নাকি তারই প্রতীক। আমি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করি না। পিনাকী সদাই উদ্ভট মার্কা কথাবার্তা বলে থাকে সেদিন বলছিল লেটারস টু পেন্টহাউসকে নাকি আসলে সমগ্র পাশ্চাত্যের যৌন দর্শন বলা যায় যাকে নাকি একইসঙ্গে পাশ্চাত্যের সমাজতত্ত্বের একটা দিক উন্মোচনকারী বইও বলা যায় যদিও বাৎস্যায়নের কাছে এরা নাকি শিশু পিনাকীর এইসব আলতু ফালতু আর আঁতেল মার্কা কথাগুলো শুনলে আমার গাঁড় জ্বলে যায়। ও যখন আমার মৌতাতের সময় এই সব দাঁতভাঙ্গা শব্দসম্বলিত হাড়ভাঙ্গা তত্ত্ব শোনায় আমার মনে হয় ওর কলার পেঁচিয়ে ধরে মাটিতে চিৎ করে ফেলে ওর মুখে পেদে দিই কিন্তু দিই না কারণ সপ্তাহের বেশির ভাগ দিনই ও আমাকে মদ খাওয়ায় আর মদ ব্যাপারটা, বিশেষতঃ অপরের পয়সায় পেলে স্বল্প-রোজগেরে আমার মন্দ আনন্দবর্ধন হয় না আর আনন্দে বাঁচতে কেই বা না চায় শানু দরজায় টোকা দিতে গেছিল, বন্ধ দরজায়, দিল না কারণ সে কিছু অন্যরকমের শব্দ শুনল জীবনে প্রথমবার শোনা কিছু শব্দ বেচারা বালক জানেনা ঐ শব্দগুলোর ভালো নাম শীৎকার ও শুধু টের পেল শব্দগুলো ওর মায়ের গলার। বেচারা শানু ক্লাস ফাইভ থেকে সিক্সে ওঠবার বয়সী কুতুহলি বালক তখন ওদের শোবার ঘরের পুরনো রংচটা দরজায় হয়ে ওঠা, নিয়তির মতো অমোঘ একটা প্রাচীন ফুটোয় চোখ রাখল আর অমনি ওর বয়স বাড়তে শুরু করল সেকেন্ড প্রতি শ বছর করে। এক মিনিটের মধ্যে ওর বয়স বাড়তে বাড়তে মিশরিয়, অ্যাসিরিয়, সুমেরিয়, ব্যাবিলনিয় সভ্যতাগুলোর বয়স ছাড়িয়ে ভীমবেটকা লাসকো আর আলতামিরার গুহাচিত্রগুলোর বয়সকে ছাপিয়ে মাথা তুলল Drain you of your sanity / Face the thing that should not be – এই দুটো লাইনই এই গানটার সবথেকে পাওয়ারফুল স্পিচ – পিনাকী বলল – পুরো গানটা শুনলেই তুই বুঝতে পারবি। আমি মাম্। পিনাকী আমার মৌনতাকে অজ্ঞতা জ্ঞান করে আমাকে এই গানটার ব্যান্ডের পরিচয় আর তাদের হয়ে ওঠার ইতিহাস ইত্যাদি বোঝাতে শুরু করে দেয়, মাঝে মাঝে আবার উদাহরণস্বরূপ কোনো কোনো গানের অংশবিশেষ বাজিয়ে শোনায় সে এক অসহ্য পরিস্থিতি কিন্তু সন্ধ্যেয় ওর পয়সায় মদ খাওয়ার লোভে আমি যথেষ্ট আগ্রহ দেখাতে থাকি সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে এ-সম্পর্কে নিশ্চিত হবার পর নিজের স্টাডিতে বসে কানে ইয়ারফোন গুঁজে ফোনে সেভ করা ফোল্ডারটা খোলে ক্লাস নাইনের সায়ন্তিকা। স্কুলে চয়ন দিয়েছে রিসেস পিরিয়ডে কিছুটা দেখেছিল সে অনুভুতি অসাধারণ… প্রথমে নিম্নাঙ্গ অবশ হয়ে গেছে বলে মনে হয়েছিল তারপর সারা শরীর জুড়ে কিসের যেন ঢল নেমেছিল ক্লাসে আর মন বসেনি বাড়ি ফিরেছিল ঘোরের মধ্যে তারপর থেকে প্রতীক্ষা... এখন হয়েছে সময় যখন এফ এম রেডিওর এক  উপস্থাপিকা আলোচনাপ্রসঙ্গে জানালেন অফিস আওয়ারে গড়িয়াহাটার মোড়ের অঞ্চলটা নাকি কার্বন মনোক্সাইডের কম্বলে ঢেকে যায় ঐ সময়ে কেউ যদি মাটিতে নাক ঠেকিয়ে শ্বাস নিতে যায় তাহলে নাকি সে তৎক্ষণাৎ মারা যাবে দুষণের এই ব্যাপকতা আর ভয়াবহতার কথা শুনে সত্যিই অন্তরাত্মা শিউরে ওঠে কিন্তু শানু আরও বেশি শিউরে ওঠে যখন ও রংচটা দরজার অবধারিত গর্তে চোখ রেখে দ্যাখে ওদের বাড়ির পাশের মারুতি টাওয়ারের ফোরটিন্থ-ফ্লোরের পাওয়ান আঙ্কেল ওর মাকে পেছন দিক থেকে জাপটে ধরে দারুণ রকম চটকাতে চটকাতে… আর মায়ের মুখ থেকে ঐ সব গা-কেমন করা আওয়াজগুলো বেরিয়ে আসছে তখন ও বুঝতে পারে মায়ের জন্মদিনে পাওয়ান আঙ্কেল কেন ওদের মেনল্যান্ড চায়নায় নিয়ে গেছিল কেন অত কিছু খাইয়েছিল কেন মাকে সেদিন অতগুলো গয়না কিনে দিয়েছিল তখন ওর মনে হতে থাকে এক্ষুনি এই মুহুর্তে অন্তত তিন চারটে পারমাণবিক বোমা পড়া বিশেষ জরুরী এখনই মারাত্মক কোনো বিষের প্রভাবে শেষ হয়ে যাক অস্ট্রালোপিথেকাস আফারেনসিস থেকে সিলিকন স্যামান্থা পর্যন্ত সমস্ত কিছু একটা পিঁপড়েও একটা ভাইরাসও যেন এই প্রচন্ড বিষক্রিয়ার কবল থেকে নিস্তার না পায় এইরকমই মনে হতে থাকে এগারো বছরের, ক্লাস ফাইভ থেকে সিক্সে উঠতে যাওয়া শানুর আর ঠিক সেই মুহুর্তে এফ এম রেডিওর এক উপস্থাপক অযথা জ্ঞান দিতে শুরু করে যার বিষয় ‘বিবাহ নিবন্ধীকরণ কেন প্রয়োজন’ আর সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে হতভাগ্য, অয়েদিপাউসের সমকক্ষ একজন হতভাগ্য বলে সনাক্ত করে শানু।    
     
     
    সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ কাজে বেরোচ্ছি হেভি মেটাল পিনাকী সামনে এসে ওর লাইটনিং ফাইভ হান্ড্রেড দাঁড় করালো ওকে আমি কাভি কাভি ঐ নামে বা মেটাল পিনু বলেও ডাকি ওর সেই অপ্রতিরোধ্য় বাইক দাঁড় করানো ভালনারেবল-আমাকে কাবু করে ফেলে প্রতিবার আজও নাইট শিফট চুলোয় গেল পেমেন্টও কেটে নেবে। সোদপুরের একটা এ টি এম বুথের সিকিউরিটি গার্ড আমি সকালের শিফটে থাকা সুদীপকে আমার না যাওয়ার খবরটা জানিয়ে দিয়ে পিনাকীর বাইকের পিলিয়নে চেপে বসি, এবারে ও ছুটবে প্রথমে রাতুলদের বাড়ি সেখান থেকে তিনজন সোজা স্থানীয় রেড লাইট  এরিয়ার পাশের ’ক্ল্যাসিক’ বার। ছোট্ট বার I বাঙলা ইংলিশ বোথ অ্যাভেইলেবেল। রাতুল যথারীতি প্রথম পঁচিশ মিনিটের মধ্যে ওল্ড মঙ্ক-এর তিনটে পাতিয়ালা পেগ ঘপাঘপ গিলে বাড়ি থেকে বানিয়ে আনা রিফারে দু তিনটে রামটান মেরে আমাকে সেটা পাস করে দিয়ে হাসিনার ঘরে ঢুকে যাবে। আমরা দুজন অল্প অল্প করে চালিয়ে যাবো কোনদিন রাম কোনদিন বাঙলা যে দিন যেমন ইচ্ছে সঙ্গে মাংসের ঘুগনি বা খাসির তেলের বড়া। প্রায় দেড়ঘন্টা পরে রাতুল ফিরবে। আরো কিছুক্ষণ বসে, দাম চুকিয়ে ফেরা হবে। সূর্যোদয় ক্লাবের মাঠে এসে বসে আট ভাট বকে আর বুকনি শুনে আরো দুটো রিফার পুড়িয়ে রাত এগারোটা বাজিয়ে যে যার বাড়িমুখো। সবকিছু এত বাঁধাধরা এত নিয়মমাফিক যে কোনটার পর কী হবে বা কোনটার আগে কী কখনও হবে না ইত্যাদি আমার মুখস্থ তবে এর মধ্যে অসহ্যতম হবে রাতুলের অনুপস্থিতির ঐ সময়টুকু। ঐ সময়ে মেটাল পিনু আমাকে জোর করে জাঁ জেনেঁ কিম্বা জন বায়াজ, বোর্হেস অথবা ব্ল্যাক স্যাবাথ, মার্কেস বা মোটরহেড সম্পর্কে ওর নিজের বক্তব্য শোনাবে ওকে কতদিন বিনয়ের সঙ্গে বলেছি যে ইংরেজিতে ‘ক্যাভিয়ার টু দ্য জেনারল’ বলে একটা কথা আছে কিন্তু কে শোনে কার কথা… নেহাৎ বিনি পয়সায় মদ খাওয়ার জন্য ওর সঙ্গে আসা নইলে ওকে অনেকদিন আগেই বলে দিতাম যে ওর মত বড়লোক বাপের একছেলের শখের আঁতলামি আর বোহেমিয়ানিজমের মুখে আমি হিসি করি কিন্তু বলতে পারি না কারণ ঐ বিনি পয়সার মদ ওকে আমি বারবার এটাও বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে ও আমাকে যেচে পড়ে হপ্তায় গড়ে চারদিন মদ খাওয়ালেও এবং আমি সেটা খেলেও আমি ঠিক পুরোপুরি সধবার একাদশীর নিমে দত্ত নই কিন্তু ও বোঝেনি। তবু ভালো, একসময় রাতুল ফিরে আসে আর ওর ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে গল্পটার শেষের দিকে চলে আসে নীলোৎপলা। নিরালা রাতে বেডসাইড ল্যাম্পের আলোয় ঝুঁকে ও পড়ে চলে সেইসব উদোম উদ্দাম বর্ণনা যা শানু ইস্কুল থেকে ফেরবার পর থেকে রংচটা দরজার অনিবার্য ছিদ্রে চোখ রেখে দেখে চলেছে। শরীর জুড়ে বিদ্যুতের পর বিদ্যুৎ চমক… বইটা অরিত্র দিয়েছে অরিত্রকে দিয়েছে ওর গার্লফ্রেন্ড তমালিকা তমালিকাকে দিয়েছে ওর বেস্ট ফ্রেন্ড তিলোত্তমা তিলোত্তমার ড্য়াডের নাকি পুরোনো জিনিসপত্র আর বইয়ের হিউজ কালেকশন এই বইটা নাকি ‘লিটারেচার এন্ড রেভলিউশন’ আর ‘দ্য ফেস অফ সাইলেন্স’-এর ফাঁকে গুঁজে রাখা ছিল তিলোত্তমার ড্যাডের প্রিয় পরিচারিকা মালতীদি যখন বুক র‍্যাকের ধুলো সাফ করছিল তখন তিলোত্তমা নাকি জাস্ট আউট অফ কিউরিওসিটি বাবার বইগুলো নেড়ে চেড়ে দেখতে গিয়ে এটা পেয়েছে। রেট্রো আইটেম। আজকাল পাওয়া যায় না। হলদে সেলোফিনে মোড়া সস্তা চেহারার চটি বই কিন্তু কী তার তেজ ! ক্লাস সেভেনের নীলোৎপলার মনের বিছানা যখন লন্ডভন্ড করছিল সেই চটি বইটা তখনই এফ এম রেডিওর উপস্থাপিকা ঘোষনা করে দিল যে আলাপন অনুষ্ঠানটি আজকের মতন শেষ হল আজকের বিষয় ছিল ‘ছুঁয়ে যাওয়া বই’ পড়তেই থাকে নীলোৎপলা আর দরজায় হয়ে ওঠা ফুটোয় চোখ রেখে শিখতে থাকে শানু … শিখতে থাকে ইতিহাস ভূগোল জড়বিজ্ঞান জীববিজ্ঞান রসায়ন গণিত কম্প্যুটর শিল্প সাহিত্য দর্শন মনস্তত্ত্ব ধর্মতত্ত্ব পরলোকতত্ত্ব ইত্যাদি পৃথিবীর যাবতীয় বিষয় এবং সেই বিষয়গুলির সারমর্ম ক্রমশঃ নিজের বয়স বাড়িয়ে চলে ছেলেটা। তারপর একসময়ে ; শিখতে  — শিখতে — ক্লান্ত আর বুড়ো হয়ে ; স্কুল ব্যাগটা  নিঃশব্দে শোবার ঘরের প্রাচীন বন্ধ দরজার সামনে নামিয়ে রেখে, নিজের বাচে কুচে জিন্দেগি কাটিয়ে দেওয়ার জন্য বাড়ি ছেড়ে পথে নেমে পড়ে। একগাদা আমকাঠের গুঁড়ি আর শালকাঠের টুকরো জড়ো করে পাঁচমাথার মোড়ে একটা চিতা বানিয়ে তাতে আগুন দিয়ে উঠে পড়ে তার ওপর। বেশ কিছুক্ষণ পোড়ার পর একটা আধপোড়া আমকাঠের গুঁড়ির ওপর নিজের কিছু হাড়গোড় আর নাভিপিণ্ডটা বসিয়ে সেটাকে কাঁধে নিয়ে হাঁটতে থাকে কোনো নদীর উদ্দেশে… বাতাসে তখন কোথা থেকে ভেসে আসা সুর মিশে যাচ্ছিল… সুবিনয় রায় ‘সদা থাকো আনন্দে’ গাইছিলেন… কী একটা ইস্যু নিয়ে শাসক আর বিরোধী দলের তর্জার তীব্র চীৎকার টিভি থেকে বেরিয়ে এসে সেই গানকে ছাপিয়ে প্রকট হয়ে উঠছিল। প্রধানমন্ত্রী সেদিন বাড়িতে ছিলেন না। ভিনদেশী লগ্নি টেনে আনার আশায় পাঁচ দিনের সফরে কোপেনহ্যাগেন, ওসলো আর হেলসিঙ্কি গেছিলেন। রাতুল হাসিনার ঘর থেকে ফিরে একটা  বড় চুমুক মেরে বলল পর্নোও নাকি কখনও কখনও উঁচুদরের সাহিত্যে পরিণত হয় একথা নাকি ফিল্মের ক্ষেত্রেও খাটে, এই যেমন গাণ্ডু। এত  বলে ও আমাকে গাণ্ডু ফিল্মের কালার ট্রিটমেন্টের তাৎপর্য গোটা ছবি জুড়ে যে ভয়ঙ্কর আইডেনটিটি ক্রাইসিস আর ইডিয়লজিক্যাল তথা মরাল ক্রাইসিস ছড়িয়ে দেওয়া আছে তার গভীরতা সেটা সত্যিই ক্রাইসিস নাকি প্রকৃত অগ্রগতি ইত্যাদি আমাকে বোঝাতে শুরু করল। কী করব ? বিনি পয়সার মদ। কিন্তু রাতুলের সেই discourse কে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে মেটাল পিনু যখন ল্যাটিন আমেরিকান সিনেমার সঙ্গে হেভি মেটাল ব্যান্ডগুলোর হাই ডেসিবেল প্রতিবাদের দর্শনগত সৌসাদৃশ্য় সম্পর্কে ওর discourse আরম্ভ করল তখন মনে হচ্ছিল discourse আসলে একটা portmanteau word [discharge before intercourse = utter futility] … তখন মনে হচ্ছিল শালার গায়ে গলায় আঙ্গুল মেরে বমি করে দিই কিন্তু তা আমি করতে পারি না কারণ আমি লক্ষ করেছি যে ইদানীং আমাদের এই ছোট্ট জনপদে আর একটিও শিশু পাঠাগার জীবিত নেই আর তাই আমি গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে গেয়ে উঠি – The more I see, the more I see … The less, the less I belie-e-e-e-e-e-ve …           
     
    পিনাকী আর রাতুল হাঁ করে আমার মুখের পানে চেয়ে থাকে …    
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • albert banerjee | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:০৭738809
  • discharge before intercourse = utter futility বেশ ভালো 
  • Manali Moulik | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:২০738811
  • ভালো লাগলো। প্রথম দিকটায় যতিচিহ্নবিহীন বেশ একটানা কমলকুমার জাতীয় গদ‍্যধারা এসেছে।
  • Anindya Rakshit | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩৯738823
  • @ albert banerjee laugh থ্যাংক ইউ
  • Anindya Rakshit | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪৩738824
  • @ Manali Moulik ঠিক ধরেছেন। ওনার প্রভাব পড়েছে এই লেখায়। কিঞ্চিৎ সুবিমমল মিশ্রের প্রভাবও পড়েছে, অস্বীকার করি না। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে প্রতিক্রিয়া দিন