ডিস্টোপিয়ান এই উপন্যাসটি ভবিষ্যতের এক কাল্পনিক সমাজকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটি রচিত, যেখানে বই পড়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই সমাজে ‘ফায়ারম্যান’ বা দমকল কর্মীদের কাজ আগুন নেভানো নয়। বরং কোথাও বইয়ের সন্ধান পেলে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে তা ধ্বংস করে দেওয়া!উপন্যাসের নাম ‘ফারেনহাইট ৪৫১’ রাখা হয়েছে কারণ ধারণা করা হয়, ৪৫১ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় কাগজের বই স্বতঃস্ফূর্তভাবে জ্বলে ওঠে।গল্পের মূল চরিত্র গাই মন্টাগ (Guy Montag), যিনি পেশায় একজন ফায়ারম্যান। তিনি ১০ বছর ধরে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই অন্ধের মতো বই পুড়িয়ে আসছেন এবং বিশ্বাস করতেন যে এটাই সমাজকে শান্ত রাখার উপায়।একদিন কাজ থেকে ফেরার পথে মন্টাগের দেখা হয় ক্ল্যারিস ম্যাকক্লেলান নামের ১৭ বছরের এক তরুণীর ... ...
তৈমুর লঙের আক্রমণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া গোল্ডেন হোর্ডের রাজধানী সারাই (বা সারাই বাতু) বর্তমানে কোনো একটি আধুনিক বড় শহরের ভেতরে পড়েনি, বরং এটি বর্তমান রাশিয়ার একটি প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা হিসেবে টিকে আছে। এটি রাশিয়ার আস্ট্রাখান ওব্লাস্ট (Astrakhan Oblast) অঞ্চলে অবস্থিত। বর্তমানের আস্ট্রাখান শহর থেকে এটি প্রায় ১২০ কিলোমিটার উত্তরে আক্তুবা নদীর তীরে (ভলগা নদীর একটি শাখা) অবস্থিত। এই প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকাটি এখন সেলিতরেনয়ে (Selitrennoye) গ্রাম নামে পরিচিত। ইতিহাসে গোল্ডেন হোর্ডের দুটি রাজধানীর কথা পাওয়া যায়। 1. সারাই বাতু (পুরানো সারাই): এটি বাতু খান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর ধ্বংসাবশেষ সেলিতরেনয়ে গ্রামের কাছে পাওয়া যায়। 2. সারাই বার্কে (নতুন সারাই): এটি পরে আরও উজানে বর্তমানের ভলগোগ্রাদ (সাবেক স্তালিনগ্রাদ) শহরের ... ...
বাস্তিল দুর্গ (Bastille) হলো ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মধ্যযুগীয় দুর্গ ও কারাগার, যা ফরাসি বিপ্লবের অন্যতম প্রধান প্রতীক হিসেবে পরিচিত। চতুর্দশ শতকে (১৩৭০ থেকে ১৩৮৩ সালের মধ্যে) শতবর্ষী যুদ্ধের সময় প্যারিস শহরকে ইংরেজদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য এই দুর্গটি নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি রাজকীয় কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। ফরাসি রাজারা (বিশেষ করে চতুর্দশ ও পঞ্চদশ লুই) এই দুর্গটিকে এমন ব্যক্তিদের বন্দি রাখার জন্য ব্যবহার করতেন, যারা রাজতন্ত্র বা সামাজিক ব্যবস্থার সমালোচনা করতেন। বিনা বিচারে মানুষকে এখানে বন্দি রাখা হতো, যার ফলে এটি ফরাসি জনগণের কাছে অত্যাচার ও রাজকীয় স্বৈরাচারের এক চরম প্রতীক হয়ে ওঠে। ফরাসি বিপ্লব চলাকালীন ১৭৮৯ সালের ১৪ই ... ...
১৯৪১ মস্কো।স্ট্যালিন তার অফিসের অস্থির হয়ে পায়চারি করছেন। তার টেবিলের উপর ছড়ানো ছিটানো রয়েছে পশ্চিম ফ্রন্ট থেকে পাঠানো জেনারেলদের রিপোর্ট। জার্মান প্যানজার বাহিনী রাশিয়ানদের সমস্ত প্রতিরোধ ছিন্ন করে তীব্র গতিতে এগিয়ে চলেছে মস্কো ও স্ট্যালিগ্রাদের দিকে। অবিলম্বে পশ্চিম ফ্রন্টে সৈন্য সংখ্যা বিশেষ করে ট্যাংক ও সাজোয়া যানের পরিমাণ বৃদ্ধি না করতে পারলে অচিরেই মস্কো ও স্ট্যালিগ্রাদের পতন ঘটবে। জেনারেলরা চাপ দিচ্ছেন পূর্ব ফ্রন্ট থেকে সৈন্য সরিয়ে পশ্চিম ফ্রন্টে আনতে। কিন্তু পূর্ব ফ্রন্ট বিশেষ করে মান্চুরিয়ার দিক থেকে জাপানের আক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে। সেজন্য পূর্ব ফ্রন্টে সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশ মোতায়েন রাখতে হয়েছে। সেখান থেকে সৈন্য সরিয়ে আনলে জাপানি আক্রমণ ঠেকানো যাবে না।পূর্ব ফ্রন্ট ... ...
1997 সালে ডিজনির অ্যানিমেটেড মুভি 'হারকিউলিস' (Hercules) মুক্তি পাওয়ার পর গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে বেশ বড়সড় সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। গ্রিক জনগণ, গণমাধ্যম এবং দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ডিজনির ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়। গ্রিকদের প্রধান আপত্তি ছিল যে, হলিউড তাদের হাজার বছরের পুরনো ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে গিয়ে বিকৃত করেছে।নায়কের আসল গ্রিক নাম হেরাক্লিস (Heracles), কিন্তু ডিজনি ব্যবহার করেছিল রোমান নাম 'হারকিউলিস'। গ্রিক পুরাণে দেবরাজ জিউসের স্ত্রী হেরা ছিলেন হেরাক্লিসের সৎ মা, যিনি ঈর্ষার বশে হেরাক্লিসকে মারার জন্য আজীবন নানা ষড়যন্ত্র করেছিলেন। কিন্তু ডিজনি মুভিতে দেখায় হেরা হচ্ছেন হারকিউলিসের অত্যন্ত স্নেহময়ী জন্মদাত্রী মা! অন্যদিকে পাতালপুরীর দেবতা হেডিসকে (Hades) খ্রিষ্টীয় ধারণার শয়তানের ... ...
হোলি রোমান সাম্রাজ্য এবং বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য—দুটিই নিজেদের রোমান সাম্রাজ্যের উত্তরসূরি দাবি করত। কিন্তু পশ্চিমাংশ ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দেই ভেঙে পড়েছিল, যেখানে পূর্বাংশ বা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আরও প্রায় ১,০০০ বছর (১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) টিকে ছিল। বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল (বর্তমান ইস্তাম্বুল) এমন এক জায়গায় অবস্থিত ছিল, যাকে প্রাকৃতিকভাবেই একটি দুর্গ বলা যায়। এটি তিন দিক থেকে পানি দ্বারা বেষ্টিত ছিল, যার ফলে কেবল একদিক থেকে স্থলপথে আক্রমণ করা সম্ভব হতো।স্থলভাগকে রক্ষা করার জন্য ছিল বিখ্যাত থিওডোসিয়ান দেয়াল (Theodosian Walls), যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করেছে। সমুদ্রপথে আক্রমণ ঠেকাতে তারা গোল্ডেন হর্ন (একটি সামুদ্রিক প্রণালী) জুড়ে বিশালাকার লোহার শিকল টেনে দিত, যাতে শত্রু জাহাজ ... ...
এটি ইতিহাসের অন্যতম একটি বড় বৈপরীত্য—যুদ্ধে জিতেও ব্রিটেন তার সাম্রাজ্য হারিয়েছিল। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রবাহিনী জয়লাভ করলেও, এই যুদ্ধ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছিল। যুদ্ধ জয়ের জন্য ব্রিটেনকে তার সমস্ত সম্পদ বাজি রাখতে হয়েছিল। ১৯৪৫ সাল নাগাদ ব্রিটেনের অর্থনীতি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। যুদ্ধের খরচ চালাতে ব্রিটেন আমেরিকার কাছ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঋণ (Lend-Lease act) নিয়েছিল, যা তাদের ঋণের সাগরে ডুবিয়ে দেয়। সাগরের ওপারে বিশাল সাম্রাজ্য এবং সেনাবাহিনী টিকিয়ে রাখার মতো অর্থনৈতিক সামর্থ্য ব্রিটেনের আর ছিল না। নিজেদের দেশ পুনর্গঠন করাই তখন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যুদ্ধের পর বৈশ্বিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু লন্ডন থেকে সরে যায়। ব্রিটেন ... ...
ত্রয়োদশ শতাব্দীতে (১২৩৬-১২৪২ খ্রিষ্টাব্দ) চেঙ্গিস খানের উত্তরসূরিদের নেতৃত্বে মঙ্গোলরা যখন ইউরোপে আক্রমণ চালায়, তখন তার পেছনে কোনো একক কারণ ছিল না। এটি ছিল তাদের বিশ্বজয়ের পরিকল্পনা, রাজনৈতিক প্রতিশোধ এবং অর্থনৈতিক কৌশলের একটি জটিল মিশ্রণ। মঙ্গোল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেঙ্গিস খান বিশ্বাস করতেন যে, তেনগ্রি (আকাশের দেবতা) মঙ্গোলদের সমগ্র পৃথিবী শাসনের অধিকার দিয়েছেন। মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর সন্তানদের সাম্রাজ্য বিস্তারের যে নির্দেশ দিয়ে যান, তাতে "সূর্য যেখানে অস্ত যায়" (অর্থাৎ পশ্চিম দিক) সেই পর্যন্ত ভূখণ্ড জয় করার কথা বলা হয়েছিল। চেঙ্গিস খানের নাতি বাতু খান এবং সেনাপতি সুবুতাই মূলত এই আদেশ বাস্তবায়ন করতেই ইউরোপের দিকে অগ্রসর হন। মঙ্গোলরা যখন মধ্য এশিয়া এবং রাশিয়ার স্তেপ ... ...
১৯৪৫ সালে, একজন ডাচ চিত্রকরকে হিটলারের সেকেন্ড ইন কমান্ড হেরম্যান গোয়েরিং এর কাছে একটি শিল্পকর্ম বিক্রি করার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়। শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। তবে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে তিনি বলেন যে, চিত্রকর্মটি নকল। চিত্রকরের নাম ছিল হান ভ্যান মিগেরেন। তিনি ছিলেন এমন একজন চিত্রকর যিনি বিখ্যাত হতে চেয়েছিলেন কিন্তু সুযোগ পাচ্ছিলেন না। ছবি সমালোচকরা তার কাজকে ঘৃণা করত। আর্ট গ্যালারিগুলো তাকে উপেক্ষা করত। এমনকি আর্ট সংগ্রাহকরাও তাকে এড়িয়ে যেত। তাই তিনি এমন কিছু আঁকার সিদ্ধান্ত নিলেন যা দেখে তারা মুগ্ধ হতে বাধ্য হবে। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, আরেক বিখ্যাত ডাচ মাস্টার ইয়োহানেস ভার্মিয়ার (Johannes Vermeer) এর জাল ... ...
ডেভিড ই. হফম্যানের লেখা "দ্য বিলিয়ন ডলার স্পাই" (The Billion Dollar Spy) একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত অত্যন্ত রোমাঞ্চকর গোয়েন্দা কাহিনী। বইটির মূল কাহিনী গড়ে উঠেছে শীতল যুদ্ধ (Cold War) চলাকালীন সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং আমেরিকার সিআইএ-র মধ্যকার এক শ্বাসরুদ্ধকর গোয়েন্দা তৎপরতাকে কেন্দ্র করে। কাহিনীর মূল নায়ক অ্যাডলফ টলকাচেভ (Adolf Tolkachev) যিনি পেশায় ছিলেন একজন সোভিয়েত সামরিক প্রকৌশলী এবং রাডার বিশেষজ্ঞ। তিনি মস্কোর একটি গোপন সামরিক গবেষণা ইনস্টিটিউটে কাজ করতেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থা এবং দমন পীড়নের প্রতি তীব্র ক্ষোভ থেকে তিনি আমেরিকার পক্ষে গোয়েন্দাগিরি করার সিদ্ধান্ত নেন। মস্কোতে সিআইএ-র জন্য কাজ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, কারণ সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থা 'কেজিবি' (KGB) ... ...