এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  আলোচনা   বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

  • ক্রাইসিস ইন কসমোলজি

    dc
    আলোচনা | বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি | ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৫৩ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কিছুদিন আগে যদুবাবু প্যারাল্যাক্স পদ্ধতিতে তারাদের দূরত্ব মাপা ও রাশিবিজ্ঞানের সাহায্যে সেই দূরত্বের এরর কারেকশান সংক্রান্ত একটা লেখা লিখেছিলেন (১)। লেখাটা পড়ে, আর যদুবাবুর উৎসাহে, মনে হলো এ নিয়ে আরেকটু লিখি, বিশেষত, দুরকম পদ্ধতি ব্যাবহার করে বহু দূরের তারা, গ্যালাক্সি, ও অন্যান্য স্ট্রাকচারের দূরত্ব মাপতে গিয়ে বর্তমানে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা যে সংকটে পড়েছেন, সে নিয়ে খানিকটা চর্চা করা যেতে পারে। অফিসিয়ালি এই সংকটের নাম দেওয়া হয়েছে "ক্রাইসিস ইন কসমোলজি" বা "হাবল টেনশান", আর এক লাইনে বলা যায়, আমাদের মহাবিশ্বের বিবর্তন ব্যখ্যা করার জন্য আমরা যে মডেল বার করেছি - লাম্বডা সিডিএম মডেল (ΛCDM model) - তাতে সম্ভাব্য খামতি। তো এই আলোচনা শুরু করি অল্প একটু ইতিহাস জেনে নিয়ে, এই মডেলগুলো কিভাবে তৈরি হলো, আর এগুলোর মধ্যে অসঙ্গতিই বা কিভাবে ধরা পড়লো।    

    দূরত্ব মাপার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস 

    স্ট্যান্ডার্ড ক্যান্ডল পদ্ধতি 
    বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিক অবধি র্বিজ্ঞানীরা মনে করতেন আমাদের মহাবিশ্বের কোন বিবর্তন হয়না, অনন্তকাল ধরে একই অবস্থায় আছে, একেবারে নট নড়ন চড়ন অবস্থা যাকে বলে। এই বিশ্বাসে প্রথম জোরালো আঘাত হানেন ১৯১২ সালে হেনরিয়েটা লিভিট (Henrietta Swan Leavitt), তারাদের ঔজ্জ্বল্য আর দূরত্ব সংক্রান্ত কাজ করতে গিয়ে। লিভিট দেখতে পান, কিছু কিছু তারার ঔজ্জ্বল্য নিয়ম করে কমে আর বাড়ে, এই ধরনের তারার নাম দেওয়া হয় ভেরিয়েবল স্টার। এদের মধ্যে এক বিশেষ ধরনের তারা নিয়ে লিভিট আরও গবেষণা করেন, এগুলোর নাম সেফিড ভেরিয়েবল (cepheid variable) (জন গুডরিক ১৭৮৪ সালে প্রথম এই ধরনের তারা আবিষ্কার করেন সেফিয়াস (Cepheus) নক্ষত্রপুঞ্জে)। লিভিট আবিষ্কার করেন যে ম্যাজেলানিক ক্লাউডে বেশ কিছু সেফিড তারার ঔজ্জ্বল্য যতো বেশী, তাদের ঔজ্জ্বল্যের ভেরিয়েবিলিটি বা পিরিয়ডিসিটিও ততো বেশী, অর্থাত ঔজ্জ্বল্য আর পিরিয়ডিসিটির মধ্যে পজিটিভ কোরিলেশান আছে। নীচের ছবিতে দেখুনঃ 
     
    (সেফিড তারাদের ঔজ্জ্বল্য নির্দিষ্ট সময়ে বাড়েকমে)
     
    (লিভিটের আবিষ্কৃত কোরিলেশান)
     
    (ছবিদুটি এখান থেকে নেওয়া হয়েছেঃ http://hyperphysics.phy-astr.gsu.edu/hbase/Astro/cepheid.html )
     
     
    তো এই কোরিলেশান ব্যবহার করে লিভিট ও অন্যান্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সেফিড ভেরিয়েবলদের অ্যাবসোলিউট ঔজ্জ্বল্য আর আপাত ঔজ্জ্বল্য (অর্থাত পৃথিবী থেকে কতোটা উজ্জ্বল মনে হয়) মাপতে পারেন, তারপর আলোর ইনভার্স স্কোয়্যার ল কাজে লাগিয়ে তাদের দূরত্ব মাপতে সক্ষম হন। যেহেতু সব গ্যালাক্সিতেই সেফিড ভেরিয়েবল থাকে, তাই তারাদের দূরত্ব মাপার এই পদ্ধতির নাম দেওয়া হয় স্ট্যান্ডার্ড ক্যান্ডল পদ্ধতি (২)। 
    এর কিছুদিন পর ১৯২৯ সালে এডউইন হাবল অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সিতেও সেফিড তারা আবিষ্কার করেন, এবং এক যুগান্তকারী ঘোষনা করেন - দূরের গ্যালক্সিগুলো আমাদের থেকে সরে সরে যাচ্ছে, আলোকবর্ষের মাপে দূর থেকে দূর হয়ে চলেছে। এই ঘোষনার ফলে অ্যাস্ট্রোনমিতে (আর ফিজিক্সএ) বহু বদল আসে, স্বয়ং আইনস্টাইন তাঁর ইকুয়েশান থেকে একটা গ্র‌্যাভিটেশনাল কনস্ট্যান্ট সরিয়ে নেন, সে অবশ্য অন্য গল্প, অন্য একদিন করা যাবে। তবে এই প্রসঙ্গে বলে নি, হাবল আরও একটি আবিষ্কার করেছিলেন - যে তারা বা গ্যালাক্সি যতো দূরে, তার আলোও ততো লালচে (রেডশিফটেড), অর্থাত সেই বস্তুটি ততো তাড়াতাড়ি আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এটাই হলো হাবলস ল (
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • যদুবাবু | ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩:২৬746403
  • স্যরি, সেমিস্টার শেষের ব্যস্ততা, ফাইন্যাল গ্রেডিং, তারপর এই দেশে ফেরা ইত্যাদি নিয়ে অনেকদিন আসা হয়নি। এসেই পড়লাম। 
     
    খুবই ভালো লাগছে, কিন্তু মনে হ'ল যেন দুম করে মাঝখানে শেষ হয়ে গেলো? এ কী গুরুর এডিটর-ই লেখার লেজটুকু কপ করে গিলে ফেলেছে?
  • dc | 2401:4900:7b95:cf5b:ecec:5af5:5b66:***:*** | ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৪:১১746404
  • একি! পোস্ট করার পর তো পুরোটাই দেখেছিলাম, যদ্দুর মনে পড়ছে। আবার পোস্ট করে দিচ্ছি। 
  • dc | 2401:4900:7b95:cf5b:ecec:5af5:5b66:***:*** | ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৪:১১746405
  • এর কিছুদিন পর ১৯২৯ সালে এডউইন হাবল অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সিতেও সেফিড তারা আবিষ্কার করেন, এবং এক যুগান্তকারী ঘোষনা করেন - দূরের গ্যালক্সিগুলো আমাদের থেকে সরে সরে যাচ্ছে, আলোকবর্ষের মাপে দূর থেকে দূর হয়ে চলেছে। এই ঘোষনার ফলে অ্যাস্ট্রোনমিতে (আর ফিজিক্সএ) বহু বদল আসে, স্বয়ং আইনস্টাইন তাঁর ইকুয়েশান থেকে একটা গ্র‌্যাভিটেশনাল কনস্ট্যান্ট সরিয়ে নেন, সে অবশ্য অন্য গল্প, অন্য একদিন করা যাবে। তবে এই প্রসঙ্গে বলে নি, হাবল আরও একটি আবিষ্কার করেছিলেন - যে তারা বা গ্যালাক্সি যতো দূরে, তার আলোও ততো লালচে (রেডশিফটেড), অর্থাত সেই বস্তুটি ততো তাড়াতাড়ি আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এটাই হলো হাবলস ল, আর দূরত্ব ও সরে যাওয়ার স্পিড (রিসেশান ভেলোসিটির) এর যে কনস্ট্যান্ট, তার নাম দেওয়া হলো হাবলস কনস্ট্যান্ট।  

    সিএমবি পদ্ধতি 

    হাবল যখন আবিষ্কার করলেন যে "তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে", তখন স্বাভাবিকভাবেই সবার মনে হলো যে তাহলে তো বহু কোটি বছর আগে মহাবিশ্ব অনেকটা ছোট ছিল আর তার তাপমানও অনেক বেশী ছিল। সেই তাপমাত্রার কোন হদিস কি এখনও পাওয়া যেতে পারে? ১৯৬৪ সালে দুই কমিউনিকেশান ইঞ্জিনিয়ার, আর্নো পেনজিয়াস আর রবার্ট উইলসন, সম্পূর্ণ কাকতালীয়ভাবে সেই মহাজাগতিক রেলিক আবিষ্কার করেন। ওনারা একটা রেডিও অ্যান্টেনা সারাতে গিয়ে দেখেন যে অ্যান্টেনাটা যেদিকেই ঘোরান না কেন, সবদিক থেকে একটা নিরবচ্ছিন্ন স্ট্যাটিক আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়। এর নাম দেওয়া হয় কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড (সিএমবি) রেডিয়েশান, পুরো মহাবিশ্বে যেখানেই কেউ ২.৭ কেলভিন তাপমাত্রায় রেডিও ওয়েভ মাপুন না কেন, তিনি এই সিএমবি আওয়াজ শুনতে পাবেন।  এর পর সিএমবি নিয়ে বহু গবেষনা হয়েছে, কিন্তু আমাদের আলোচনায় প্রাসঙ্গিক যে অংশটা, সেটা হলো, ১৯৮৯ সালে কসমিক ব্যাকগ্রাউন্ড এক্সপ্লোরার স্যাটেলাইটের বানানো ম্যাপে প্রথমবার সিএমবিতে খুব সামান্য হেরফের ধরা পড়ে। অর্থাত এর আগে অবধি এই ব্যাকগ্রাউন্ড আওয়াজ বা মহাজাগতিক তাপমাত্রা যতোটা স্মুথ ভাবা হচ্ছিল তা নয়, দেখা গেল এই আওয়াজ কম কোথাও বেশী, আর এই হেরফেরের মধ্যে মহাবিশ্বের একেবারে শুরুর দিকের ইতিহাস লুকিয়ে আছে। আরও দেখা গেল, যদি একটা গ্রাফ বানানো যায় যার এক্স অ্যাক্সিসে থাকে আকাশের অ্যাঙ্গুলার দূরত্ব আর ওয়াই অ্যাক্সিসে থাকে তাপমাত্রার কমাবাড়ার পরিমাণ, তাহলে এক বিশেষ পদ্ধতি দিয়ে মহাবিশ্বের এক্সপ্যানশান রেট বার করা যায়, অর্থাত হাবল কনস্ট্যান্ট এর মাপ পাওয়া যায়।  
  • যদুবাবু | ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৫:৪৭746406
  • এই তো এবার এসেছে বাকিটা। 
     
    চলুক। :) 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু প্রতিক্রিয়া দিন