এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • দেহ-নগরীর রাজনৈতিক মহাবিদ্রোহ ( বড় গল্প)

    লেখক শংকর হালদার লেখকের গ্রাহক হোন
    ২২ মার্চ ২০২৬ | ১৩৪ বার পঠিত
  • 1
    দেহ-নগরীর রাজনৈতিক মহাবিদ্রোহ
    লেখক : শংকর হালদার শৈলবালা
    রচনাকাল : ২২ মার্চ, ২০২৬

    প্রথম অধ্যায় : কক্ষপথের কক্ষচ্যুতি ও সংসদীয় অস্থিরতা

    দেহ-নগরী আজ এক তপ্ত আগ্নেয়গিরির মতো, যার শান্ত বহিরাবরণের নিচে ফুটছে অখণ্ড অসন্তোষের লাভা। বাইরে থেকে যে মানুষটিকে স্থির, নিশ্চিন্ত মনে হচ্ছে, তার অভ্যন্তরে আজ গণতন্ত্রের চারটি প্রধান স্তম্ভ—কঙ্কাল (কাঠামো), পেশি (শক্তি), সংবহন (অর্থনীতি) এবং স্নায়ু (প্রশাসন)—একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল, রহস্যময় রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয় এক অনন্য এবং জটিল সংসদীয় পদ্ধতিতে।

    দেহ-নগরীর 'জাগ্রতিক লোকসভা' ৪০০ জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত। এঁরা শরীরের বিভিন্ন উপাঙ্গ, ক্ষুদ্র পেশি, লিগামেন্ট, এবং প্রান্তিক কোষের প্রতিনিধি। এঁরা হলেন এই রাষ্ট্রের তৃণমূল স্তরের কর্মী, যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমে নগরীর চাকা সচল থাকে। আর শাসনভার পরিচালনার মূল দায়িত্বে রয়েছেন ৭৮ জন ক্যাবিনেট মন্ত্রী, যাঁরা শরীরের প্রধান অঙ্গ হিসেবে পরিচিত—হৃৎপিণ্ড থেকে মস্তিষ্ক, কিডনি থেকে লিভার। এঁরা প্রত্যেকে একেকটি বিশাল দপ্তরের অধিপতি।

    আজকের জরুরি সংসদ অধিবেশন বসেছে মস্তিষ্ক নামক কেন্দ্র সরকারের প্রধান কার্যালয়ে, যা 'ক্রেনিয়াম' নামক এক দুর্ভেদ্য দুর্গের ভেতরে অবস্থিত। কক্ষের পরিবেশ অত্যন্ত গুমোট, যেন কোনো এক আসন্ন ঝড়ের পূর্বাভাস। বাইরে হয়তো আজ বর্ষার রিমঝিম শব্দ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শরীরের ভেতরে আজ বইছে লু-হাওয়া। দেশের সামগ্রিক আবহাওয়া তথা 'বডি টেম্পারেচার' আজ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কয়েক ডিগ্রি বেশি, যা এক মারাত্মক অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    মস্তিষ্ক (প্রধানমন্ত্রী): (গম্ভীর, সুগম্ভীর কণ্ঠে, যাঁর প্রতিটি শব্দ স্নায়ুর মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে প্রতিটি কোষে পৌঁছে যাচ্ছে) "মাননীয় সদস্যগণ, আজ আমি আপনাদের এক চরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করাতে বাধ্য হচ্ছি। আমাদের এই পবিত্র রাষ্ট্র, এই অখণ্ড সত্তা আজ এক অস্তিত্বের সংকটের মুখে। বাইরে থেকে যে 'মনুষ্য' শাসক আমাদের পরিচালনা করেন, তিনি আজ চরম স্বেচ্ছাচারী ও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁর ভুল সিদ্ধান্ত, তাঁর লোভ এবং আধুনিক জীবনযাত্রার প্রতি তাঁর অন্ধ আসক্তি আজ আমাদের প্রতিটি স্তম্ভকে দুর্বল করে দিচ্ছে। প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল ফোনের নীল আলো আমাদের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীকে (চোখ ও রেটিনা) আঘাত হানছে, ফলে আমাদের বিশ্রামের সময়, আমাদের 'সারকাডিয়ান রিদম' বা প্রকৃতির সাথে চলার ছন্দ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। আমি কি চোখ মন্ত্রীর কাছ থেকে বর্তমান রিপোর্ট পেতে পারি?"

    চোখ (তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী): (লালবর্ণ ধারণ করে, চোখে এক অসহ্য যন্ত্রণার ছাপ নিয়ে দাঁড়িয়ে) "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি আর পারছি না। আমার ধৈর্যের বাঁধ আজ ভেঙে গেছে। প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা একটানা ডিজিটাল স্ক্রিনের কৃত্রিম, নীল আলো সহ্য করতে করতে আমার রেটিনা আজ ক্লান্ত, আমার কর্নিয়া শুষ্ক। আমার তথ্য সরবরাহকারী স্নায়ুগুলো—যা এই নগরের গোয়েন্দা বিভাগ—তারা আজ বিদ্রোহের ডাক দিচ্ছে। যদি অবিলম্বে এই 'স্ক্রিন টাইম' কমানো না হয়, তবে আমি তথ্য সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেব। আমার সহকর্মী পিনিয়াল গ্রন্থি রাতের অন্ধকারে যে শান্তির হরমোন 'মেলাটোনিন' তৈরি করে, তা আর তৈরি করতে পারছে না, কারণ নগরীতে আলো কখনোই নিভছে না! এই অন্ধকারে আমরা কীভাবে চলব?"

    চোখ মন্ত্রীর কথা শেষ হতে না হতেই সংসদ কক্ষে তুমুল হট্টগোল শুরু হলো। ৪০০ জন লোকসভা সদস্যের মধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ল। ঠিক তখনই হৃৎপিণ্ড (অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী) সজোরে ওল্ডেন গেট (হৃদপিণ্ডের ভালভ)-এর মতো আওয়াজ করে টেবিল চাপড়ে বলে উঠলেন। তাঁর স্পন্দন আজ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দ্রুত, যা তাঁর ভেতরের উত্তেজনা ও ভয়ের বহিঃপ্রকাশ।

    হৃৎপিণ্ড: (তপ্ত নিশ্বাসে, যাঁর প্রতিটি কথা রক্তস্রোতের মতো ধমনীতে আছড়ে পড়ছে) "তথ্য মন্ত্রীর অভিযোগ তো সামান্য! আমার কথা ভাবুন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। প্রতিদিন বিরানি, চপ, মোগলাই আর ফাস্টফুডের নামে যে পরিমাণ চর্বি, কোলেস্টেরল আর 'ব্ল্যাক মানি' আমাদের পবিত্র রক্তধারায় ঢুকছে, তাতে আমার ধমনীগুলোর পথ সরু হয়ে আসছে। রক্তচাপের গ্রাফ আজ আকাশছোঁয়া (High Blood Pressure)। আমি মুদ্রা সরবরাহ (রক্ত সঞ্চালন) নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছি। যদি এই দুর্নীতি বন্ধ না হয়, তবে আমি পাম্প বন্ধ করে দেব। মনে রাখবেন, আমার স্পন্দন থেমে গেলে এই লোকসভার একজন সদস্যও, এমনকি আপনিও, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বেঁচে থাকবেন না!"
    হৃৎপিণ্ডের এই মন্তব্যে কক্ষে এক রোমান্টিক নাটকীয়তার সৃষ্টি হলো। ফুসফুস (পরিবেশ ও বন মন্ত্রী), যা হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে কাছের সঙ্গী, সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে উঠল।

    ফুসফুস: "হৃৎপিণ্ড ভাই, তুমি যদি থেমে যাও, তবে আমি কার জন্য এই বাতাসের অক্সিজেন জোগাড় করব? আমার প্রতিটি অ্যালভিওলাই আজ বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড আর ধুমপানের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। কিন্তু আমি তোমাকেই ভালোবেসে এই জীর্ণ দেহে প্রাণের বাতাস টেনে আনি। আমাদের এই ভালোবাসা কি আজ রাজনীতির বলি হবে?"

    এই আবেগঘন মুহূর্তের মাঝেই কর্কশ কণ্ঠে প্রতিবাদ জানালেন কিডনি (বর্জ্য নিষ্কাশন ও জল সম্পদ মন্ত্রী)।

    কিডনি: "প্রেম-প্রীতির কথা পরে হবে! আগে নগর পরিষ্কারের কথা ভাবুন। অর্থ মন্ত্রী চর্বির কথা বলছেন, কিন্তু সেই বিষাক্ত চর্বি, লবণ আর ইউরিয়ার বোঝা বইতে হচ্ছে আমাকে। আমার নেফ্রনগুলো—যারা এই নগরের পরিচ্ছন্নতা কর্মী—তারা আজ ফিল্টার করতে করতে অকেজো। তার ওপর মদ্যপান, বিড়ি, গুটকা আর রাত জাগার ফলে যে বিষাক্ত বর্জ্য আসছে, তাতে আমার কর্মীরা ধর্মঘট ডেকেছে। আমি পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছি, বিষাক্ত ইউরিয়া যদি আর আধঘণ্টা শরীরে থাকে, তবে পুরো নগরী পচে মরবে!"
    নিচ তলার সিট থেকে পা (পরিবহন মন্ত্রী) দাঁড়িয়ে বললেন, তাঁর পেশিতে টান পড়েছে।

    পা: "সবাই তো বড় বড় কথা বলছেন। আমরা যারা সারাদিন বসে থেকে জং ধরছি, আমাদের কথা কে ভাববে? আমাদের পেশিগুলোতে রক্ত যাচ্ছে না, ব্যায়ামের অভাবে আমরা পঙ্গু হয়ে আসছি। আমরা যদি চলাফেরা বন্ধ করি, তবে আপনাদের এই রাজপ্রাসাদ মাটিতে লুটিয়ে পড়বে। আমরাও চাই এই জরাজীর্ণ জীবনযাত্রার বিরুদ্ধে লড়াই করতে।"

    সংসদে তখন হইচই চরমে। ৪০০ জন লোকসভা সদস্য একে অপরের দিকে আঙুল তুলছেন। কেউ বলছেন পাকস্থলী ঠিকমতো ট্যাক্স (শক্তি) দিচ্ছে না, আবার কেউ বলছেন ইনসুলিন নামক পুলিশ বাহিনী (অগ্ন্যাশয় দপ্তর) তাদের কাজ করতে পারছে না বলেই আজ ঘরে ঘরে 'সুগার' বা শর্করার দস্যুরা লুটপাট চালাচ্ছে। কেউ বলছে রাত জাগার ফলে লিভার (রাসায়নিক দপ্তর) বিষ শোধন করতে পারছে না।

    মস্তিষ্ক দেখলেন, বিদ্রোহ কেবল দানা বাঁধছে না, বরং তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। রাজনীতির এই অস্থিরতা কেবল প্রশাসনিক নয়, এটি অস্তিত্বের সংকট। প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে, আর দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি (নেশা ও ফাস্টফুড) আজ প্রতিটি অঙ্গকে একে অপরের শত্রু বানিয়ে দিয়েছে। এক অখণ্ড সত্তার ভেতর আজ এক অখণ্ড গৃহযুদ্ধের সূচনা হলো।

    সংসদ কক্ষের তাপমাত্রা তখন ফুটন্ত সিসার মতো। প্রধানমন্ত্রী মস্তিষ্কের কপালে চিন্তার ভাঁজ। ৪০০ জন লোকসভা সদস্যের চিৎকারে কান পাতা দায়। ঠিক তখনই কক্ষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে উঠলেন যকৃৎ বা লিভার (রাসায়নিক ও শিল্প উৎপাদন মন্ত্রী)। তাঁর চেহারা আজ ফ্যাকাসে হলুদ, যেন কোনো এক দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভিক্ষের ছাপ তাঁর শরীরে।

    লিভার (যকৃৎ): (ভারী ও বিষণ্ণ কণ্ঠে) "মাননীয় স্পিকার, আমি এই রাজ্যের শিল্প ও রসায়ন বিভাগ পরিচালনা করি। কিন্তু আজ আমার কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। কেন জানেন? কারণ প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই এই রাষ্ট্রের ওপর দিয়ে নেমে আসে এক বিষাক্ত বৃষ্টি—যাকে আপনারা 'মদ্যপান' বা 'অ্যালকোহল' বলেন। এই বিষ শোধন করতে করতে আমার পিত্তথলি আজ রিক্ত। বিড়ি আর গুটকার যে নিকোটিন ও তামাক শুল্কহীন পথে আমাদের সীমান্তে ঢুকছে, তা আমাদের কোষগুলোকে ক্যানসার নামক এক চক্রান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমি যদি আজ আমার ফিল্টারগুলো বন্ধ করে দিই, তবে রক্তের প্রতিটি কণা বিষাক্ত হয়ে যাবে। ডায়াবেটিস নামক এক গৃহযুদ্ধ আজ দোরগোড়ায়, কারণ আমি আর গ্লুকোজের মজুদ সামলাতে পারছি না!"

    লিভারের কথা শেষ হতে না হতেই পাশ থেকে ফোঁস করে উঠলেন পাকস্থলী (খাদ্য ও রসদ মন্ত্রী)। তাঁর পেটের ভেতর থেকে এক ধরনের অ্যাসিডিক আওয়াজ ভেসে এল, যেন কোনো এক আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা উদ্গিরণ হচ্ছে।

    পাকস্থলী: "শিল্প মন্ত্রীর অভিযোগ আমি স্বীকার করছি। কিন্তু আমার দপ্তরের হাল আরও শোচনীয়। প্রতিদিন দুপুরে আর রাতে যে পরিমাণ চাউমিন, চপ আর বিরিয়ানির 'অবৈধ অনুপ্রবেশ' ঘটে, তা হজম করার মতো এনজাইম বা পুলিশ বাহিনী আমার নেই। ফাস্টফুডের এই চক্রান্তে আমার দেওয়ালগুলোতে আজ ঘা বা 'আলসার' তৈরি হয়েছে। রাত জাগার ফলে আমার পাচক রসগুলো এখন অনিয়মিত। আমি ঘোষণা করছি—যদি এই অপদার্থ জীবনধারা না বদলায়, তবে আমি কোনো খাবার গ্রহণ করব না। ক্ষুধাহরতাল শুরু হলে বুঝবেন এই রাজ্যের প্রতিটি পেশি কীভাবে শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়!"

    সংসদ কক্ষের এক কোণে বসেছিলেন থাইরয়েড গ্রন্থি (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন মন্ত্রী)। তিনি সাধারণত চুপচাপ থাকেন, কিন্তু আজ তাঁর গলার স্বর কাঁপছে।

    থাইরয়েড: "আপনারা সবাই শুধু শক্তির কথা বলছেন, কিন্তু উন্নয়নের ভারসাম্য কে বজায় রাখবে? আমার নিঃসৃত হরমোনই তো এই রাজ্যের মেটাবলিজম বা উন্নয়নের গতি নির্ধারণ করে। কিন্তু আয়োডিনের অভাব আর অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে আমার দপ্তর আজ বিশৃঙ্খল। হয় এই মানুষটিকে বিশ্রাম নিতে বলুন, নাহলে আমি উন্নয়নের চাকা এমনভাবে ঘুরিয়ে দেব যে শরীর হয় কুঁকড়ে যাবে, না হয় অস্বাভাবিক ফুলে উঠবে। ভারসাম্যহীন উন্নয়ন আর ধ্বংসের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই!"

    হঠাৎ কক্ষের এক প্রান্তে এক সুমধুর কিন্তু আর্তনাদপূর্ণ সুর ভেসে এল। তিনি হলেন ভোকাল কর্ড বা স্বরযন্ত্র (সংস্কৃতি ও যোগাযোগ মন্ত্রী)।

    ভোকাল কর্ড: "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি হলাম এই রাজ্যের কণ্ঠস্বর। কিন্তু সারাদিন উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার, ধুলোবালি আর ঠান্ডা পানীয়ের অত্যাচারে আমার তারগুলো আজ ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম। আমি যদি গান গাওয়া বা কথা বলা বন্ধ করি, তবে এই মানুষটি বাইরের জগতের কাছে বোবা হয়ে যাবে। আমাদের আবেগ প্রকাশের ভাষা আজ হারিয়ে যাচ্ছে যান্ত্রিকতার ভিড়ে।"

    সবশেষে দাঁড়িয়ে উঠলেন ত্বক বা স্কিন (প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত সুরক্ষা মন্ত্রী)। তিনি এই রাজ্যের বৃহত্তম অঙ্গ, যা পুরো নগরীকে ঢেকে রেখেছে।

    ত্বক: "আপনারা সবাই ভেতরের কথা বলছেন, কিন্তু আমি বাইরের রোদে পুড়ছি আর ঘামছি। ময়লা আর ধুলোর আস্তরণে আমার হাজার হাজার রোমকূপ আজ অবরুদ্ধ। আমি যদি আজ আমার ছিদ্রগুলো খুলে দিই, তবে সমস্ত জল বেরিয়ে যাবে আর যদি বন্ধ করি, তবে বিষাক্ত ঘাম আপনাদের রক্তকে দূষিত করবে। আমাকে অবহেলা করলে চর্মরোগ নামক এক বহিরাগত শত্রুর আক্রমণ কেউ ঠেকাতে পারবে না!"

    সংসদের ৪০০ জন সদস্য এই পাঁচটি দপ্তরের আর্তনাদ শুনে নিথর হয়ে গেলেন। রাজনীতির কূটচালে যখন কেন্দ্র (মস্তিষ্ক) এবং অর্থ (হৃৎপিণ্ড) ব্যস্ত থাকে, তখন যে প্রান্তিক দপ্তরগুলো (লিভার, স্কিন, থাইরয়েড) নিঃশব্দে ধ্বংস হয়ে যায়, তা আজ প্রমাণিত।

    মস্তিষ্ক বুঝলেন, বিদ্রোহ এখন আর কেবল কাগজে-কলমে নেই। এটি এখন গণ-আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। প্রতিটি অঙ্গ আজ তার নিজের প্রাপ্য মর্যাদা আর বিশ্রামের অধিকার চাইছে। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে রাত ১২টায় যেখানে ঘুমের কথা ছিল, সেখানে আজ রাত ২টো বাজে। এই 'টাইম জোন' লঙ্ঘন করার দায়ে পুরো রাজ্য আজ এক মহাবিপর্যয়ের মুখে।

    ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
    ধারাবাহিক ভাবে গল্পটি চলবে, সবাইকে পড়ার অনুরোধ রইলো।
    ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    1
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন