এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • ভাটিয়ালি

  • এ হল কথা চালাচালির পাতা। খোলামেলা আড্ডা দিন। ঝপাঝপ লিখুন। অন্যের পোস্টের টপাটপ উত্তর দিন। এই পাতার কোনো বিষয়বস্তু নেই। যে যা খুশি লেখেন, লিখেই চলেন। ইয়ার্কি মারেন, গম্ভীর কথা বলেন, তর্ক করেন, ফাটিয়ে হাসেন, কেঁদে ভাসান, এমনকি রেগে পাতা ছেড়ে চলেও যান।
    যা খুশি লিখবেন। লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়। এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই। সাজানো বাগান নয়, ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি। এই হল আমাদের অনলাইন কমিউনিটি ঠেক। আপনিও জমে যান। বাংলা লেখা দেখবেন জলের মতো সোজা। আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি।
  • এস-আই-আর গুরুভার আমার গুরু গুরুতে নতুন? বন্ধুদের জানান
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ranjan Roy | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ২১:১৫558681
  • শিবাজীর নৌবাহিনী ছিল। তার প্রধান ছিলেন একজন আবিসিনিয়ান (হাবসি) মুসলমান। যদুনাথ সরকারের লেখায় শিবাজীর সৈন্যসংখ্যা --তাতে মুস্লিম কত, মাওয়ালী কৃষক কত--সব দেয়া আছে। আবার গোলকুন্ডার নবাব, যিনি মোগল বিরোধী তার সেনাপতি হলেন হিন্দু ব্রাহ্মণ।
     
    এক কাজ করুন। অ্যাডমিনকে বলে আমার লেখাদুটো ফের তুলে দিন। তাতে আচার্য যদুনাথের পৃষ্ঠা সংখ্যা এবং কোটেশন সব দেয়া আছে।
  • নামে কি আসে | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ২০:৪১558680
  • শিবাজী'র নৌ সেনানী ছিল। সেই জল রাম বা হুইস্কি নয় কিন্তু
  • Dhuttor | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ২০:২৯558679
  • রঞ্জনকে অনেক ধন্যবাদ l আচ্ছা শিবাজীর নিজের শাসনটা শুনেছি অনেকটাই সেন্ট্রালাইজড ছিলো এবং শিবাজী মনসবদার প্রথার উচ্ছেদ করেছিলেন তার নিজের এলাকাতে l এটা কি ইতিহাস সম্মত ?
  • Ranjan Roy | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৪৩558678
  • একটা কথা।
    পথের পাঁচালী বইয়ের মাঝামাঝি দেখবেন বাচ্চা অপু বাবার পুরনো পুঁথি ঘেঁটে ডুবালের কাহিনী, বাঙলার ইতিহাস এসব পড়তে গিয়ে দেখছে--শিবাজী কেবল পাঁচহাজারি মনসবদার! ক্রোধে তাঁর রক্তিম মুখ গোছের বর্ণনা।
  • Ranjan Roy | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৪০558677
  • @ধুত্তোর
    আমি আপনার তিনটে সংগত প্রশ্নের উত্তরে যতটুকু জানি তা বলছি। বাকি যোগ্য ব্যক্তিরা বলবেন।
    আমার সোর্স হল আচার্য যদুনাথ সরকারের শিবাজী বিষয়ক দুটো বই Shivaji and his times (1920) এবং House of Shivaji. দুটো বইই ইন্টারনেট আর্কাইভ থেকে সহজে ডাউনলোড করা যায়।

    কিছু বামপন্থী ইতিহাসবিদ যদুনাথের কিছু বিন্দুতে সমালোচনা করেছেন বটে, কিন্তু আপনার প্রশ্নের সন্দর্ভে আমি ওনাকে প্রামাণ্য মানছি দুটো কারণে।

    এক, আমি দেখলাম উনি ইতিহাসের গবেষণার ব্যাপারে গালগল্পকে বিদেয় করে বেশ নিয়মনিষ্ঠ ও তথ্যনিষ্ঠ কাজ করেছেন। শিবাজীর মৃত্যুর একশ বছর পরে রচিত ‘বাখার’ –জনপ্রিয় লোককাহিনী—কে একদম পাত্তা দেন নি। ফ্রেঞ্চ ও ফারসী শিখে অনেক দস্তাবেজ মূল থেকে অনুবাদ করেছেন, যেমন শিবাজীর জিজিয়া করের বিরুদ্ধে ঔরঙজেবকে লেখা দীর্ঘ পত্র।

    দুই, উনি তুল্যমূল্য বিচার করে দেখিয়েছেন কেন কোন দস্তাবেজ গ্রহণযোগ্য নয়। উনি শিবাজীর সমসাময়িকদের লেখা দলিল ও রেকর্ডকে এবং ইংরেজ্‌ ফরাসি ওলন্দাজ এবং দিনেমার কুঠিয়ালদের চিঠিপত্র ও রেকর্ডকে গুরুত্ব দিয়েছেন। সাতারা দুর্গে চড়ে দেখেছেন ওখানে বসে নীচে কে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে বেড়াচ্ছে সেটা দেখা অসম্ভব। অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথের ‘বসিয়া প্রভাতকালে সেতারার দুর্গভালে’ আদৌ ইতিহাস সম্মত নয়। রামদাস শিবাজীর আধ্যাত্মিক গুরু ছিলেন। রাজনীতি ও প্রশাসনে নাক গলাতেন না।

    এবার আপনার প্রশ্ন।
    এক, মনসবদার পদটি মুঘল দরবার (পড়ুন সম্রাট) থেকে নিযুক্ত হত। এটি সেনানায়ক ও প্রশাসক পদ, খানিকটা আমাদের কালেক্টরের মত।
    দুই, মনালি ঠিক বলেছেন—মনসবদারের মর্যাদার একটি সূচক তাঁর অধীনে গত ঘোড়সোয়ার বাহিনী—সেটা দিয়ে। যেমন পাঁচাহাজারী মনসবদার, সাতহাজারী মনসবদার।
    তিন, দরবার ঠিক করত কোন মনসবদার কোন প্রদেশের বা জেলার প্রশাসন ও খাজনা আদায়ের ভার পাবে। দরবার ঠিক করে দিত অমুক মনসবদার বার্ষিক কত টাকা খাজনা মোগল দরবারকে দেবে। তারজন্যে ও প্রজাদের থেকে কত খাজনা আদায় করবে সে ব্যাপারে দিল্লি নাক গলাতো না।

    তবে খাজনা আদায় ছাড়াও যুদ্ধে মনসবদারকে সৈন্য বাহিনী নিয়ে মোঘল বাহিনীর পক্ষে লড়াই করতে হত। শিবাজী ও তাঁর পুত্র শম্ভাজী দুজনেই দুয়েকবার মুঘল বাহিনীর অধীনে তাঁদের সৈন্য নিয়ে লড়াই করেছেন। বীরত্ব ও খাজনা আদায়ের বহর দেখে দিল্লি দরবার মনসবদারদের প্রমোশন/ডিমোশন? ট্রান্সফার সবই করত।

    চার, শিবাজীর বাবা বিজাপুরের সুলতানের ছোটখাটো মনসবদার ছিলেন। শিবাজী কিন্তু মোঘল দরবারের হয়ে মনসবদার হলেন। কিন্তু তাঁকে দরবারে যথাযোগ্য সম্মান দেয়া হয় নি বলে তিনি মনে করেন। তার থেকে বিদ্রোহের শুরু।
    কোন ‘এক ধর্মরাজ্য পাশে খন্ড-চ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত ভারত বেঁধে দিব আমি’ গোছের স্বপ্ন তাঁর ছিল না। বরং তাঁর সৈন্য শরতকাল এলে তিনমাস ধরে নিয়মিত বাইরের এলাকায় গিয়ে লুটপাট চালাত—তাঁর নির্দেশে। হিন্দু-মুসলমান প্রজা নির্বিশেষে জুলুমের শিকার হত। শিবাজীর বক্তব্য –এটা সেনাবাহিনীর খরচা চালাতে দরকার।

    এনিয়ে যদুনাথ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন--। আমি গুরুর পাতায় আগে বোধহয় দুটো প্রবন্ধ লিখেছিলাম। কাউকে তুলে দিতে বলবেন।
    তবে আপনার কাঙ্ক্ষিত উত্তর বোধহয় পেয়ে গেছেন।
     
  • Manali Moulik | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ১৬:৪২558676
  • রাতে এসে বিস্তারিত লিখছি। এখন ২২ শে শ্রাবণের অনুষ্ঠানে।
  • Dhuttor | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ১৪:২৫558675
  • মানালি, অনেক ধন্যবাদ l কিন্তু মনসবদার এর কি নিজস্ব মতামত ছিলো তার মনসব কোথায় হবে সেই ব্যাপারে ? দ্বিতীয়তঃ সাধারণ কৃষকদের অবস্থার মূলগত কোনো পরিবর্তন কি ব্রিটিশ আমলে হয়েছিলো ? মুঘল আমল আর ব্রিটিশ আমলের মধ্যে কৃষক বিদ্রোহ কাদের সময়ে বেশী হয়েছিলো ?
  • Manali Moulik | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ১১:৫০558674
  • @Dhuttor, হ‍্যাঁ এই 'মনসব' শব্দটির মূল অর্থ হলো 'পদমর্যাদা বা পদ'। তো সেটা সৈন‍্য রাখার ক্ষেত্রে ও ঘোড়ার সংখ‍্যার উপরেও নির্ধারিত হতো। যেমন টোডরমল নিজেও মনসবদার ছিলেন উচ্চ পদমর্যাদার। সৈন‍্য রাখা ও জমির সম্পর্ক বলেই এই সিষ্টেমটাকে কিন্তু ইউরোপীয়ান সামন্ততন্ত্রের যে দুটো ফর্ম আছে যথা, রোমান থিওরি (আবে দুবো) ও জার্মান বা কমিটেটার থিওরি (বোঁলাভিয়ের) সেই সমান্তরালে যায় না। এক্ষেত্রে বাদশাহ কারো কাজে খুশী হলে তার স্থানান্তর ঘটতো বা অন‍্য স্থানে পাঠানো যেতো। এটা মনসব পরিবর্তন বলা চলে। তবে যতোদূর জানি চাষী বা সাধারণ লোকের এতে কোনো অধিকার না থাকারই কথা। সেখানে বাদশাহ পারতেন তাদের প্রভু পরিবর্তন করতে, এবার প্রভু নির্বাচন মনে হয় না করা যেতো, মানে এরকম কোন রেফারেন্স আমার ক্ষুদ্রতম জানার মধ‍্যে নেই।
    এপ্রসঙ্গে বলতে পারি, অসামান‍্য গবেষক বিনয় ঘোষের 'বাংলার নবজাগৃতির' প্রথমাংশ ও ওনারই অনুবাদকৃত মার্কুইস বার্ণিয়ের স্মৃতিকথা 'বাদশাহী আমল' অনন‍্য গ্রন্থ। মুঘলযুগে বাদশাহ আবার যুদ্ধবিগ্রহ নিয়ে এইসব ভূমিরাজস্ব বা মনসব প্রথার উপর কতোটা ডিপেন্ড করতেন বা করতেন না, তা নিয়ে ডি ডি কোশাম্বী, পূর্বসুরি হিসাবে উইলিয়াম মোর ও উইলিয়াম আরভিন গবেষণা করেছেন।
  • albert banerjee | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ১১:০৫558673
  • //সাধারণ চাষি প্রজা রায়তরা//
    না কোনো চান্স নেই তবে কোনো পলিটিক্যাল পার্সন এর হাত থাকলে হতে পারতো। বাকি বল মানালীকে পাস্ করলাম
  • Dhuttor | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ০৮:২৫558672
  • মানালী, অয়নেশ, এলেবেলে, রঞ্জন, এলবার্ট সবাই খুবি ভালো আলোচনা করেছেন মুঘল ও ব্রিটিশ রাজস্ব ব্যবস্থার তুলনামূলক আলোচনা করে l আমার আপনাদের সবাইকেই কিছু প্রশ্ন l ১ l মনসবদারকে, সুবাদারদের বা জমিদারদের কি মুঘল বাদশাহ একজায়গা থেকে আরেক জায়গাতে পাঠিয়ে দিতে পারতেন ? ধরুন আমি একজন মনসবদার পাঞ্জাবে নিজের পাঁচহাজারী মন্সৰ নিয়ে মজা করছি এখন কি আমাকে বাদশা আলমগীর ধরুন কান্দাহার বা আরাকান বা খান্দেশে পানিশমেন্ট পোস্টিং দিতে পারতেন ? ২ l সেক্ষেত্রে আমার একজন মনসবদার হিসেবে কি করণীয় ? আমার তো নিজস্ব সেনা আছে তাহলে আমি কি বিদ্রোহ করবো ? ৩ l সাধারণ চাষি প্রজা রায়তরা কি চাইলে নিজেদের জমিদার সুবাদার মনসবদার ইত্যাদিকে বদলাতে পারতো বাদশার কাছে দরবার করে ?
  • গুপ্তচর | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ০২:০১558671
  • এলেবেলে ও মানালি কোলাবোরেট করে ব্রিটিশ আমলাদের বদমাইশি ও ষড়যন্ত্র নিয়ে একটা ঢাউস ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখে ফেলতে পারেন ত!! মানে আপনাদের বিদ্বগ্ধতা যদ্দূর, তাতে তো লংফর্ম ননফিকশনের ঘটি ডোবেনা, উপন্যাসে হাত খুলে কানাকানির গুল্প ঢালতে পারবেন।
  • Manali Moulik | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ০০:৪১558670
  • @রঞ্জন জেঠু, @এলেবেলে দা, আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জনবেন।
    এইবিষয়ে পল ব্র‍্যাস ও মায়রন ওয়েনারের পুরো ওয়েষ্ট বেঙ্গলের ওপর বইটা ধরেছিলাম, 95 পাতা গিয়ে দফা গয়া। কাজের ও পড়ার চাপে আর হচ্ছে না।
  • এলেবেলে | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ০০:৩০558669
  • আচ্ছা, ইউসিসি-র ভালোমন্দ নিয়ে আমার একটা সামান্য প্রশ্ন আছে। এই বাংলায় একদা চালু দায়ভাগ ও তার লেখক জীমূতবাহন পিতা ও মাতার সম্পত্তির উত্তরাধিকার সম্পর্কে যা বলেছিলেন, তা এইরকম -
     
    ১. যদি কোনও বিবাহিত ব্যক্তি অপুত্রক হন এবং তার মৃত্যুর আগেই তার স্ত্রী মারা যান, তাহলে ওই অপুত্রক ব্যক্তির সমস্ত সম্পত্তি তার কন্যারা পাবে। এদের মধ্যে অবিবাহিতা কন্যার দাবি অগ্রগণ্য। বিবাহিতা কন্যাদের মধ্যে পুত্রহীনার থেকে পুত্রবতীর দাবি অধিকতর।
     
    ২. বিবাহিতা কন্যারা মায়ের স্ত্রীধনেরও দাবিদার। প্রথম দাবিদার হলেন পুত্র ও অবিবাহিতা কন্যা। তাদের ভাগ সমান। পুত্র না থাকলে পুরোটাই পাবে তার কন্যা। যদি তার অবিবাহিতা কন্যা না থাকে, তাহলে পুত্রবতী ও 'সম্ভাবিতপুত্রা' কন্যার দাবি অগ্রগণ্য।
     
    প্রথম ক্ষেত্রে তো সবার সমান অধিকার স্বীকৃত। দ্বিতীয় ক্ষেত্রটি নিয়ে কি কোনও সিদ্ধান্ত হয়েছে?
  • এলেবেলে | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ০০:১৮558668
  • রঞ্জনবাবু সম্ভবত অভিমান করেছেন। ইউসিসি নিয়ে লিখতে গিয়ে ভুলবশত তিনি যা লিখেছেন এবং সেই সুবাদে যে তকমা তিনি লাভ করেছেন, অভিমানের সম্ভাব্য কারণ সেটাই। কিন্তু তাতে আপনি মৌলিক প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখবেন না কেন? সাভারকরের ওপর আপনার লেখাটা কি বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে? কিংবা হবে? জানাবেন প্লিজ।
     
    @মানালি, ধৃষ্টতা ভাবার কোনও কারণ নেই। জন শোরের অন্য মাত্রার বদমাইশির কথা জানি এবং গুরুতে সে সব লিপিবদ্ধও আছে। কিন্তু তাঁর সঙ্গে গ্র্যান্টের ব্যাপারটা ভুলে গিয়েছিলাম। অবশ্য ফার্মিঙ্গারের ফিফথ রিপোর্ট পড়লে ব্রিটিশ আমলাদের ভেতরের খবর অনেকটাই জানা যায়।
     
    তবে কর্নওয়ালিসের ঝামেলায় পড়ার ব্যাপারে আপনি যা বলেছেন, তা সম্ভবত ঠিক নয়। প্রথমত, ১৭৮৪ সালে পিটের ভারত শাসন আইনে চিরস্থায়ী রাজস্ব ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, কোম্পানির দুই আমলা আলেকজান্ডার ডাও এবং ফিলিপ ফ্রান্সিস যথাক্রমে ১৭৭০ ও ১৭৭৬ সালে কেবল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করার কথাই বলেননি, সে বন্দোবস্ত যে জমিদারদের সঙ্গেই করা উচিত - সে কথা বলেন।
     
    মজার কথা হল, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পেছনে এত তাত্ত্বিক ভিত্তি থাকলেও কর্নওয়ালিস কিন্তু পরীক্ষামূলক ভাবে প্রথমে বাংলা ও বিহারে এবং পরের বছর উড়িষ্যায় দশসালা বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন। এই বন্দোবস্ত জমিদারদের সঙ্গেই হয়েছিল। পরবর্তী কালে এই দশসালা বন্দোবস্তই 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' নামে আইনগত স্বীকৃতি পায়।
  • Ranjan Roy | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ০০:০৪558667
  • Manali
    ভাইঝি,
    তোমরা নতুন প্রজন্মের উৎকৃষ্ট প্রতিনিধি l তোমার বয়সে আমরা পড়েছি कम, আড্ডা বেশি l
    অবশ্য আজকের মত লাইব্রেরি ও অনলাইন বই কেনার সুযোগ ছিল না l
     
    তোমার বিতর্ক এবং বইয়ের চমৎকার সব reference আমাকে रिद्ध করে l
    কোন সংকোচ না করে যখনই সম্ভব বিতর্কে নেমে পড় l
  • Manali Moulik | ০৮ আগস্ট ২০২৬ ২৩:২৩558666
  • @এলেবেলেদা,
    আপনার বা রঞ্জনজেঠুর মাঝে এ নিয়ে কথা বলা জাষ্ট ধৃষ্টতা। তাও উল্লেখ করেছেন, ধন‍্যযোগ জানবেন।
     
    লর্ড কর্ণওয়ালিশ ছিলেন আসলে নিজে ইংল‍্যন্ডের এক বড়ো জমিদার। তিনি ভারতে এসে পূর্বসুরী ওয়ারেন হেষ্টিংস কৃত বন্দোবস্ত নতুন করে সাজাতে গিয়ে প্রথম ঝামেলায় পড়লেন যে রাজস্ব সংক্রান্ত বন্দোবস্তটা কার সঙ্গে করা হবে? জমিদার মশাই নাকি চাষা? কর্তাব‍্যক্তিদের মতবাদ দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গেলো
    জন শ‍্যোর : ব্রিটিশ কোম্পানির ভূমিরাজস্ব বিভাগের প্রধান। বললেন এর আগের শাসকগণ বন্দোবস্ত করতো চাষীর সঙ্গে। জমিদার সেখানে করসংগ্রাহক মাত্র। জমির অধিকার বা চাষ বংশপরম্পরায় যে লাঙল চালাচ্ছে তারই ছিলো। তাঈ দুম করে মধ‍্যস্বত্বভোগী কারোর হাতে ক্ষমতা দেওয়াটা ঠিক হবে না।
    দলিল বিভাগের প্রধান জেমস গ্রান্ট এটাকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন, বললেন, "বাবা জন, এই নদীবিধৌত উপমহাদেশে চাষার সংখ‍্যাটা নিয়ে আইডিয়া আচে বাবা? তারা না চেনে ইংরেজ, না কোম্পানির ক্ষমতাপ্রাপ্তি। এ করতে গেলে চরম ছড়াবে। তার থেকে জমিদারদের সঙ্গে বন্দোবস্ত করো। ওনারা দায়বদ্ধ থাকবেন একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ‍্যে কোম্পানিকে নির্ধারিত রাজস্ব দিতে (পরে যেটা সূর্যাস্ত আইন) না দিতে পারলে সে জমিদারি বাজেয়াপ্ত করে বেশী করদানের প্রতিশ্রুতিদাতাকে দিয়ে দেওয়া হবে। বুঈল‍্যা?"
    এতে যেমন ব্রিটিশ কোম্পানির আয় বাড়বে বা কর পাওয়ার ব‍্যাপারটা নির্দিষ্ট হবে, তেমন একটা অনুগত শ্রেণীও গড়ে উঠবে। যাই হোক, লর্ড কর্ণওয়ালিশ তো জেমসদার কথাই গ্রহণ করলেন। ১৭৯৩ এর ২২ শে মার্চ হইতে আসিলো চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত।
    সংক্ষেপে শ‍্যোর গ্রান্ট বিতর্ক এটাই আর কি।
  • অয়নেশ | ০৮ আগস্ট ২০২৬ ২২:৫৩558665
  • বিশদে আলোচনার জন্য এলেবেলে ও রঞ্জনবাবুকে ধন্যবাদ। এই জন্যই বাঙালি রেন্টিয়ার এলিট এক অসামান্য চিরস্থায়ী ক্লাস।
  • Ranjan Roy | ০৮ আগস্ট ২০২৬ ২২:৪৮558664
  • "এলেবেলে রঞ্জনবাবুকে ডাকলে তিনি আসেন না! কিন্তু রঞ্জনবাবুর আহ্বান এলেবেলে ফেলতে পারে না। তাই আমার দু'পহা"।
     
    --ভাই, আমার ক্যাপা নেই। কোন বিষয়কে খুঁটিয়ে পড়ে বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের ক্ষমতা ও উৎসাহ দুটোই চলে গেছে। হয়ত বয়েস, হয়ত লিউকেমিয়া জনিত মানসিক ক্লান্তি। ফলে প্রবন্ধ লিখতে গেলে ফোকাস নড়ে যায়, ভুলভাল লিখি। এই যেমন 'রায়তওয়ারি' নিয়ে ভুল লিখলাম। তুমি ঠিক ধরেছ।'
    এহ বাহ্য। ক'দিন আগে গুরুর পাতায় যাতা ছড়িয়েছি। হিন্দু কোড বিল নিয়ে লেখার সময় ঘুম চোখে বিধবার মৃত স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়া লিখতে গিয়ে পিতার সম্পত্তি লিখে কী কেলো!
    কেননা তার থেকে সিদ্ধান্ত করা সহজ হল যে আমি মনের গভীরে কতটা নারীবিদ্বেষী!
    তারপর থেকে কনফিডেন্স চলে গেছে। এখন বিষয়নিষ্ঠ আলোচনায় না ঢুকে শুনব। নিজে লিখব অনুবাদ, গল্প, উপন্যাস, রহস্য এবং ভুতের গল্প।
     
    এই যেমন 'ফর হুম দ্য টোলস্‌ এর অনুবাদ পুরো করে প্রকাশককে পাঠিয়েছি। ভাগ্যিস সাভারকরের উপর ছ'বছর ধরে পরিশ্রম আগেই করে ফেলেছিলাম। ওতে কোন ভুল নেই মনে হয়। বিভিন্ন ফোরামে টুকরো টাকরা দিয়ে প্রতিক্রিয়া শুনেছি। বিতর্কে মেতেছি। এখন হাঁফ ছেড়েছি।
     
    দেখ, আগে তোমার বিদ্যাসাগর নিয়ে ম্যাগনাম ওপাস খুঁটিয়ে পড়ে দিনের পর দিন গুরুর পাতায় তোমার সংগে তর্ক করেছি। মূল বই এক লাখ শব্দের আর আমার পাঠ প্রতিক্রিয়া চল্লিশ হাজার! ভাবা যায়?
    ব্যতিক্রম আমার অগ্রজ তুল্য হীরেনদা। ওনার কাছে বয়েসটা সংখ্যা মাত্র।
     
     
    --২ যোগ্য লোককে ডাক দিয়েছি। যার আছে তথ্যের ভান্ডার, মেধা এবং বিশ্লেষণের ক্ষমতা ও উৎসাহ। কী সুন্দর করে ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত স্পষ্ট করে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আর রায়তওয়ারি বোঝালে!
     
     
  • এলেবেলে | ০৮ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৫১558663
  • @মানালি, রাতে এসে আগ্রহ নিয়ে পড়ব। এই ফাঁকে আপনি গ্র্যান্ট-শোর বিতর্কের ব্যাপারটা বিস্তারিত ভাবে লিখবেন প্লিজ?
  • Manali Moulik | ০৮ আগস্ট ২০২৬ ১৮:২৬558662
  • লর্ড কর্ণওয়ালিশের আমলের শোর-গ্রান্ট বিতর্কটিও দ্রষ্টব‍্য
  • এলেবেলে | ০৮ আগস্ট ২০২৬ ১৪:৩৮558661
  • //মানে কোনোদিনই কোনো শালার কাছে পরিকল্পনা ঠিকঠাক ছিল না?//
     
    থাকবে কী করে? তাদের তো শাসন সংক্রান্ত কোনও অভিজ্ঞতাই ছিল না। এ দেশে তো নয়ই, নিজের দেশেও তারা নিছকই এক বাণিজ্যিক সংস্থা। তার ফল ভোগে বাংলার রায়তরা।
     
    //এলেবেলে এটাও হোক প্লিজ//
    চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করার সময় ভূমি রাজস্বের পরিমাণ বেশ একটা মোটা অংকেরই ছিল। দেওয়ানি আদায়ের মাত্র ৩০ বছরের মধ্যে তিন গুণ রাজস্ব বৃদ্ধি কম কথা নয়। কাজেই প্রাথমিক ভাবে এই বন্দোবস্তে ব্রিটিশরা লাভবানই হয়েছিল। কিন্তু বন্দোবস্তের শর্ত অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে জমির দাম বেড়ে গেলেও কোম্পানির পক্ষে জমিদারদের দেয় রাজস্ব বৃদ্ধি করার কোনও উপায় ছিল না। তার সঙ্গে এই নব্য জমিদাররা লাখেরাজ জমিতে রায়তদের বসিয়ে ঘুর পথে দেদার টাকা কামাচ্ছিল অথচ কোম্পানির ঘরে সে বাবদ কানাকড়িও জমা পড়ছিল না।
     
    এই কারণে পরবর্তীকালে কোম্পানি যে সব নতুন নতুন অঞ্চল নিজেদের অধিকারের আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়, সে সব অঞ্চলে এই ক্ষতিপূরণের উদ্দেশ্যে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পরিবর্তে রায়তওয়ারি বা মহলওয়ারি রাজস্ব ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। এর মধ্যে মহলওয়ারি ভূমিব্যবস্থাতে জমিদার বা মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনও স্থান ছিল না এবং শাসকদের মর্জিমাফিক রাজস্ব বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা ছিল। মহলদার পেত আদায়ীকৃত রাজস্বের ২০% ও সরকার বাকি ৮০%। অন্য দিকে, রায়তওয়ারি ব্যবস্থায় জমিদার বা মধ্যস্বত্বভোগীদের বদলে কোম্পানির সঙ্গে কৃষকদের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ার কারণে কৃষকরা সরাসরি সরকারকেই খাজনা দিতেন। খাজনার হার যথেষ্ট উঁচু ছিল এবং সাধারণত ৩০ বছর অন্তর রাজস্বের হার পরিবর্তিত হত। যে হেতু এই দুটি ভূমিব্যবস্থায় কোম্পানির রাজস্ব আদায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের তুলনায় অনেক বেশি ছিল, সেহেতু সুবে বাংলা ও উত্তরপ্রদেশের দু-একটি অঞ্চল ছাড়া তৎকালীন ভারতবর্ষের কোথাও আর চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নতুন করে চালু করা হয়নি।
  • albert banerjee | ০৮ আগস্ট ২০২৬ ১৪:১৯558660
  • //ফলে পাঁচ, এক ও দশসালা// মানে কোনোদিনই কোনো শালার কাছে পরিকল্পনা ঠিকঠাক ছিল না? আগে করে তো দে শালা তারপর দেখবো শালা, শালারা কি বলে?
  • albert banerjee | ০৮ আগস্ট ২০২৬ ১৪:১৫558659
  • //ব্রিটিশরা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত থেকে অন্য ভূমি বন্দোবস্তে গেলেন//
    এলেবেলে এটাও হোক প্লিজ
  • এলেবেলে | ০৮ আগস্ট ২০২৬ ১৩:৪৩558658
  • এলেবেলে রঞ্জনবাবুকে ডাকলে তিনি আসেন না! কিন্তু রঞ্জনবাবুর আহ্বান এলেবেলে ফেলতে পারে না। তাই আমার দু'পহা।
     
    আগে অয়নেশের বক্তব্যটা দেখা যাক। ওঁর মতে, //জাগিরদার বা মনসবদারের জমির মালিকানা ছিল না। শুধুমাত্র খাজনা তোলার অধিকার ছিল। রায়তের জমির অধিকার কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাদের চূড়ান্তভাবে ছিল না। রায়ত উৎপাদন খাজনা দিয়ে ইচ্ছেমতো বাজারে বিক্রয়ের ক্ষমতা রাখতো। অন্যদিকে ইউরোপে ল্যান্ডলর্ড জন্মসূত্রে জমির মালিকানা ভোগ করতো। এবং ছোট ছোট মালিকানাধীন এলাকায় ল্যান্ডলর্ডদের নিজের স্বেচ্ছাচারী আইন চলতো। রাজার কেন্দ্রীয় আইন নয়।//
     
    প্রায় পুরোটাই ঠিক বলেছেন।
     
    এ প্রসঙ্গে অল্বট যে প্রশ্নটা করেছেন - //তাতে কি প্রান্তিক মানুষদের খুব কিছু সুবিধা হয়েছিল? খাজনা না দিতে পারলে শাস্তি গুলোর রকম ফের হতে পারে কিন্তু পুরো ব্যবস্থা সবসময় কোনো ব্যক্তির খেয়াল খুশির উপর এবং মাঝে মাজেই ব্যক্তিগত স্বার্থের উপর নির্ভর করত।//
     
    হ্যাঁ, সুবিধা হয়েছিল। অনাবৃষ্টি বা অন্য কারণে ফসল উৎপাদন কম হলে সে বছরে রাজস্ব কম নেওয়া হত, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে মকুবও করা হত। তার ওপরে ছিল দেশ জুড়ে নিষ্কর বা লাখেরাজ জমি। এর পরিমাণ ছিল মোট চাষযোগ্য জমির ৪১%। অর্থাৎ এই জমিতে রায়তদের খাজনা দিতে হত না। প্রসঙ্গত এই লাখেরাজ জমির আয় থেকে দেশ জুড়ে চলত অসংখ্য ধর্মীয়, দাতব্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মক্তব ও পাঠশালা)।
     
    ব্রিটিশরা (রঞ্জনবাবুর কথা অনুযায়ী) সুবে বাংলায় যে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করে, তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণ ছিল মূলত দুটো। রাজনৈতিক দিক থেকে তখনও ব্রিটিশদের কাজকারবার মূলত বাংলাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। ক্যাপ্টেন লেক দিল্লি দখল করেন সম্ভবত ১৮০৩ সালে। বোম্বে আরও পরের ব্যাপার। আর মাদ্রাজ তখন নেহাতই শিশু। কাজেই রাজস্ব ব্যবস্থার পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য বাংলাই ছিল আদর্শ জায়গা। ফলে পাঁচ, এক ও দশসালা বন্দোবস্তের শেষে ১৭৯৩-এ, মানে পলাশির ৩৬ বছর পরে, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত।
     
    এ কথা ঠিক যে, ১৭৮৪ সালের ১৩ অগস্ট ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাশ হওয়া পিট-এর ভারত শাসন আইনের ৩৯ ধারায় কোম্পানিকে অবিলম্বে একটি চিরস্থায়ী রাজস্ব ব্যবস্থার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে বলা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ১৭৭৫ সাল থেকেই আন্তর্জাতিক আঙিনায় নানা রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য, ব্রিটিশরা ভারতবর্ষে বছরে একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে উদ্যোগী হতে শুরু করে। বিশেষত ১৭৭৬-এ ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে আমেরিকার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, ১৭৮৯-এ ফরাসি বিপ্লব, ১৭৯৩-এ ফ্রান্সের যুদ্ধ এবং আঠারো শতকের শেষ দিকে নেপোলিয়নের আবির্ভাব ও বিশ্বব্যাপী ইঙ্গ-ফরাসি সংঘর্ষের কারণে ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রচণ্ড ব্যাঘাত ঘটে। এমনকি ভারতবর্ষ শাসনের ক্ষেত্রেও ১৭৭৫-এ মারাঠাদের সঙ্গে যুদ্ধ, ১৭৮০-তে দ্বিতীয় মহীশূর যুদ্ধ, ১৭৯০-এ তৃতীয় মহীশূর যুদ্ধ ইত্যাদির কারণে তারা আরও কোণঠাসা হতে শুরু করে। এই সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার উদ্দেশ্যে এ দেশে অতি দ্রুত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে ওঠে।
     
    এর জমি প্রস্তুত করে বন্দোবস্তের অন্যতম তাত্ত্বিক ফিলিপ ফ্রান্সিস ১৭৭৬-এর ২২ জানুয়ারি বাংলার গভর্নর ইন কাউন্সিলের কাছে এক ঐতিহাসিক প্রস্তাব পেশ করে জানান- জমি রাষ্ট্রের সম্পত্তি নয়, তা ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং জমিদার রাষ্ট্রের কর্মচারী নন, তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে এই সম্পত্তির মালিক। পাশাপাশি জমিদার-রায়ত সম্পর্কের প্রশ্নে তাঁর মূল যুক্তির জের টেনে তিনি বলেন: "জমি জমিদারেরই উত্তরাধিকারগত সম্পত্তি। দেশের সংবিধান অনুযায়ী গভর্নমেন্টকে একটা রাজস্বভাগ দিয়ে জমিদার এই সম্পত্তি ভোগ করে। যত দিন সে এই শর্ত মেনে চলবে, তত দিন মালিকানা তারই এবং যাকে ইচ্ছা সে জমি ভাড়া দিতে পারে।"
     
    অতঃপর বছরের শেষে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব সংগ্রহের মাধ্যমে কোম্পানির আর্থিক ভিত্তিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে চালু হয় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। কোম্পানির প্রাপ্য ভূমিরাজস্ব নির্ধারিত হয় ২৬ লক্ষ ৮০ হাজার পাউন্ড, যা ছিল মীরজাফরের শাসনের (১৭৬৪-৬৫) প্রথম বছরে মহারাজা নন্দকুমারের আদায়ীকৃত রাজস্বের (প্রায় ৮ লক্ষ ১৮ হাজার পাউন্ড) তিন গুণের সামান্য বেশি।এই বন্দোবস্তে জমিদারদের ওপর যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— ১. ধার্য রাজস্ব কিস্তিবন্দি অনুসারে নিয়মিত সিক্কা টাকায় শোধ করতে হবে; ২. খরা, বন্যা, মড়ক, লোকক্ষয় বা অন্য কোনও অজুহাতে রাজস্ব বাকি রাখা যাবে না; ৩. রাজস্বের জন্য নির্ধারিত জমি নিষ্কর জমি হিসেবে দান করা যাবে না এবং স্বীকৃত নিষ্কর জমিতে সরকারের অনুমতি ছাড়া কর আরোপ করা যাবে না; ৪. জমিদার তার জমিদারির অন্তর্গত যাবতীয় সেচব্যবস্থা নিজের খরচে রক্ষণাবেক্ষণ করবে, না করলে সাজা পেতে হবে এবং ৫. উত্তরাধিকারীহীন কোনও জমিদার মারা গেলে তার জমি সরকার বাজেয়াপ্ত করে নেবে।
     
    তার পরে কুখ্যাত ‘হফ্‌তম’ (১৭৯৯) এবং ‘পন্‌জম’ (১৮১২) আইন। তারও পরে ১৮১৯ সালের ‘অষ্টম’ আইনে মধ্যস্বত্বভোগীদের আইনগত স্বীকৃতি। পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য অক্ষয় দত্তের প্রবন্ধ দ্রষ্টব্য। বাংলার 'নবজাগরণ', বর্ণহিন্দু বাঙালির ইংরেজি শিক্ষার শুরুয়াত এবং উনিশ শতকি জমিদারি লাম্পট্যের প্রায় সমস্তটাই এই চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
     
    তবে রায়তওয়ারি নিয়ে রঞ্জনবাবুর স্মৃতিবিভ্রম হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ১৮২০-তে প্রবর্তিত রায়তওয়ারি বন্দোবস্তে বরাদ্দ ছিল ব্রিটিশ-অধিকৃত ভারতবর্ষের মোট আবাদি জমির ৫১%। বাকি ৪৯ শতাংশ জমি চিরস্থায়ী (১৯%) ও মহলওয়ারি (৩০%)-র অন্তর্ভুক্ত ছিল।
     
    কেন ব্রিটিশরা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত থেকে অন্য ভূমি বন্দোবস্তে গেলেন, তার কারণ আলাদা।
  • অরিন | ০৮ আগস্ট ২০২৬ ০২:২৪558657
  • "রমিতের দেওয়া খবরের অনুসরণ করে, গভঃ নাকি বিভিন্ন দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে যে QRT তৈরী করতে, Quick Response Team, 'ফেক নিউজ' বেরোলেই তারা পাল্টা আসল খবর টুইট করে দেবে।"
    অ।
    তা সরকার আর দালাল মিডিয়ার ফেক নিউজ দিলেও নিশ্চয়ই একই আইন খাটবে।
    না হলে ফেডিভারস আছে।
     
  • albert banerjee | ০৭ আগস্ট ২০২৬ ২৩:০৩558656
  • আরেকবার হোক।yes
  • Ranjan Roy | ০৭ আগস্ট ২০২৬ ২০:৫৭558655
  • অয়নেশের বক্তব্যে আমার দু'পয়সা।
     
    ব্রিটিশ খাজনা আদায়ের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে ইউরোপীয় সামন্ততন্ত্রের মডেল ভারতে চাপাতে চেষ্টা করল। পাইলট প্রোজেক্ট করল বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার সুবা। ফলে নিচের স্তরের মধ্যসত্ত্বভোগীদের উৎপাতে চাষের সর্বনাশ হল। দুর্ভিক্ষ ও একগাদা বিদ্রোহ হল।
    আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরাণী এবং হান্টারের অ্যানালস অফ রুর‍্যাল বেঙ্গল পশ্য।
    শেষে গোটা ভারতের জন্যেই পুরনো রায়তওয়ারি ব্যবস্থা বহাল হল। যেমন অয়নেশ বর্ণ্না করেছেন।
     
    এটা নিয়ে চমৎকার তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা করেছিলেন আমাদের 'এলেবেলে', তাঁর বিদ্যাসাগর পর্বে।
    অনুরোধ করছি--আরেকবার হোক।
    আসুন, এলেবেলে।
  • Manali Moulik | ০৭ আগস্ট ২০২৬ ২০:৪৫558654
  • //এই ইতিহাসের তথ্য কোথা থেকে পেলেন? কয়েকটা রেফারেন্স দিন তো দেখি।//
     
     
     
    মার্কুয়েস এফ. ফ্রান্ডা দেখতে পারেন। মায়রন ওয়েনারের সম্পাদনায় আর পল ব্র‍্যাসের প্রবন্ধগুলো। কিন্তু যদি না ব্রাহ্মণ‍্যবাদের গেরো শক্ত হতো তাহলে বৌদ্ধদের প্রতি শ্রেষ্ঠী (শেটঠী ), গৃহপতি (গহপতি) এবং বৈশ‍্য সম্প্রদায়ের সুতীব্র সমর্থন যাবে কেন? রাজা রাজড়া সবাই কেন এই নব‍্যমতটাকে গ্রহণ করলেন? উপিন্দর সিং তো দিলামই, আর রাজমুকুটও যে কখনো সখনো ব্রাহ্মণ পদতলে রাখতে হতো তার অজস্র প্রমাণ আছে।
  • | ০৭ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৪৪558653
  • রমিতের দেওয়া খবরের অনুসরণ করে, গভঃ নাকি বিভিন্ন দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে যে QRT তৈরী করতে, Quick Response Team, 'ফেক নিউজ' বেরোলেই তারা পাল্টা আসল খবর টুইট করে দেবে।

    অথবা The Print খবর করেছে যে দিল্লী পুলিস মেয়েদের জামাকাপড় ছিঁড়ে দিচ্ছিল, সেসব ইন্সটা ভিডিও নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

    জ্যাঠামশাই আর সমাজের মাথা দাদামশাইকে দিয়ে তো হচ্ছে না, অতএব সেন্সরশিপই ভরসা।

    ওদিকে ৫৭ বছরের যুব নেতার এলাহাবাদের প্রোগ্রাম ক্যান্সেল করে আবার সেই নির্দেশ ক্যান্সেল করেছে !

    কোরাপ্ট, সবজান্তা আর পতনোন্মুখ রেজিম এরকমই হয় বটে। হাতড়ে বেড়ায়, কী করা যায় এই পরিস্থিতিতে।
  • | ০৭ আগস্ট ২০২৬ ১৯:২২558652
  • ওহ্হ, বিচারপতিদের এই সব কমেন্ট ! প্রথমে ককরোচ নিয়ে, আজ পলিটিক্সে নামলে ডিম কেন খাবে না ! আজই, এও নাকি, যে যন্তর মন্তরে আন্দোলন করলে দিল্লীবাসীকে চাপে ফেলা হচ্ছে। লাইভ ব্রডকাস্ট বন্ধ করে দেওয়ার মত নিয়ম করতে পারে তো যে কোর্টে শুধু লিখিত নির্দেশই দেওয়া হবে, কোন রকম মন্তব্য করা হবে না। না হলে তো উঁচু উঁচু চেয়ারগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, উঠছে। এইসব কমেন্ট তো পরিস্থিতি তৈরী করছে, হুড়মুড়িয়ে সব ভেঙে পড়ার। ওনারা বোঝেন ?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত