২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর আমেরিকার কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের নিউটাউন শহরে অবস্থিত স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে এক ভয়াবহ বন্দুকধারী হামলার ঘটনা ঘটে। এটি মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক শিক্ষা প্রাতিষ্ঠানিক ট্র্যাজেডি।
হামলাকারী ২০ বছর বয়সী এডাম ল্যান্জা নামে এক শ্বেতাঙ্গ ক্রিশ্চিয়ান যুবক প্রথমে নিজ বাড়িতে তার মাকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর সে তার মায়ের আইনসম্মতভাবে কেনা রাইফেল ও পিস্তল নিয়ে স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে যায়।
হামলাকারী স্কুলের সামনের কাঁচের দরজা গুলি করে ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তখন বেশ কড়াকড়ি ছিল, কিন্তু সে গায়ের জোরে ভেতরে ঢোকে।
সে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা এবং স্কুল সাইকোলজিস্টকে প্রথমে গুলি করে, যারা গুলির শব্দ শুনে বারান্দায় বেরিয়ে এসেছিলেন। এরপর সে দুটি প্রথম শ্রেণির শ্রেণিকক্ষে (First Grade classrooms) প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকে।
এই হামলায় ২০ জন শিশু (যাদের বয়স ছিল ৬ থেকে ৭ বছরের মধ্যে) এবং ৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক স্কুল স্টাফ নিহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ঠিক আগমুহূর্তে হামলাকারী নিজে আত্মঘাতী হয়।
ভয়াবহ এই পরিস্থিতির মধ্যেও শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধি অনেক প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করেছিল।
গুলির শব্দ শোনার সাথে সাথে অনেক শিক্ষক দ্রুত শ্রেণিকক্ষের দরজা ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করে দেন এবং আলো নিভিয়ে দেন। তারা শিক্ষার্থীদের ডেস্কের নিচে বা আলমারির ভেতর লুকিয়ে থাকতে বলেন।
অনেক শিক্ষক নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করেছেন। যেমন, একজন শিক্ষিকা তার ক্লাসের শিক্ষার্থীদের বাথরুমের ভেতরে তালাবদ্ধ করে লুকিয়ে রেখেছিলেন এবং হামলাকারীকে বলেছিলেন যে তারা সবাই জিমনেসিয়ামে আছে। এডাম তাকে হত্যা করে চলে যায়। এতে ওই ক্লাসের সব শিশু বেঁচে যায়।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা এবং অন্যান্য কর্মীরা স্কুলের মাইক সিস্টেম চালু করে দিয়েছিলেন। এর ফলে পুরো স্কুলের শিক্ষকরা গুলির শব্দ শুনতে পান এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পান।
হামলার সময় কিছু শিক্ষার্থী জানলা দিয়ে লাফিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয় এবং নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশনে বা পার্শ্ববর্তী বাড়িতে আশ্রয় নেয়।
এই ঘটনাটি পরবর্তীকালে আমেরিকায় বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন (Gun Control Laws) এবং স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে। ঐ বছরের পর স্যান্ডি হুক স্কুলের মূল ভবনটি ভেঙে ফেলে সেখানে একটি নতুন এবং আরও নিরাপদ স্কুল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।