এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • অশোক সেনের পুরস্কার প্রসঙ্গে 

    Sandipan Majumder লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ৫০ বার পঠিত
  • বাঙালি বিজ্ঞানী অশোক সেন পদার্থবিদ্যার সর্বোচ্চ পর্যায়ের পুরস্কার পেয়েছেন। তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার ক্ষেত্রে এই পুরস্কারের গুরুত্ব প্রায় নোবেল পুরস্কারের মত। পদার্থবিদ্যার নোবেল পুরস্কার বাছে যে কমিটি তারাই স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এই পুরস্কারের প্রাপক বেছে নেয়। ১৯৮৮ সাল থেকে এই পুরস্কার দেওয়া চালু হয়েছে। পদার্থবিদ্যায় নোবেল দেওয়ার বন্দোবস্ত থাকলেও কেন আলাদা করে এই পুরস্কার?
     
     
    নোবেল পুরস্কারের ক্ষেত্রে শর্ত হল যে তত্ত্বের জন্য পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে তা যেন পর্যবেক্ষণ দ্বারা স্বীকৃত হয়। কিন্তু তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার এমন অনেক বিষয় আছে যেমন কোয়ান্টাম ক্ষেত্র তত্ত্ব, মহাজাগতিক স্ফীতি বা স্ট্রিং থিয়োরি --- যেখানে নিকট ভবিষ্যতে অন্তত এই সমস্ত তত্ত্বের কোনো ভৌত প্রমাণ পাওয়া অসম্ভব। অথচ বিশ্বজগৎকে বুঝতে এই বিজ্ঞানীদের কাজ যুগান্তকারীও বটে। এই পুরস্কার প্রাপ্ত বিজ্ঞানীদের মধ্যে যাঁদের কাজ নোবেল কমিটির শর্ত পূরণ করেছে তাঁরা নোবেলও পেয়েছেন যেমন স্টিফেন ওয়াইনবার্গ, হান্স বেথে, অ্যালান গুথ, পিটার হিগস। আবার স্টিফেন হকিং একই কারণে নোবেল পান নি। মৌলিক পদার্থবিদ্যার জন্য ২০১২ সালে চালু ব্রেকথ্রু পুরস্কার (বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি অর্থমূল্যের বিজ্ঞান পুরস্কার, ত্রিশ লক্ষ ডলার যা নোবেল পুরস্কারের দ্বিগুণ ) ২০১৪ সালে অশোক সেন পেয়েছেন স্টিফেন হকিং এবং অ্যালান গুথের সঙ্গে। ২০১৬ সালে তিনি পল ডিরাকের নামাঙ্কিত আরেকটি পদার্থবিদ্যার গুরুত্বপুর্ণ পুরস্কার পান।


    স্ট্রিং থিয়োরির নাম অমন হল কেন ? মহাবিশ্বের মৌলিক উপাদান হিসেবে এই তত্ত্ব অতি ক্ষুদ্র, কম্পনশীল স্ট্রিংকে কল্পনা করে। কণা পদার্থবিদ্যা (particle physics)এ ইলেকট্রনের ভর আছে কিন্তু কোনো ভৌত মাত্রা ( dimension ) নেই। একে জিরো ডাইমেনশন পয়েন্ট পার্টিকল ধরা হয়। কোয়ার্ক কণাও তাই। এর বিপরীতে স্ট্রিং থিয়োরি অনুসারে এক মাত্রার (unidimensional) স্ট্রিংয়ের বিভিন্ন কম্পনজাত দশাই বিভিন্ন কণা হিসেবে দেখা দেয়।


    প্রকৃতি সম্পর্কে দুটি মহাতত্ত্ব বর্তমানে রয়েছে। প্রথমটি মহাকর্ষ তত্ত্ব যা গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। দ্বিতীয়টি কোয়ান্টাম তত্ত্ব যা মৌল কণার পরমাণুর চেয়েও ক্ষুদ্রস্তরে ( sub atomic level) কাজ করে। ১০০ বছর ধরে এই দুটো থিয়োরি রয়েছে অথচ অনেক সময় দুটোকে মেলানো যায় না, অসঙ্গতি ধরা পড়ে। গত পঞ্চাশ বছর ধরে বিজ্ঞানীরা এই দুটিকে মিলিয়ে একটি অখণ্ড থিয়োরী তৈরি করার চেষ্টা করছেন। স্ট্রিং থিয়োরি এই লক্ষ্যে একটা বড় পদক্ষেপ।

    অশোক সেন স্ট্রিং থিয়োরির জনক নন। কিন্তু একজন উদ্ধারকর্তা বলা যেতে পারে। স্ট্রিং থিয়োরির একটিই যে অ্যাপ্রোচ এমনটা নয়। অন্তত পাঁচটি অ্যাপ্রোচ পাওয়া গেছে যেগুলি আলাদা করে প্রতিটিই আংকিক ভাবে এবং তত্ত্বগত দিক থেকে যথাযথ। এই পাঁচ রকম অ্যাপ্রোচের যাথার্থ্যই স্ট্রিং থিয়োরির দাবিকে দুর্বল করে দেয়। কারণ প্রকৃতির প্রকাশ একই সঙ্গে এই পাঁচ রকম তত্ত্বকে আশ্রয় করে হতে পারে না। এইখানেই অশোক সেনের অনন্যতা। ১৯৯০ সালে দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি এই নিয়ে তাঁর কাজ প্রকাশ করছিলেন। তিনি শেষ পর্যন্ত দেখাতে সমর্থ হন যে এই তত্ত্বগুলোর মধ্যে যে পার্থক্যটুকু দেখা যাচ্ছে সেটি আসলে একই পদার্থবিজ্ঞানের বহুমুখী ভাষ্য এবং তারা সমতুল্য। তাঁদের বিজ্ঞানটা বেসিকালি এ্ক যাকে সেনের S duality তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। তবে স্ট্রিং থিয়োরি বর্তমানে তো বটেই অদূর ভবিষ্যতেও পরীক্ষা করে প্রমাণ করা যাবে না এবং কণা গতিবিদ্যার মত তা প্রতিষ্ঠিতও নয় ততটা।


    অশোক সেন এছাড়াও কৃষ্ণগহ্বরের এনট্রোপি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। কোন আণুবীক্ষণিক কোয়ান্টাম দশা কৃষ্ণগহ্বরের এনট্রোপি তৈরি করে তার গাণিতিক মডেল তিনি তৈরি করেছেন। এছাড়াও স্ট্রিং থিয়োরিতে বিদ্যমান এবং এনার্জিবাহী একটি স্ট্রাকচার কীকরে অস্থিতিশীল এবং বিলয়প্রাপ্ত হয় সেটা ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে। তবে কোথায় যেন দেখলাম তিনি বলেছেন, এই তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার ক্ষেত্রে বাঙালি গবেষকদের সম্ভাবনা আছে।এখানে উচ্চমানের গবেষণাগার লাগে না। জানি না,কথাটা মজা করেই বলা কিনা।i

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত মতামত দিন।