১২৩৬ থেকে ১২৪২ সালের মধ্যে মঙ্গোলরা যখন রাশিয়া (তৎকালীন Kievan Rus) আক্রমণ ও জয় করে, তখন তারা এমন কিছু সামরিক কৌশল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিল যা সেই সময়ের ইউরোপীয়দের ভাবনারও বাইরে ছিল। কিয়েভান রাস কোনো একক শক্তিশালী রাষ্ট্র ছিল না, বরং ছোট ছোট স্বাধীন রাজ্যে বিভক্ত ছিল।সাধারণত সামরিক ইতিহাসে দেখা যায় যে রাশিয়ার তীব্র শীতের কারণে নেপোলিয়ন বা হিটলারের মতো বড় বড় সম্রাটরা পরাস্ত হয়েছেন। কিন্তু মঙ্গোলরা ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে শীতকালকে তাদের আক্রমণের প্রধান সময় হিসেবে বেছে নেয়। রাশিয়ার ঘন জঙ্গল এবং কাদাভর্তি রাস্তা দিয়ে গ্রীষ্মকালে চলাচল করা কঠিন ছিল। মঙ্গোলরা শীতকালে যখন নদীগুলো বরফে জমে শক্ত হয়ে যেত, তখন সেই ... ...
চতুর্দশ শতাব্দীর মালি সাম্রাজ্যের বিখ্যাত সুলতান মানসা মুসার ধন সম্পদের কথা আমরা সবাই জানি। রাজকীয় বহর নিয়ে মিশর হয়ে হজ্বে যাওয়ার সময় তিনি মিশরে এত সোনা দান করেন যে বহুকাল যাবত মিশরে সোনার দাম কম ছিল। বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ এবং ঐতিহাসিকদের ধারণা অনুযায়ী, বর্তমান সময়ের হিসাবে তাঁর মোট সম্পদের মূল্য আনুমানিক ৪০০ বিলিয়ন (৪০,০০০ কোটি) মার্কিন ডলারের সমকক্ষ ছিল। এখন মনে প্রশ্ন জাগাই স্বাভাবিক, মধ্যযুগে তিনি কিভাবে এত বিপুল সম্পদের অধিকারী হয়েছিলেন? মানসা মুসার সম্পদের সবচেয়ে বড় উৎস ছিল তাঁর সাম্রাজ্যের অধীনে থাকা অত্যন্ত সমৃদ্ধ স্বর্ণের খনিগুলো (বিশেষ করে বামবুক ও বুরে অঞ্চল)। তৎকালীন মধ্যযুগীয় বিশ্বে ব্যবহৃত স্বর্ণের একটি বিশাল অংশ (প্রায় ... ...
প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্য চীন ও ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে নিয়মিত বাণিজ্য করতো। যে পথে এই বাণিজ্য হতো সেটাই সিল্ক রোড নামে পরিচিত ছিল। এই রূট ধরে চীনা ও ভারতীয় পণ্য মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ইউরোপের বাজারে পৌঁছে যেত।.দ্বাদশ শতকের দিকে ওসমানীয় সাম্রাজ্যের উত্থান হলে তারা ধীরে ধীরে রোমান ও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল গুলি জয় করে নেয়। এর ফলে ইউরোপ সম্পূর্ণরূপে সিল্ক রোড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।.এত বড় বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইউরোপিয়ানদের মাথা খারাপ হয়ে যায়। তারা বিকল্প রূটের সন্ধানে দলে দলে সমুদ্রে বেরিয়ে পড়ে। মূলত এই উদ্যোগের ফলেই ভাস্কো দা গামা ভারতে যাওয়ার ও কলম্বাস আমেরিকা যাওয়ার সমুদ্র পথ আবিষ্কার করেন।.যে উসমানীয় ... ...
১৯৪৩ সালের জুলাই মাসে ইতালির একনায়ক এবং হিটলারের পরম মিত্র বেনিতো মুসোলিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। এর পরপরই ইতালি অক্ষশক্তি ত্যাগ করে মিত্রপক্ষের সাথে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এই ঘটনায় হিটলার প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন এবং জার্মান বাহিনীকে ইতালি ও রোম দখলের নির্দেশ দেন। একই সময়ে হিটলারের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে যে, ভ্যাটিকান এবং পোপ দ্বাদশ পিউস গোপনে মিত্রবাহিনী এবং ইতালির রাজপরিবারকে সাহায্য করছেন। এছাড়া পোপের ইহুদিদের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাবও নাৎসিদের পছন্দ ছিল না। হিটলার ইতালিতে নিযুক্ত তৎকালীন এসএস (SS) জেনারেল কার্ল উলফকে (Karl Wolff) একটি অতি গোপন মিশন পরিচালনার মৌখিক নির্দেশ দেন। হিটলারের পরিকল্পনাটি ছিল পোপ দ্বাদশ পিউস এবং ভ্যাটিকানের শীর্ষ কার্ডিনালদের বন্দি করে উত্তর ... ...
একবিংশ শতাব্দীতে এসে জ্বালানি তেলের মতোই আরেকটি উপাদান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে, আর সেটি হলো ‘সেমিকন্ডাক্টর’ বা মাইক্রোচিপ। আমাদের হাতের স্মার্টফোন থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), আধুনিক যুদ্ধ বিমান, হাইস্পিড ট্রেন, স্মার্ট কার কিংবা চিকিৎসা সরঞ্জাম—সবকিছুর মগজ হিসেবে কাজ করে এই চিপ। আর এই চিপ উৎপাদনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পূর্ব এশিয়ার একটি ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্র—তাইওয়ান। বর্তমান বিশ্বে তাইওয়ানের মাইক্রোচিপ ইন্ডাস্ট্রির গুরুত্ব কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং তা কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। চিপ ডিজাইনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য দেশ এগিয়ে থাকলেও, সেই ডিজাইনকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার অর্থাৎ চিপ তৈরির (Manufacturing) মূল কাজটি হয় তাইওয়ানে। তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় চিপ প্রস্তুতকারক কোম্পানি হলো 'তাইওয়ান ... ...
বর্তমান জাহাজ নির্মাণ শিল্পে চীনের আধিপত্য এখন একচেটিয়া পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম জাহাজ নির্মাণকারী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের (Q1) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে চীনের আধিপত্য অবিশ্বাস্য। বিশ্বজুড়ে দেওয়া মোট নতুন জাহাজ অর্ডারের প্রায় ৮৪.৯% একাই দখল করেছে চীন। বিশ্বের মোট জাহাজ উৎপাদনের প্রায় ৫৭.৩% এখন চীনের ইয়ার্ডগুলো থেকে আসছে। বর্তমানে বিশ্বের মোট অর্ডারের প্রায় ৭০% চীনের কাছে জমা রয়েছে, যা অনেক শিপইয়ার্ডকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ব্যস্ত রাখবে। চীন এখন কেবল সাধারণ বাল্ক ক্যারিয়ার বা ছোট জাহাজ নয়, বরং জটিল ও পরিবেশবান্ধব জাহাজ নির্মাণেও নেতৃত্ব দিচ্ছে। ২০২৬ সালে চীনের নেওয়া নতুন অর্ডারের একটি ... ...
ম্যাগনা কার্টা (Magna Carta) হলো ব্রিটিশ বা বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিল, যাকে আধুনিক গণতন্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর বলা হয়। এটি মূলত ১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জন এবং সামন্তদের (ব্যারন) মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি শান্তি চুক্তি। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ঘোষণা করা হয় যে, রাজাও দেশের আইনের ঊর্ধ্বে নন। রাজাকে প্রজাদের অধিকার এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলতে বাধ্য করা হয়। এটি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার কথা বলে। এতে উল্লেখ ছিল যে, উপযুক্ত বিচার বা দেশের আইন ছাড়া কোনো স্বাধীন মানুষকে গ্রেপ্তার বা কারাদণ্ড দেওয়া যাবে না। ম্যাগনা কার্টার নীতি থেকেই পরবর্তীতে আধুনিক বিচার ব্যবস্থা (যেমন: বিচারক ও জুরির মাধ্যমে বিচার) এবং সংসদীয় ব্যবস্থার ধারণা তৈরি হয়েছে। ম্যাগনা ... ...
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ বিভিন্ন ব্যবসায় সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্ন ব্র্যান্ড নামে তাদের আউটলেট চেইন পরিচালনা করে থাকে। বিভিন্ন কনজ্যুমার আইটেম ব্যবসায় ব্যাপকভাবে সাফল্য লাভের পর তারা ঢাকার ভোজন বিলাসী নাগরিকদের টার্গেট করে সরাসরি রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী নেমেছে। প্রাণের জনপ্রিয় কিছু হালকা খাবার চেইন আউটলেট: মিঠাই (Mithai): এটি তাদের অন্যতম সফল চেইন। এখানে প্রধানত মিষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী দেশি খাবার এবং নাশতা পাওয়া যায়। টেস্টি ট্রিট (Tasty Treat): এটি মূলত বেকারি আইটেমের জন্য পরিচিত হলেও, তাদের অনেক বড় আউটলেটগুলোতে ফাস্ট ফুড (যেমন- বার্গার, ফ্রাইড চিকেন, পাস্তা) এবং বসে খাওয়ার সুবিধা রয়েছে। ঝটপট (Jhotpot): এটি মূলত ফ্রোজেন ফুড ব্র্যান্ড হলেও কিছু স্থানে তাদের কিওস্ক ... ...
পরবর্তী বিশ্বব্যাপী ঘাটতি তেল বা সোনার হবে না, বরং তামার হবে। গত কয়েক দশক ধরে, তামার ব্যবহার ছিল সরল—তার, পাইপ, নির্মাণ সামগ্রী ইত্যাদি। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী তামার চাহিদা প্রায় ২৮ মিলিয়ন টন। ২০৪০ সালের মধ্যে, এটি ৪২ মিলিয়ন টনে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বৈদ্যুতিক যানবাহন সাধারণ ইঞ্জিনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি তামা ব্যবহার করে। ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য শক্তি সামাল দেওয়ার জন্য পাওয়ার গ্রিডগুলোতে তামার ব্যাপক ব্যবহার হবে। শুধুমাত্র এআই ডেটা সেন্টারগুলোই তামার চাহিদা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে। এটি কেবল একটি খাত। এবার দেখুন চাহিদার তুলনায় সরবরাহের কী অবস্থা। ২০৩০ সালের কাছাকাছি সময়ে বিশ্বব্যাপী তামার উৎপাদন প্রায় ৩৪ মিলিয়ন টনে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশা করা ... ...
ইউসুফ ইবন তাশফিন ছিলেন উত্তর আফ্রিকার মুরাবিতুন বা Almoravid সাম্রাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক এবং আধুনিক মরক্কোর মারাক্কেশ শহরের প্রতিষ্ঠাতা। মুরাবিতুন বা আলমোরাভিদ আন্দোলন ছিল একাদশ শতাব্দীতে উত্তর আফ্রিকায় উদ্ভূত একটি শক্তিশালী ইসলামি সংস্কারবাদী এবং সামরিক আন্দোলন। তিনি তার চাচাতো ভাই আবু বকর ইবন উমরের পর আলমোরাভিদ আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তার অধীনে এই সাম্রাজ্য বর্তমান মরক্কো, মৌরিতানিয়া, সেনেগাল এবং আলজেরিয়ার একাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। ১০৬২ সালে তিনি মারাক্কেশ শহর প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে সাম্রাজ্যের রাজধানীতে পরিণত হয়।আন্দালুসের (মুসলিম স্পেন) ছোট ছোট রাজ্যের শাসকরা যখন খ্রিষ্টান রাজা ষষ্ঠ আলফনসোর আক্রমণের মুখে কোণঠাসা হয়ে পড়েন, তখন তারা ইউসুফ ইবন তাশফিনের সাহায্য চান। ১০৮৬ সালে তিনি সাগর ... ...