এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • প্র চা র লোগো এবং আপনি আমি

    Eman Bhasha লেখকের গ্রাহক হোন
    ১২ জানুয়ারি ২০২৬ | ২৭২ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান অস্ত্র কী? ১৯৯৯ এ একটা বই প্রকাশ করেছিলাম। বইয়ের পরিকল্পনা, লেখা জোগাড়, প্রচ্ছদ -- প্রায় সব। সংস্থার অলিখিত নিয়মে নাম ছিল না কোথাও। প্রচ্ছদে ছিল। একটা লেখাও ছিল।
    সবচেয়ে মূল্যবান অস্ত্র কী?
    প্রচার!
    বইটির নাম ছিল তথ্য সাম্রাজ্যবাদ।
    সম্পাদককে জিজ্ঞাসা করে দেখবো, বইটা আবার বের করা যায় কি না?
    বইটিতে আজকে বিখ্যাত শুভময় মৈত্র, স্টেটসম্যান-এর প্রাক্তন মুখ্য সাংবাদিক অচিন্ত্য চক্রবর্তী, তাঁর ছেলে অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী (এখন 'নন্দন' সম্পাদক, পরবর্তীকালে গণশক্তি সম্পাদক অভীক দত্ত, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের বর্তমান প্রধান অঞ্জন বেরার লেখা ছিল। অনেকেরই সেই লেখা কোনও বইয়ে প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
    সেই বইয়ে লেখকরা দেখিয়েছিলেন তথ্য সাম্রাজ্যবাদ কত ভয়ঙ্কর।
    কত কত মিথ্যা কাহিনি রচিত হয় প্রতিদিন।
    সিএনএন তখন যুদ্ধের দৃশ্য দেখিয়ে বিবিসিকে পিছনে ফেলে দিয়েছে।
    রুমানিয়ার পতন ঘটানো হয়েছে। মিথ্যা প্রচার করে।
    ১৫ টি শবদেহ মর্গ থেকে তুলে এনে কুচি কুচি করে কেটে দেখানো হয়েছিল রুমানিয়ার শাসক চেসেস্কু কত নিষ্ঠুর।
    একজন দেহ ব্যবসায়ী মহিলা খুব বিখ্যাত হয়েছিলেন। ছেলে কোলে নিয়ে কেঁদে।
    ছেলেটি তাঁর নিজের ছিল না। ছিলেন ছেলেটাকে মেরে তাঁর কোলে তুলে দেওয়া হয়েছিল।
    সারা পৃথিবীর সব সংবাদপত্র সেই ছবি দেখিয়েছিল।
    সব টিভি।
    দিনরাত।
    লোগো বানানো হয়েছিল। অত্যাচারিতের লোগো।
    পৃথিবীর একমাত্র ঋণমুক্ত দেশ ছিল রোমানিয়া।
    অত্যন্ত সাধারণ জীবন যাপন করতেন অসাধারণ মেধাবী চেসেস্কু। তাঁকে ভোগী, অসৎ হিসেবে বলা হতে লাগল।
    পৃথিবীর কোন দেশ আছে যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে কয়েক লাখের মিছিল করানো যাবে না।
    বিদেশি ফান্ড থাকলে তো কথাই নেই।
    আজ ইরান নিয়ে এক মহিলাকে লোগো বানানো হয়েছে। সবাই হুড়িয়ে শেয়ার করছেন।
    ২০২২ এ তাঁর পোস্ট দেখেছেন?
    ইজরায়েলের গণহত্যার পক্ষে।
    ইরানের মেয়েরা নাকি সব ঘর বন্দি? তা আমেরিকা ইজরায়েলের বিরুদ্ধে অত বড় একটা যুদ্ধ জিতল কাদের প্রযুক্তির সাহায্যে?
    মেয়েদের?
    মেয়েরা বন্দি হল, পারতো ইরান?
    ইজরায়েল ঠেকাতে।
    মাত্র দেড় বছর আগে অনেকেই বিরাট বিপ্লবী হয়েছিলেন।
    দেখছেন তো আপনাদের বিপ্লবের চেহারা?

    লেসার এভিল তত্ত্ব ভুল নয়।
    তার উল্টো বলাটাই ভয়াবহ এভিলের ভাষ্যকার হয়ে নিজের দেশের ও মানবজাতির সর্বনাশ ডাকা।
    কোনটা করবেন?
    আপনার সিদ্ধান্ত।

    রুমানিয়ার খবরটি ছেপেছিল এএফপি।

    বাংলায় 'বর্তমান' ছাড়া কেউ খবরটি ছাপে নি!
    কেন? বুঝতেই পারছেন।
    'বর্তমান'-এ রথীন চক্রবর্তী, শুভঙ্কর মুখোপাধ্যায় সহ কিছু বামপন্থী কাজ করতেন। তাঁরাই বোধহয় এএফপির খবর 'কিল' হতে দেননি।
    খবরের দুনিয়ায় বহু খবর প্রতিদিন খুন হয়।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • দীপ | 2402:3a80:1975:2736:678:5634:1232:***:*** | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:১৪737832
  • ইরানে এত এত মানুষ মারা যাচ্ছে অথচ ফটো শহিদুলকে মানবাধিকার নিয়ে কথা বলতে শোনা যাচ্ছে না। ঢাকার ফিলিস্তিন রুমাল গলায় ঝুলানো কবিদের কোবতে প্রসব হচ্ছে না। কোলকাতার ভামগুলো কেউ গলা কাঁপাচ্ছে না 'এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না'।  গ্রেটা থুনবার্গ ইরানি নারীদের রক্তাক্ত ছবি দেখে কোন জাহাজে চেপে তেহরান ছুটবে না। আন্তর্জাতিক বামাতী বুদ্ধিজীবী আজ ইসলামী রিপাবলিক টিকিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর। ইন্টেলেকচুয়াল বেশ্যাবৃত্তি দিয়ে বার্লিন দেয়াল রক্ষা পায়নি। কারণ জনগণ। জনগণ চেয়েছে তাই আজ হোক কাল হোক ইরান থেকে ইসলামী ফ্যাসিজম বিলিন হবে। শুধু চিনে রাখুন বামাতীগুলোকে। গণশত্রুদের। চিনে রাখুন মুসলিম লীগকে। সভ্যতার এরাই সংকট। 

    ©সুষুপ্ত পাঠক
  • কামাল পাশা | 219.***.*** | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:২০737833
  • ঘিনঘিনে নোংরা দিফেছাগলটা লেই লেই করতে করতে এসে হাজির হয়েছে। তোর গায়ে অ্যাতো বমির গন্ধ কেনরে চাড্ডি?  
  • হীরেন সিংহরায় | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৬737834
  • সি এন এনের অনেক আগেই মিথ্যা প্রচারের মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা করে গেছেন ইয়োসেফ গোয়েবলস। যে কোন যুদ্ধের প্রথম বলির নাম - সত‍্য। রোমে   প্রোপাগান্ডা স্ট্রিট দেখেছি। তথ‍্য  সাম্রাজ্যবাদ বইটির খোঁজ করব।
     
    কয়েকটি কথা রোমানিয়ার বিষয় - জানি ১৯৮৯  সালে  ঋণমুক্ত দেশ ছিল রোমানিয়া। আমাদের ব‍্যাংক থেকে তাদের প্রথম ঋনে বাঁধা হয়। পৃথিবীর একমাত্র ঋন মুক্ত দেশ কিনা এ নিয়ে বিতর্ক আছে। 
    রোমানিয়ার পতন বলতে যদি কমুনিসট সরকারের পতন বলেন সেটি কেবল প্রচারের ফলে হয়েছিল কি? আশেপাশের দশটি দেশেও একই ঘটনা ঘটেছিল। সবটাই মিথ্যা প্রচার? 
    চাউসেসকুর বাড়ির ভেতরটা দেখেছি। খুব সাদাসিধে ছিল না। একটি বারান্দার ছবি দিলাম। 
     
     
    শবদেহ কুচি কুচি করে কাটার কোন ছবি দেখিনি আমরা অন্তত ব্রিটিশ বা জার্মান টেলিভিশনে। 
  • কৌতূহলী | 115.187.***.*** | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৪737839
  • তথ্য সাম্রাজ্যবাদ বইটা কিনতে চাই
  • দীপ | 2402:3a80:198d:43ca:778:5634:1232:***:*** | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৭737855
  • "ইরানের মানুষের অবস্থাটা এখন জলে কুমির ডাঙায় বাঘের মতো! একদিকে চার দশকের বেশি সময় ধরে ঘাড়ে চেপে বসা খোমেনি পরিচালিত শরিয়া আইনের ধর্মীয় বাঁদরামি থেকে মুক্তির সুযোগ আর অন্যদিকে খোমেনিকে ক্ষমতা থেকে সরালেই দীর্ঘমেয়াদে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার পকেটে ঢুকে পড়ার আশংকা! 
     
    তবুও ইরানের মানুষ মধ্যযুগীয় ধর্মীয় বর্বরতার হাত থেকে বাঁচতে আপাত মুক্তিকে বেছে নিয়েছে। ইরানের মানুষ খোমেনির দেখানো 'ইসলামিক গনতন্ত্র'- এর কাঁঠালের আমসত্ত্বে বদহজমে ভুগল প্রায় অর্ধশতাব্দী। জানি না এবার আমেরিকা-ইজরায়েলের সাম্রাজ্যবাদী দাসত্বের শেকলে কত বছর বাঁধা থাকবে ইরানিদের হাত পা এমনকি মগজও। তবুও মনেপ্রাণে চাইছি পাকাপাকি ভাবে পতন হোক খোমেনির। জানি এটা প্র্যাক্টিক্যালি অসম্ভব। সম্ভবত ইরানিরা বাঘের হাত থেকে বাঁচতে জলে ঝাঁপ দিয়ে কুমিরের মুখে পড়বে। তবুও চাইছি খোমেনি হারুক কিন্তু ইরান জিতুক! 
     
    - ইরানের মাটিতে খোমেনির মতো ধর্মীয় রাক্ষসের ছবি কোনও মহিলার সিগারেটের আগুনে জ্বলতে দেখার মতো সুখকর দৃশ্য আর কী হতে পারে!!"
     
    ফেসবুক 
  • কামাল পাশা | 219.***.*** | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০৫737856
  • লাথখোর চাড্ডিটা আবার এসছে।  
  • albert banerjee | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:১৩737866
  •  লোগো, ইকো ও প্যাথো: ধর্ম, পুঁজি ও ইসলামোফোবিয়ার রাজনৈতিক অর্থনীতি

    লোগো (প্রতীক), ইকো (বাসস্থান/পরিবেশ) এবং প্যাথো (আবেগ/রোগ) — এই তিনটি ধারণা যখন ধর্মের সাথে মিশে যায়, তখন তা পুঁজিবাদী অর্থনীতির একটি বিশেষ কাঠামো তৈরি করে যা শ্রেণী বিভাজনকে টিকিয়ে রাখে এবং পুঁজিপতিদের অর্থনৈতিক সাফল্যের চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়ায়। ইসলামোফোবিয়া — ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে অমূলক ভয় ও বিদ্বেষ — এই ত্রয়ীর একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ, যেখানে ধর্মীয় প্রতীকগুলিকে বিকৃত করা হয়, সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবেশকে বিষাক্ত করা হয় এবং প্যাথলজিক্যাল (রোগগ্রস্ত) আবেগকে পুঁজি করে একটি অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। এই প্রবন্ধে আমরা ইসলামোফোবিয়ার প্রেক্ষিতে বিশ্লেষণ করব কীভাবে লোগো, ইকো ও প্যাথো ধর্মের সাথে মিশে একটি বিশেষ ধরনের পুঁজিবাদী কাঠামো তৈরি করে যা কিনা মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে শ্রেণী বিভাজনকে শক্তিশালী করে এবং পুঁজিপতিদের স্বার্থে কাজ করে।

     প্রথম অধ্যায়: ধারণাগত কাঠামো — লোগো, ইকো ও প্যাথোর সমন্বয়

     লোগো: প্রতীকের রাজনীতি
    লোগো বা প্রতীক মানব সংস্কৃতির একটি অত্যন্ত শক্তিশালী দিক। ধর্মীয় প্রতীক — যেমন ইসলামের ক্ষেত্রে ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি, চাঁদ-তারকা, হিজাব, মসজিদের স্থাপত্য — শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসই প্রকাশ করে না, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ও নির্মাণ করে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় এই প্রতীকগুলিকে দুইভাবে ব্যবহার করা হয়: একদিকে বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন (যেমন ইসলামিক ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি), অন্যদিকে নেতিবাচকভাবে চিহ্নিত করে 'অপর' তৈরি করা। ইসলামোফোবিয়ার ক্ষেত্রে ইসলামিক প্রতীকগুলিকে সন্ত্রাস, পুরুষতন্ত্র ও পশ্চাৎপদতার সাথে যুক্ত করা হয়, যা একটি বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডাকে এগিয়ে নেয়।

     ইকো: পরিবেশ ও বাসস্থানের রাজনৈতিক অর্থনীতি
    ইকো এখানে শুধু প্রাকৃতিক পরিবেশ নয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশও বোঝায়। ইসলামোফোবিয়া একটি বিশেষ সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করে যেখানে মুসলমানদেরকে 'হুমকি' হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এই পরিবেশ তৈরি হয় মিডিয়া, শিক্ষা ব্যবস্থা, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং জনপ্রিয় সংস্কৃতির মাধ্যমে। এই বিষাক্ত পরিবেশে পুঁজিবাদী স্বার্থ সহজে এগিয়ে যায় — নিরাপত্তা শিল্প, অস্ত্র শিল্প, গণমাধ্যম শিল্প এবং এমনকি বিনোদন শিল্পও এই ইসলামোফোবিক পরিবেশ থেকে মুনাফা অর্জন করে।

     প্যাথো: আবেগের রোগলক্ষণ ও তার পুঁজিায়ন
    প্যাথো বলতে আমরা দুইটি দিক বুঝি: প্যাথলজি (রোগ) এবং প্যাথস (আবেগ)। ইসলামোফোবিয়া একটি সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক রোগ যা সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং একটি বিশেষ ধরনের আবেগ (ভয়, ঘৃণা, অনিশ্চয়তা) তৈরি করে। এই আবেগকে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা পণ্য ও পরিষেবায় রূপান্তরিত করে — নিরাপত্তা পণ্য, বীমা, নির্দিষ্ট ধরনের রাজনৈতিক প্রচার, এমনকি বিনোদন মাধ্যম যা এই ভয়কে উপজীব্য করে। প্যাথোর এই পুঁজিায়ন সামাজিক বিভাজনকে গভীর করে এবং একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করে।

     দ্বিতীয় অধ্যায়: ইসলামোফোবিয়ার ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট

     ঐতিহাসিক পটভূমি: ক্রুসেড থেকে উপনিবেশবাদ
    ইসলামোফোবিয়ার শিকড় ইউরোপের মধ্যযুগে ক্রুসেডের সময়ে পাওয়া যায়, কিন্তু তার আধুনিক রূপ গড়ে উঠেছে উপনিবেশবাদী যুগে। ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তিগুলি মুসলিম অঞ্চলগুলিকে 'সভ্যতাবিরোধী' ও 'বর্বর' হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের দখলদারিত্বকে বৈধতা দিয়েছে। ওরিয়েন্টালিস্ট ধারণা তৈরি হয়েছে যেখানে ইসলামকে নারী-বিদ্বেষী, সহিংস ও যুক্তিবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই প্রতীকী নির্মাণ (লোগো) একটি বিষাক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ (ইকো) তৈরি করেছে এবং ইউরোপীয় সমাজে ইসলামভীতি (প্যাথো) সৃষ্টি করেছে।

     শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্ব ও 'সভ্যতার সংঘাত'
    স্যামুয়েল হান্টিংটনের 'সভ্যতার সংঘাত' তত্ত্ব ইসলামোফোবিয়াকে একটি তাত্ত্বিক কাঠামো দিয়েছে। ৯/১১-পরবর্তী বিশ্বে ইসলামোফোবিয়া একটি বৈশ্বিক রূপ লাভ করে, যেখানে 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ' নামক ধারণার মাধ্যমে সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে সন্দেহের চোখে দেখা শুরু হয়। এই সময়ে ইসলামিক প্রতীকগুলি সন্ত্রাসের প্রতীকে পরিণত হয়, মুসলিম সম্প্রদায়গুলি নজরদারির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং পশ্চিমা সমাজে ইসলামভীতি একটি সাধারণ সামাজিক-রাজনৈতিক প্রবণতায় রূপ নেয়।

     সমসাময়িক রাজনৈতিক ইসলামোফোবিয়া
    আজকে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ভারত ও অন্যান্য স্থানে ইসলামোফোবিয়া রাজনৈতিক প্রচারণার একটি কেন্দ্রীয় বিষয়। ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়ার জন্য ইসলাম ও মুসলমানদেরকে 'অন্তর্ঘাতক শক্তি' হিসেবে উপস্থাপন করছে। এই রাজনৈতিক ইসলামোফোবিয়া সরাসরি পুঁজিবাদী স্বার্থের সাথে যুক্ত — এটি শ্রমিক শ্রেণীকে বিভক্ত করে, সামাজিক অসন্তোষকে মুসলমানদের দিকে ঘুরিয়ে দেয় এবং কর্পোরেট স্বার্থে নীতিমালা প্রণয়নে সহায়তা করে।

     তৃতীয় অধ্যায়: মিথ্যা প্রচারণা ও ইসলামোফোবিয়ার নির্মাণ

     মিথ্যা প্রচারণার কৌশল ও তার প্রভাব
    ইসলামোফোবিয়া মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে তৈরি ও বজায় রাখা হয়। এই প্রচারণার কয়েকটি প্রধান কৌশল:

    ১. সাধারণীকরণ ও সম্প্রসারণ: কয়েকজন চরমপন্থীর কাজকে সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর চাপানো।
    ২. প্রতীকের বিকৃতি: ইসলামিক প্রতীকগুলিকে সহিংসতা ও পশ্চাৎপদতার প্রতীকে পরিণত করা।
    ৩. ঐতিহাসিক বিকৃতি: ইসলামের ইতিহাসকে শুধু যুদ্ধ ও বিজয়ের ইতিহাস হিসেবে উপস্থাপন করা।
    ৪. সাংস্কৃতিক প্রয়োজনীয়তা: মুসলমানদেরকে 'পশ্চিমা মূল্যবোধ' গ্রহণ করতে বাধ্য করার প্রচেষ্টা।

    এই মিথ্যা প্রচারণা গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

     গণমাধ্যমের ভূমিকা
    গণমাধ্যম ইসলামোফোবিয়ার প্রচারে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, পশ্চিমা গণমাধ্যমে মুসলমানদের সম্পর্কে সংবাদ একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ কভারেজ প্রদান করে, যেখানে তাদেরকে প্রায়ই সন্ত্রাস বা সহিংসতার সাথে যুক্ত করা হয়। এই ধরনের কভারেজ একটি ইসলামোফোবিক পরিবেশ (ইকো) তৈরি করে যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও বিদ্বেষ (প্যাথো) সৃষ্টি করে।

     শিক্ষা ব্যবস্থা ও ইসলামোফোবিয়া
    শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলাম সম্পর্কে ভুল তথ্য ও পক্ষপাতদুষ্ট বর্ণনা ইসলামোফোবিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যপুস্তকে ইসলামকে একটি সহিংস ও নারী-বিদ্বেষী ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইসলামভীতি তৈরি করে।

     চতুর্থ অধ্যায়: ইসলামোফোবিয়ার অর্থনৈতিক কাঠামো — কারা লাভবান হয়?

     নিরাপত্তা শিল্পের সম্প্রসারণ
    ৯/১১-পরবর্তী বিশ্বে 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ' নিরাপত্তা শিল্পকে একটি বিপুল অর্থনৈতিক খাতে পরিণত করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধেই ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। বেসরকারি নিরাপত্তা কোম্পানি, অস্ত্র উৎপাদক, গোয়েন্দা সংস্থার জন্য ইসলামোফোবিয়া একটি স্বর্ণখনি। ইসলামোফোবিক পরিবেশ বজায় রাখা এই শিল্পগুলির স্বার্থে কাজ করে, কারণ এটি সরকারি ব্যয় ও বেসরকারি বিনিয়োগকে নিরাপত্তা খাতে নিয়ে আসে।

     রাজনৈতিক-শিল্প কমপ্লেক্স
    রাজনৈতিক শিল্প কমপ্লেক্স বলতে আমরা সেই জটিল সম্পর্ক বোঝাই যেখানে রাজনীতিবিদ, কর্পোরেশন ও মিডিয়া একসাথে কাজ করে একটি ইসলামোফোবিক পরিবেশ বজায় রাখে যা তাদের যৌথ স্বার্থে কাজ করে। রাজনীতিবিদরা ভোটের জন্য ইসলামোফোবিক বক্তব্য ব্যবহার করে, মিডিয়া সেটা প্রচার করে উচ্চ রেটিং পায়, আর কর্পোরেশনগুলি এর ফলে তৈরি হওয়া নীতিমালা ও বাজারের সুযোগ থেকে মুনাফা অর্জন করে।

     শ্রম বাজার ও ইসলামোফোবিয়া
    ইসলামোফোবিয়া শ্রম বাজারে মুসলমানদেরকে নানাভাবে প্রভাবিত করে — চাকরিতে বৈষম্য, বেতন বৈষম্য, চাকরিতে উন্নতির পথে বাধা ইত্যাদি। এই বৈষম্য মুসলিম শ্রমিকদেরকে একটি সহজ শোষণযোগ্য শ্রমশক্তিতে পরিণত করে, যা পুঁজিপতিদের জন্য লাভজনক। একই সময়ে, ইসলামোফোবিয়া অমুসলিম শ্রমিকদের মনোযোগ সামাজিক বৈষম্য ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে সরিয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণার দিকে নিয়ে যায়, ফলে শ্রমিক ঐক্য ভেঙে যায় এবং পুঁজিপতিদের শোষণ চালিয়ে যাওয়া সহজ হয়।

     সাংস্কৃতিক পুঁজিায়ন
    ইসলামোফোবিয়া সাংস্কৃতিক পণ্য তৈরি করে যা অর্থনৈতিক মুনাফা অর্জন করে — ইসলামোফোবিক বিষয়বস্তু সমৃদ্ধ সিনেমা, বই, টিভি শো ইত্যাদি। এই ধরনের সামগ্রী মুসলমানদেরকে 'অপর' হিসেবে উপস্থাপন করে এবং অমুসলিম দর্শক-পাঠকদের মধ্যে ভয় ও উত্তেজনা তৈরি করে, যা বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়। এই সাংস্কৃতিক পুঁজিায়ন ইসলামোফোবিক ধারণাগুলিকে সাধারণীকরণ করে এবং একটি ইসলামোফোবিক পরিবেশ বজায় রাখে।

     পঞ্চম অধ্যায়: শ্রেণী বিভাজন ও ইসলামোফোবিয়া

     ইসলামোফোবিয়া কীভাবে শ্রেণী বিভাজনকে শক্তিশালী করে
    ইসলামোফোবিয়া একটি শক্তিশালী শ্রেণী বিভাজনকারী হাতিয়ার। এটি নিম্নলিখিত উপায়ে কাজ করে:

    ১. শ্রমিক শ্রেণীর বিভাজন: ইসলামোফোবিয়া শ্রমিক শ্রেণীকে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভক্ত করে, যার ফলে তারা তাদের যৌথ অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য একত্রিত হতে পারে না। মুসলিম ও অমুসলিম শ্রমিকদের মধ্যে বিভাজন পুঁজিপতিদের জন্য উপকারী, কারণ এটি শ্রমিক সংঘর্ষ ও দাবিদাওয়া দুর্বল করে।

    ২. সামাজিক অসন্তোষের পুনঃনির্দেশনা: যখন অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয় বা সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়, তখন ইসলামোফোবিয়া সেই অসন্তোষকে মুসলমানদের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। 'অন্যান্য'কে দোষারোপ করার এই প্রক্রিয়ায় আসল সমস্যা — অর্থনৈতিক বৈষম্য, কর্পোরেট লোভ, সরকারি ব্যর্থতা — আড়ালে থেকে যায়।

    ৩. রাজনৈতিক মনোযোগের বিচ্যুতি: ইসলামোফোবিয়া রাজনৈতিক বিতর্ককে অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও শ্রেণী সংগ্রাম থেকে সাংস্কৃতিক যুদ্ধ ও জাতীয় নিরাপত্তার দিকে নিয়ে যায়। এই বিচ্যুতি ধনী ও ক্ষমতাবানদের স্বার্থ রক্ষা করে।

     আন্তঃছেদনকারী নিপীড়ন: শ্রেণী, বর্ণ ও ধর্ম
    ইসলামোফোবিয়া অন্যান্য নিপীড়ন ব্যবস্থার সাথে মিলে একটি আন্তঃছেদনকারী নিপীড়ন তৈরি করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি মুসলিম শ্রমিক শুধু শ্রেণী নিপীড়নই নয়, ধর্মীয় বৈষম্যও ভোগ করে। যদি সেই শ্রমিক নারী হয়, তবে লৈঙ্গিক নিপীড়নও যুক্ত হয়। এই বহুমাত্রিক নিপীড়ন শোষণকে তীব্র করে এবং প্রতিরোধকে কঠিন করে তোলে।

     ষষ্ঠ অধ্যায়: প্রতিরোধ ও বিকল্পের অনুসন্ধান

     সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ: প্রতীকের পুনর্দখল
    প্রতীকের রাজনীতিতে ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হল ইসলামিক প্রতীকগুলির পুনর্দখল। মুসলিম শিল্পী, বুদ্ধিজীবী ও Aktivists ইসলামিক প্রতীকগুলিকে নতুন অর্থে পুনর্ব্যাখ্যা করছেন — শান্তি, বহুত্ববাদ ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে। এই সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ লোগোর রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জ করে।

     শিক্ষামূলক সংস্কার
    ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার অপরিহার্য। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:
    - পাঠ্যপুস্তকে ইসলাম সম্পর্কে সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা
    - আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও বোঝাপড়া বৃদ্ধির জন্য শিক্ষা কার্যক্রম
    - মিডিয়া সাক্ষরতা শিক্ষা যাতে শিক্ষার্থীরা ইসলামোফোবিক প্রচারণা চিনতে ও বিশ্লেষণ করতে পারে

     অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের সংগ্রাম
    ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই শ্রেণী সংগ্রাম থেকে আলাদা নয়। অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম ইসলামোফোবিয়ার মূল কারণগুলিকে সমাধান করে। যখন শ্রমিক শ্রেণী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একত্রিত হয়, তখন ইসলামোফোবিয়া রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে তার কার্যকারিতা হারায়।

     আইনি সংস্কার ও নীতি পরিবর্তন
    ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন:
    - ঘৃণামূলক অপরাধ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কঠোর আইন
    - কর্মক্ষেত্রে ধর্মীয় বৈষম্য বন্ধের নীতি
    - মিডিয়ায় ইসলামোফোবিক বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা

     সপ্তম অধ্যায়: ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংহতি

     বৈশ্বিক সংহতি আন্দোলন
    ইসলামোফোবিয়া একটি বৈশ্বিক সমস্যা যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংহতি প্রয়োজন। বিভিন্ন দেশের মুসলিম ও অমুসলিম Activists, বুদ্ধিজীবী ও সংগঠনগুলির মধ্যে নেটওয়ার্ক তৈরি করে ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে একত্রিত লড়াই করা সম্ভব। প্যালেস্টাইনের সংগ্রাম, ভারতে মুসলিম বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, বা ইউরোপে ইসলামোফোবিক আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন — সবই একই সংগ্রামের অংশ।

     দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা
    ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দক্ষিণের দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এসব দেশ ইসলামোফোবিক নীতির শিকার হয়েছে এবং তাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া ও যৌথ কৌশল তৈরি করা ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইকে শক্তিশালী করতে পারে।

     উপসংহার? 

    লোগো, ইকো ও প্যাথোর ত্রয়ী যখন ধর্মের সাথে মিশে যায়, তখন তা পুঁজিবাদী অর্থনীতির একটি বিশেষ কাঠামো তৈরি করে যা শ্রেণী বিভাজনকে টিকিয়ে রাখে এবং পুঁজিপতিদের অর্থনৈতিক সাফল্যের চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়ায়। ইসলামোফোবিয়া এই প্রক্রিয়ার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ, যেখানে ইসলামিক প্রতীকগুলিকে বিকৃত করা হয় (লোগো), একটি ইসলামোফোবিক সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা হয় (ইকো) এবং ভয় ও বিদ্বেষের আবেগকে পুঁজি করে অর্থনৈতিক মুনাফা অর্জন করা হয় (প্যাথো)।

    মিথ্যা প্রচারণা এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় উপাদান, যা গণমাধ্যম, শিক্ষাব্যবস্থা ও রাজনৈতিক বক্তব্য মাধ্যমে ইসলামোফোবিক ধারণাগুলি ছড়িয়ে দেয়। এর ফলে নিরাপত্তা শিল্প, অস্ত্র ব্যবসা, মিডিয়া কর্পোরেশন ও রাজনৈতিক শক্তি লাভবান হয়, আর সাধারণ মানুষ — বিশেষ করে মুসলমানরা — নিপীড়িত হয়।

    ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজন সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ, শিক্ষামূলক সংস্কার, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের সংগ্রাম, আইনি সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সংহতি। ইসলামোফোবিয়া শুধু মুসলমানদের সমস্যা নয়, এটি একটি সামগ্রিক সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্যা যা সমাজের সকলের জন্য ক্ষতিকর। লোগো, ইকো ও প্যাথোর এই বিষাক্ত মিশ্রণের বিরুদ্ধে লড়াই মানে শুধু ধর্মীয় সহিষ্ণুতার জন্য লড়াই নয়, বরং একটি ন্যায়সংগত, সাম্যবাদী ও মানবিক সমাজের জন্য লড়াই, যেখানে ধর্ম, বর্ণ বা শ্রেণী নির্বিশেষে সকল মানুষের মর্যাদা ও অধিকার সংরক্ষিত হবে।
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন