বিশ্বশক্তির অলিখিত নিয়ম ও ডলারের সাম্রাজ্য : দেবজিৎ ঘোষ
বুলবুলভাজা | ধারাবাহিক | ২৩ মার্চ ২০২৬ | ৯০৬ বার পঠিত | মন্তব্য : ২০
ব্রেটন উডস ব্যবস্থা এবং পেট্রোডলারের বিন্যাস, যা আমরা একটু পরে আলোচনা করব, সেগুলো ছিল অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে এই খেলার কাঠামো পরিবর্তনের এক একটি চেষ্টা — যাতে সহযোগিতার জন্য উৎসাহ এবং দলত্যাগের জন্য ক্ষতি বা ব্যয়ের ব্যবস্থা করা যায়। তারা আংশিকভাবে সফল হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো তৈরি করা হয়েছিল এমন এক পৃথিবীর জন্য যেখানে আমেরিকান আধিপত্য ছিল নিরঙ্কুশ, বাণিজ্যিক ধরণ ছিল সরল এবং আদর্শগত বিভাজন ছিল স্পষ্ট। কিন্তু সেই পৃথিবী এখন মুছে যাচ্ছে।
বিশ্বশক্তির অলিখিত নিয়ম ও ডলারের সাম্রাজ্য - পর্ব ৩ : দেবজিৎ ঘোষ
বুলবুলভাজা | ধারাবাহিক : অর্থনীতি | ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | ৬১৮ বার পঠিত | মন্তব্য : ২৮
পেট্রোডলার ব্যবস্থার প্রধান শর্ত হলো — সব গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস বাণিজ্য অবশ্যই ডলার-নির্ভর চুক্তির মাধ্যমে হতে হবে। এই শর্তটি কোনো আন্তর্জাতিক আইনে লেখা নেই। এটি ১৯৭৪ সালে তৈরি করা একটি কাঠামোগত ইনসেন্টিভ এর মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে—বিশেষ করে নিরাপত্তার গ্যারান্টির বিনিময়ে নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন করার ব্যবস্থা। এর সাথে জড়িয়ে আছে একটি পরোক্ষ বোঝাপড়া যে, এর বিকল্প খোঁজা অনেক ব্যয়বহুল হবে এবং এই ব্যবস্থাটি বিশ্বজুড়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটিয়েছে।
ইরান এক্ষেত্রে একটি বিশেষ উদাহরণ। এটি দেখায় যে, যখন একটি রাষ্ট্র আদর্শের কারণে নয় , বরং প্রয়োজনের তাগিদে এই ব্যবস্থার বাইরে কাজ করার জন্য নিজেদের পরিকাঠামো তৈরি করে, তখন কি ঘটে। কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞার কারণে ডলার-ভিত্তিক আর্থিক নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইরান বাধ্য হয়েছিল ডলারের বাইরে জ্বালানি কেনাবেচার কৌশলগুলো তৈরি করতে এবং সময়ের সাথে সাথে সেগুলোকে উন্নত করতে। ডিজিটাল ইউয়ান, চীনের ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেম (CIPS), শ্যাডো ফ্লিট নেটওয়ার্ক এবং চীনের সাথে পণ্য বিনিময়ের মতো পেমেন্ট ব্যবস্থাগুলো কোনো বৈপ্লবিক পরিকল্পনা নয়, বরং এটি হলো ব্যবস্থার বাইরে চলে যাওয়ার একটি খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা।
বিশ্বশক্তির অলিখিত নিয়ম ও ডলারের সাম্রাজ্য: পর্ব ৪ (শেষ পর্ব) : দেবজিৎ ঘোষ
বুলবুলভাজা | ধারাবাহিক : অর্থনীতি | ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ৩৭০ বার পঠিত | মন্তব্য : ১৪
বিশ শতকের দুই মহাযুদ্ধের সবচেয়ে কম আলোচিত একটি দিক হলো — বেসরকারি পুঁজি সেখানে ঠিক কতটা ভূমিকা রেখেছিল। শুধু যুদ্ধের পরে পুনর্নির্মাণে টাকা ঢালার মাধ্যমে নয়, যুদ্ধ চলাকালীন তাদের টাকা ঢালার ব্যাপারটাও। এটা কোনো ষড়যন্ত্রের গল্প নয়। এটা নথিভুক্ত আর্থিক ইতিহাস — এবং এই ইতিহাস আগের তিনটি পর্বে বর্ণিত স্থাপত্যের সাথে অস্বস্তিকরভাবে মিলে যায়। বিশ শতকের শুরুতে রথসচাইল্ড পরিবার একশো বছর ধরে এমন এক আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল যা অনেকগুলি দেশ জুড়ে ছিল এবং অনেক দেশের সরকারের থেকেও সেই নেটওয়ার্ক বহুগুণে উন্নত ছিল। নাথান রথসচাইল্ডের সেই বিখ্যাত উক্তি, ইংল্যান্ডের সিংহাসনে কে বসল তাতে তার কিছু আসে যায় না, যদি ইংল্যান্ডের অর্থসরবরাহ তার নিয়ন্ত্রণে থাকে — এটা কোনো দম্ভোক্তি ছিল না। এটা ছিল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু কোথায় সেটার একটি পদ্ধতিগত বিবরণ।