এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  কাব্য   তর্জমা

  • দুষ্যন্ত কুমারের তিনটি গজল 

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    কাব্য | তর্জমা | ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ২৮৩ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • [তাক থেকে পুরনো বই নামাতে গিয়ে হাতে এল একটি চটি বই—দুষ্যন্ত কুমারের ৬৪টি গজল সংকলন। নাম ‘সায়ে মেঁ ধূপ’ বা ছায়ার মধ্যে রোদ্দুরের আনাগোনা। পাতা উল্টোতে গিয়ে দেখি ১৯৮৫তে প্রকাশিত হলদে হয়ে যাওয়া বইটি কেউ আমাকে দিয়েছিল।
     
    তাতে সেই সময়ের খবরের কাগজের ছেঁড়া মলাটে খবরঃ ইরাক -ইরান যুদ্ধ বিরামের জন্যে ওয়াশিংটন মস্কোর দৌত্য। ভারতে আসন্ন বাজেট সেশনের আগে অনেক রাজনীতিবিদ চন্দ্রশেখরের ভবিষ্যত জানতে জ্যোতিষীর শরণাপন্ন হচ্ছেন। কী বলব? দেজাঁ ভু? কিছুই কি বদলায় নি?

    জানি, কবিতার অনুবাদ অসম্ভব। সংস্কৃতি বাগধারার ভিন্নতা অনেক সময় যে শব্দপ্রতিমা নির্মাণ করে তাতে অনেক সময় মূল কবিতার আত্মা মরে যায়। তবু একটু চেষ্টা করছি দুটো কারণে।

    এক, অকালপ্রয়াত ভোপালের এই কবি দুষ্যন্ত কুমার ত্যাগী চেষ্টা করেছিলেন হিন্দুস্থানীতে গজল লিখতে। অর্থাৎ উর্দু শব্দ থাকবে কিন্তু আমরা দৈনন্দিন যেভাবে ব্যবহার করি সেই ধরণে। যেমন আসমাঁ নয়, আসমান। আর টিপিক্যাল উর্দু শব্দবন্ধ, যেমন নিজাম উল মুলুক, মিরাজ উদ দীন—এসব থাকবে না।

    দুই,
    আমার চোখে গজল হল কোলাজের মত। দুটো দুটো করে লাইন যেন স্বতন্ত্র ছবি, স্বতন্ত্র বক্তব্য। কিন্তু সব মিল মিশে একটা বড় ক্যানভাস। তবে প্রত্যেক দ্বিপদীর শেষ শব্দটি একই হতে হবে—যেন ধ্রুবপদের মত।

    উনি চাঁদ তারা প্রেম সাকী সুরা থেকে সরে এসে বেঁচে থাকার কঠিন ছবি গজলে ধরতে চাইছিলেন। ওনার কিছু লাইন এখন প্রবাদ হয়ে গেছে। বাম-ডান সবাই জায়গামত লাগিয়ে দেয়।

    যেমন, কেইসে আকাশ মেঁ সুরাখ নহীঁ হো সকতা?
    এক পত্থর তো তবিয়ত সে উছালো ইয়ারো।]


    ছায়ার মধ্যে রোদ্দুরের আনাগোনা
    মূল হিন্দিঃ দুষ্যন্ত কুমার



    কোথাও শুনেছি তুমি ঘরে ঘরে আলো জ্বেলে দেবে কথা দিয়েছ,
    কোথায় শহরে শুনি হাহাকার একটু আলোর জন্যে।

    এখানে গাছের ছায়ায় বসেও বিঁধছে রোদের তির,
    চলো ছেড়ে যাই এই জায়গাটা বাকি জীবনের জন্যে।

    আদুল গা, তাই হাঁটু ভাঁজ করে ঢেকে নেব পেট—বুঝেছ?
    এরাই যাত্রী? পাড়ি দেবে নাকি ? চেয়ে আছি তার জন্যে।

    খোদা না থাকুন, মানুষ তো তবু আজও স্বপ্ন দেখে,
    আমরা যে দেখি তাই তো প্রকৃতি সেজে ওঠে কারও জন্যে।

    পাথর কখনও গলবে না জেনে শান্ত ছিলাম বন্ধু!
    আজ অশান্ত, কে কে আহ্বানে সাড়া দেবে তার জন্যে।

    আজ তোর দিন, সেলাই করে দে কবির জিভ ও ঠোঁট,
    সাগরের ঢেউ আসছে-- একটু সাবধান তার জন্যে।

    কাটিয়েছি দিন আমার বাগানে কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায়,
    মরে পড়ে আছি অচেনা গলিতে, কৃষ্ণচূড়ারই জন্যে।




    ব্যথার পাহাড় জমে জমে আজ পর্বত হল,
    গলতে থাকুক, হিমালয় থেকে গঙ্গা নামুক।

    আজকে পাঁচিল দুলছে হাওয়ায় পর্দার মত,
    এবার তাহলে প্রাসাদের ভিত নড়তে থাকুক।

    গ্রামনগরের যত মাঠঘাট এঁদো গলি থেকে,
    মুঠো হাত তুলে সারি সারি শব এগিয়ে আসুক।

    খামোকা ঝামেলা পাকাতে আমার উৎসাহ নেই,
    চারপাশে সব চেহারার থেকে মুখোশ ছিঁড়ুক।

    আমার বুকের আগুন নিভেছে, তবে তোর বুকে?
    নিয়ে এস খুঁজে যেখানেই পাও, জ্বলতে থাকুক।

    ৪৯

    কড়িকাঠ এনে চোখের পাতায় বিছিয়ে দাও গো বন্ধু,
    নইলে তেমন কায়দাটি খোঁজো- যাতে কাজ হয় বন্ধু।

    ক্লিষ্ট হৃদয় সময়ের কাছে খবর পৌঁছে দেবে?
    তাই কবুতর অনেক যতনে করে লালন কর গো বন্ধু।

    দেখছি সবাই ব্যাধের খাঁচাটি রেখেছে নিজের হাতে
    জলসাতে আজ শিকারীকে কর নেমন্তন্ন, বন্ধু।

    সেলাই টেলাই টেনে খোল ভাই- একটু দেখতে দাও,
    সিন্দুক থেকে সেই চিঠি আজ বের করে আনো বন্ধু।

    আকাশের গায়ে ফুটো হয় না তো! এসব কে বলে বন্ধু?
    চল, সবে মিলে একটা পাথর প্রাণপণে ছুঁড়ি, বন্ধু।

    লোকে ডেকে বলে—এটা কী বললে? এটা বলা মানা, জানো?
    বলেছ যখন, এইবার তার ঠ্যালা বুঝে দেখ, বন্ধু।।

     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Srimallar | ০৪ আগস্ট ২০২৬ ২৩:১১748158
  • “খামোকা ঝামেলা পাকাতে আমার উৎসাহ নেই,
    চারপাশে সব চেহারার থেকে মুখোশ ছিঁড়ুক।”
     
    সাংঘাতিক লাইন!!!
    আসুক এমন কাজ আরও....
  • হীরেন সিংহরায় | ০৫ আগস্ট ২০২৬ ১১:৩২748163
  • অসাধারণ। কান্তি ঘোষের পরে এ হেন ভাবানুবাদ কি দেখেছি?
     
    ঠ‍্যালা নানান রূপে আসতে পারে। ওই যে খোদা লিখেছ ওটাকে পরমেশ্বর করে দিও। নতুবা বিপদের আশংকা আছে।
     
    কয়েকটা হিন্দি শের পাঠাচ্ছি। শুভানুবাদ করো
  • হীরেন সিংহরায় | ০৫ আগস্ট ২০২৬ ১১:৪২748164
  • नहीं बदलेगा बदला कुछ नहीं है
    मचाओ शोर होता कुछ नहीं है
    मैं शर्मिंदा हूँ ऐन अपने किए पर
    मगर कालका भरोसा कुछ नहीं है
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ০৬ আগস্ট ২০২৬ ২৩:০৪748174
  • রাহাত ইন্দোরী-র এইটি ও থাক ~
     
    अंगुलियां यूं न सब पर उठाया करो,
    खर्च करने से पहले कमाया करो,
    जिंदगी क्या है खुद ही समझ जाओगे,
    बारिशों में पतंगें उड़ाया करो,
    चांद सूरज कहां, अपनी मंजिल कहां,
    ऐसे वैसों को मुंह मत लगाया करो’।
  • Ranjan Roy | ০৭ আগস্ট ২০২৬ ২০:৫৯748175
  • রোববার খালি থাকব, সেদিন লড়ে যাব।
     
    আপাততঃ অসুস্থ দিদিকে দেখতে (৯৪ বয়েস) কাল চুঁচড়ো যাচ্ছি।
  • Ranjan Roy | ০৮ আগস্ট ২০২৬ ২২:০৭748179
  • হীরেনদা, আপনার জন্যেঃ
     
    পরিবত্তোন? একটুও নয়, কিছুই বদলে যায় না,
    যতই চেঁচাও, গলাটি ফাটাও, তাতে কোন কাজ হয় না।
    লজ্জিত আমি, যা সব করেছি তাতে ঝুঁকে গেছে মাথা,
    কী করব বল? কালকে কী হবে? —ভরসায় থাকা যায় না।

    এবার সান্যাল মশায়েরটা (রাহত ইন্দোরী) করে দিচ্ছি।
     
  • Ranjan Roy | ০৮ আগস্ট ২০২৬ ২২:১০748180
  • আমার উপরের অনুবাদে ৪৯ নম্বরে একটা ভুল আছে।
     
    আছে "অনেক যতন করে"
    হবে "অনেক যতনে", 'করে' শব্দটি বাদ যাবে। নইলে ছন্দ পতন হচ্ছে।
  • Ranjan Roy | ০৮ আগস্ট ২০২৬ ২২:২৯748181
  • রাহত ইন্দোরী (সান্যাল মশাইয়ের সৌজন্যে)
     
    সবার দিকেই তুলছ আঙুল? এবার বন্ধ হোক,
    পয়সা ওড়াবে? তার আগে কিছু রোজগারপাতি দেখ।

    জীবন কেমন? পরিচয় হলে নিজেই পারবে বুঝতে,
    বৃষ্টির দিনে আকাশেতে তুমি ঘুড়ি উড়িয়েই দেখ।

    চাঁদ-সূজ্জির দেশে যাবে, নাকি বাড়ির রাস্তা ধরবে?
    যার তার সাথে তর্ক না জুড়ে, পাত্তা না দিয়ে দেখ।।
     
  • ar | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৪৪748182
  • রাহুত ইন্দোরীর লেখাটার প্রসঙ্গেঃ
    নির্দেশমূলক ভাবের "শুভানুবাদে" প্রশ্নবোধক যতিচিহ্ন থাকায় মূল কবিতার রেশটুকু থাকছে না।
    (মতামতের দায় আমার!!)
  • অরিন | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ১২:৫৫748183
  • রঞ্জন বাবু কৃত রাহাত ইন্দোরি মশাইয়ের কবিতার অনুবাদ পড়ে কেমন যেন হেরম্ব মৈত্রের ন‍্যায় জ্ঞান দানের আভাস পাওয়া গেল। সেই যে এক পথভ্রষ্ট ভদ্রলোক না জেনে হেরম্ব মৈত্রকে জিজ্ঞেস করেছিলেন,"মশাই স্টার থিয়েটার কোনদিকে বলতে পারেন?", তিনি নাকি তাঁর উত্তরে বলেছিলেন,"হ‍্যাঁ বলিতে পারি কিন্তু বলিব না", মানে স্টার থিয়েটারে কেউ গিয়ে সময় কাটাক এ নিয়ে তাঁর ঘোর আপত্তি ছিল। ইন্দোরিবাবুর কাব্যিক হাবভাব দেখছি অনেকটা ঐরকম।
  • Ranjan Roy | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ১৬:৩৭748184
  • ar
    এবার পালটে দিলাম।
     
    "নাই বা তুললে সকলের দিকে তর্জনী,
    খরচের আগে ঘরে দু'পয়সা আনবে।
    জীবনের মানে নিজেই পারবে বুঝতে
    বৃষ্টিতে ঘুড়ি উড়িয়েছ? তবে জানবে।
    চাঁদ-সুজ্জিকে ভুলে খুঁজে নাও ঘর
    ফালতু তর্কে সময় নষ্ট ! মানবে? "

    অরিন
    অনেকটাই সহমত।
     
    রাহত ইন্দোরী জীবিতদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ শায়র। অনেক শের সমসাময়িক রাজনৈতিক ঘটনাবলী নিয়েও, চোখা ব্যঙ্গ। তবে এই শের অনেকটা বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয়ের --গোল করিও না, পাঠে মনোনিবেশ কর গোছের।
    তবে আমার অপটু অনুবাদে বেশ খানিকটা ঝাঁঝ হারিয়ে উপদেশের ভাবটি বেশি ফুটেছে --সেটা মানছি।
  • ar | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ১৮:৪৯748187
  • রঞ্জনবাবু,

    ওয়াহ, জনাব!! আপনার কলম বেয়ে আরো অনুবাদের ধারা (গুরুর পাতায় পাতায়) নেমে আসুক।
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ১০ আগস্ট ২০২৬ ১৬:২২748188
  • @Ranjan Roy
     
    রঞ্জন বাবু,
    আমারই মিশটেক হয়ে গেছে, পুরো গজলটি উদ্ধৃত করিনি। আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
    আপনার কৃত হেরম্ব মৈত্র-esque অনুবাদ এর বিড়ম্বনা শুনতে হ'লো।
    পুরো গজলটি পড়লে এবং ততসংলগ্ন Contextual বিস্তার পাঠ করলে দেখবেন ঐ শৈলী যথাযথ।
    Here it is ~

    उँगलियाँ यूँ न सब पर उठाया करो
    खर्च करने से पहले कमाया करो

    ज़िन्दगी क्या है खुद ही समझ जाओगे
    बारिशों में पतंगें उड़ाया करो

    दोस्तों से मुलाक़ात के नाम पर
    नीम की पत्तियों को चबाया करो

    शाम के बाद जब तुम सहर देख लो
    कुछ फ़क़ीरों को खाना खिलाया करो

    अपने सीने में दो गज़ ज़मीं बाँधकर
    आसमानों का ज़र्फ़ आज़माया करो

    चाँद सूरज कहाँ, अपनी मंज़िल कहाँ
    ऐसे वैसों को मुँह मत लगाया करो

    "এভাবে সবার দিকে আঙুল তুলবেন না" (অন্যের ওপর দোষ চাপানো):
    সমাজে মানুষের প্রায়ই নিজেদের ত্রুটি-বিচ্যুতি বিবেচনা না করে সহজেই অন্যদের দিকে আঙুল তোলার (বা দোষারোপ করার) প্রবণতা থাকে। রাহাত সাহেব বলেন যে, অন্যদের সমালোচনা করার আগে নিজের অন্তরের দিকে তাকানো উচিত।
    "খরচ করার আগে আয় করো" (কঠোর পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধ):
    এখানে 'খরচ' ও 'আয়' কেবল অর্থের বিষয় নয়; এগুলোর মধ্যে 'অধিকার ও যোগ্যতা' সংক্রান্ত গভীরতর তাৎপর্য নিহিত রয়েছে। আপনি যদি কাউকে জ্ঞান প্রদান করেন কিংবা কোনো কিছুর ওপর নিজের অধিকার দাবি করেন, তবে প্রথমেই নিজেকে তার উপযুক্ত করে গড়ে তুলুন। প্রয়োজনীয় শ্রম বা কঠোর পরিশ্রম না করে কোনো কিছুর (কিংবা সম্মানের) ওপর অধিকার দাবি করা অনুচিত।
    জীবনের প্রকৃত অর্থ আপনি নিজেই উপলব্ধি করতে পারবেন—বৃষ্টির মধ্যে ঘুড়ি ওড়ানোর চেষ্টা করে দেখুন।
    প্রেক্ষাপট: বদ্ধ ঘর বা বইয়ের পাতার মধ্যে জীবনকে বোঝা যায় না; বরং জীবনের অর্থ বোঝা যায় নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়ে। বৃষ্টির মধ্যে ঘুড়ি ওড়ানো আপাতদৃষ্টিতে একটি অসম্ভব কাজ; রাহাত সাহেব বোঝাতে চেয়েছেন যে, যখন আপনি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে কোনো কাজ করবেন, তখনই জীবনের প্রকৃত মূল্য অনুধাবন করতে পারবেন।
    বন্ধুর সাথে দেখা করার অছিলায় নিমপাতা চিবিয়ে খাওয়া।
    প্রেক্ষাপট: প্রকৃত বন্ধুত্ব মানেই কেবল মিষ্টি কথা নয়। কখনও কখনও বন্ধুর কাছ থেকে এমন কিছু তিক্ত (অথচ সত্য) কথা শুনতে হয়—যা নিমপাতার মতোই শরীরের বা জীবনের জন্য উপকারী।
    গোধূলির পর যখন ঊষালগ্নকে প্রত্যক্ষ করেন, তখন অভাবী মানুষকে অন্নদান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
    প্রেক্ষাপট: যখন আপনার কঠিন সময় (গোধূলি) কেটে গিয়ে সুদিন (ঊষা) ফিরে আসে, তখন সাফল্যের অহংকারে মত্ত না হয়ে সমাজের অসহায় মানুষদের সহায়তা করার মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে শিখুন।
    চাঁদ ও সূর্যের অবস্থান সাধারণের ধরাছোঁয়ার অনেক ঊর্ধ্বে—তারা অনন্য; তাই যে-কারও সাথে জড়িয়ে পড়ে নিজের সময় নষ্ট করবেন না। মূল কথা: সর্বদা উচ্চ লক্ষ্য রাখুন। তুচ্ছ বাধা, নগণ্য তর্ক-বিতর্ক কিংবা গুরুত্বহীন মানুষের পেছনে সময় ও শক্তি অপচয় করবেন না।
    রাহাত ইন্দোরি মূলত ছিলেন ‘গণমানুষের কবি’। বিভিন্ন ‘মুশায়রা’ বা কবি-সম্মেলনে যখনই তিনি এই গজলটি আবৃত্তি করতেন, তখন তাঁর কণ্ঠে থাকত এক বলিষ্ঠ ও সতর্কবাণীপূর্ণ সুর। বিশেষ করে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যেই তিনি এই পঙক্তিটি আবৃত্তি করতেন; তিনি তাঁদের আহ্বান জানাতেন যেন তাঁরা কেবল অন্যের দোষ খোঁজার (তা সে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিংয়ের মাধ্যমেই হোক কিংবা গালগল্পের মাধ্যমে) পেছনে সময় ও শক্তি ব্যয় না করে, বরং নিজেদের আত্মোন্নয়ন ও ব্যক্তিগত বিকাশে তা কাজে লাগান।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে মতামত দিন