এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • সাধারণ তন্ত্র দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবস

    SHANKAR BHATTACHARYA লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ৪৬ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • এই লেখাটির আর্টিকল নম্বর হল "21011"

    মামুলি আনুষ্ঠানিকতা নয় প্রজাতন্ত্র দিবস বা সাধারণতন্ত্র দিবস, 
    অয়েল ইকোনমি ও রয়্যাল নেচার: ক্ষমতা, ভোগ ও সাধারণ মানুষের খরচ

    ************************
     
    ১. ভূমিকা: তেল—শুধু জ্বালানি নয়, ক্ষমতার চালিকা শক্তি

    আজকের বিশ্বে খনিজ তেল শুধু একটি জ্বালানি নয়; এটি অর্থনীতি, রাষ্ট্রক্ষমতা ও দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম ভিত্তি। ভারত বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম খনিজ তেল আমদানিকারক দেশ। অর্থাৎ আমাদের দেশের চলমান অর্থনীতি, পরিবহন ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কাঠামো বহুলাংশে নির্ভরশীল আমদানিকৃত তেলের উপর। এই নির্ভরতা শুধু আর্থিক বোঝা তৈরি করে না, বরং ক্ষমতা ও সুবিধাভোগের একটি বিশেষ কাঠামোকেও শক্তিশালী করে তোলে।
     
    বক্তব্য: তেল কার, খরচ কার?
     
    ভাই ও বোনেরা,
    আজ সাধারণতন্ত্র দিবসে আমি আপনাদের সামনে একটা খুব সাধারণ কিন্তু খুব জরুরি প্রশ্ন নিয়ে কথা বলতে চাই।
     
    প্রশ্নটা হলো—
    তেল কার জন্য, আর তার দাম দিচ্ছে কে?
     
    আমরা সবাই জানি, আজ তেল মানে শুধু গাড়ি চালানো নয়।
    তেল মানে—
     
    বাসের ভাড়া,
    সবজির দাম,
    ধান কাটার খরচ,
    হাসপাতালে যাওয়ার ভাড়া,
    আর আমাদের সংসারের চাপ।
     
    ভাই ও বোনেরা,
    আমাদের দেশ ভারত আজ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম খনিজ তেল আমদানিকারক দেশ।
    মানে কী?
    মানে, আমাদের দেশের গাড়ি, ট্রাক, বাস চালাতে যে তেল লাগে, তার বড় অংশই আসে বিদেশ থেকে।
    আর বিদেশ থেকে তেল আনতে গেলে দাম বাড়বেই।
     
    এখন বলুন তো,
    তেলের দাম বাড়লে কাদের কষ্ট হয়?
     
    কষ্ট হয়—
    খেতমজুরের,
    ছোট চাষির,
    রিকশাচালকের,
    বাসচালকের,
    দোকানদারের,
    আর আমাদের মতো সাধারণ মানুষের।
     
    তেলের দাম বাড়লে সব কিছুর দাম বাড়ে।
    কিন্তু আমাদের মজুরি কি বাড়ে?
    আমাদের আয় কি সেই হারে বাড়ে?
    না, বাড়ে না।
     
    এখন আরেকটা প্রশ্ন করি।
    এই তেল ব্যবহার করে কারা?
     
    একদিকে আমরা—
    নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে তেল কিনি।
    মোটরসাইকেলে যাই কাজে,
    অটো ধরে হাসপাতালে যাই,
    বাসে চেপে বাজারে যাই।
     
    আরেকদিকে বড় বড় কোম্পানি, কারখানা, ব্যবসা।
    ওরা তেল কিনে ব্যবসা চালায়,
    আর সেই খরচটা শেষ পর্যন্ত নানা জিনিস বিক্রি করে আমাদের কাছ থেকেই তুলে নেয়।
     
    কিন্তু ভাই ও বোনেরা,
    আরেক দল আছে—
    মন্ত্রী, বড় অফিসার, প্রশাসনের লোক।
     
    তাদের গাড়িতে যে তেল যায়,
    সেই তেলের দাম তারা নিজের পকেট থেকে দেয় না।
    ওটা যায় সরকারের খরচে।
    মানে, আমাদের ট্যাক্সের টাকায়।
     
    এখানেই তৈরি হয় অন্যায়।
    আমরা তেলের দাম বাড়লে কাঁদি,
    আর ক্ষমতার গাড়ি তখনও চলে নির্বিঘ্নে।
     
    এই ব্যবস্থাটাকেই আমি বলছি—
    রয়্যাল নেচার।
     
    যেখানে সুবিধা পাওয়া যায়,
    কিন্তু কষ্টটা বোঝা যায় না।
     
    ভাই ও বোনেরা,
    এই তেলনির্ভর অর্থনীতি একদিকে সরকার আর প্রশাসনের চাকাকে ঘোরায়,
    আর অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে।
     
    আমরা কর দিই,
    আমরা বেশি দাম দিই,
    আমরা সংসার চালাতে হিমশিম খাই।
     
    আর সুবিধা পায় অন্যরা।
     
    আজ আমরা তেল বন্ধ করার কথা বলছি না।
    তেল দরকার—দেশ চলবে, মানুষ চলবে।
     
    কিন্তু আমরা প্রশ্ন তুলছি—
     
    খরচটা কার ঘাড়ে পড়বে?
    সুবিধাটা কারা নেবে?
     
    এই প্রশ্ন না তুললে,
    এই অন্যায় চলতেই থাকবে।
     
    ভাই ও বোনেরা,
    এই কথা আজ শুধু শোনার জন্য নয়।
    এই কথা মনে রাখার জন্য।
     
    কারণ যতদিন আমরা প্রশ্ন করব না—
    তেল কার, খরচ কার?
    ততদিন আমাদের ঘাড়েই সব বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হবে।
     
    সাধারণতন্ত্র দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে আমাদের প্রশ্ন যেন কখনও চাপা পড়ে না যায়। তেল খরচ করে যানবাহনে চড়ে গণতন্ত্রের উন্নতি জন্য ভাষন অনেক হয়েছে, প্রজাদের ঘাড়ে খরচের বহর ক্রমাগত চাপানো হচ্ছে – এ কেমন দেশ ?
     
    ধন্যবাদ।
    বিনীত শংকর ভট্টাচার্য্য ✍️ ২৬/০১/২৬

    #প্রজাতন্ত্রদিবস_সাধারণতন্ত্রদিবস #গণতন্ত্র #তেলেরখরচপ্রশ্ন
    #SabitaEunoiaworldviews 

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক প্রতিক্রিয়া দিন