এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • গরু, মিশেল ফুকো ও আমাদের সমাজ 

    Aadil Shaakir লেখকের গ্রাহক হোন
    ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১৪৭ বার পঠিত
  • গরু যে এমন বুদ্ধিবৃত্তিক প্রাণী, এতকাল টেরও পাইনি। জীবনে গরু কম দেখিনি। মাঠে দেখেছি, হাটে দেখেছি, কোরবানির আগে রাস্তার মোড়ে দড়িবাঁধা অবস্থায় উদাস চোখে জাবর কাটতে দেখেছি। কিন্তু কোনো গরুকে কখনো তত্ত্বকথা আওড়াতে শুনিনি। সে খায়, জাবর কাটে এর বেশি কোনো দাবিদাওয়া তার নেই। অথচ সেই নির্বাক প্রাণীকে নিয়ে মানুষ ধর্মতত্ত্ব লিখেছে, রাজনীতি করেছে, ইতিহাস গড়েছে, বাজার বসিয়েছে, এমনকি মাথা ফাটাফাটিও করেছে। কারও কাছে সে দেবতুল্য, কারও কাছে উপাদেয় ভোজ্য, কারও কাছে চাষির শেষ সম্বল, কারও কাছে জাতীয় অস্তিত্বের পাহারাদার। বেচারা জানেও না তার চার পায়ের ওপর মানবসভ্যতা কতখানি বোঝা চাপিয়ে রেখেছে। দিন কয়েক আগে বাংলাদেশের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গোমাংসের খিচুড়িকে ঘিরে যে নাটক মঞ্চস্থ হলো, তাতে গরুর বুদ্ধিবৃত্তিক মর্যাদা সম্পর্কে আমার ধারণা আরও পোক্ত হয়েছে। সূত্রপাত সামান্য। মন্দিরের কাছে রান্নার আয়োজন হয়েছিল, আর অভিযোগ উঠল চুলা বানাতে নাকি মন্দিরের ইটও কাজে লেগেছে। হিন্দু শিক্ষার্থীদের একাংশ আপত্তি তুললেন, আয়োজকেরা অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে চুলা সরিয়ে নিলেন। ব্যাপারটা সেখানেই চুকে যেতে পারত। কিন্তু এ দেশে কোনো ব্যাপার সহজে চোকে না। মেটানোর চেয়ে ফেনানোতেই আমাদের উৎসাহ বরাবর বেশি। প্রশাসন জনস্বাস্থ্যের দোহাই দিয়ে ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নোটিশ জারি করল। সেই নির্দেশের প্রতিবাদে ১৬ অক্টোবর ক্যাম্পাসেই গরু জবাই করে খিচুড়ি বিতরণ হলো। পরদিন বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস আবার গরুভোজের আয়োজন করল, এবারে তার নাম হলো ‘সম্প্রীতির ভোজ’। অর্থাৎ কয়েক দিনের ব্যবধানে একই গরু তিন রূপে দেখা দিল। প্রথমে আহার্য, তারপর প্রতিবাদের পতাকা, শেষে সম্প্রীতির দূত। গরুর দেহ বদলায়নি, বদলেছে তার সামাজিক অর্থ। খিচুড়ির হাঁড়িতে থাকার কথা চাল, ডাল, মাংস আর খানিক গরমমসলা। অথচ দেখা গেল সেই হাঁড়িতে ধর্মানুভূতি, অধিকারবোধ, প্রশাসনিক প্রজ্ঞা আর ছাত্ররাজনীতি একসঙ্গে টগবগ করে ফুটছে। এমন রাজনৈতিক পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খিচুড়ির রন্ধনপ্রণালি সিদ্দিকা কবীরের বইতেও খুঁজে পাওয়া কঠিন।

    ঘটনাটা দেখে আহমদ ছফার গাভী বিত্তান্ত মনে পড়ে গেল। উপন্যাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবু জুনায়েদের বহুদিনের সাধ ছিল একটি গাভি পোষার। সেই সাধ পূরণ করলেন প্রভাবশালী ঠিকাদার শেখ তবারক আলী। উপাচার্যের বাসভবনে উঠল সুদৃশ্য গোয়ালঘর, সেখানে এল তরণী নামের এক গাভি। তারপর যা হওয়ার তা-ই হলো; গাভিকে ঘিরে জমে উঠল তোষামোদ, তদবির আর সুবিধা আদায়ের বিচিত্র কারবার। তরণী নিজে কোনো পদোন্নতি চায়নি, ঠিকাদারির টেন্ডারও চায়নি। তবু তার কদরের অন্ত ছিল না। কারণটি সরল। গাভিকে খুশি করার চেয়ে গাভির মালিকের নেকনজরে পড়া ঢের বেশি লাভজনক। ছফা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতার ব্যাকরণ বোঝাতে লাইব্রেরি বা সিনেট বেছে নেননি, বেছে নিয়েছিলেন গোয়ালঘর। এ বড় সূক্ষ্ম রসিকতা। কয়েক দশক পর বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু আবার আলোচনার মধ্যমণি, যদিও ঘটনা ও উদ্দেশ্য ভিন্ন। তখন গাভি ছিল তোষামোদের উপলক্ষ, এখন গরু হয়েছে পরিচয় ও অধিকারের রণক্ষেত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোয়ালঘর বদলেছে, কিন্তু ক্ষমতার প্রতি মানুষের টান বিশেষ বদলায়নি।

    এবার এক ফরাসি ভদ্রলোককে ডাকা যাক। মিশেল ফুকো গরু নিয়ে আলাদা কোনো গ্রন্থ লেখেননি, লিখলে হয়ত এই উপমহাদেশে তাঁর পাঠকসংখ্যা নিশ্চয়ই কয়েক গুণ বাড়ত। তবে মানুষের ক্ষমতাচর্চা নিয়ে তাঁর ভাবনা আমাদের বেশ কাজে লাগে। ফুকোর মতে ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্র, পুলিশ কিংবা আদালতের হাতে বন্দি থাকে না। পরিবার, বিদ্যায়তন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসালয় এবং দৈনন্দিন সম্পর্কের অলিগলিতেও ক্ষমতা নিঃশব্দে কাজ করে যায়। ক্ষমতা শুধু ‘না’ বলে না। কোন আচরণ স্বাভাবিক, কোন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য, আর কাকে নিয়মের বাইরে ঠেলে দেওয়া হবে, সেই বোধও সে-ই গড়ে তোলে। তাঁর Power/Knowledge ধারণায় জ্ঞান আর ক্ষমতা হাত ধরাধরি করে চলে এবং একে অপরকে পুষ্ট করে। আর Discourse মানে নিছক কথার কথা নয়। কোন বক্তব্য জ্ঞানের মর্যাদা পাবে, কে তা উচ্চারণের অধিকারী হবেন, কোন ব্যাখ্যা শেষ পর্যন্ত ‘সত্য’ বলে প্রতিষ্ঠা পাবে, সেই ঐতিহাসিক নিয়ম ও চর্চার সমষ্টিই ডিসকোর্স। গরুর বেলাতেই দেখুন। একজন বলছেন পবিত্র, আরেকজন বলছেন হালাল, তৃতীয়জন বলছেন অর্থকরী সম্পদ। চিকিৎসক এসে গম্ভীর মুখে জানাচ্ছেন লাল মাংস খেতে হবে পরিমিত। গরু নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে আছে, আর তার চারপাশে চলছে মানুষের সত্য প্রতিষ্ঠার দৌড়প্রতিযোগিতা। ফুকোর প্রশ্নটি কিন্তু কোনো বিশ্বাসকে মিথ্যা প্রমাণ করা নয়। তাঁর আগ্রহ অন্যখানে। একটি বিশ্বাস কীভাবে সামাজিক বিধানের মর্যাদা পায়, কারা সেই বিধান বলবৎ করেন, আর তার খেসারত দেন কারা।

    গরুর ধর্মীয় জীবনচরিতও কম বিচিত্র নয়। হিন্দুধর্মের নানা ধারায় কৃষ্ণের গোপাল ও গোবিন্দ পরিচয়, পৌরাণিক কামধেনু, অহিংসার আদর্শ আর কৃষিনির্ভর জীবনের সঙ্গে গবাদিপশুর নাড়ির যোগ গরুকে বিশেষ আসনে বসিয়েছে। তামিলনাড়ুতে আমি নিজে গরুর প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা দেখেছি। মাট্টু পঙ্গল উৎসবে গবাদিপশুকে রং আর মালায় সাজিয়ে চাষবাসে তাদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। দৃশ্যটি আমার ভালো লেগেছিল। যে প্রাণী জমি চষে, দুধ দেয়, সংসারের চাকা সচল রাখে তার প্রতি কৃতজ্ঞতায় অস্বাভাবিক কিছু নেই। প্রশ্ন ওঠে অন্য জায়গায়। কোনো প্রাণী আমার কাছে পবিত্র বলেই কি অন্যের পাতে কী উঠবে তা ঠিক করে দেওয়ার এখতিয়ার আমার জন্মায়? শ্রদ্ধা আর খবরদারির মাঝখানের সীমারেখাটি তবে কোথায়? ইসলামেও গরুর উপস্থিতি নগণ্য নয়। কোরআনের দীর্ঘতম সূরার নামই আল-বাকারা অর্থাৎ গাভি। সেখানে মুসা নবী ও বনি ইসরাইলের গরু জবাইয়ের কাহিনি আছে। আবার সূরা আল-হাজে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোরবানির পশুর মাংস বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, পৌঁছায় মানুষের তাকওয়া। অথচ কোরবানির মৌসুমে গরুর দাম, আকার আর ওজন নিয়ে আমাদের যে উত্তেজনা তাতে মাঝে মাঝে সন্দেহ জাগে তাকওয়ারও বুঝি হাটে দর ওঠে ? সবাই অবশ্য লোক দেখাতে কোরবানি দেন না। তবু দশ লাখ টাকার গরুতে কি এক লাখ টাকার গরুর চেয়ে দশ গুণ বেশি তাকওয়া থাকে? নাকি এই অঙ্ক আল্লাহর চেয়ে পাশের বাড়ির প্রতিবেশীর কাছেই বেশি তাৎপর্যপূর্ণ? মর্যাদার এই রাজনীতির জ্যান্ত নমুনা ২০২৪ সালের বহুল আলোচিত ছাগলকাণ্ড। সাদিক অ্যাগ্রোর একটি ছাগলের দাম হাঁকা হয়েছিল পনেরো লাখ টাকা। সেটি কেনার চুক্তি আর সামাজিক মাধ্যমে ছবি প্রকাশের সূত্র ধরে এক রাজস্ব কর্মকর্তার পরিবারের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠল পরে খামারটির নানা অনিয়মের অভিযোগও বেরিয়ে এল। যে ছবি তোলা হয়েছিল আভিজাত্য জাহির করতে শেষমেশ সেই ছবিই হয়ে দাঁড়াল সম্পদের হিসাবনিকাশের দলিল। ছাগলটির কোনো অপরাধ ছিল না। বিপদ ডেকে আনল মানুষের প্রদর্শনবাতিক। এখানে ফুকোর নজরদারির তত্ত্ব মনে পড়তে পারে, তবে মর্যাদার এই প্রতিযোগিতা বুঝতে পিয়ের বুর্দিয়ুর Symbolic Capital ধারণাটিও কাজে আসে। অর্থনৈতিক সামর্থ্য যখন সামাজিক সম্মানে রূপান্তরিত হয় তখন পশুর বংশলতিকাও মালিকের আভিজাত্য ঘোষণার উপায় হয়ে ওঠে। মানুষের খানদান নিয়ে আমাদের কৌতূহল চিরকালের এখন দেখছি গরু ছাগলেরও খানদান চাই।

    সম্প্রতি জিন্নাহকে ঘিরে এক বিতর্কে অভিনব এক ঐতিহাসিক যুক্তি শোনা গেল। পাকিস্তান না হলে নাকি এ অঞ্চলের মুসলমান মাথায় টুপি পরতে কিংবা গরুর মাংস খেতে পারতেন না। শুনে মনে হলো, জিন্নাহ সাহেব বুঝি এক হাতে পাকিস্তানের মানচিত্র আর অন্য হাতে টুপি ও গোমাংসের পারমিট নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। অথচ পাকিস্তানের জন্মের বহু আগে থেকেই বাংলার মুসলমান এসব ধর্মীয় ও খাদ্যসংস্কৃতি চর্চা করে আসছেন। ঔপনিবেশিক আমলে গোহত্যা নিয়ে বিরোধও কম হয়নি। ১৮৮৭ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টকে তো রীতিমতো বিচারে বসতে হয়েছিল যে ভারতীয় দণ্ডবিধির একটি নির্দিষ্ট ধারায় জীবন্ত গরুকে ‘পবিত্র বস্তু’ গণ্য করা যায় কি না ? ১৮৯৩ সালে গোরক্ষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তর ভারতের নানা অঞ্চলে দাঙ্গাও বেধেছিল। আরও কৌতুকের কথা, যে জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে ঢাকায় এসে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন তাঁর কাছ থেকেই আজ বাঙালিকে খাদ্যস্বাধীনতার পাঠ নিতে বলা হচ্ছে। পাতের স্বাধীনতা নিয়ে এত দরদ অথচ মুখের ভাষার প্রশ্নটি তাহলে গেল কোথায়? ইসলামে গরুর মাংস হালাল কিন্তু ফরজ নয়। আরব উপদ্বীপের ইতিহাসে উট, ভেড়া, দুম্বা আর ছাগলের কদরই বেশি, আর তার পেছনে আছে সেখানকার প্রকৃতি ও পশুপালনের ধরন। মুসলমানিত্ব প্রমাণের জন্য গোমাংস খাওয়ার কোনো বিধান কোথাও নেই। তবু দক্ষিণ এশিয়ায় গোমাংস কখনো কখনো মুসলমানের রাজনৈতিক পরিচয়পত্রে পরিণত হয়েছে। ইসলামের জন্ম আরবে অথচ ঈমান যাচাইয়ের জন্য আমরা বাংলায় গোমাংসের এক অলিখিত পরীক্ষাকেন্দ্র খুলে বসেছি। আর সেই পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রশ্নপত্রে প্রথম প্রশ্ন থাকে গরু খাও কি না? মানুষটি কেমন, সে প্রশ্নের জন্য সম্ভবত খাতায় আর জায়গা অবশিষ্ট থাকে না।

    সীমান্তের ওপারে গরুর রাজনৈতিক জীবন আরও কণ্টকাকীর্ণ। বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে গোরক্ষা এক গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। বহু রাজ্যে গোহত্যায় নিষেধাজ্ঞাও আছে। কিন্তু গোরক্ষার নামে মুসলমান ও দলিতদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা,গোমাংস রাখার অভিযোগে পিটিয়ে মারা, গরু পরিবহনের সময় হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। বিজেপির নেতৃত্ব বিভিন্ন সময়ে এসব হত্যার নিন্দা করা হলেও রাজনৈতিক বক্তৃতা, গোরক্ষক বাহিনী আর সহিংসতার যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। একটি প্রাণীকে মায়ের আসনে বসানো হলো অথচ সেই মায়ের সম্মান রক্ষার নামে অন্য এক মায়ের সন্তানকে হত্যা করা হলে নৈতিকতার খাতায় জমা-খরচ মেলে কীভাবে? ইহুদি ধর্মের ইতিহাসেও গরুকে ঘিরে বিস্ময় আছে। সোনার বাছুরের উপাসনা সেখানে ঘোর নিন্দিত, অথচ তাওরাতে বিশেষ লাল গাভির ভস্ম দিয়ে শুদ্ধিকরণের বিধান আছে। ২০২২ সালে টেক্সাস থেকে পাঁচটি লাল গাভি ইসরায়েলে নেওয়া হয় তৃতীয় টেম্পল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখা কিছু ধর্মীয় সংগঠন এবং মার্কিন ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টানদের উদ্যোগে। ধর্মীয় ও খ্রিষ্টীয় জায়নবাদের কিছু ধারার সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে যদিও সব ইহুদি বা সব জায়নবাদী তৃতীয় টেম্পল আন্দোলনের সমর্থক নন। আর যে স্থানকে ঘিরে এই আকাঙ্ক্ষা সেখানেই মুসলমানের পবিত্র আল-আকসা প্রাঙ্গণ। ইসরায়েলের ঘোষিত রাষ্ট্রনীতিও সেখানে টেম্পল নির্মাণ নয়। তবুও ধর্মবিশ্বাস যখন ভূখণ্ডের দাবি আর রাজনৈতিক উচ্চাশার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধে তখন কয়েকটি গাভিও আন্তর্জাতিক সংবাদের শিরোনামে উঠে আসে। টেক্সাসের খামার থেকে জেরুজালেমের রাজনীতি, গরুর এ এক মহাযাত্রা। মানুষের পররাষ্ট্রনীতি চালাতে মন্ত্রণালয় লাগে, গরুর বেলায় কখনো একটি ধর্মীয় ব্যাখ্যাই যথেষ্ট।

    গরুর আন্তর্জাতিক পরিচয় অবশ্য ধর্ম আর রাজনীতিতেই আটকে নেই। সমাজতান্ত্রিক কিউবায় উব্রে ব্লাঙ্কা নামের এক গাভি ১৯৮২ সালে অবিশ্বাস্য পরিমাণ দুধ দিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল আর ফিদেল কাস্ত্রোর সরকার ঘটনাটিকে সমাজতান্ত্রিক কৃষির বিজয় হিসেবে প্রচার করে। গাভিটি কার্ল মার্ক্স পড়েছিল এমন কোনো দলিল অবশ্য মেলেনি। কিন্তু রাষ্ট্র তাকে বানিয়ে ফেলেছিল বিপ্লবী উৎপাদনশক্তির প্রতীক। অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নে স্তালিনের জবরদস্তিমূলক যৌথখামার আন্দোলনের সময় বিপুল গবাদিপশু ধ্বংস হয়। একই সমাজতান্ত্রিক ইতিহাসে গরু কোথাও গৌরবের পদক, কোথাও নীতিগত ব্যর্থতার নীরব সাক্ষী। মার্ক্সের কথা যখন উঠলই তখন তাঁর উৎপাদন সম্পর্কের প্রশ্নটিও তোলা যাক। গরুর মালিক কে? দুধ দোয়ান কে, আর তিনি মজুরি পান কত? বাজারে দুধ বেচে মুনাফা ঘরে তোলেন কে? যে চাষি গরুটিকে খাইয়ে দাইয়ে বড় করলেন, শেষ পর্যন্ত তাঁর হাতে থাকে কতটুকু? মাংসের দাম নিয়ে সাধারণ ক্রেতার দুশ্চিন্তা, ছোট খামারির উৎপাদন খরচ, কোরবানির চামড়ার ন্যায্য দাম না পাওয়া মানুষের লোকসান এসব কি পরিচয়ের রাজনীতির চেয়ে কম জরুরি? গোমাংসকে ঈমানের প্রতীক বানানো সহজ কিন্তু সেই মাংস গরিবের পাতে তুলে দেওয়া ঢের কঠিন। ইতিহাসবিদ ইউভাল নোয়া হারারি তাঁর Sapiens গ্রন্থে দেখিয়েছেন, ধর্ম, জাতি, রাষ্ট্র কিংবা টাকার মতো সম্মিলিত বিশ্বাসের জোরেই মানুষ অগণিত অচেনা মানুষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে পারে। কিন্তু তিনি আরেকটি অস্বস্তিকর প্রশ্নও তুলেছেন: কৃষিবিপ্লবে মানুষ গবাদিপশুকে পোষ মানিয়েছে, তাদের সংখ্যা বাড়িয়েছে, কিন্তু তাদের জীবন কি ভালো হয়েছে? আমরা গরুর পবিত্রতা নিয়ে তর্ক করি, মাংসের দর নিয়ে দর-কষাকষি করি, অথচ শিল্পখামারে প্রাণীটির যন্ত্রণা নিয়ে কতটুকু ভাবি?

    শিল্পকলার চৌকাঠে পা রাখলে গরুর পরিচয় আবার পাল্টে যায়। ১৮৮৫ সালের কলকাতার এক ছাপচিত্রে ভারতমাতা গাভি দোহন করছেন আর পাশে হিন্দু, মুসলমান, পারসি ও ব্রিটিশ বালক দুধের প্রতীক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে গরু জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। অথচ কয়েক বছরের মধ্যে অন্য ছাপচিত্রে গরুর সর্বাঙ্গে আঁকা হলো হিন্দু দেবদেবী যা গোরক্ষা আন্দোলনের ধর্মীয় পরিচয় নির্মাণে কাজে লাগল। পশ্চিমে ফ্রানৎস মার্ক গরুকে হলুদ রঙে এঁকে বানালেন প্রাণোচ্ছ্বাসের প্রতীক, অ্যান্ডি ওয়ারহল গরুর ছবি দিয়ে বানালেন ওয়ালপেপার আর ডেমিয়েন হার্স্ট গাভি ও বাছুরের দ্বিখণ্ডিত দেহ প্রদর্শন করে শিল্প আর মৃত্যুচিন্তার প্রশ্ন তুললেন। কে দেখাচ্ছেন, কী দেখাচ্ছেন, দর্শক কী খুঁজছেন, তার ওপরই অর্থ বদলায়। গরুর বিচরণ চিত্রশালা পেরিয়ে শয়নকক্ষেও পৌঁছেছে। যেমন পরিচিত কিছু যৌন আসন Cowgirl (অশ্বারোহিণী শৈলী) বা Reverse cowgirl (বিপরীত অশ্বারোহিণী শৈলী) । নামের উৎস অবশ্য গরু নয় বরং মার্কিন পশ্চিমাঞ্চলের সেই নারী যিনি ঘোড়ায় চড়ে গবাদিপশু চরাতেন। অর্থাৎ নামে গরু কিন্তু কৃতিত্ব ঘোড়ার। রসিকতার আড়ালে প্রশ্ন অবশ্য আছে ? শরীরের অবস্থান বদলালেই কি সম্পর্কের ক্ষমতা বদলে যায়? ফুকো তাঁর The History of Sexuality তে দেখিয়েছেন, আধুনিক সমাজ যৌনতাকে কেবল নিষেধের বেড়াজালে বাঁধেনি বরং তাকে নিয়ে জ্ঞান উৎপাদন করেছে, শ্রেণিবিভাগ করেছে, স্বাভাবিকতার মানদণ্ড বেঁধে দিয়েছে। সম্পর্কের ক্ষমতা তাই শরীরের ভঙ্গিতে নয়, খুঁজতে হয় সম্মতি, স্বাধীনতা আর পারস্পরিক সিদ্ধান্তের ভেতরে। বাংলা সাহিত্যও আমাদের এ প্রশ্ন থেকে রেহাই দেয়নি। রবীন্দ্রনাথ ঘরে বাইরে উপন্যাসে দেখিয়েছেন গোহত্যা বিরোধিতার উন্মাদনা কীভাবে মানুষের প্রতি হিংসার আগুন উসকে দিতে পারে। নজরুল তাঁর হিন্দু মুসলমান প্রবন্ধে লিখেছিলেন “আলো নিয়ে কখনো ঝগড়া করে না মানুষে, গরু-ছাগল নিয়ে করে।” লালন জাত আর ধর্মের বাহ্যিক চিহ্ন নিয়ে আজীবন প্রশ্ন তুলেছেন, শাহ আব্দুল করিম ধর্মের জাঁকজমক আর মানুষের নৈতিক আচরণের ফারাক নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। সূর্য নিয়ে আমরা ঝগড়া করি না যদিও সবাই একই সূর্যের আলো পাই। কিন্তু স্রষ্টাকেও নিজ নিজ সম্প্রদায়ের একচ্ছত্র তালুক বানাতে চাই। পারলে মানুষ বোধ হয় আকাশের আলোটুকুও দলিল করে খতিয়ানে তুলে বাঁটোয়ারা করে নিত।

    এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই খিচুড়ির হাঁড়িতে ফেরা যাক। মন্দিরের কাছ থেকে চুলা সরানোর অনুরোধ কি গোমাংস নিষিদ্ধ করার শামিল? আবার গোমাংস খাওয়ার স্বাধীনতা আছে বলেই কি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো চত্বরে গরু জবাইয়ের অধিকার জন্মায়? দুঃখ প্রকাশ আর চুলা সরানোর পরও বিরোধটা ডালপালা মেলল কেন? প্রশাসনের জনস্বাস্থ্যের যুক্তি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল? ফুকোর Governmentality ধারণা এখানে বিশেষ কাজে আসে। প্রতিষ্ঠান কোন যুক্তিতে মানুষের আচরণ পরিচালনা করে, কীভাবে নিয়ম গড়ে, আর মানুষ সেই নিয়ম কীভাবে মেনে নেয় বা প্রতিরোধ করে এ ধারণা দিয়ে তা বিশ্লেষণ করা যায়। প্রশাসন বলেছে জনস্বাস্থ্যের কথা, শিক্ষার্থীদের একাংশ খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতার কথা, অন্যরা উপাসনালয়ের মর্যাদার প্রশ্ন। প্রত্যেকের কথায় যুক্তি আছে কিন্তু দেখতে হবে কোন বক্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য ? নিয়মটি সবার জন্য সমান কি না ? আর প্রতিবাদের ধরন অন্যের অধিকারে হাত দিচ্ছে কি না ? সংবাদে এসেছে, এ ঘটনায় ছাত্রশিবির-সংশ্লিষ্ট নির্বাচিত শিক্ষার্থী নেতৃত্বের ভূমিকা ছিল, তবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কিংবা এনসিপি সরাসরি কর্মসূচি চালিয়েছে, এমন প্রমাণ মেলেনি। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা আর রাজনৈতিক অভিসন্ধি এক কথা নয়। কিন্তু জামায়াত, এনসিপি, বিএনপি, যে দলই হোক ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক দাবির খুঁটি বানালে তাদের যুক্তি আর কাজের পরিণতি কষ্টিপাথরে যাচাই করা দরকার। সংখ্যাগরিষ্ঠের অনুভূতিই যদি সব সময় আলোচনার মধ্যমণি থাকে সংখ্যালঘুর উদ্বেগ জায়গা পায় কতটুকু? আবার সংখ্যালঘুর ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নও কি সংখ্যাগরিষ্ঠের বৈধ খাদ্যাভ্যাসে লাগাম পরানোর অজুহাত হতে পারে? ফুকো মনে করিয়ে দেন যেখানে ক্ষমতা, সেখানেই প্রতিরোধের সম্ভাবনা। কিন্তু সব প্রশাসনিক নিয়মই নিপীড়ন নয়, যেমন সব প্রতিবাদই ন্যায্য নয়। তাঁর তত্ত্ব কোনো পক্ষকে আগেভাগে সঠিক ঘোষণার কল নয় বরং ক্ষমতা কোথায়, কীভাবে আর কার ওপর কাজ করছে তা দেখার একটি আতশকাচ মাত্র। আজ যে পক্ষ নিজের স্বাধীনতার জন্য গলা ফাটাচ্ছে, কাল ক্ষমতার আসনে বসলে অন্যের স্বাধীনতাকে সে কতখানি জায়গা ছাড়বে? অধিকার যদি কেবল নিজের জন্যই চাই, তবে সেটা অধিকারের দর্শন নাকি সুবিধার খতিয়ান?

    গরুর কপাল সত্যিই বিচিত্র। ধর্মের কাছে সে পবিত্রতা, বাজারের কাছে পণ্য, চাষির কাছে জীবিকা, শিল্পীর কাছে সৌন্দর্যের উপকরণ, সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাছে উৎপাদনের পদক, উপাচার্যের কাছে তোষামোদের উপলক্ষ, আর রাজনীতির কাছে কখনো ঈমানের সনদ, কখনো হিন্দুত্বের নিশান। এত ব্যাখ্যার ভিড়ে চাপা পড়ে যায় গরুর নিজের জীবন আর তাকে ঘিরে খেটে খাওয়া মানুষের রুটিরুজি। রবীন্দ্রনাথ দেখিয়েছেন হিংসার বিপদ, নজরুল প্রশ্ন করেছেন সাম্প্রদায়িক বিভেদকে, লালন ভেবেছেন পরিচয়ের শিকল নিয়ে, মার্ক্স তাকিয়েছেন উৎপাদন ও মালিকানার দিকে, হারারি বলেছেন প্রাণীর দুর্দশার কথা, আর ফুকো বুঝিয়েছেন সমাজে কোন সত্য আর কোন স্বাভাবিকতা কীভাবে ক্ষমতার সম্পর্কের ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠে। তাঁদের সবাইকে এক মতের মানুষ বানানোর দরকার নেই। ভিন্ন ভিন্ন জানালা দিয়ে একই সমস্যাকে দেখার সুযোগটাই আসল সম্পদ। গরু কী সে উত্তর জীববিজ্ঞান দিতে পারে। কিন্তু গরুকে উপলক্ষ করে আমরা কেন একে অপরের বিচারে বসি তা বুঝতে ইতিহাস, সমাজ আর ক্ষমতার জটিল জালের ভেতরে ডুব দিতে হয়। একজন হিন্দু গরুকে শ্রদ্ধা করতে পারেন, একজন মুসলমান গরুর মাংস খেতে পারেন, একজন বাউল আপন মনে সাধনা করতে পারেন। কিন্তু যিনি আমার মতো বিশ্বাস করেন না তাঁর স্বাধীনতা আর মর্যাদা রক্ষায় আমি কতটা প্রস্তুত? যে বিশ্বাসকে আমরা একান্ত নিজের বলে জানি তার কতখানি নিজের বিচারবুদ্ধির ফসল আর কতখানি পরিবার, সমাজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আর রাজনীতির দীর্ঘদিনের তালিমের ফল? রাজনৈতিক নেতারা যখন ধর্মের নামে কথা বলেন তখন তাঁরা কি আমাদের বিশ্বাসের প্রতিনিধিত্ব করেন নাকি সেই বিশ্বাসের সিঁড়ি বেয়ে নিজেদের কর্তৃত্বের মসনদে ওঠেন? এত গোচর্চার পর তাই আমার শেষ প্রশ্নটি গরুকে নিয়ে নয় বরং গরুকে যে যার মতো দেখুক কিন্তু মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে আমাদের এত আপত্তি কেন?
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন।