এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  আলোচনা  রাজনীতি

  • বর্তমান বাংলাদেশ!!!

    দীপ
    আলোচনা | রাজনীতি | ০৫ নভেম্বর ২০২৫ | ৪৯২ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • বর্তমান বাংলাদেশ সরকার এই ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই ইতিহাস আমরা যেন ভুলে না যাই!
    বাংলাদেশের কুলদা রায় বর্তমানে আমেরিকায় আছেন। তাঁর লেখায় ফুটে উঠল একাত্তরের রক্তাক্ত স্মৃতি। পাকবাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকারদের ত্রিশ লক্ষ মানুষের রক্ত লেগে আছে!
    এঁদের কথা ভুলবো না, ভুলতে দেবোনা!
     
    ----------------------------------------------------------
     
    তাঁর নাম ছিল ভোলানাথ বসু। ছিলেন অতি দরিদ্র। ব্যবসা করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন। রাজনীতি করতেন না। বাগেরহাট শহরে বাসা। ঘরে বুড়ি মা। স্ত্রী। সন্তান। মানসিক রোগাক্রান্ত ভাই। একজন নেপালি লোক। আর পথ থেকে কুড়িয়ে নেওয়া কয়েকটি কুকুর। এই তাঁর সংসার। তাঁর মেয়ে ঝর্না বসু হালদার লিখেছেন--
     
    '২ জ্যৈষ্ঠ, ১৭ মে সোমবার, ১৯৭১। ভোরের আকাশ লাল হওয়ার আগেই বিছানা ছেড়ে উঠে পড়েছি। একটা অস্থিরতায় ভুগছি সবাই। সকাল সাতটার দিকে মা স্নান করে রান্না বসিয়েছেন। বাবা নিচ থেকে উপরে এলেন। ঘরে অনেক কিছু দরকার, জগন্নাথকে বাজারে পাঠাবেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বারো বছরের ভাই জগন্নাথের বাইরে বেরুনো কিছুটা নিরাপদ। ফর্দ আর টাকা নিয়ে জগন্নাথ বাজারে গেল। বাবা আবার নিচে নেমে গেলেন। খোলা বারান্দায় বসে রইলেন প্রহরীর মতো। আমি দোতলা থেকে নেমে সিড়ির দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে এলাম। 
     
    কতোক্ষণ হবে জানি না, পনেরো মিনিট বা আধঘণ্টা। কান ফাটানো বন্দুকের আওয়াজ আর বাবার আর্তচীৎকার—“ভাই আমার একটা কথা'' ধ্বনিতে হতভম্ব হয়ে গেলাম। দোতলার জানালা দিয়ে উঠোনে তাকিয়ে দেখলাম উদ্যত রাইফেলধারী জল্লাদ বাহিনী উল্লসিত হয়ে ফিরে যাচ্ছে। উঠোনে সটান পড়ে আছেন দাদা। জল্লাদের কাছে বাবার প্রাণভিক্ষা চাইছিলেন। রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে সিঁড়ির কাছে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন মা।
     
    না, পাকসেনারা সেদিন ক্যাম্প ছেড়ে তখনও বের হয়নি। বাসাবাটির স্বনামধন্য মাওলানা তার পুত্রকে মালাউন হত্যার সওয়াব নিতে অস্ত্রসহ নেতৃত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন। সঙ্গে হত্যাকারী, অশিক্ষিত বর্বর লোভী ধর্মান্ধ একজন রাজমিস্ত্রি এনায়েত, ডাকনাম কুটি। বাসাবাটির প্রান্তসীমায় নাগেরবাজারের কাছাকাছি জায়গায় এদের বাড়ি। দৌড়ে নিচে এলাম। বারান্দায় পড়ে আছেন রক্তস্নাত বাবা, শান্ত, স্থির, খোলা চোখ। মুখের কাছে মুখ নিয়ে চিৎকার করে ডাকলাম—বাবা! চোখ দিয়ে ইশারা করে বললেন—ডাকিস না। 
     
    আমার মা একেবারে স্তব্ধ। কোনো অনুভূতি নেই, অভিব্যক্তি নেই। শিল্পীর আঁকা ছবি দেখেছি, সাবিত্রীর কোলে সত্যবানের মাথা। তেমনি শুধু বাবার মাথাটা তার কোলে। একটা হাতপাখা নেড়ে নেড়ে রক্তের গন্ধে ছুটে আসা মাছিগুলো তাড়িয়ে চলেছেন। বাবার সবটুকু রক্ত শরীরে মেখে নিয়েছে তার মা। আর মাটি। আর জনশূন্য এলাকায় সদ্য পিতৃহীন হতভাগ্যদের বেদনার্ত চিৎকার প্রতিধ্বনিত হয়ে চলেছে। সঙ্গে সমানে আর্তনাদ করে চলেছে বাবার প্রিয় কুকুরের দল। পাশে বসে সমবেদনার হাত ধরার মতো একজনও কোথাও নেই।'
     
    ভোলানাথ বসু নিজেকে মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসতেন। কিন্তু তাঁকে হিন্দু হিসেবে মেরে ফেলা হয়েছিল। 
     
    এটা সত্যি। সত্যি ঘটেছিল। একাত্তরে। আমরা ভুলে গেছি। ভুলে যেতে ভালোবাসি আমরা। ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। 
     
    আমাদেরকে সম্পূর্ণভাবে স্মৃতিহীন করার সর্বাত্মক চেষ্টা করে চলেছে ইউনুস সরকার।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • no-facebook-link | 2401:2a31:118d:3e:878:1674:1217:***:*** | ০৬ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৫২746127
  • ফেসবুক লিংক দেবেন না প্লিজ .
  • দীপ | 2402:3a80:1979:bcf4:778:5634:1232:***:*** | ১০ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:৫৬746141
  • কাশ্মিরের রাজধানী শ্রীনগরে অবস্থিত হযরত বাল মসজিদে হযরত মোহাম্মদ (দঃ) এর পবিত্র চুল সংরক্ষিত ছিল। ১৯৬৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর সেই পবিত্র চুল চুরি হয়ে যায় বলে খবর রটে। সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পিছনে ভারতের গভীর ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করে পাকিস্তানের সরকারী মহল। জম্মু ও কাশ্মীরে জেহাদের ডাক দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট আইয়ূব খান ঘোষণা করেন, সংখ্যাগুরু নাগরিকরা কোনো ঘটনা ঘটালে তিনি কোনো দায়িত্ব নেবেন না। 
     
    ৪ জানুয়ারি হারিয়ে যাওয়া চুল খুঁজে পাওয়া যায়। আরও জানা যায়, হযরত মোহাম্মদ (দঃ) এর চুল আদৌ হারানো যায়নি। ওটা ছিল সাম্প্রাদায়িক হামলা চালানোর একটা সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। 
     
    সে সময়ে সবুর খানের নেতৃত্বে খুলনা জেলার দৌলতপুর এলাকার মিল শ্রমিকগণ ২০ হাজার লোক নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। সরকারী কর্তৃপক্ষ এই মিছিলটিকে বাঁধা দেয়নি। তারা সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি আক্রমণ করে। দোকানপাঠ লুটতরাজ করে। তাতে তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। বেশ কয়েকজন নিহত করা হয়। বাগেরহাটের ফকিরহাটেও সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে আক্রমণ করা হয়। দুইজনকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। 
     
    ঢাকা নারায়ণগঞ্জ, আদমজীতে ব্যাপক হামলার শিকার হয় সংখ্যালঘুরা। এর নেতৃত্ব দেয় মোনায়েম খানের এনএসএফ'এর গুণ্ডারা। এই হামলায় বিহারীদেরকে সরকার ব্যবহার করে। 
    ঠাঁটারিবাজার, নওয়াবপুর, সদরঘাট, বংরাম, রায়েরবাজার, কোতওয়ালী, সূত্রাপুর, চকবাজার, ইমামগঞ্জ, ওয়ারস্ট্রিট, র‍্যাঙ্কিন স্ট্রিট, কমলাপুর, টঙ্গী, জয়দেবপুরে ব্যাপকভাবে আক্রমণ করা হয়। 
    ঢাকায় দাঙ্গা থামাতে গিয়ে নিহত প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব আমীর হোসেন চৌধুরী। 
     
    এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটির আহবায়ক নির্বাচিত হন শেখ মুজিবুর রহমান। 
     
    দৈনিক আজাদ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ, ১৬ জানুয়ারি ১৯৬৪
    ------------------------------------------------------------------
    গতকল্য শেখ মুজিবুর রহমান প্রায় ৫ শত কর্মী লইয়া ঠাঁটারীবাজার ও বনগ্রাম রড এলাকায় গমন করিয়া শান্তি ও শৃংখলা বজার রাখার জন্য দেশবাসী সকলের প্রতি আবেদন জানাইতে থাকিলে গুণ্ডারা তাঁহাকেও আক্রমণ করিতে উদ্যত হয়। কিন্তু স্থানীয় লোকরা গুণ্ডাদের বাধাদান করেন। শেখ মুজিবুর রহমান উক্ত এলাকা হইতে গুণ্ডার হামলা হইতে অনেক লোককে উদ্ধার করেন।
     
    এই ইতিহাস যেনো আমরা ভুলে না যাই!
  • দীপ | 2402:3a80:197d:e049:878:5634:1232:***:*** | ১১ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:২৬746151
  • বাবা-মা'র ডাক বাড়িতে দুলালী বলে
    প্রিয়বালা নাম দিয়েছিল পাঠশালা
    দু’তিন ক্লাসের লেখা-পড়া সবে শুরু
    গ্রামে কে বলল: 'পালা রে সবাই, পালা...'
     
    সারা গ্রাম নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলাম
    মা-বাবাদু’বোন, পালিয়ে যাচ্ছিলাম
    ঝোপঝাড় ঠেলে, হাজামজা নদী ঠেলে
    পথে ঘুমন্ত দাঁড়িয়ে ঘরের চালা
     
    ঘুমন্ত বেড়া চালে ঘুমন্ত লাউ
    উঠোনে শোয়ানো গরুর গাড়ির চাকা
    শোয়ানো লাঙ্গল, দাওয়ায় শিউলি গাছ
    ঘোড়ানিমগাছে চাঁদ অর্ধেক ঢাকা।
     
    শব্দ না করে চলে যাই, তবু ডাল 
    নিচু হয়ে এসে ছুঁয়েছে কপাল, মাথা 
    শিশিরে ঠান্ডা, ভেজা আর খসখসে
    হাতের পাতার মতনই গাছের পাতা
     
    কত কত মাঠ পার হয়ে তারপর
    জিরিয়ে নিয়েছি গাছের-ই তলায় বসে
    যে যার পোঁটলা খুলে চিড়ে, গুড়, মুড়ি...
    শেষে চোখ লেগে এসেছে ক্লান্তি দোষে।
     
    আচমকা দেখি ছুটোছুটি করে লোক
    কিভাবে আগুন লেগে গেছে গ্রামে গ্রামে
    কই'রে আদুরী? ও দুলালী? তোরা কই?
    মা-বাবা ডাকছে আমাদের ডাক-নামে
     
    আমি রইলাম; আদুরী ছিটকে গিয়ে
    কোথায় পড়ল, কেউ জানল না কিছু
    আমরা সবাই কাঁটাতার পেরোলাম
    আমরা সবাই ঘাড় নিচু, মাথা নিচু...
     
     জয় গোস্বামী।
  • দীপ | 2402:3a80:1975:bcff:678:5634:1232:***:*** | ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৫:০৭746194
  • “একদিন… বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা, আপনাকেও বোরকা পরতে হবে, আপনাকেও হেজাব পরতে হবে। 
     
    এই হেফাজতিরা আপনাকেও ছাড়বে না। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলে রেহাই দেবে না।”
     
    -শহীদের পিতা অধ্যাপক অজয় রায়
    জানুয়ারি, ২০১৭
  • দীপ | 2402:3a80:1983:e0f4:278:5634:1232:***:*** | ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৪২746195
  • 'পানিতে ভাসিয়ে দিলে পুরুষের লাশ চিৎ হয়ে ভাসে আর নারীর লাশ ভাসে উপুড় হয়ে। মৃত্যুর পরে পানিতে এদের মধ্যে এইটুকু তফাত। এই জ্ঞান আমি পাই '৭১ সালের মার্চ মাসের একেবারে শেষে—ত্রিশ বা উনত্রিশ তারিখে।' 
     
    হাসান আজিজুল হক 
  • দীপ | 2402:3a80:198f:2bb1:878:5634:1232:***:*** | ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৩৪746202
  • একাত্তরে জয় বাংলা ছিল আমাদের প্রাণের ধ্বনি। এই জয় বাংলা ধ্বনি দেওয়ার কারণে পাকিস্তানীরা ও পাকিস্তানপন্থীরা ৩০ লক্ষ মানুষকে মেটিকুলাস ডিজাইনের অংশ হিসেবে হত্যা করেছিল। মনে রাখুন এই শহীদের সংখ্যা পাঁচ শো বা দেড় হাজার নয়-- সংখ্যাটি ৩০ লক্ষ। আর কয়েক লক্ষ নারীকে করেছিল ধর্ষণ।
     
    এই জয় বাংলা ধ্বনির কাছে একাত্তরে পরাজিত হয়েছিল পাকিস্তান ও জামায়াতসহ পাকিপন্থীরা। জয় হয়েছিল জয় বাংলারই। বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল জয় বাংলা ধ্বনি থেকেই। 
     
    পঁচাত্তরে আবার বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে জয় বাংলাকে উৎখাত করতে চেয়েছিল পাকিস্তানপন্থীরা। তাদের নেতৃত্ব দিয়েছিল খোন্দকার মোস্তাক এন্ড গং। 
     
    কয়েক বছরের মধ্যেই জয় বাংলা আবার ফিরে এসেছিল। মোস্তাক এন্ড গং ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল। কেউ তাদের মনেও করে না। জয় বাংলার সঙ্গে জয় বঙ্গবন্ধুও ফিরে এসেছিল। 
     
    এখন ইউনুসের নেতৃত্বে সেই খুনি ধর্ষক পাকিস্তানপন্থীরা আবার ক্ষমতা দখল করে আছে। জয় বাংলাকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। স্বাধীন বাংলাদেশটাকে জোর করে ফিরিয়ে নিতে চেষ্টা করছে পাকিস্তানে। 
     
    ইতিহাস বলে--জয় বাংলাকে কখনো মোছা যায় না। জয় বাংলাকে মুছে ফেলার মেটিকুলাস ডিজাইনাররাই ইতিহাস থেকে মুছে গেছে। জয় বঙ্গবন্ধু সগৌরবে ফিরে এসেছে। ফিরে এসেছে জয় বাংলা। 
     
    আবার জয় বাংলা বলুন। প্রাণ খুলে জয় বাংলা বলুন। বজ্রকণ্ঠে জয় বাংলা বলতে থাকুন। 
     
    এই জয় বাংলা ধ্বনির স্রোতে ভেসে যাবে মেটিকুলাস ডিজাইনার ইউনুস, আসিফ নজরুল, শফিকুল, হাসনাত, শহীদুল আলম, ফরহাদ মজহার, পিইনাকি, ইলিয়াস, আনু মুহাম্মদ, জুনায়েদ সাকি, প্রথমালোর মতিউর রহমান, মাহমুদুর রহমান, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম-কাফি রতন, জামায়াত-শিবির, হিজবুত, হেফাজত, তাজুল, ওয়াকার, আলী রিয়াজ গং। 
     
    বাংলাদেশ কখনো পাকিস্তানে ফেরত যায় না। যাবে না। স্বাধীন বাংলাদেশেই থাকবে জয় বাংলার বাংলাদেশ। 
     
    বলুন জয় বাংলা। 
    জয় বাংলা
     
    লিখেছেন আমেরিকাপ্রবাসী বাংলাদেশী কুলদা রায়।
  • দীপ | 2402:3a80:197f:7292:878:5634:1232:***:*** | ২০ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:০৭746205
  • প্রথমে লোকটাকে পেটানো হলো। তারপর ভাতও খাওয়ালো তারা। হাত মুখ মুছে যখন লোকটি একটু সুস্থ হলো ঠিক তখনি তাকে উল্লাশ ভরে পিটিয়ে মারা হলো। লোকটা সত্যি সত্যি মরেই গেল। 
     
    এই হত্যাকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। অকুস্থল ফজলুল হক মুসলিম হল। 
     
    লোকটিও ক বছর আগে ছাত্র ছিলেন। বাড়ি বরগুণায়। স্নাতকোত্তর পাশ করেছেন। অতি সম্প্রতি তারা বাবা মা ও বড় ভাই মারা গেছেন। তারপর থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে গিয়েছেন তোফাজ্জল নামের এই হতভাগা লোকটি। 
     
    লোকটি হত্যাকারীদের অচেনা নয়। হলের মধ্যে ঢুকেছিল ভাত খাওয়ার জন্য। তাকে চোর সন্দেহ করে মেরে ফেলেছে ছাত্ররা। যখন তোফাজ্জল নামের লোকটির হাত পা থেকে মাংস খসে পড়ছিল তখনো এই হত্যাকামী ছাত্ররা তাকে ড্যান্স করতে বাধ্য করেছিল। 
     
    মারতে মারতে লোকটির আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে দু লাখ টাকা মুক্তিপণও চেয়েছিল। হায়!
     
    এই ছাত্ররা মাস দেড়েক আগে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামিয়ে দিয়েছে। তাদের অভিযোগ ছিল শেখ হাসিনা স্বৈরাচার ছিলেন। তিনি গণতন্ত্র, আইনের শাসন ধ্বংস করে ফেলেছিলেন। দূর্নীতি করেছেন। জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মীভিত্তিক রাজনীতিকে দাবিয়ে রেখে এক্সক্লুসিভ বৈষম্যমূলক রাষ্ট্র গঠন করেছিলেন। এবং অবৈধভাবে ক্ষমতায় ছিলেন। ক্ষমতায় থাকার জন্য গুলি করে ছাত্র মারতে দ্বিধা করেননি।
     
    রাষ্ট্র থেকে এই অব্যবস্থাকে দূর করার কথা বলেই ছাত্র সমাজের নেতৃত্বে শেখ হাসিনার রেজিম হটে গেছে। ইউনুস ক্ষমতায় এসেছেন। নেতৃত্বদানকারী কয়েকজন ছাত্র নেতা ইউনুসের সরকারে আছেন। সারা দেশে এরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। মাজার ভাঙ্গা হচ্ছে। হিন্দুদের মন্দির বাড়িঘর মানুষজন আক্রান্ত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সকল স্থাপনাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ভেঙে দেওয়া চলছে। 
     
    জামায়াত সহ মৌলবাদীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। অবাধে চাঁদাবাজি চলছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও মানুষকে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হচ্ছে। এমনকি প্রধান নেতারা বন্যা ত্রাণের টাকা বিতরণ না করে নিজেদের দখলে রেখেছে। 
     
    কাল শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়– জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও একজনকে প্রোক্টরের সামনে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। বগুড়ায় মারা হয়েছে আরেকজনকে। 
     
    এই হত্যাকাণ্ডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতারাও অংশগ্রহণ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। 
     
    এরা প্রথমে মারবে। তারপর ভাত খাওয়াবে। একটু সুস্থ হলে তাকে মেরে লাশ বানিয়ে দেবে। একটা অপশাসন থেকে নৈরাজ্যে পড়েছে বাংলাদেশটা। 
     
    এই লোভী দুর্নীতিপরায়ণ ও নিষ্ঠুর খুনি-মানসিকতা সম্পন্ন ছাত্র নেতারা দেশের কোন ইনক্লুসিভ পরিবর্তনটা আনবে? 
     
    হলি আর্টিজানে যারা ঠাণ্ডা মাথায় খুন করেছিল সেই জঙ্গীবাদীদের ছায়া এদের শরীরে কি ধীর ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে না?
  • দীপ | 2402:3a80:198d:c564:778:5634:1232:***:*** | ২৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:২৩746223
  • "বাংলার বাউলদের উপর ওরা চড়াও হয়েছে। হাজার বছর ধরে যে বাউলরা নিতান্ত প্রেমের কথা শুনাচ্ছে আমাদেরকে গানে গানে, ওদেরকে প্রহার করছে একদল তস্কর। অপমান করছে এই পবিত্র মানুষগুলিকে যারা মানুষকে মানুষ ভজতে শেখায়। আমরা বিরাট বিরাট পণ্ডিত রাজনীতিবিদ কায়দাবাজ ভণ্ডের দল, সকলে সেইগুলি চেয়ে চেয়ে দেখি। বিরাট বিরাট বীরপুরুষের দল! ওরা আমার পবিত্র মাতৃভূমিকে কলঙ্কিত করে, আমি চেয়ে চেয়ে দেখি। 
     
    টেলেমেকাসের কথা মনে পড়ে। ওর নিজেদের ঘরে নিজের মায়ের দিকে লোলুপ চোখে তাকিয়ে দেখতো ভিনদেশী লোকেরা। ঘরের দাসীদের নিয়ে লোফালুফি করতো বিদেশীগুলি। অসহায় টেলেমেকাস চেয়ে চেয়ে দেখতো। টেলেমেকাসের কথা মনে পড়ে। পিতার কথা মনে পড়ে- পিতার তর্জনী। কে আমাদের নির্দেশনা দিবে!  
     
    দুখিনী বাংলা আমার, জননী আমার।"
     
    ক্ষমা কোরো দুঃখিনী জন্মভূমি, ক্ষমা কোরো জননী!
  • দীপ | 2402:3a80:1975:5da1:678:5634:1232:***:*** | ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ০০:৩৯746226
  • বাউল শিল্পীকে প্রথমে নিষ্ঠুর 'তৌহিদী মুসলিম জনতা' পুলিশের সামনে লাঠি পেটা করল। তারপর লাথি দিয়ে পুকুরে ফেলে দিলো। তারপর সেই উন্মত্ত মানুষগুলো ঢিল ছু্ঁড়তে লাগলো শিল্পীর উপর। 
     
    শিল্পী ডুবের পর ডুব দিচ্ছেন। মাথা তুললেই ঢিল পড়ছে মাথায়৷ 
     
    পুলিশ ভয়ে ভয়ে চেষ্টা করছে তৌহিদী জনতাকে নিবৃত করার। পারছে না। অ্যাকশনে যেতে পুলিশ ভয় পাচ্ছে হয় তো, অথবা পুলিশ নিজেও তৌহিদী জনতার অংশ। আবার তৌহিদী জনতা যেহেতু গত জুলাই বিপ্লবের লোক, সরকারও তাদের, তাই পুলিশ হয়তো কিছু করতে পারছে না। 
     
    ভিডিওটা দেখছিলাম আর ব্যথায় ও আতঙ্কে কুঁকড়ে যাচ্ছিলাম।
  • দীপ | 2402:3a80:198f:9d55:878:5634:1232:***:*** | ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১১:১৮746237
  • এই কথাগুলো সবাইকে পড়তে বলি। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের জন্ম, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড এগুলো ঘটেছিলো কেন, কি কারণে, ভারত কেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা ফ্যাক্ট, ভারত বিদ্বেষ কেন বাংলাদেশের জাতীয় ইস্যু তা কিছুটা হলেও পরিষ্কার হবে।
    এ কথা এখন কেউ বলে না ১৯৭৫ সালে খন্দকার মোশতাক ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব বাংলাদেশের’ ঘোষণা দেয়নি ভারতের ভয়ে!
    ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মেজর ডালিম রেডিওতে ঘোষণা করেছিলেন, ‘দেশে সামরিক শাসন জারি করা হয়েছে এবং এখন থেকে বাংলাদেশ ইসলামি প্রজাতন্ত্র হিসেবে পরিগণিত হবে’।
    এই ঘোষণায় পাকিস্তান উল্লাসে ফেটে পড়ে। পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত হেনরি বাইরোড নিজ দেশকে এক বার্তায় জানান, পাকিস্তানের সরকার, গণমাধ্যমসহ সাধারণ মানুষ মেজর ডালিমের এই ঘোষণায় বাংলাদেশের সঙ্গে কনফেডারেশ করা যায় কিনা সে বিষয়ে আশান্বিত হয়ে উঠেছে।
    ওদিকে সৌদি আরবসহ মধ্যপাচ্যের মুসলিম দেশগুলো বাংলাদেশ ইসলামি প্রজাতন্ত্র হতে যাচ্ছে জেনে এক এক করে স্বীকৃতি দিতে শুরু করে যা বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকাকালীন কেউ স্বীকৃতি দেয়নি। ডালিমের ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট মোশতাক কি বলেন সেটা জানার আগ্রহ ছিলো সকলের। প্রেসিডেন্ট জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বাংলাদেশের অবস্থান পরিস্কার না করে বরং ঘোলাটে করে রাখলেন। তিনি বললেন না বাংলাদেশ এখন থেকে "ইসলামিক প্রজাতন্ত্র"। তিনি আসলে ডালিমের ঘোষণার পর চারদিকে ছড়িয়ে পড়া ‘বাংলাদেশ ইসলামী প্রজাতন্ত্র’ এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত কি বলে সেটার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
    ভারতের তখনকার রাষ্ট্রদুত সমর সেন খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে দেখা করে ভারতের অবস্থান জানানো একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। এ বিষয়ে সমর সেন ভারতের ফ্রন্টলাইন পত্রিকার সঙ্গে ১৯৯৮ সালে ২১ নভেম্বর কথা বলেছিলেন এবং কোলকাতার স্টেটসম্যান পত্রিকার সম্পাদক মানস ঘোষ এক কলামে একই রকম বিবরণ দিয়েছেন যা সমর সেন ফ্রন্টলাইনে দিয়েছিলেন। সমর সেন জানান, কটুনৈতিক নোটে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে লেখা ছিলো, ‘যদি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন করা হয় এবং কোনো দেশের সঙ্গে কনফেডারেশন করা হয়, তাহলে ভারতের কাছে থাকা বৈধ চুক্তির আওতায় ভারতের সেনাবাহিনী যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।’
    এরপরই ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ সম্পর্কে তার দেশের অবস্থান স্পষ্ট করেন মিশরের দৈনিক আল আহরাম পত্রিকায় একটি সাক্ষাৎকারে। সেখানে তিনি বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশ ও অন্যান্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে সকল আদর্শের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, সে সকল আদর্শ রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দকে কাজ করতে হবে।’
    বাংলাদেশ কাগজে কলমে ইসলামিক শাসনে চলে যেতে পারেনি ভারতের এই হুমকির পরই। বাংলাদেশ ভৌগলিক দিক দিয়ে ভারতের কাছে নানাভাবে টিকে থাকার জন্য নির্ভর। তাই ভৌগলিক রাজনীতি, অথনৈতিক রাজনীতিসহ আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানা হিসেব কষে ভারতকে ক্ষ্যাপিয়ে আনুষ্ঠানিক ইসলামী শাসনতন্ত্রে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিয়ে বিসমিল্লাহ বসানোসহ অন্যান্য ইসলামিকরণ শুরু করে মোশতাক থেকে জিয়াউর রহমান পর্যন্ত। কিন্তু বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন ও পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেরারেশন করা সম্ভব হয়নি ভারতের থ্রেটের কারণে এ কথা তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদুতও তার নোটে উল্লেখ করেছেন। ভারতের এই "দাদাগিরি" কখনোই বাংলাদেশের মানুষ মেনে নিতে পারেনি।
    ১৯৬৫ সালে পুরো পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে গুজবে ছেয়ে যায় যে পূর্ব পাকিস্তানে ইন্ডিয়ার স্পাইয়ে ভরে গেছে। এরা দেশের তথ্য ভারতের পাচারের জন্য দেয়ালে কান পেতে আছে। এই দালালরা হচ্ছে দেশের মধ্যে থাকা হিন্দুরা। ৬৪-৬৫ সালে বড় রকমের হিন্দু খেদানো হলো পূর্ব পাকিস্তান থেকে। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ভারত বিরোধীতা ছিলো বলেই পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষে এখানে খাকা হিন্দুদের খেদানো এবং বাঙালী মুসলমানকে হিন্দু বাঙালী থেকে পৃথক এক জাতিসত্ত্বা করে গড়ে তুলতে নানা রকম প্রজেক্ট গ্রহণ করা সহজ ছিলো। যেমন বাংলা ক্যালেন্ডার সংশোধন, সিলেবাস থেকে বাংলা সাহিত্যের হিন্দু লেখকদের অপসারণ ইত্যাদি।
    এর মাত্র কয়েক বছর পরই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এই ভারত বিরোধী জনতাই ভারতের সেল্টার নিয়ে ভারতের মাটিতে ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। মেজর জলিলের ‘সম্মুখ সমরে’ বইতে এই অবস্থানটি তুলে ধরা হয়। তিনি লিখেন, ৬৫ সালে তিনি যাদের মারতে গুলি চালিয়ে ছিলেন তাদের সঙ্গেই আজ প্লাণ করছেন ওপারে গ্রামগুলো যারা জ্বালিয়ে দিচ্ছে যাদের সঙ্গে কাধে কাধ রেখে ৬৫ সালে যুদ্ধ করেছিলাম। মেজর জলিলের দেশ স্বাধীনের পর তার ভারত বিরোধীতা ছিলো চরমে। ভারত বাংলাদেশ থেকে সব লুট করে নিয়ে যাচ্ছে এটা দিয়েই তিনি শোরগোল শুরু করেন এবং পরবর্তীতে রাজাকার হাফেজ্জি হুজুরের শিষ্যত্ব নিয়ে ইসলামিক রাজনীতি শুরু করেন।
    একথা অস্বীকার করা যাবে না ১৫ আগস্টের খুনিরা মুক্তিযোদ্ধাই ছিলো। কিন্তু তারা ভারতের সাহায্যে সেক্যুলার বাংলাদেশের জন্ম মেনে নিতে পারেননি। বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষও তাই। আজকাল যখন ভারত বিদ্বেষের কথা উঠে তখন কেউ কেউ সাম্প্রতিককালের সীমান্ত হত্যা, বাণিজ্য ঘাটতির কথা বলে তারা দাবী করেন ভারতের এইসব কাজ কারবার বাংলাদেশের মানুষকে ভারত বিরোধী করে তুলেছে। এটা বলে তারা বাংলাদেশের মানুষের ঐতিহাসিক ভারত বিরোধীতার নেপথ্যে যে সাম্প্রদায়িক মনোভাব আছে তা আড়াল করতে চান। তাই এবার দেখা যাক সদ্য স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশ কেমন করে শুরুতেই ভারতের প্রতি তার পুরোনো বিদ্বেষ বজায় রেখেছিলো। মুক্তিযুদ্ধে আশ্রয় দিয়ে, ট্রেনিং দিয়ে, নিজের সৈন্য দিয়ে সহায়তা করা একটা দেশ রাতারাতি বাংলাদেশের কাছে শত্রু হয়ে গেলো কেমন করে? দেখা যাচ্ছে ৭২ সাল থেকেই বাংলাদেশে ভারত বিরোধীতা তুঙ্গে উঠে যা ৭৪-৭৫ সালে সব বাধ ভেঙ্গে যায়। কুটনৈতিক সুত্রগুলো জানাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহায়তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছিল। ভারত আসলে নিজের চক্রান্ত বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশকে দিয়ে যুদ্ধ করিয়ে পাকিস্তান ভাঙ্গিয়েছে। যুদ্ধে ভারতেরই লাভ হয়েছে কারণ তারা বাংলাদেশের গোলাবারুদ টাকা পয়সা সম্পদ সব লুট করে নিয়ে গেছে। ভারতের রাষ্ট্রদুত সমর সেন বলেন, এরকম ভারত বিরোধী মনোভাবের সময়ই ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ সফরে আসেন জুলফিকার আলী ভুট্ট। যে লোকটি বাংলাদেশের গণহত্যার রক্ত তার হাতে মেখে আছে তাকে বাংলাদেশের মানুষ একনজর দেখতে রাস্তায় ভীড় জমান এবং স্বাদর অভিনন্দন জানান!
    ভেবে আশ্চর্য লাগে যে মানুষটির বাংলাদেশর গণহত্যার দায় রয়েছে, অগুণতি নারীর ধর্ষিতার দায় যার, তাকে নিয়ে এদেশের মানুষ এত উচ্ছ্বাসিত ছিলো কেন? মাত্রই যে দেশের মানুষের ভালোবাসা আর সহযোগিতায় আমরা দেশ স্বাধীন করলাম তাদের কেন ফের শত্রু ভাবা শুরু করলাম? উপকারীকে তার উপকারের জন্যই সন্দেহ করা হচ্ছে! সে ধারা আজো অব্যাহত আছে। বাংলাদেশ ইসলামী রিপাবলিক হতে পারেনি ভারতের বিরোধিতার কারণে এই ক্ষোভ তো সহজে যাওয়ার নয়!
     
    [তথ্য সূত্র : ষড়যন্ত্রের জালে বিপন্ন রাজনীতি, আবেদ খান। মার্কিন দলিলে মুজিব হত্যাকাণ্ড, মিজানুর রহমান খান। ফ্রন্ট লাইন, ২১ নভেম্বর ১৯৯৮]
  • দীপ | 2401:4900:16cd:8788:4b83:2fec:c737:***:*** | ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ০০:৫৬746238
  • "আমরা মধ্যযুগীয় শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এমন এক আদিম জনগোষ্ঠী তৈরি করেছি, এই বিশাল জনগোষ্ঠী বই পড়ে না, গান শোনে না, সিনেমা দেখে না, শিল্পচর্চা করে না, খেলাধুলা করে না, প্রেম তো করেই না; এখন একসঙ্গে চার/পাঁচটা বিয়াশাদি ছাড়া এদের কাছে মহাবিশ্বের আর সবকিছুই 'হারাম' আর 'ধর্ম অবমাননা' বলে মনে হয়।"
  • দীপ | 2402:3a80:198b:c011:678:5634:1232:***:*** | ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ০০:৩৬746240
  • "যারা বুয়েট কুয়েটে ভারতের পতাকা পায়ে মাড়াচ্ছে, তারা ক্লাসিক্যাল নির্বোধ। সৌদি আরবের পতাকায় 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ' লেখা আছে। এখন কেউ যদি এ পতাকা পায়ে মাড়ায়? ল্যাট্রিনের প্রবেশপথে এঁকে রাখে? টয়লেট পেপার বানায়? শয়তান বুয়েট কুয়েটে পড়লেও সে শয়তানই থাকে। মানুষ হয় না। প্রকৌশল ও মেডিকেল, দুই ঘরানার প্রতিষ্ঠানেই প্রতিক্রিয়াশীলতা বাড়ছে। স্নাতক পাশ করেও ছাত্ররা ইন্টারমিডিয়েট পড়ুয়া থাকছে। কিছু টেকনিক্যাল স্কিল অর্জন করছে, কিন্তু তা এজুকেশন নয়। বুয়েট-মেডিক্যালে হাজার হাজার শিক্ষার্থী আছে, যাদের রাজনীতিক ও ধর্মীয় জ্ঞানের উৎস ফেসবুকের জ্ঞানবল্টুরা। ইউটিউবের বদমাশরা। কোনো বিষয়েই তাদের স্বাধীন চিন্তাভাবনা নেই। সিলেবাসের বাইরে চ্যালেঞ্জিং বইপত্র পড়ছে না। অভিজ্ঞতা রংহীন, বৈচিত্রহীন। ডিগ্রি নিচ্ছে, সিজিপিএ তুলছে, কিন্তু মাথায় জমাচ্ছে গোবর। ইলেকট্রোনিক্সের ছাত্র ধর্মীয় এক্টিভিজম করছে, সিভিলের ছাত্র খেলাফত প্রতিষ্ঠা করছে। পড়ছে এমবিবিএস, কিন্তু মানুষকে বলছে ‘নামাজ সর্বরোগের ওষুধ’। এই হলো অবস্থা। সবার মাথাই গরম। ধীর-স্থির শান্ত বুদ্ধির স্নাতক দেখছি না বললেই চলে। 
     
    প্রতিবেশীর সাথে ঝগড়ায় বাঙালির সুনাম অসীম। আমাদের আন্তর্জাতিক প্রতিবেশী দুটি। ভারত ও মায়ানমার। দুটোর সাথেই ঝগড়া করছি। ভারতের সাথে বেশি করছি। সবকিছুতে ভারতের ষড়যন্ত্র খুঁজছি। নিজেদের ব্যর্থতা তালাশ করছি না। কারণটা কেউ মুখে না বললেও আমরা বুঝি। হিন্দু বিদ্বেষ। এই যে রিলিজাস সেন্টিমেন্ট থেকে কোনো দেশের পতাকা পায়ে মাড়ানো, এগুলো কোনো জ্ঞানমুখী মানুষের কাজ? কাল যদি ভারতের জুতা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের পতাকা জুতোর তলায় ছেপে দেয়? হ্যাট্রেড নেভার ব্রিংস পিস। সেন্টিমেন্টাল রিয়েকশন পাল্টা সেন্টিমেন্টাল রিয়েকশনের জন্ম দেয়। বাঙালি ছাড়া আর কোনো জাতি পাই নি, যারা প্রতিবেশীর উন্নতি সহ্য করতে পারে না। প্রতিবেশী ভালো খেলে, ভালো পরলে, ভালো চাকরি পেলে, আমাদের বুকে দোযখের আগুন জ্বলে ওঠে। ডোমেস্টিক প্রতিবেশীর প্রতি বাঙালির যে-আচরণ, সেটিই আন্তর্জাতিক প্রতিবেশী প্রতি দেখানো হচ্ছে। আমাদের রান্নাঘরের বহু জিনিস ভারত থেকে আসে। কৃষি ট্রাক্টরগুলো অধিকাংশই ভারতের। বাস-ট্রাক, পিক-আপ, ভ্যান, সেগুলোও ভারত থেকে আসে। এমনকি কোরান শরীফও। আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলীর অনুবাদে যে-কোরানগুলো আছে, সেগুলো ভারতের। বিদেশী বইপত্রের প্রধান উৎস ভারত। ওয়াজীরা পড়তে যান দেওবন্দে। এমনকি আমরা যে হজ্বে যাই, সেটা ভারতের আকাশসীমা ব্যবহার করেই যাই। গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, ও অন্যান্য বহু শিল্পের কাঁচামাল ভারত থেকে আসে। আমার তো মাঝমধ্যে ইচ্ছে হয়, ভারতকে বলি, এক মাস ভারতীয় সবকিছু বাংলাদেশের জন্য স্থগিত রাখা হোক। এতো ঘৃণা কোনো জাতি আরেক জাতিকে করতে পারে, এটা আনপ্রিসিডেন্টেড।
     
    সরকারের উচিত হবে রাষ্ট্রের স্বার্থে একটি সম্মানজনক সম্পর্ক ভারতের সাথে গড়ে তোলা। ভারতকেও এগিয়ে আসতে হবে, আন্তরিকভাবে। ঘৃণা বা ব্যাডাগিরি নয়, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, ও কালচারাল আফিনিটিই হোক এ সম্পর্কের ভিত্তি। ফেসবুকের ঘৃণাজীবীদের মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে গেছে। এদের কোনো কথায় কান দেয়া যাবে না। পাগলামোকে পাগলামো হিশেবেই বিবেচনা করতে হবে। এরা বাংলাদেশকে এক অনন্ত ধর্মযুদ্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। শতো শতো বছর ধরে পৃথিবীকে এরা অশান্ত করছে, নানা জায়গায় সহিংস দমনের শিকার হয়েছে, বহু স্থানে হয়েছে নির্মূল। ঘৃণা ও ভায়োলেন্স ছাড়া আর কোনো ভাষা এদের জানা নেই। ভায়োলেন্স যাদের একমাত্র ভাষা, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে প্রপোর্শোনেট মাত্রার আইনসিদ্ধ ভায়োলেন্স প্রয়োগ করতে হবে। অন্যথায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা যাবে না।”
     
    .
     
    —মহিউদ্দিন মোহাম্মদ 
    পাঠকের প্রশ্নোত্তর / ২৯-১১-২০২৪
  • দীপ | 2402:3a80:198b:3818:678:5634:1232:***:*** | ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:০১746258
  • মুক্তিযুদ্ধের ভিডিও।
    এই ইতিহাস আমরা যেন ভুলে না যাই!
     
  • দীপ | 2402:3a80:1977:f84e:678:5634:1232:***:*** | ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ০০:০৪746278
  • মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।
    এই ইতিহাস আমরা যেন ভুলে না যাই! 
     
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে মতামত দিন