এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • ভাটিয়ালি

  • এ হল কথা চালাচালির পাতা। খোলামেলা আড্ডা দিন। ঝপাঝপ লিখুন। অন্যের পোস্টের টপাটপ উত্তর দিন। এই পাতার কোনো বিষয়বস্তু নেই। যে যা খুশি লেখেন, লিখেই চলেন। ইয়ার্কি মারেন, গম্ভীর কথা বলেন, তর্ক করেন, ফাটিয়ে হাসেন, কেঁদে ভাসান, এমনকি রেগে পাতা ছেড়ে চলেও যান।
    যা খুশি লিখবেন। লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়। এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই। সাজানো বাগান নয়, ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি। এই হল আমাদের অনলাইন কমিউনিটি ঠেক। আপনিও জমে যান। বাংলা লেখা দেখবেন জলের মতো সোজা। আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি।
  • গুরুভার আমার গুরু গুরুতে নতুন? বন্ধুদের জানান
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ranjan Roy | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:৫৩548023
  • ওগুলো এখনও আছে তো! 
     
    কিন্তু আন্তর্জাতিক দিবস? যা গোটা বিশ্ব একই দিনে পালন করবে? এমন কি গুড আর্থ দিবসও কয়েক দশক আগের ঘটনা। 
  • Srimallar | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:৫২548022
  • Aaj kaal porshu | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৫৪548013
    আপনি আমাকে আগে যে মন্তব্যগুলো করেছেন, সেগুলো দেখে আমার মনে হয়েছে, আমাকে জানার এক অসম্ভব কৌতূহল রয়েছে আপনার ভেতরে। ব’লে রাখি, আপনি আমাকে ঠিক ততটুকুই চিনতে পারবেন, যতটুকু আমি নিজে থেকে আপনাকে চিনতে দেব। আপনি আমার লেখা খুঁটিয়ে পড়েন, যত্ন নিয়ে পড়েন— তাই সহজে আপনাকে হতাশ করছি না। আমার প্রশ্নের উত্তরে যাওয়ার আগে ব’লে রাখি, এই খোলাপাতায় যতটুকু মেপে বলা যায়, ততটুকুই বলার চেষ্টা করছি। এটাকে আমার দেওয়া স্বীকারোক্তি হিসেবেই গ্রহণ করবেন। 

    এবার আসি জবাবে— প্রতিদিন আমি লিখি না। লেখা এলে লিখি, নইলে নয়। আমার লেখার প্রথম পাঠক তো আমি নিজেই। তবে আমার মনে হয়, আপনি জানতে চাইছেন যে আমার কোনও নতুন লেখা প্রথম কাকে পড়াই...যদি আমার শুরুর দিন থেকে বলি, তাহলে অবশ্যই বলতেই হয় আমার প্রাক্তনের কথা৷ যে ইংরেজি সাহিত্যের উজ্জ্বল ছাত্রী। যে আমার অজস্র লেখা মানে অজস্র কবিতা অনেক অনেক যত্ন নিয়ে প’ড়েছিল। সেইসময়ে নতুনকিছু লিখলেই একসঙ্গে অনেক কবিতা জমিয়ে রেখে ওকে পড়তে দিতাম। আশ্চর্যের ব্যাপার, আমার নিজের কবিতা আমার কাছে বরাবরই ছাইপাঁশ লেগে এসেছে। কিন্তু ওর কাছে লাগেনি। এটাই স্বাভাবিক। আপনিও তাইই ভাববেন। কিন্তু আমরা দু’জন দু’জনকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। একে অপরের ভালমন্দগুলো জানতাম। আর সেই কারণেই, ওর যখন আমার কবিতাগুলো অসম্ভব ভাল লেগে যায়, তখন অবাক না হ’য়ে পারিনি। ও আমাকে বলেছিল, “অনেকেই লিখতে জানে না। যেমন আমিই। কিন্তু তোর সবচাইতে বড় জোর হচ্ছে, তুই লিখতে জানিস।” কথাটা আজও ভুলিনি। ভোলার নয়ও। এর অনেক অনেক পরে পরবর্তীকালে আরেকটি মেয়ের সঙ্গে আমার আলাপ হ’য়েছিল। সে যথেষ্ট বুদ্ধিমতী এবং জ্ঞানী। আমার লেখার ভাল মন্দ খুঁটিয়ে বিচার করত। ক’রে দিতো। তার থেকে জেনেছিলাম অনেককিছুই, কিন্তু নিজের দোষে সেসবের কিছুই আর শেখা হ’য়ে ওঠেনি। আর এখন আমি নতুন লেখা আর কাউকেই পড়াই না। এইই যা... 

    আর হচ্ছে, অনুপ্রেরণা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায়। এক জায়গায় থেমে থাকে না। 
  • &/ | 107.77.***.*** | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:৪৬548021
  • রঞ্জনদা ,  দেশী  দিবসগুলো  ছিল তখন , স্বাধীনতা দিবস , প্রজাতন্ত্র  দিবস ,  শিশু দিবস , শিক্ষক  দিবস ....
  • &/ | 107.77.***.*** | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:৪৪548020
  • জেমিনিও  আছে . তবে  জেমিনিতে  মনে  হয়  কিছু  শর্ত  ইত্যাদি ....
  • Ranjan Roy | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:৪৩548019
  • অ্যান্ডর, 
    আমাদের সময় দুনিয়াটা খুব ছোট ছিল। 
    আন্তর্জাতিক দিবস বলতে শুধু মে দিবস জানতাম। 
    আজকালকার বাবা -দিবস, মা-দিবস, বুড়ো দিবস, হামি দিবস, প্রেম দিবস কিচ্ছু ছিল না। 
  • albert banerjee | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:৪২548018
  • প্রমান দিন 
  • &/ | 107.77.***.*** | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:৪২548017
  • চ্যাটার্জি  প্রীতি 
  • @ | 15.204.***.*** | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:৩১548016
  • খুব ভাল লিখেছেন চ্যাটজিপিটি মশাই। এবার এটাকে ছাপিয়ে বই বের করুন। চাট্টি স্প্যাম করে কি মজা পান?
  • albert banerjee | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:১৭548015
  • অর্ক-ওআর তত্ত্ব: চেতনার এক বিতর্কিত কোয়ান্টাম ব্যাখ্যা

    মানব চেতনার রহস্য বিজ্ঞান ও দর্শনের সবচেয়ে পুরনো ও জটিল প্রশ্নগুলোর একটি। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এই ধাঁধার সমাধানে এক অভিনব ও বিতর্কিত প্রস্তাবনা নিয়ে আসেন নোবেলজয়ী পদার্থবিদ স্যার রজার পেনরোজ এবং অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ড. স্টুয়ার্ট হ্যামেরফ। তাদের প্রস্তাবিত "অর্কেস্ট্রেটেড অবজেক্টিভ রিডাকশন" বা সংক্ষেপে অর্ক-ওআর (Orch OR) তত্ত্বটি দাবি করে, চেতনার উৎপত্তি মস্তিষ্কের নিউরনের ভেতরের অতি ক্ষুদ্র নলাকার কাঠামো 'মাইক্রোটিউবিউল'-এ সংঘটিত কোয়ান্টাম স্তরের প্রক্রিয়ায়। প্রচলিত স্নায়ুবিজ্ঞান যেখানে চেতনাকে নিউরনের বৈদ্যুতিক-রাসায়নিক সংকেতের জটিল সমষ্টি হিসেবে ব্যাখ্যা করে, সেখানে অর্ক-ওআর তত্ত্ব চেতনাকে মহাবিশ্বের মৌলিক কোনো কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখার সাহসী প্রচেষ্টা। কিন্তু জন্মলগ্ন থেকেই এই তত্ত্ব বিজ্ঞানী মহলে ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। এই প্রবন্ধে অর্ক-ওআর তত্ত্বের মূল বক্তব্য ও তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রধান সমালোচনাগুলো বিশ্লেষণ করা হবে।

    অর্ক-ওআর তত্ত্বের মূল ভিত্তি দুটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রথম স্তম্ভটি হলো পেনরোজের গাণিতিক ও দার্শনিক যুক্তি। বিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত গণিতবিদ কুর্ট গ্যোডেলের অসম্পূর্ণতা উপপাদ্য ব্যবহার করে পেনরোজ দেখাতে চেয়েছিলেন যে, মানুষের চিন্তা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে কোনো যান্ত্রিক বা অ্যালগরিদমিক পদ্ধতির (কম্পিউটারের মতো) মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের গাণিতিক অন্তর্দৃষ্টি এমন কিছু সত্য উপলব্ধি করতে পারে যা কোনো নির্ধারিত গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে প্রমাণ করা সম্ভব নয়। পেনরোজের মতে, এই 'অ-গণনামূলক' (non-computable) ক্ষমতাটিই চেতনার মূল চাবিকাঠি, এবং এটি ব্যাখ্যা করতে হলে আমাদের পদার্থবিজ্ঞানের নতুন তত্ত্বের প্রয়োজন, বিশেষত যেখানে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব ও কোয়ান্টাম মেকানিক্স একীভূত হবে—যার নাম তিনি দেন "অবজেক্টিভ রিডাকশন" (OR)।

    দ্বিতীয় স্তম্ভটি হলো হ্যামেরফের জীববিজ্ঞানগত অনুমান। তিনি প্রস্তাব করেন, নিউরনের অভ্যন্তরে অবস্থিত 'মাইক্রোটিউবিউল' নামক প্রোটিন কাঠামো কোয়ান্টাম প্রক্রিয়ার জন্য আদর্শ স্থান। তার মতে, এই মাইক্রোটিউবিউলের গঠন এতই সুশৃঙ্খল যে এটি কোয়ান্টাম সুপারপজিশন নামক সূক্ষ্ম অবস্থাকে বহাল রাখতে সক্ষম। যখন অসংখ্য মাইক্রোটিউবিউলে ছড়িয়ে থাকা এই সুপারপজিশন অবস্থাগুলো একটি নির্দিষ্ট সীমায় পৌঁছায় এবং মহাকর্ষের প্রভাবে আপতিত হয়ে 'অবজেক্টিভ রিডাকশন'-এর (OR) সম্মুখীন হয়, তখনই চেতনার একটি ক্ষণিক অভিজ্ঞতা বা "মুহূর্ত" (moment) তৈরি হয়। এই সুসংহত ও অর্কেস্ট্রেটেড প্রক্রিয়াটির নাম দেওয়া হয় "অর্কেস্ট্রেটেড অবজেক্টিভ রিডাকশন" (Orch OR)।

    এই সাহসী ধারণা প্রচলিত বিজ্ঞানের ধারার সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান করায় শুরু থেকেই তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছে। সমালোচনার প্রধান স্রোতগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।

    প্রথম ও সবচেয়ে মৌলিক সমালোচনাটি পেনরোজের গাণিতিক যুক্তির ভিত্তিকে লক্ষ্য করে। গণিত, দর্শন ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞদের ব্যাপক অংশ মনে করেন, পেনরোজ গ্যোডেলের উপপাদ্যের প্রয়োগ নিয়ে ভুল করেছেন। মানুষের গাণিতিক জ্ঞান যে কোনো যান্ত্রিক পদ্ধতির চেয়ে উচ্চতর—এই ধারণাটি প্রমাণিত হয়নি। বিখ্যাত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক মার্ভিন মিনস্কির মতো বিজ্ঞানীরা যুক্তি দেন, মানুষ অনেক সময় সঙ্গতিহীনভাবে চিন্তা করে এবং ভুল ধারণাকেও সঠিক বলে বিশ্বাস করে। তাই মানুষের চিন্তা প্রক্রিয়া যে সম্পূর্ণরূপে অ্যালগরিদমের বাইরে, তা বলা যায় না। অর্থাৎ, চেতনার অ-গণনামূলক ব্যাখ্যার গোড়াতেই দুর্বলতা রয়েছে।

    দ্বিতীয় ও সবচেয়ে শক্তিশালী সমালোচনাটি এসেছে পদার্থবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের মৌলিক বাস্তবতা থেকে। সমালোচকদের প্রধান যুক্তি হলো, মস্তিষ্ক কোয়ান্টাম প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত "উষ্ণ, আর্দ্র ও বিশৃঙ্খল" একটি পরিবেশ। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের একটি মৌলিক নীতি হলো 'ডিকোহেরেন্স'—যে কোনো কোয়ান্টাম অবস্থা পরিবেশের সাথে মিথস্ক্রিয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। ২০০০ সালে পদার্থবিদ ম্যাক্স টেগমার্ক গণনা করে দেখান, মস্তিষ্কের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় মাইক্রোটিউবিউলের কোনো কোয়ান্টাম অবস্থা ১০⁻¹³ সেকেন্ডেরও কম সময় টিকে থাকতে পারে, যা স্নায়বিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ের তুলনায় নগণ্য। ২০১৪ সালে জেফরি রেইমার্স ও তার সহকর্মীরা আরও নিবিড় বিশ্লেষণে দেখান যে, হ্যামেরফের প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে মাইক্রোটিউবিউলের মধ্যে কোনো সুসংহত কোয়ান্টাম অবস্থা গড়ে ওঠা জীববিজ্ঞানের নিয়মে অসম্ভব। হ্যামেরফ পাল্টা যুক্তি দেন যে এই সমালোচকরা মাইক্রোটিউবিউলের জটিল গঠন ও অভ্যন্তরীণ পরিবেশকে অতিসরলীকরণ করেছেন, তবে বিজ্ঞানী মহলে টেগমার্ক ও রেইমার্সের গণনাকেই বেশি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়।

    তৃতীয় সমালোচনাটি হলো পরীক্ষামূলক প্রমাণের অভাব। দীর্ঘ তিন দশক ধরে এই তত্ত্ব মূলত একটি তাত্ত্বিক অনুমান হিসেবেই রয়ে গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু পরীক্ষায় আগ্রহব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া গেছে। যেমন, ২০২২ সালের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যানেসথেটিয়া মাইক্রোটিউবিউলের কিছু কোয়ান্টাম বৈশিষ্ট্যকে প্রভাবিত করতে পারে এবং ২০২৪ সালে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় ট্রিপটোফ্যান অণুর নেটওয়ার্কে 'সুপাররেডিয়েন্স' নামক কোয়ান্টাম প্রভাবের সম্ভাবনা দেখা গেছে। হ্যামেরফ ও পেনরোজ এই ফলাফলগুলোকে তাদের তত্ত্বের সম্ভাব্য সমর্থন হিসেবে উল্লেখ করলেও, সমালোচকরা সাবধান করে দিয়েছেন যে এই প্রাথমিক ফলাফলগুলো থেকে সরাসরি চেতনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সিদ্ধান্তে আসা এখনও অকালপ্রয়াস। এগুলো প্রমাণ করে মাত্র যে মাইক্রোটিউবিউলে কিছু কোয়ান্টাম প্রভাব কাজ করতে পারে, কিন্তু চেতনার সাথে তাদের সম্পর্ক এখনও পুরোপুরি অপ্রমাণিত।

    পরিশেষে, অর্ক-ওআর তত্ত্ব চেতনার রহস্য সমাধানে একটি মৌলিক ও সাহসী পদক্ষেপ। এটি পদার্থবিজ্ঞানের গভীর তত্ত্বকে জীববিজ্ঞানের জটিল কাঠামোর সাথে সংযুক্ত করার এক অনন্য প্রয়াস। কিন্তু বর্তমান বিজ্ঞানের আলোকে বিচার করলে, এটি একটি অপ্রমাণিত ও বিতর্কিত অনুমান হিসেবেই বিবেচিত। মস্তিষ্কের মতো জটিল ব্যবস্থায় অর্থপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী কোয়ান্টাম প্রভাবের কার্যকারিতা এবং চেতনার সাথে তাদের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করা এখনও বাকি। যতক্ষণ না পর্যন্ত সেই অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ অর্ক-ওআর তত্ত্ব তার সমালোচকদের তীরের মুখে থাকবে এবং বিজ্ঞানের মূল স্রোতের বাইরে একটি আকর্ষণীয় কিন্তু অনিশ্চিত তত্ত্ব হিসেবেই গণ্য হবে। চেতনার এই ধাঁধার সমাধানের পথে এটি হয়তো এক মাইলফলক হয়ে থাকতে পারে, অথবা ইতিহাসের একটি ভুল পথের নির্দেশনা হিসেবেই বিবেচিত হবে—সময়ই তা নির্ধারণ করবে।
     
  • albert banerjee | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:০৩548014
  • মানব চেতনা (Human Consciousness) একটি রহস্য যা যুগ যুগ ধরে দার্শনিক, বিজ্ঞানী এবং চিন্তাবিদদের বিস্মিত করে আসছে। এটি কীভাবে আমাদের মস্তিষ্কের মতো একটি জৈবিক অঙ্গ থেকে উদ্ভূত হয়, বা এটি মস্তিষ্কের থেকেও কিছু ভিন্ন ও গভীর সত্তা কিনা—এই প্রশ্নের কোনো সহজ উত্তর আজও পাওয়া যায়নি। এই জটিল প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেক তত্ত্বের উদ্ভব হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে 'এম তত্ত্ব' বা 'M-Theory'।

    এম তত্ত্ব মূলত পদার্থবিজ্ঞানের একটি তাত্ত্বিক কাঠামো, যা স্ট্রিং তত্ত্বের (String Theory) বিভিন্ন সংস্করণকে একীভূত করার চেষ্টা করে। এটি মহাবিশ্বের মৌলিক উপাদান এবং মিথস্ক্রিয়া ব্যাখ্যা করার জন্য ১১টি মাত্রার (Dimensions) অস্তিত্ব স্বীকার করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পদার্থবিজ্ঞানের এই অত্যন্ত জটিল ও বিমূর্ত তত্ত্ব দিয়ে কি মানব চেতনার মতো সূক্ষ্ম একটি বিষয়কে ব্যাখ্যা করা সম্ভব? এই প্রবন্ধে, আমরা এম তত্ত্বের আলোকে চেতনাকে ব্যাখ্যা করার একটি সম্ভাব্য পথ অনুসন্ধান করার চেষ্টা করবো।

     এম তত্ত্ব কী?

    এম তত্ত্বকে সরল ভাষায় বোঝার চেষ্টা করা যাক। আমাদের পরিচিত জগতে আমাদের তিনটি স্থানিক মাত্রা (দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা) এবং একটি সময় মাত্রা রয়েছে। কিন্তু এম তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্বে মোট ১১টি মাত্রা বিদ্যমান। এই অতিরিক্ত ৭টি মাত্রা এতোটাই ক্ষুদ্র ও প্যাঁচানো ( compactified ) যে আমরা আমাদের ইন্দ্রিয় দিয়ে সরাসরি তা অনুভব করতে পারি না। এই তত্ত্বে মহাবিশ্বের মৌলিক কণাগুলোকে বিন্দুর বদলে অতি ক্ষুদ্র 'স্ট্রিং' বা কম্পনশীল রশি হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে। এই স্ট্রিং-গুলোর কম্পনই বিভিন্ন কণার (যেমন ইলেকট্রন, কোয়ার্ক) সৃষ্টি করে।

    এম তত্ত্বের মূলকথা হলো, এই স্ট্রিংগুলো বিভিন্ন 'ব্রেন' (Brane) নামক উচ্চমাত্রিক পৃষ্ঠের উপর অবস্থান করতে পারে এবং এদের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া ঘটে। 'এম'-এর অর্থ Mystery, Magic বা Membrane — যা বোঝায় যে তত্ত্বটি এখনও সম্পূর্ণরূপে উদ্ঘাটিত হয়নি।

     চেতনা: একটি বহুমাত্রিক ঘটনা?

    এখন প্রশ্ন হলো, এই ১১-মাত্রিক কাঠামোতে চেতনার অবস্থান কোথায়? আমাদের বর্তমান স্নায়ুবিজ্ঞান (Neuroscience) চেতনাকে মস্তিষ্কের একটি জটিল প্রক্রিয়া হিসেবে দেখে, যা নিউরনের বৈদ্যুতিক ও রাসায়নিক ক্রিয়ার ফল। কিন্তু এই ব্যাখ্যায় একটি বড় ফাঁক থেকে যায়, যাকে দার্শনিক ডেভিড চালমার্স 'দ্য হার্ড প্রবলেম অব কনশাসনেস' বা 'চেতনার কঠিন সমস্যা' বলেছেন। সেটি হলো: মস্তিষ্কের ভৌত প্রক্রিয়াগুলো কীভাবে ব্যথা, আনন্দ, লাল রঙের অনুভূতি বা 'আমিত্ব'-এর মতো 'ব্যক্তিগত অনুভূতি' বা কোয়ালিয়া (Qualia) তৈরি করে, তার কোনো যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা আমাদের নেই।

    এম তত্ত্ব এই কঠিন সমস্যার সমাধানে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দিতে পারে। ধরা যাক, আমাদের মস্তিষ্ক একটি ত্রিমাত্রিক 'ব্রেন'-এর মতো কাজ করে, যা তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণ করে। কিন্তু চেতনা হতে পারে এই ব্রেনের উপরই অবস্থিত একটি ভিন্ন, সূক্ষ্ম মাত্রার প্রভাব। অর্থাৎ, আমাদের পরিচিত চারটি মাত্রার (৩ স্থানিক + ১ সময়) বাইরে থাকা অতিরিক্ত মাত্রাগুলোতে চেতনার উৎস বা পটভূমি লুকিয়ে থাকতে পারে।

    কল্পনা করুন, একটি দ্বিমাত্রিক জগতের বাসিন্দা (ফ্ল্যাটল্যান্ড) যদি হঠাৎ করে একটি ত্রিমাত্রিক গোলকের ছায়া দেখে, সে তা বুঝতে পারবে না। গোলকটি যখন ফ্ল্যাটল্যান্ডের সমতল ভেদ করে, তখন সেখানে একটি বিন্দুর আবির্ভাব হয়, পরে তা বড় হয়ে একটি বৃত্তে পরিণত হয় এবং আবার ছোট হয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। দ্বিমাত্রিক বাসিন্দারা কখনোই পুরো গোলকটিকে দেখতে পায় না, শুধু তার দ্বিমাত্রিক ছেদচিহ্ন দেখতে পায়। একইভাবে, আমাদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ হতে পারে চেতনার সেই বহুমাত্রিক সত্তার একটি 'ছেদচিহ্ন' বা প্রক্ষেপণ (Projection)।

     প্যানসাইকিজম ও এম তত্ত্বের সমন্বয়

    এম তত্ত্বের এই ব্যাখ্যা প্যানসাইকিজম (Panpsychism) নামক দার্শনিক মতবাদের সাথে সুর মেলাতে পারে। প্যানসাইকিজম বলে, চেতনা কোনো জটিল জীবের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়, বরং এটি মহাবিশ্বের প্রতিটি মৌলিক কণার একটি মৌলিক ধর্ম। অর্থাৎ, প্রতিটি ইলেকট্রন, প্রতিটি কোয়ার্কের একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও প্রাথমিক স্তরের 'অনুভূতি' বা চৈতন্য রয়েছে। এম তত্ত্বের ভাষায় বলতে গেলে, প্রতিটি কম্পনশীল স্ট্রিং বা ব্রেনের নিজস্ব একটি 'অভ্যন্তরীণ দৃষ্টিভঙ্গি' বা 'প্রোটো-চেতনা' থাকতে পারে।

    যখন এই অসংখ্য স্ট্রিং বা কণাগুলো মস্তিষ্কের মতো একটি অত্যন্ত জটিল ও সুসংহত কাঠামোতে একত্রিত হয়, তখন তাদের পৃথক পৃথক প্রোটো-চেতনাগুলো যুক্ত হয়ে একটি সমৃদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ চেতনার উদ্ভব ঘটায়। এই ধারণাটি পদার্থবিজ্ঞানী স্যার রজার পেনরোজ ও অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট স্টুয়ার্ট হ্যামেরফের প্রস্তাবিত 'অর্কেস্ট্রেটেড অবজেক্টিভ রিডাকশন' (Orch-OR) তত্ত্বের সাথেও কিছুটা মিল খুঁজে পাওয়া যায়। তাদের মতে, চেতনার উৎপত্তি মস্তিষ্কের নিউরনের ভেতরে থাকা 'মাইক্রোটিউবিউল'-এ ঘটে যাওয়া কোয়ান্টাম প্রক্রিয়ায়, যা স্থান-কালের জ্যামিতির সাথে সম্পর্কিত।

     চেতনা ও মহাবিশ্বের সম্পর্ক

    যদি এম তত্ত্বের আলোকে আমরা চেতনাকে একটি মৌলিক ও বহুমাত্রিক ঘটনা হিসেবে দেখি, তাহলে মহাবিশ্ব ও চেতনার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়। অনেক দার্শনিক ও বিজ্ঞানী, যেমন গিয়ুলিও টোনোনি, তার 'ইন্টিগ্রেটেড ইনফরমেশন থিওরি' (IIT)-তে দেখিয়েছেন, চেতনা হলো তথ্যের একীভূতকরণের (Integrated Information) একটি রূপ। একটি সিস্টেম যত বেশি তথ্যকে একীভূত করতে পারে, তার চেতনার মাত্রা তত বেশি।

    এম তত্ত্বের ১১-মাত্রিক মহাবিশ্বে, তথ্যের এই একীভূতকরণের সম্ভাবনা অনেক বেশি। আমাদের মস্তিষ্ক একটি সীমিত ত্রিমাত্রিক কাঠামো হলেও, এটি হয়তো এই বহুমাত্রিক তথ্যজালের সাথে সংযুক্ত থাকতে পারে। চেতনার বিভিন্ন অবস্থা, যেমন গভীর ধ্যান, স্বপ্ন, বা সৃজনশীল প্রতিভার উন্মেষ—হতে পারে এই অতিরিক্ত মাত্রাগুলোতে প্রবেশের ক্ষণিক অভিজ্ঞতা। আমাদের 'আমি' বোধটি আসলে এই বহুমাত্রিক সত্তার একটি ত্রিমাত্রিক প্রতিফলন মাত্র।

    হিন্দু ও বৌদ্ধ দর্শনের 'চৈতন্য' বা 'বুদ্ধ' ধারণার সাথেও এর একটি মিল খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানেও বলা হয়, আমাদের পৃথক অহংবোধ একটি বিভ্রম (মায়া), আর প্রকৃত সত্তা হলো একটি সর্বব্যাপী, অসীম ও চিরন্তন চৈতন্যের অংশ। এম তত্ত্বও বলছে, আমাদের আপাত বিচ্ছিন্ন অস্তিত্বের গভীরে একটি ঐক্যবদ্ধ ও বহুমাত্রিক বাস্তবতা কাজ করছে।

     সমালোচনা ও সীমাবদ্ধতা

    অবশ্যই, এম তত্ত্ব দিয়ে চেতনাকে ব্যাখ্যা করার এই প্রচেষ্টা অনেক সমালোচনার সম্মুখীন। প্রথমত, এম তত্ত্ব নিজেই এখনও অসম্পূর্ণ এবং পরীক্ষামূলক প্রমাণের অভাবে ভুগছে। এটি মূলত একটি গাণিতিক কাঠামো, যার অনেক ভবিষ্যদ্বাণী বর্তমান প্রযুক্তি দিয়ে যাচাই করা অসম্ভব। দ্বিতীয়ত, এই তত্ত্বকে চেতনার সাথে যুক্ত করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত অনুমাননির্ভর। কীভাবে একটি ক্ষুদ্র স্ট্রিং বা একটি অতিরিক্ত মাত্রা থেকে 'অনুভূতি'-র উদ্ভব হয়, তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনও বর্ণনা করা সম্ভব হয়নি।

    বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হলো প্রতিলিপিযোগ্য পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা। চেতনা একটি ব্যক্তিগত ও আত্মগত (Subjective) বিষয়, যা বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন। এই 'ব্যাখ্যার ফাঁক' (Explanatory Gap) পূরণ করার জন্য এম তত্ত্বের মতো অত্যন্ত বিমূর্ত একটি তত্ত্বকে ব্যবহার করলে তা অধিবিদ্যা (Metaphysics)-র কাছাকাছি চলে যায়, বিজ্ঞানের কাছাকাছি থাকে না। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, চেতনার রহস্য উদঘাটনের জন্য আমাদের আগে মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে আরও গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে। স্নায়ুবিজ্ঞান, জ্ঞানীয় বিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণা হয়তো একদিন আমাদের একটি ভৌত ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম হবে, যার জন্য এম তত্ত্বের মতো মহাকর্ষ ও কোয়ান্টাম বলের একীভূত তত্ত্বের প্রয়োজন নাও হতে পারে।

    পরিশেষে বলা যায়, এম তত্ত্বের আলোকে মানব চেতনাকে ব্যাখ্যা করা একটি অত্যন্ত সাহসী ও কল্পনাপ্রবণ প্রয়াস। এটি আমাদের চেতনার ধারণাকে মস্তিষ্কের সীমিত গণ্ডি থেকে বের করে এনে মহাবিশ্বের মৌলিক কাঠামোর সাথে সংযুক্ত করে। চেতনা যে নিছই একটি জৈবিক উপজাত নয়, বরং এটি বাস্তবতার এক অবিচ্ছেদ্য ও বহুমাত্রিক অংশ হতে পারে—এই ধারণাটি নিঃসন্দেহে চিন্তার খোরাক যোগায়।

    তবে এটাকে নিছক একটি সাদৃশ্য বা দার্শনিক উপমা হিসেবেই দেখা উচিত। এটি কোনো প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব নয়। চেতনার কঠিন সমস্যার সমাধান এখনও অনেক দূরে। বিজ্ঞান ও দর্শনের এই মিলনস্থলে দাঁড়িয়ে, এম তত্ত্ব আমাদের শুধু একটি নতুন দৃষ্টিকোণ দেয়—একটি সম্ভাবনার জানালা খুলে দেয়, যেখানে পদার্থ, শক্তি, স্থান-কাল এবং চেতনা একই সুতোয় গাঁথা। এই জানালা দিয়ে তাকালে আমরা হয়তো একদিন বুঝতে পারবো, আমরা কেবল মহাবিশ্বের মধ্যে বাস করি না, বরং মহাবিশ্ব আমাদের চেতনার ভেতরেও বাস করে।
     
  • Aaj kaal porshu | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৫৪548013
  • শ্রীমল্লারকে বলছি
    -------------------------
    প্রতি দিনই লেখেন আপনি? আপনার লেখার প্রথম পাঠক কে??? কোনো বিশেষ নারী আপনাকে কবিতা লেখায় অনুপ্রাণিত করেছেন??? কিংবা করেন???? 
  • Ranjan Roy | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৪১548012
  • কেকে 
    ভয় নাই,ভয় নাই। এতে ভায়োলেন্স নেহি কে বরাবর।
    যা আছে তা হোল অ্যাংস্ট ও অবসাদ। এবং অনেক বেলুন ফাটিয়ে দেয়া। 
  • @ | 15.204.***.*** | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:০৯548011
  • তো কম্পিউটেশন ব্যাপারটা আমরা বুঝি থ্যাংকস টু ট্যুরিং। ফলে ব্রেনকে যদি কম্পিউটিং মেশিন হিসেবে ধরে নিই, তাহলে তার হার্ড লিমিটেশন থাকবে। যেমন ধরুন ইঁদুর। ইঁদুরকে রিইনফোর্সমেন্টের মাধ্যমে আপনি একটা মেজ থেকে বেরিয়ে আসা শেখাতে পারেন। মেজের প্যাটার্ন ইঁদুরের ব্রেন শিখে ফেলবে। কিন্তু প্রাইম নাম্বার মেজে ইঁদুর অন্তহীন দৌড়ে যাবে। কেননা প্রাইম নাম্বারের ধারণা ইঁদুরের ব্রেন করতে পারে না। অতএব বিষয়টা এরকম দাঁড়ায় যে মানুষের কগ্নিশন ক্যাপাবিলিটিরও হয়তো এরকম লিমিট আছে। যার ফলে এইসব কনশাসনেস বিষয়ে সেই বেদের আমল থেকে আজ পর্যন্ত আমরা এক পাও এগোতে পারিনি।
     
    ও হ্যাঁ, পেনরোজ সায়েব বলেছেন বটে গ্র্যাভিটি কজেস কলাপ্স, কল্যাপ্স কজেস কনশাসনেস। কিন্তু কোনো নিউরোসায়েন্টিস্ট ওনার কোয়ান্টাম এফেক্ট তত্ব বিশেষ পাত্তা দেয়নি। কেনই বা দেবে? কোয়ান্টাম এফেক্ট নিয়ে মাথা ঘামানোর জায়গায় নিউরোসায়েন্স পৌঁছায়নি। আরেকটা কথা হচ্ছে নন-কম্পিউটেবল টার্মটা। এটাও উনি খুব একটা ডিফাইন করেননি যাতে কম্পিউটার সায়েন্টিস্টরা এ নিয়ে মতামত দিতে পারে। ফলে উনি ওনার মতো পপুলার বই লিখে ক্ষান্ত দিয়েছেন বলা যায়। 
     
    কনশাসনেস জিনিসটা আগে ডিফাইন করুন কেউ, তবে সেটা সায়েন্টিফিক মেথডের আন্ডারে আসবে। মনে রাখবেন বিজ্ঞান কেবল সেইসব প্রশ্নের জবাব দেয় যে প্রশ্নের জবাব দেওয়া যেতে পারে।
  • @ | 15.204.***.*** | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৫৪548010
  • বার্ট্রান্ড রাসেল খুব আশাবাদী ছিলেন ফিজিক্স দিয়ে কেমিস্ট্রি ব্যাখ্যা করা যাবে। তারপর দেখা গেল কেমিক্যাল বন্ড আবিষ্কার হওয়ার পরে সিস্টেমটা এমন জটিল হয়ে যাচ্ছে যে ফিজিক্স দিয়ে কেমিক্যাল ফেনোমেনন এক্সপ্লেন করা যাচ্ছে না। আবার মলিকিউলগুলো লম্বা হতে হতে যখন বায়োলজির এক্তিয়ারে ঢুকে যাচ্ছে, তখন আমরা দিব্যি বুঝতে পারছি প্রাণ ব্যাপারটা কেমিক্যাল ফেনোমেনন। কিন্তু হোয়াট ইজ লাইফ? এ প্রশ্নের জবাব বায়োলজিস্ট দিতে পারলোনা। ভাইটাল ফোর্স ধারণাটিকে নস্যাৎ করে দিলেও আধুনিক বায়োলজিতে হোয়াট ইজ লাইফ এ প্রশ্ন অমীমাংসিত থেকে গেল। আবারো ওই হার্ড প্রব্লেম এড়িয়ে যাওয়া।
  • &/ | 107.77.***.*** | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৫১548009
  • ফিল্ড দিয়ে তালি মেরে দিল . নইলে শুধু গ্র্যাভিটেশন কেন, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্টারঅ্যাকশন ও দূর থেকে দূর থেকে হয়, ফিজিকাল কন্ট্যাক্ট লাগে না, অ্যাকশন at a ডিসট্যান্স
  • @ | 15.204.***.*** | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৪৭548008
  • &/, ঠিক ঠিক।
  • &/ | 107.77.***.*** | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৪২548007
  • ওই স্টেট অব মোশন বদলাতে ধাক্কা দরকার, যাকে বলে ফোর্স . নেট ফোর্স প্রযুক্ত হলে তবেই ত্বরণ হবে
  • @ | 15.204.***.*** | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৪১548006
  • গ্র্যাভিটির মতো আজব জিনিস দুটি নাই। কোথায় সূর্য কোথায় পৃথিবী, তারা নাকি পরস্পরের ওপর বল প্রয়োগ করছে। লাইবনিৎজ নিউটনকে একিউজ করেছিলেন ফিজিক্সে অকাল্ট আইডিয়া রিইন্ট্রোডিউস করার জন্য। নিউটন নিজেও বিশ্বাস করেন নাই এ জিনিস সম্ভব। 
     
    Newton, in his words, considered action at a distance to be:
     
    so great an Absurdity that I believe no Man who has in philosophical Matters a competent Faculty of thinking can ever fall into it.[7]
     
    — Isaac Newton, Letters to Bentley, 1692/3
     
    বহু পরে আইনস্টাইন এই সমস্যা মেটাতে রিয়েলিজম ব্যাপারটাকে আলোর গতির সঙ্গে জুড়ে দিলেন। বললেন, দেখো বাপু, সবকিছুই ফিল্ড, গ্র্যাভিটি হোক বা তড়িৎচুম্বকীয় শক্তি। আর ফিল্ডের জন্য কন্ট্যাক্ট লাগবে না, কিন্তু একটা কন্ডিশন আছে। কজ আর এফেক্ট তাৎক্ষণিক নয়। সূর্য এই মুহূর্তে ভ্যানিশ হয়ে গেলেও আট মিনিট কুড়ি সেকেন্ড লাগবে পৃথিবীর ওপর থেকে সূর্যের গ্র্যাভিটেশনাল পুল অদৃশ্য হয়ে যেতে। বেশ কথা। তখন আবার কোয়ান্টাম এসে বাগড়া দিল। ইপিআর প্যারাডক্স। আর বিস্তারে যাচ্ছি না। 
     
    মোদ্দা কথা এই যে ধরি-ধরি করেও বিজ্ঞান কিছু ধরতে পারছেনা, এইটে একটা ইউনিভার্সাল প্যাটার্ন। বিজ্ঞানের সমস্ত ডিসিপ্লিনে হার্ড প্রব্লেম আছে যেগুলো সল্ভ করা যায়না। সেগুলো এড়িয়ে গিয়ে বিজ্ঞানের প্রশ্নগুলোকে রিফরমুলেট করা হয় যাতে প্রশ্নগুলোর জবাব মেলে। 
  • &/ | 107.77.***.*** | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৩৮548005
  • না না, ধাক্কা না ধাক্কা না, এমনিই ভেসে ভেসে চলে, সমবেগে সরলরেখায়, ইনারশিয়া, ওটাই তো প্রথম সূত্র
  • @ | 15.204.***.*** | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:২৬548004
  • এ নিয়ে অরিনবাবুর টইটাতে লিখেছিলাম তো cognition নিকে। সায়েন্টিফিক মেথড খুব প্রিসাইজ জিনিস। ধরুন নিউটনের সময়ে হার্ড প্রব্লেম ছিল মোশন। হোয়াই ডু অব্জেক্টস মুভ? এই প্রশ্নের জবাব দেওয়া বিজ্ঞানের পক্ষে সম্ভব হয়নি। নিউটন প্রশ্নটাকে এড়িয়ে গিয়ে তাঁর গতিসূত্রগুলো প্রপোজ করলেন যে দেখ বাপু কেন-টেন জিজ্ঞেস করোনা, তবে এই এই কন্ডিশন মেনে একটা বস্তু গতিশীল হয়। 
     
    ঠিক আছে, তখনও নিউটনের তত্ত্বে রিয়ালিজম ব্যাপারটা ছিল। একটি বস্তু আরেকটা বস্তুকে ধাক্কা মারলে তবেই মোশন জিনিসটা ঘটে। পরের চ্যাপ্টারে নিউটন গ্র্যাভিটি আবিষ্কার করলেন। (চলবে)
  • dc | 2a02:26f7:d6c1:680d:0:6000::***:*** | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:১৪548003
  • বইএর জন্য ধন্যবাদ, পড়ে দেখবো। 
  • Love and war | 165.225.***.*** | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:০৩548002
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:90fb:cb7a:5982:***:*** | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৫৮
    ...র‌্যাশনালই যদি হলো তাহলে আর ভালোবাসা কি! 
     
    হুম্ম্ম! 
    হার্ভে ম্যান্সফিল্ডের নতুন বই বেরিয়েছে রাইজ অ্যান্ড ফল অফ র‌্যাশানাল কন্ট্রোল! মেকিয়াভেলি, হবস, লক, রুশো, কান্ট, মার্কস, হেগেল, আর নীত্সা - আট দার্শনিকের রাজনৈতিক দর্শন ঘেঁটে বুঝিয়েছেন ইর‌্যাশানালিটিই হল চাবিকাঠি!  মানে, সেই যে কবি কয়েছেন, All's fair in love and war! 
     
    কেবল লেখা পড়ে চিন্তকদের ভাবনাগুলো ঠিকঠাক ধরা মুশ্কিল! আমার অন্তত তেমনই ঠেকে! ভিডো লিংয়ের জন্যে ডিসিজনাবকে ধন্যবাদ!  
  • &/ | 107.77.***.*** | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৫০548001
  • এই কনশাসনেস মাইক্রোটিউবুল কোয়ান্টাম হ্যালুসিনেশন অবজারভেশন ইলুশন এই সব নিয়ে ডিসি, কেকে. অরিন এঁরা সবাই মিলে একটা গণ সিরিজ লিখলে পরে গুরচ থেকে সেটা মোটা বই হয়ে প্রকাশিত হতে পারে . খুবই চমৎকার হবে
  • &/ | 107.77.***.*** | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:২৮548000
  • সময় পাওয়া যায় না, সময় চুরি/ডাকাতি করতে হয় :)
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:90fb:cb7a:5982:***:*** | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:১৯547999
  • লেখার সময় পাইনা :-(
  • &/ | 107.77.***.*** | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:১৭547998
  • কিন্তু ডিসি, এই সব নিয়ে সহজ সরল ভাবে একটা সিরিজ আপনার লেখা দরকার
  • &/ | 107.77.***.*** | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:১৬547997
  • থাঙ্কস  ডিসি , দেখবো 
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:90fb:cb7a:5982:***:*** | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:১১547996
  • &/ এই ভিডিওটা দেখতে পারেন, ডঃ ম্যাট ডাউড এর 
     
    আর এটা সাবিন হসেনফেল্ডারের 
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:90fb:cb7a:5982:***:*** | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:০৭547995
  • বিটিডাব্লু, এই নন-কম্পুটেশনাল ব্যাপার নিয়ে সাবিন হসেনফেল্ডারএর ভারি মজার একটা কমেন্ট আছে। কোন একটা আলোচনায় সাবিন, পেনরোজ, আরও দুয়েকজন মিলে ফান্ডামেন্টালস অফ ফিজিক্স নিয়ে আলোচনা করছিলেন। পেনরোজ কনশাসনেস নিয়ে কিছু বক্তব্য রাখেন, তারপর সাবিন এর পালা এলে তিনি বলেন, এটা ঠিকই, ওয়েভ ফাংশান কোল্যাপ্স একটা নন-কম্পুটেশনাল প্রসেস, অন্তত কোপেনেহেগেন ইন্টারপ্রেটেশনে, আর কনশাসনেসও নন-কম্পুটেশনাল (দো আই ডু নট আন্ডারস্ট্যান্ড হোয়াট দ্যাট মিনস), কিন্তু রজার, আপনি যে শুধু এই কারনেই এই দুটোর মধ্যে সম্পর্ক আছে বলছেন, এটা আমার খুব অদ্ভুত লাগছে। সাবিনের কথায় সবাই হেসে উঠেছিলেন। য়ুটুবে ভিডিওটা দেখেছিলাম, আবার খুঁজে পেলে লিংক দেবো। 
  • &/ | 107.77.***.*** | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:০০547994
  • আরে সত্যি তো !!!! ২৯ খানা !!!! আচ্ছা ডিসি, এই মাইক্রো টিউবিউল না কী যেন, এগুলো কী? ওখানে কোয়ান্টামের কী হয়? কেনই বা ওঁরা খালি মাইক্রোটিউবুল মাইক্রো টিউবুল বলেন?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত