ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও একজন ইতালীয় আমেরিকান বিচারক। তিনি রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্সের একজন পৌর আদালতের প্রধান বিচারক। তিনি তার মানবিক ও সহানুভূতিশীল বিচার প্রক্রিয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছেন।
ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও ১৯৩৬ সালে ইতালীয় অভিবাসী দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় আইন পেশায় ব্যয় করেছেন। তবে, বিশ্বজুড়ে তার পরিচিতি এসেছে মূলত প্রভিডেন্স পৌর আদালতে তার বিচার কার্যক্রমের ভিডিওগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর।
বিচারক ক্যাপ্রিও তার আদালতে আসা সাধারণ মানুষের প্রতি যে ধরনের empathy এবং compassion দেখান, তা সত্যিই বিরল।
ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘনের মতো ছোটখাটো অপরাধের জন্য তার কাছে আসা মানুষের আর্থিক অবস্থা, পারিবারিক সমস্যা এবং তাদের ব্যক্তিগত জীবনের গল্প তিনি মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
অনেক সময় তিনি বৃদ্ধ, অসুস্থ বা আর্থিক সংকটে থাকা ব্যক্তিদের জরিমানা মওকুফ করে দেন। তার এই মানবিক দিকটি মানুষকে মুগ্ধ করে।
তার জনপ্রিয়তার পেছনের অন্যতম কারণ হলো তার হাস্যরস এবং সহজবোধ্য বিচার পদ্ধতি। তিনি কঠোর আইন প্রয়োগের পরিবর্তে মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগানোর চেষ্টা করেন।
তিনি প্রায়শই তরুণ অপরাধীদের উপদেশ দেন এবং তাদের ভালো পথে চলার জন্য উৎসাহিত করেন।
বিচারক ক্যাপ্রিওর বিচার প্রক্রিয়ার ভিডিওগুলো শুধু বিনোদনই দেয় না, বরং বিচার ব্যবস্থার একটি মানবিক দিকও তুলে ধরে। তার কার্যক্রম প্রমাণ করে যে, আইন প্রয়োগের সময়ও সহানুভূতি এবং মানবিকতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও কেবল একজন বিচারক নন, তিনি একজন অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্ব, যিনি দেখিয়েছেন যে ছোট ছোট মানবিকতা কীভাবে সমাজের বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
ক্যান্সারে ভুগে মাত্র কিছুদিন আগে মারার ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও এবার টাইম ম্যাগাজিনের বিবেচনায় "পারসন অফ দি ইয়ার" নির্বাচিত হয়েছেন।
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।