বিজেপির পুরো ন্যারেটিভটা দাঁড়িয়েছে হিন্দু হোমল্যান্ড হিসেবে ভারত তথা বাংলাকে দেখায়, আর সনাতনী সংস্কৃতির অনৈতিহাসিক ধারণার ওপর। ভারত ভাগে মূল দুটি প্রতিনিধিত্বমূলক শক্তি ছিল কংগ্রেস আর লীগ। কংগ্রেসের অবস্থান ছিল মূলত রাজনৈতিক প্রয়োজনবাদী আর ভূরাজনৈতিক স্বার্থতাড়িত। আর ভারতীয় মুসলমানের বড় অংশই মুসলিম হোমল্যান্ডের লীগের ধারণাকে সমর্থন করেন নি। আজকে হঠাৎ হিন্দু হোমল্যান্ডের ধারণাকে নিয়ে লাফানোর উদ্দেশ্য সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ। শ্যামাপ্রসাদ এখানে উপলক্ষ মাত্র। আর পাঁচ হাজার বছরের সনাতনী সংস্কৃতির ধারণাটাও হিন্দুত্ববাদী নির্মাণ। বেদের সময়কাল আড়াইহাজার বছরের মতো। হিন্দুত্ববাদীরা বৈদিক ... ...
-ভাইগণ সবে, করো না করো না বৃথা কোঁদল।ডিএর বকেয়া তুমি পাবে। -তবে কবে ?একথা কী কেউ কবে ? -ডিএর কথা ভেবে, তোমার নেতা সবে। ভোট করিয়েছে রামে। -তাই বিধি এখন বামে ? -কেমন ভোট করিয়েছে রামে।-তবে কবে ?একথা কী কেউ কবে ? -শুধালে তাই এখন কথার ফাঁকে ফাঁকে..-কবে! কবে ! কবে!- গরুর চাঁটা পড়বে তোমার চুলে কিম্বা টাকে!-ভোট করিয়েছে রামে। -তাই বিধি এখন বামে ?-চাঁটা পড়বে আহা চুলে কিম্বা টাকে ! ... ...
প্রিভেনটিভ ডিটেনশন সংক্রান্ত একটা বিল প্রায় বিরোধী শূন্য পশ্চিম বঙ্গ বিধানসভায় পাশ হয়ে গেলো তাতে বিচারের সাংবিধানিক অধিকারই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে বলে মনে হয়। অপরাধ আটকানোর জন্য কেন্দ্রীয় বা রাজ্যস্তরে যেসব আইন আছে তার মধ্যে কোনো আইনে কি অভিযুক্তকে এরকম একবছর বিচারহীন অবস্থায় ফেলে রাখার ধারা আছে ! এতো প্রিভেনটিভ ডিটেনশন রোধে অভিযুক্তের সাংবিধানিক রক্ষাকবচ হেবিয়াস কর্পাস জাতীয় আপিলের অধিকার হরণের সমান ! জানি না এ বিল রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে আইনে রূপান্তর হলে এর বিপক্ষে সাংবিধানিক বৈধতার আবেদনের ভিত্তিতে ... ...
২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধের দিন। ওইদিন বেরিয়েছিলাম, উদ্দেশ্য ইতিহাসে খোঁজাখুঁজি। প্রথমে পলাশী যুদ্ধের আম বাগানে ইংরেজের তৈরি করা জয়স্তম্ভের কাছাকাছি গিয়ে দেখলাম পলাশী দিবস উদযাপিত হচ্ছে ভারত বাংলাদেশ পিপলস ফোরামের উদ্যোগে। কাছেই পিডব্লুডি গেস্ট হাউস, সেখানে আয়োজকদের দিনের বিশ্রাম আর মধ্যাহ্ন ভোজনের আয়োজন চলছে। ইংরেজ ঔপনিবেশিক তাত্ত্বিকরা পলাশীর জয়কে বিপ্লব মনে করে। সে নিয়ে তাদের লেখাপত্র আছে। ব্যাপারটা আমাদের ভালো লাগার কথা নয়। ওই জয়স্তম্ভটা সেই মতলবে বানানো। এখনও দিব্বি আছে। তার চারপাশে পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। যার গেটের ঠিক বাইরে আয়োজক সংগঠনের উদ্যোগে নবাব সিরাজ উদ দৌলার একটা আবক্ষ মূর্তি, পাশেই মোহনলাল আর মীরমদনের নামে একটা শহীদ স্মৃতি ফলক ... ...
১৭৫৭ র ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধ হয়। সমকালে দু দুটো গিরিয়ার ( প্রথমটায় ১৭৪০ এ মুর্শিদকুলির নাতি নবাব সরফরাজ খানকে পটকে দেন আলিবর্দি আর দ্বিতীয়টায় ১৭৬৩ সালে মির কাশেমকে নির্ধারক ভাবে হারায় কোম্পানির বেঙ্গল আর্মি ) যুদ্ধের তুলনায় পলাশী নেহাৎই ছোটখাট মারামারি গোছের ছিল যাতে যুদ্ধ কৌশলের থেকে ষড়যন্ত্র আর নগদ লাভের লালসাই বড়। ষড়যন্ত্রের বলি হয়েছিলেন নবাব সিরাজ। যে ষড়যন্ত্রে ক্ষমতাশালীদের সব্বাই মিরজাফরের মতো মোঘল অভিজাত, খোজা ওয়াজেদের মতো ধনী সওদাগর,মুর্শিদকুলির আমলে ফুলেফেঁপে ওঠা হিন্দু জমিদাররা, রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্কার জগত শেঠরা আর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া সব্বাই সিরাজের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগে। সিরাজ না হয় হঠে গেলেন কিন্তু দেখা গেল লাভ ... ...
রাস্তার লড়াইয়ের ডাক দিলেন রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস তৈরি হয়েছিল ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মঞ্চ হিসেবে। আবার এক নিষ্পেষণ আর চূড়ান্ত রাজনৈতিক ক্ষমতার একচেটিয়ার যুগে প্রতিরোধের ডাক দিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য কমেন্টসে। ... ...
বেসরকারি হাসপাতাল বিনামূল্যে যে জমি পেয়েছে তার গ্রাউন্ড রেন্টের হিসেব ধরে সেখানে সংরক্ষিত বেডে বিনামূল্যে চিকিৎসার খরচ বেরিয়ে আসে। তাই বেসকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি যুক্তিসম্মত। এই বেড বন্টনের রেগুলেটর সরকারেরই হওয়া উচিত সে হিসেবে কনসোলিডেটেড বেড ভেকেন্সি লিস্টে বেসরকারি হাসপাতালের ১০ শতাংশ সংরক্ষিত বেড ঢুকিয়ে সরকারি রেফারেলের অন্তর্ভুক্ত হলেই সবচেয়ে ভালো হয়। এর সুপ্রয়োগ নিয়ে আমাদের সজাগতা বাড়াতে হবে আর বাড়ার জন্যই আমরা তক্কাতক্কি করতে পারি। এটাই কাম্য। ... ...
এক টাকায় জমি তথাকথিত বেসরকারি হাসপাতালগুলো (যেগুলো আসলে সরকার নিয়ন্ত্রিত পিপিপি) পেয়েছে দুটো শর্ত সাপেক্ষে : (১) সরকারি কর্মীদের সুলভে চিকিৎসা যা ওয়েস্টবেঙ্গল হেলথ স্কিম এ সরকার নির্ধারিত হারে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে করা হয়। তাই সীমাবদ্ধতা থাকলেও ২০০৮ থেকে এ বিষয়ে একটা পরিস্কার অবস্থান আছে। (২) আর্থিক ভাবে দুর্বল শ্রেণীর মানুষকে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান। ওই জন্য ওইসব হাসপাতালে ওপিডি পরিষেবা চালু আছে। কিন্তু বেড সংরক্ষণ সংক্রান্ত এযাবৎ কোনো সুস্পষ্টতা ছিল না। কংগ্রেস বাম বা তৃণমূল কেউই করে নি। এটা বিজেপি সরকার করছে সরকারি রেফারেল ... ...
স্বাস্থ্য সাথী একটা ইন্সুরেন্স স্কিম যার পয়সা সরকার দিত। আয়ুষ্মান ভারতও তাই এসবের ব্যতিরেকেই আর্থিক ভাবে দুর্বল অংশ বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পেতে পারত কিন্তু কংগ্রেস বাম বা তৃণমূল কেউই এটা করেনি। নতুন সরকারের বিভাগীয় মন্ত্রী এক টাকায় জমি দানের প্রসঙ্গ তুলে বেসকারি হাসপাতালে শুধুমাত্র আধার কার্ড দেখিয়েই বিনামূল্যে চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দিলে অবশ্যই তাকে অভিনন্দন জানাবো। আপনারা যারা মূল বিষয়টা বোঝেননি তাঁরাই প্যাঁচাল পাড়ছেন। ... ...
উডল্যান্ডের মতো কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া স্বাধীনতা র পর থেকেই কলকাতায় আদতে কোনো পুরো বেসরকারি হাসপাতাল নেই। সকল বেসরকারি হাসপাতাল এক টাকায় জমি পাওয়ায় সব্বার বোর্ডেই সরকারি প্রতিনিধি আছে। ওই জমি পাওয়ার অন্যতম শর্ত ছিল আর্থিক ভাবে দুর্বল মানুষের জন্য আসন সংরক্ষণ। নতুন সরকারের মাননীয় বিভাগীয় মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় মহোদয় জানিয়েছেন বেসরকারি হাসপাতালে ১০শতাংশ আসন সরকারি রেফারেল সিস্টেমের অর্ন্তভুক্ত হবে অর্থাৎ সিট না থাকলে সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে। এই ব্যবস্থা বহু প্রতিক্ষিত ও স্বাগত।স্বাধীনতার পর থেকে এতদিন হয়নি কেন কে জানে!! ... ...