ধুস ধুস। আপনারা সব ভুল।একমাত্র এটি আসলি বিশ্লেষণ! খাঁটি ২৪ কারাত!
সিকিবাবুর আসলি সোনাচাঁদি বিশ্লেষণ।
তা, টিয়াপাখি নিয়ে বসা নিম্নলিখিত সবকটা প্রেডিকশনই ফেল করে গেছে তো কি, ভাওনাকো সমঝিয়ে।
কুমীরপাড়া থুড়ি, ভাটপাড়ার জনগণের জ্ঞাতার্থে,
"এমনিতে খুবই ব্যালান্সড ব্যাপার হয়েছে। সাপ মরেছে, লাঠিও ভাঙেনি। কেউ কারুর দিকে আঙুল তুলতে পারবে না এমন ভাবে গোটা ব্যাপারটাকে সাজানো হয়েছে। তৃণমূল অখুশি, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি অখুশি, বামেদের কথা তো বাদই দিলাম, আচ্ছা লিখেই দিই, বামেরাও অখুশি, কেমন প্রমাণ হয়ে গেল ভারতের বিচারব্যবস্থা একদম শ্রীনিরপেক্ষ, কোনও রাজনৈতিক দলের কথা শুনে চলে না, কাউকে খুশি রাখা না-রাখার তোয়াক্কা করে না, প্রমাণিত হয়ে গেল সিবিআইও কোনও চাপের কাছে মাথা নোয়ায় না, কাউকে খুশি করার খুশি রাখার তাগিদ তাদের নেই। বাংলা ভাষার হাগজও এখন কদিন প্রচুর কনটেন্ট পেয়ে গেল - হেউহেউ করে ফাঁসি কেন হল না, মমতা কেমন করে ফাঁসি চেয়েছিলেন, ধর্ষকের মা ফাঁসি চাইছিলেন কিনা, ফাঁসি হচ্ছে না শুনে সমাজ কী প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে, এই কনসেন্ট বিল্ডিং চলবে এখন হপ্তাখানেক, তারপরে শুরু হবে সঞ্জয় আজ কী খেলেন, কাল কী বললেন, পরশু কী রঙের জামাপ্যান্ট পরেছিলেন, মানে সবই মালমশলা তৈরি, দিনে দিনে পদ তৈরি হবে এবং বাঙালি সমাজে বিতরিত হবে।
আসলে, অখুশি কেউই নয়। তৃণমূল খুশি সঞ্জয়কে বাঁচিয়ে দেওয়া গেছে, পরে উচ্চতর আদালতে কেস আরও ঘেঁটে দিয়ে সঞ্জয়কে বের করে আনাও খুব একটা অসম্ভব ব্যাপার নয়। বিজেপি খুশি যে ফাইলটা ক্লোজ করতে হল না, যে কোনও সময়ে, যে কোনও বিষয়ে রফা করতে হলে কেস ফাইলটা গোপনে দিদির নাকেড্ডগায় একবার নাড়িয়ে দিলেই হবে। 'দিদিইই, ওওও দিদিই' বলে চিক্কুর ছাড়তে হবে না আর। সিবিআই খুশি, আইন আদালত খুশি যে কেউ তাদের দিকে আর আঙুল তুলতে পারবে না, পক্ষপাতিত্বের প্রশ্ন তুলতে পারবে না।
হলদি নদীতে দৈনিক বুলেটিনের প্রবাহে এইবারে আস্তে আস্তে ভাটা আসবে। এমনিতেই বইমেলা আসছে, ব্যস্ততা তুঙ্গে এখন, এর মধ্যে রোজ কেসফাইল পড়ে ন্যাড়েটিভ তৈরি করা দৈনিক বেসিসে, একটু চাপেরই ব্যাপার। সামারি তো সেই একই, যাই হোক। আপাতভাবে দেখলে, মনে হয় না কুমীরপাড়া খুব বেশি অখুশি। তৃণমূল সরকারের গায়ে দাগ লাগানো যায় নি, ওদিকে আরাবুল, অনুব্রত ইত্যাদি নিষ্পাপ দেবদূতরা সব পরপর বেরিয়ে এসেছে, পার্থও কদিন পরেই বেরোব বেরোব করছেন, পঞ্চাশ গ্রাম বীর্য, হ্যাঃ হ্যাঃ হ্যাঃ - মকরের তাকলাগানো হাসির আড়ালে সিবিআইয়ের আর কলকাতা পুলিশের তদন্তের ফাঁকফোঁকর ঢেকে যায়। আসল প্রশ্নগুলোর থেকেও পাঠক বেশি উৎসাহী হয়ে ওঠে জানতে, শারুক্ষান বইমেলায় কারুর সাথে সেলফি তুলবে কিনা।
সব মিলিয়ে, স-ব চাঙ্গা সি। অ্যামোনো বSন্তোদিনে, বাড়ি ফেরো মাংS কিনে।
যারা রাস্তায় নেমেছিল, যারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শববাহী যান আটকাবার চেষ্টা করেছিল, যারা কুণাল ঘোষের মিথ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েক দিনের জন্য জেলহাজত বাস করে এসেছিল, যাদের ঘর চিরদিনের মত অন্ধকার হয়ে গেল, যারা রাস্তায় নেমেছিল শুধুমাত্র মমতাশংকর বা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর সঙ্গে মোমবাতি হাতে সেলপি তুলতে পারবে বলে, তারা বোধ হয় সকলে খুশি হয় নি। মানে, হয়েছে কিনা, এখনও পুরোপুরি জানা যাচ্ছে না। জানতে পেলেই জানিয়ে দেওয়া হবে। এমনিতেই সমাজ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে, মামণি রুইদাসের জন্য তারা রাস্তায় নামে নি কেন, নাগরিক বিপ্লবে মেদিনীপুর ব্রাত্য কেন, জনমত তৈরি করার চেষ্টা করে নি কেন, অনশনে বসে নি কেন - এই 'কেন'গুলোর উত্তর অন্যসব কেন-র থেকে অনেক অনেক বেশি জরুরি।
আমরা অপেক্ষা করি।"