ধুত্তোর ঠিক বলেছেন।
উনি নিরক্ষর ছিলেন এবং দলিত ছিলেন। রেগুলার ফৌজ ছিল। তাদের নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন ছিল। যেমন মেয়েদের অসম্মান না করা এবং কোন ধর্মস্থল লুঠ না করা।
উনি কৃষকদের ফসলের ১/৬ কর হিসেবে নিতেন।
কোন হিন্দু পণ্ডিত এসে বেদের ব্যাখ্যা করলে তাঁকে আর্থিক পুরষ্কার দিতেন। একই ভাবে মুসলিম ধর্মস্থলের জন্যেও দান দিতেন। যুদ্ধে কোথাও কুরান পড়ে থাকতে দেখলে সেটি নিকটস্থ মুসলিম ধর্মস্থানে জমা দেয়ার নির্দেশ ছিল।
ঔরংজেবকে লেখা চিঠিতে উনি আকবরের ধার্মিক উদারতার প্রশংসা করেছেন।
যদুনাথ সরকার ভূমিকায় স্পষ্ট করেছেন-- ওই সময়কে কেবল হিন্দু-মুসলিম সংঘাতের প্রেক্ষিতে দেখলে বোঝা যাবে না।
বলছেন তিনটে সাম্রাজ্য ছিল। দিল্লিতে মুঘল আর বিজাপুর ও গোলকোণ্ডায় অন্য দু'জন।
পুরো সময় জুড়ে এদের মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই চলছিল। তাতে শিবাজীও একজন প্লেয়ার।
কখনও মোগলের হয়ে এদের কারও বিরুদ্ধে, আবার এদের কারও সংগে হাত মিলিয়ে মোগল দরবারের বিরুদ্ধে।
শম্ভাজী ছিলেন চরিত্রহীন বিলাসী এবং মদ্যপ।
এক ব্রাহমণ কন্যাকে ধর্ষণের ফলে শিবাজী ওকে পানহালার দুর্গে বন্দী করে রাখেন। দিলীর খাঁর সংগে যোগসাজশে পালিয়ে গিয়ে তিনি ঔরংজবের মন্সবদার হয়ে পিতা শিবাজীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন--উদ্দেশ্য মারাঠা দুর্গগুলো ধ্বন্স করা।
শিবাজী গোপন দূত পাঠিয়ে লাগাতার নেগোসিয়েশন চালিয়ে যান। ফলে শম্ভাজী মোগলদের ছেড়ে পালিয়ে মারাঠা শিবিরে ফিরে আসেন--তবে একবছর পরে।
এদিকে ঔরঙ্গজেবও শিবাজীর গেরিলা যুদ্ধের কায়দার সংগে না পেরে সন্ধি প্রস্তাব দিয়ে চিঠি লিখলেন। তাতে জানালেন যে শিবাজীকে মোগলদের বশ্যতা স্বীকার করার শর্তে 'রাজা' উপাধি দেয়া হল--যা মনসবদারের থেকে অনেক বড়। যেমন মোগল সেনাপতিরা--রাজা জয় সিংহ রাজা যশবন্ত সিং ইত্যাদি। তার সংগে লোভ দেখানো হোল দাক্ষিণাত্যের বড় অংশে শিবাজী নিরংকুশ রাজত্ব করবেন।
কিন্তু শিবাজী তখন স্বাধীন ওনার বয়ে গেছে মোগলদের মনসবদার ও রাজা হতে। প্রসংগক্রমে শিবাজীকে বন্দী করে ঔরঙজেবের দরবারে পেশ করেছিলেন রাজা জয় সিং।