এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • আশাবরী

    Manali Moulik লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৮১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • টেবিলের ওপর রাখা ফোনটা ঝংকার তুলে বেজে উঠতেই সেটা ধরে নির্মাল‍্যবাবু প্রায় একনিঃশ্বাসে বলে গেলেন, 
     
      – “হ‍্যালো, হ‍্যাঁ, তোমাদের পাগলাটে বাংলা কাগজের খবর আমি বিশ্বাস করি না। এমনটা হলো, আর একটা খবরে আজকে সবার ঘুম ভাঙলো!  সেটাই আবার ফলাও করে ছেপে দিয়েছে, আশ্চর্য!”

    অন‍্যপ্রান্তের একটি যুবক কন্ঠ এতোক্ষণে কথা বলার সুযোগ পেয়ে আমতা-আমতা করে বললো, “হ‍্যাঁ…মানে স‍্যার, ওই পথ দুর্ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই তো সামনে এলো ব‍্যাপারটা। নাহলে কে আর জানতো বলুন! একটা পাগল,ভবঘুরে লোক বাসচাপা পড়েছে এটা কোনো কলামে ছোট্ট করে জাস্ট লেখা থাকতো। অ‍্যাতোবড়ো কেসহিস্ট্রি বেরোবে কে জানে!”

    নির্মাল‍্যবাবু একটি ইংরেজি দৈনিকের অ‍্যাসিট‍্যান্ট চিফ এডিটর। তাই বাংলা  ‘মুক্তবার্তা দৈনিক’-এর তরুণ সাংবাদিকটির বিনম্র ও গদগদ বাচনভঙ্গী ওনাকে বেশ প্রীত করলো। তাছাড়া কলকাতার রাস্তায় একটি ভবঘুরে গোছের লোকের অদৃশ‍্য কারোর খোঁজে দৌড়তে গিয়ে বাসচাপা পড়ে মরার পিছনে যে এমন সুবৃহৎ ঘটনার ধামাচাপা অধ‍্যায়টা খুলে যাবে তা কে জানতো! সর্বস্তরে বিষয়টির গ্রহণযোগ্যতা, খবরের কাটতি ও বিশেষত মধ‍্যবিত্তের রোমান্টিক কল্পনার কয়েকমাসের খোরাক জোটাতে এর জুড়ি নেই। তাই আবার প্রশ্ন করেন,

        – “লোকেশনটা পেয়েছো তো? মহিলাকে – মানে ওই আশাবরী দেবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা গেছে?”

    – “হ‍্যাঁ স‍্যার,”
    ওপ্রান্তের কন্ঠ বলে চলে,  “কিন্তু আমরা যোগাযোগ করতে পারলেও উনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।”

    “মানে?”
    – “বলতে গেলে স‍্যার, আশাবরী দেবী এখন বদ্ধ উন্মাদ। মাঝে মাঝে মরজগতের আঁকিবুঁকিতে মন ফেরে। তখন দু-একটি কথা বলতে পারেন।কিছুক্ষণ পরে আবার আগের মতোই। আপনি নাকি নিজে যাচ্ছেন স‍্যার আজ?”

    “অবশ‍্যই।” বলে ফোন রাখলেন নির্মাল‍্যবাবু। অস্ফুটে নিজের মনে বললেন,
    “উত্তর কলকাতার ঘুপচি ঘর থেকে এতো কান্ড! বুকোওস্কি ঠিকই লিখেছিলেন, ইন দিস রুম/ দ‍্যা আওয়ার্স অফ লাভ/ স্টিল মেক শ‍্যাডোস্”

    দুদিন আগে এক পড়ন্ত বিকেলে একটি ভবঘুরে লোক উত্তর কলকাতার ব‍্যস্ত সড়কে বাসচাপা পড়েছিলো।  একটি এরকম লোকের পথ দুর্ঘটনার পর সাধারণতঃ কী কী হতে পারে? পুলিশের আগমন, পোস্টমর্টম করে চালান করা, আর খবরের কাগজে বাঁপাশের ছোটো খবরের কলামে আরো ছোটো করে একটি সংবাদ। ব‍্যাস্। কিন্তু এই ঘটনাটা একেবারে আলাদা। গতকাল কলকাতার সড়ক পেরোনোর ঠিক আগে সেই প্রৌঢ়  ও শীর্ণদেহী লোকটি ফুটপাতের পাশে বসা এক ফুলওয়ালার থেকে কেতকী ফুলের দরদাম করছিলো। ফুল হাতে নেওয়ার অব‍্যবহিত পরে ঠিক যেন রাস্তার ওপারে দাঁড়ানো কাউকে  রাস্তা পেরোতে নিষেধ করার ভঙ্গীতে দৌড়তে গিয়ে বেমক্কা বাসের ধাক্কায় মৃত‍্যু। বিকেল নামছে তখন। রৌদ্রতপ্ত সড়কে ছড়িয়ে পড়লো জলসিঞ্চিত কেতকীগুচ্ছ। শেষবিকেলের আলোয় উদ্বিগ্ন চোখদুটি বন্ধ হয়ে গেলো চিরদিনের মতো।এতে আর নতুনত্বের কী আছে? হ‍্যাঁ, থাকার মধ‍্যে লোকটার সাতপুরোনো ব‍্যাগ থেকে ছিটকে পড়া কিছু ন‍্যাতানো নোট, ঘষাটে খুচরো পয়সা,  একটি রুমালের ভাঁজে থাকা ছবি। ছবির যুগলমূর্তির মধ‍্যে পুরুষটি ঠিক কে তা বোঝা যাচ্ছে না, কিন্তু গোল বাঁধে মহিলার চিত্রটি নিয়ে। বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সমঝদারের চোখ সেটি চিহ্নিত করে ও মুখ বলে বসে, “একি! বিখ‍্যাত গায়িকা আশাবরী দেবী!”
    কিন্তু কীকরে সম্ভব? আশাবরীর মৃত‍‍্যুর খবর ঠিক সতেরোবছর আগে জনগণ পড়েছে সবকটি সংবাদপত্রে। নিজের বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে অন‍্যতম শ্রেষ্ঠ কন্ঠশিল্পী আশাবরী দেবী মারা যান। তাহলে? শিবের অসাধ‍্যি থাকলেও পুলিশের অসাধ‍্য বলে কিছু নেই। এই লোকটা যে নেহাতই ভবঘুরে নয়, তা হাবভাবে বোঝা গিয়েছিলো।  হয়তো খুব দরিদ্র, ঋণগ্রস্ত গৃহস্থ অথবা ব‍্যর্থ প্রেমিক। যদিও প্রেমে আঘাতের বয়স সে বহুকাল পেরিয়ে এসেছে, হয়তো অভিঘাতের প্রকোপে এই অবস্থা। কিন্তু এর ঠিকানা খুঁজে বের করতেই পৌঁছানো গেলো সেই ঘুপচি ঘরে। আর উদভ্রান্ত চোখে যে বৃদ্ধা দরজা খুললেন, তাঁর মানসিক স্থিতি নেই। কিন্তু যাদের স্মৃতি রয়েছে তারা একসঙ্গে শিহরিত হয়ে উচ্চারণ করলো, “আশাবরী দেবী এখানে!” 
    দু-তিন দশক আগে শ্রোতামনে আলোড়ন তোলা জনপ্রিয় গায়িকা। কিন্তু সতেরো বছর আগে যার মৃত‍্যুসংবাদ সবাই নিশ্চিতভাবে জেনেছিলো, সে জলজ‍্যান্ত উত্তর কলকাতায় দাঁড়িয়ে থাকে কী করে?  আর অগ্নিদগ্ধ হওয়ার কোনো চিহ্ন তো এনার শরীরে নেই! তবে কি ওঁর মনটা কেবল পুড়ে গেছে? তাই এতো লোক দেখে বাচ্চা মেয়ের মতো কেঁদে উঠে বলেছিলেন,

    – “তোমরা কারা?কেন এলে? ও কোথায়? আমাকে মিথ‍্যে কথা বলে কোথায় যাওয়া হয়েছে, হ‍্যাঁ?” 
    হতচকিত ও স্তম্ভিত মানুষের মধ‍্যে থেকে কয়েকজনের বদান‍্যতায় প্রতিটি সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় ঘটনাটি উঠে আসতে দেরী হয়নি। সতেরো বছর আগে এই গায়িকার মৃত‍্যুর খবরটা তাহলে মিথ‍্যে ছিলো? 
    আজ উত্তর কলকাতার অন্ধকার ঘরে শ্বেতশুভ্র চুল আর কুঞ্চিত চামড়ার এক বালিকার নির্বোধ দৃষ্টির সামনে চোখ রাখলে গোধূলির রঙ ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসে। সেই কনে দেখা আলোয় ফুটে ওঠে এক জীর্ণ ও সুবিশাল ঘর। মান্ধান্তার আমলের পালঙ্কে কাশির দমকে হাঁপাচ্ছে এক তরুণ। আর ভারী বালুচরীতে সর্বাঙ্গ মোড়া তরুণী বধূ তার সাধ‍্যমতো শুশ্রূষায় নিয়োজিত। ঘরে পায়চারি করছেন সাদা শাড়ির এক রাশভারী প্রৌঢ়া। কন্ঠে অমাবস‍্যার আঁধার ঘনিয়ে তিনি থমথমে প্রশ্ন করলেন,

    – “ তাহলে তুমি বলছো ওই গানের জলসায় যাবে?”
    বধূটি ঘাড় নেড়ে সম্মতিসূচক জবাব দেয়।
    প্রৌঢ়া একবার তাকান তার দিকে আরেকবার মুমূর্ষু পুত্রের দিকে। তারপর বলেন,
    – “মোহন ঠাকুরপোর ছেলে গাইয়ে - বাজিয়ে মানুষ। সে ঠিক করে দিলো, আর তুমিও…হ‍্যাঁ, বিয়ের আগে গান শেখাটা আজ দুর্দিনে কাজে দিচ্ছে বটে, কিন্তু ওটা ‘দুর্দিন’ বলেই। নাহলে চক্রবর্তী বাড়ির বউ মঞ্চে গাইতে যেতো না কোনোদিন!”

       একটি ক্ষীণ কন্ঠ জবাব দেয়,  “বেহুলা ঠিক এরকম অবস্থাতে পড়েই ইন্দ্রসভায় নেচেছিলো!”

    প্রৌঢ়া দেহের সর্বশক্তি দিয়ে একবার ফিরে দাঁড়িয়ে তার দিকে তাকালেন। আহা, সত‍্যিই সেসব বেহুলা-অহল‍্যার কাল থাকলে চোখ দিয়েই এটাকে ভস্ম করে দিতেন তিনি। সাবেকি বনেদি পরিবারের এখন তালপুকুরে ঘটি ডোবে না দশা, জোগাড় হয়না চিকিৎসার খরচ। কিন্তু গতিশীলা নদী যখন বদ্ধজলায় পরিণত হয় তখনই তার চারিদিকে আগাছার বন্ধন ও শৈবালের জমাট গভীরতা বাড়তে থাকে। অর্থাৎ খাজনার তুলনায় বাজনার পরিমাণ বেড়ে যায়। এদের হয়েছে সেই অবস্থা। সুকন্ঠী বধূর গানের অনুষ্ঠানের অর্থে কিছুদিন কাটলো। এই অনুষ্ঠানের আলোর ঝলসানি থামার পর সেই অনভ‍্যস্ত মেয়েটি একদিন ডাক পেলো রেকর্ডিং স্টুডিয়োর। প্রথমদিন একটা গান রেকর্ড করার পিছনে যে কতোটা সাধনা আর যন্ত্রণার ইতিবৃত্ত থাকতে পারে তা বুঝেই সে সচকিত হয়ে দুহাতে মুখ ঢেকে কেঁদেছিলো…. “আমি পারবো না…পারবো না কিছুতেই..”
    হতভম্ব মানুষজনের মাঝে এগিয়ে এলেন দীর্ঘ চেহারার সৌম‍্য এক কন্ঠশিল্পী। সান্ত্বনা শব্দটির অর্থ প্রথম এঁর কন্ঠস্বরেই অনুভব করেছিলো ভাগ‍্যপ্রহৃতা মেয়েটি।
    – “কেন পারবে না? মা সরস্বতী যাকে এতো দিয়েছেন তার কি ভয় মানায়?”
    অবাক চোখ তুলে মেয়েটি যখন তাকিয়ে, মৃদু হেসে তাকে বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন ওই তরুণ।
    গ্রীষ্মের উদাস দুপুরে স্টুডিয়োর সামনের রাস্তায় একটি ন‍্যাড়া গাছ আর যানবাহনের শব্দহীন চরাচরে ক্লান্ত ঘুঘুর কান্নার মতো ডাককে ছাপিয়ে বলেছিলেন,

    “দ‍্যাখো, ফুল ফোটানো অতো সহজ কাজ নয়। এতোদিন জলসা, দুর্গোৎসবে প‍্যান্ডেলে যেসব গান গেয়েছো, তা নেহাৎ সমুদ্রের ফেনপুঞ্জ নিয়ে খেলা করা। তোমার অর্থের দরকার ছিলো, তাই তা করেছো। অন‍্যায় কিচ্ছু নয়। কিন্তু ভাবো, বীণাপাণি কতোখানি দান করেছেন তোমাকে যে বাষ্প নিয়ে খেলেই এতো জনপ্রিয়তা পেয়েছিলে, তাহলে গভীর থেকে মুক্তো তুলতে পারবে না কেন? ডুব দাও, চেষ্টা করো।”
    হ‍্যাঁ, চেষ্টা করেছিলো সেই মেয়েটি। অর্থ রোজগারের উপায় থেকে প্রকৃত সাধনা। ধীর একাগ্রতায় কন্ঠকে প্রস্তু করা, সুর-তাল ও লয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ, একান্ত গভীরে গিয়ে স্বরক্ষেপণ শেখা – সবেতেই সহায়ক শিক্ষকের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সেই ব‍্যক্তি। অবশেষে তার নিজের রেকর্ডিং প্রকাশের দিন পরিচিত কন্ঠস্বর বলে উঠেছিলো,
    – “তোমার সাধনা সম্পূর্ণ হলো। তাই অ‍্যালবামে নামটাও বদলে নেওয়া যাক।”

    – “যেমন রত্নাকর থেকে মুনি বাল্মীকি?” মেয়েটি সপ্রতিভ জবাব দেয়।

    তিনি হাসেন। বলেন

       “না।  আশাবরী।”

    তারপর তো কেবল উত্তরণের ইতিহাস। সংবাদপত্রের ‘স্টুডিয়োর টুকিটাকি’ অংশে যেদিন তাঁদের উভয়ের ছবি দিয়ে লেখা হলো ‘অভিন্নহৃদয় বন্ধু’, তারপরের দিন, না না তারও পরের দিন…… আর মনে পড়ে না। মনে পড়তে চায় না। কেবল চোখ ঝাপসা হয়ে ওঠে। মস্তিষ্কে ভরে ওঠে কুয়াশা।

    নির্মাল‍্যবাবু উত্তর কলকাতার গলি থেকে বেরিয়ে বললেন,
    “অর্থাৎ আশাবরী দেবী স্বভাব-গায়িকা নন, ছিলেন অভাব-গায়িকা। স্বামীর অসুস্থতা ও সংসারের হাল ধরতে গানের জগতে আসেন ও গায়ক আহির দাসের সঙ্গে পরিচিতি গড়ে ওঠে। ওদিকে বাড়ির অবস্থা সারলে তারা চাননি যে বউ, তাদের ভাষায় ‘বাঈজীর জীবন’ কাটাক। আশাবরী দেবী আবার অন্ধকূপে ঢোকার প্রস্তাবটি না মানতে চাওয়ায় ওই অগ্নিদগ্ধ করে মারার ষড়যন্ত্র ছিলো?”

    তরুণ সাংবাদিক জবাব দেন, “কেস ঘেঁটে দেখে পুলিশ রিপোর্ট তো তাই বলছে স‍্যার। কিন্তু ঘটনা পুরোটা তা নয়। সেদিন আহিরবাবুর হাত ধরে আহত আশাবরী প্রাণ নিয়ে এইবাড়িটাতে আশ্রয় নেন। কিন্তু স্বাভাবিক সম্পর্ক তাঁদের মধ‍্যে গড়ে ওঠেনি। হয়তো আশাবরী দ্বন্দ্বে ভুগতেন, হয়তো বা আতঙ্কে। ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তাও কমে এলো, ক্রমাগত সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হতে মানসিক ভারস‍াম‍্য হারালেন। আর ওই ঘটনাটার সেই প‍্যানিক তো ছিলোই।”

    এখন সন্ধ‍্যা নামার কিছু সময়মাত্র বাকি রয়েছে। নির্মাল‍্য প্রশ্ন করেন, “তবে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মরে যাওয়ার খবরটা বলছো আহির দাস কায়দা করে প্রচার করেন?”

    “অনেকটা তাই। যাতে আশাবরীকে লুকিয়ে রাখা যায়। অন্তত একটা জ্বলন্ত চাদর জড়িয়ে যে বেরিয়ে এসেছিলো, তার বেঁচে থাকার খোঁজ ওরা পেলে কী হতে পারতো তা সহজেই অনুমেয়।”
    বুঝলাম সবই। কিন্তু একটি কথা ঋত্বিক,
    নির্মাল‍্যবাবু ঘুরে দাঁড়ালেন,
    – “আহিরবাবু তো কেতকী নিয়ে আর ফিরলেন না। কোনোদিন ফিরবেনও না। এখন এই অবস্থায় মহিলাকে—”

    – “সেজন‍্য চিন্তা নেই স‍্যার।” চটপট জবাব দেয় ঋত্বিক,
      “দলে দলে স্থানীয় নেতৃবর্গ, মাতব্বর, সম্বর্ধনা সমিতি এসে গেছে অলরেডি। পুরোনো গায়িকার সব গুনগ্রাহীরা ইন্টারভিউ দিতে বসেছেন। গায়িকা নিজের স্বর হারিয়েছেন কিনা, তাই যে পারছে এখন সেই গুণগ্রাহী। কাল পর্যন্ত বলতো, আশাবরী? সে তো মরে ভূত হয়ে গেছে!”
     
    তাচ্ছিল‍্যের হাসি হেসে নির্মাল‍্যবাবু ফিরে যাওয়ার আগে বলে গেলেন, 
    “জীবন কতো অদ্ভূত, তাই না ঋত্বিক?”

    মাথা নেড়ে গাড়িতে ওঠার আগে ঋত্বিক লক্ষ‍্য করে ঘুপচি ঘরটির ছোট্ট জানালা দিয়ে দেখা যায়, শুষ্ক কেতকীগুচ্ছ দুহাতে ধরে বিকেলের ম্লান আলোয় সে ছায়াময়ী অবয়বটি বালিকার ভঙ্গীতে বসে আছে। অন্ততঃ, পরিপূর্ণ আশাবরী রাগের সঙ্গে তার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া মুশকিল।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Srimallar | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:১৮738569
  • পরিণত লেখা। আশা করব, এমন আরও লেখা আপনি পাঠককে উপহার দেবেন। লিখুন। আগ্রহ নিয়ে পড়ছি। 
  • Manali Moulik | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:২৪738570
  • ধন‍্যবাদ
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত মতামত দিন