এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • অচেনা কালীক্ষেত্রে কলকাতা : পর্ব ২ ( লাল মন্দির পুঁটিয়া কালী, শোভাবাজার )

    SOMNATH BANERJEE লেখকের গ্রাহক হোন
    ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ১০৪ বার পঠিত
  • পর্ব ১ | পর্ব ২
    উত্তর কলকাতার শোভাবাজার মেট্রো স্টেশন থেকে বেরিয়ে যতীন্দ্রমোহন অ্যাভেনিউ আর দিকে এগোলেই চিত্তরঞ্জন অ্যাভেনিউ আর যতীন্দ্রমোহন অ্যাভেনিউ এর সংযোগস্থলে রাস্তার ঠিক মাঝে লক্ষ করা যায় এক ছোট আকারের তিন চূড়া বিশিষ্ট রক্ত বর্ণের মন্দির। স্থানীয় লোকদের কাছে যা লাল মন্দির নামে খ্যাত।

    জনশ্রুতি অনুযায়ী আজ থেকে প্রায় ২৫০ বছর আগে শোভাবাজার রাজপরিবারের দুর্গাপুজোর তন্ত্রধারক পুরোহিত স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুকুরের তলা থেকে উদ্ধার করেন মাতৃ মূর্তি। মায়ের আকার এর জন্য তা খ্যাত হয় পুঁটিয়া কালী বলে,
    কিন্তু শোভাবাজার রাজপরিবারের কুলদেবতা বিষ্ণু, তাই বৈষ্ণব গৃহের বদলে একটি সাধারণ গৃহে দেবীকে যোগমায়া রূপে প্রতিষ্ঠা করেন তন্ত্রধারক পুরোহিত অমরকৃষ্ণ চক্রবর্তী। এরপর ১৮৫৪সালে ৩২/২ রাজা নবকৃষ্ণ স্ট্রিটের বর্তমান জমিতে পাকা মন্দির তৈরি করে লাল রঙে রাঙিয়ে দেওয়া হয়। মেট্রো রেলের কাজ বা রাস্তা সম্প্রসারণের সময় একাধিকবার এই মন্দিরটি সরানোর বা ভাঙার চেষ্টা করা হলেও অলৌকিক কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফলে আজও ব্যস্ত রাস্তার মাঝখানেই স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন মা পুঁটিয়া কালী।

    এই মন্দিরকে ঘিরে আছে আরও নানা কাহিনি। রাস্তার ঠিক মাঝে এত বড় একটা মন্দিরের অবস্থান সত্যিই অবাক করে। ব্রিটিশ প্রশাসকরা রাস্তা তৈরির সময়েও সেটা বুঝতে পেরেছিলেন। হোক রাজার মন্দির, কিন্তু রাস্তা তৈরির কাজ সবার আগে। তবে মন্দির ভাঙা হল না। শোনা যায়, অনেক মজুর নাকি তখন মন্দির ভাঙতে গিয়ে মুখে রক্ত উঠে মারা যায়। কথিত আছে, যখন রাস্তা তৈরি হচ্ছিল, মন্দিরটা ভাঙার চেষ্টা হয়েছিল।কিন্তু সেই সময় রাস্তা তৈরির কাজে কর্মরত কিছু লোকের মৃত্যু হয়। বাকিরা তখন আর মন্দির ভাঙতে রাজি হয়নি। এও শোনা যায়, ইংরেজরা রাস্তা তৈরি করার সময়ে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে মন্দিরটি অক্ষত রেখেই রাস্তা তৈরি করে। আবার কেউ কেউ বলেন যখন রাস্তা তৈরি হয় যে ইঞ্জিনিয়ার এটি ভাঙার চেষ্টা করেন তিনি মারা যান। এরপর থেকে যারাই চেষ্টা করতে ‌যার তারাই মারা যান। এইভাবে ৩ জন ইঞ্জিনিয়ার মারা যায়। এরপর আরও নানা সময় রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য মন্দির ভাঙার প্রস্তাব ওঠে। কিন্তু প্রতিবারই প্রস্তাব বাতিল হয়। তখন কর্পোরেশন থেকে ঠিক করা হয়, মন্দিরটি রেখে দেওয়া হবে। এমন কি! মেট্রো রেলের খনন কার্যের সময়ও এই মন্দিরের গায়ে কোন আঁচড় পড়েনি। মন্দির অক্ষত রেখে মেট্রোর খননের জন্য ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। আজও সেই মন্দিরের মধ্যে যোগমায়ার পাশাপাশি পূজিত হচ্ছেন গোপাল, শিব, অন্নপূর্ণাসহ আরও নানা দেবদেবী। এক অদ্ভুত সহাবস্থান। এই মন্দিরের এক বিশেষত্ব আছে তা হল, এখানে বিষ্ণুর দশম অবতার কল্কি দেবতার পুজো হয়।

    মাত্র কয়েক ইঞ্চি উচ্চতার কারণে পুটিয়া কালী নামে পরিচিত হলেও মা এখানে পূজিত হন যোগমায়া রূপে, এই মন্দিরের একটি বিশেষত্ব হলো, মাকে এখানে শোল মাছের ভোগ নিবেদন করা এখানকার দীর্ঘদিনের প্রাচীন রেওয়াজ।বর্তমানে একমাস করে মায়ের পূজার পালা পড়ে উত্তরসূরিদের। পূর্বে বলিপ্রথা থাকলেও বর্তমানে পশুবলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। প্রতি অমাবস্যায় আখ কলা চালকুমড়া বলি হয়। দীপান্বিতা কালীপূজার সমস্ত রকম ভোগ নিবেদিত হয়। মন্দির সেদিন সারারাত খোলা থাকে। মন্দিরে তিনটি কালী মূর্তি আছে। নানা সময় ভক্তরা দুটি মূর্তি দান করেছে। এছাড়া মা শীতলা, জগদ্ধাত্রী, গোপালদেব, কল্কিনারায়নের নিত্য পূজা ও হয়। প্রতিদিন বহু ভক্ত আসেন মায়ের কাছে নিজেদের চাওয়া পাওয়ার আর্জি নিয়ে, আপনিও একদিন ঘুরতে ঘুরতে চলে আসতে পারেন দুই শতাব্দী প্রাচীন এই মন্দিরে মায়ের সান্নিধ্যে .....
    জয় মা
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    পর্ব ১ | পর্ব ২
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন।