সময়টা ষোড়শ শতকের শেষে,একদিন রাতে বাদশাহ জালাল উদ্দিন আকবর তাঁর দরবারের মালিক উস শুরা -সভা কবি আবু আল ফৈজ বা ফৈজিকে ডেকে পাঠালেন।নোকর যখন বাদশাহের জরুরি এত্তেলার খবর দিচ্ছে,কবি তখন চিন্তামগ্ন। কবিতা আর প্রশাসনিক দায়িত্ব-রাজনীতিতে নানা ভাগ হয়ে আছে তাঁর আত্মা,দুলছে, একবার এদিকে কবিতার দিকে যায় তো রাষ্ট্রীয় কলরবে অন্যদিকে ছোটে। মালিকের ডাক পেয়ে ঘোর কেটে যায় তাঁর, ভাবেন হয়ত জরুরি কোনো সলাহ করতে হুজুর ডেকে পাঠালেন।কী হলো?কী,কী হতে পারে? সালতানাতের কোনো গভীর সংকট সৃষ্টি হলো ? বা শাহেনশাহ হয়ে পড়লেন গুরুতর অসুস্থ?বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও অনিবার্য মৃত্যু, হঠাৎ মৃত্যুই যে রোগের একমাত্র পরিণতি?রাজা -বাদশাহ ... ...
বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান শাহী, ইলিয়াস শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান সামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের ছেলে সুলতান সিকান্দার শাহের (১৩৫৭-১৩৮০) আমলে আদিনা মসজিদ তৈরি হয় আনুমানিক ১৩৭৫ সালে। এ এস আইয়ের সুরক্ষায় থাকা মালদা থেকে কুড়ি কিলোমিটার দূরে পাণ্ডুয়ার সেই মসজিদের তলায় সংঘ পরিবার বেশ কয়েক বছর ধরে তাদের কায়দা মতো ভেঙে দেওয়া আদিনাথ শিব মন্দিরের অবস্থিতির দাবি জানিয়ে আসছে। বিজেপি বাংলার তখতে বসার পর সেই ন্যারেটিভকে ঘিরে কর্ম তৎপরতা শুরু হয়েছে। আদিনার পাঁচিলের পঞ্চাশ মিটারের মধ্যে সম্ভবত এক পঞ্চানন মন্দির চত্বরে শিবলিঙ্গ ... ...
তসলিমার কলকাতার অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সহ শাসকদলের অনেকের উপস্থিতি নিয়ে হৈচৈ-করার কী যে মানে কে জানে। বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত এক সুইডিশ নাগরিক আর যে কোন মূল্যে ভাষার টানে, সংস্কৃতির টানে ভারতের ভিসা টিঁকিয়ে রাখতে আকূল এক লিখিয়ের কাছে যা প্রত্যাশা করা যায় তার সবই তসলিমা পূরণ করেছেন তাঁর বক্তব্যে। ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদ, এখানে মুসলমান সহ সংখ্যালঘুদের অসহনীয় বিড়ম্বনা এসব নিয়ে তাঁকে প্রশ্নে বিব্রত করার চেষ্টা অশোভন। তেমনি অশোভন তাঁর আমন্ত্রণে মঞ্চে কবি জয় গোস্বামীকে উঠতে না দেওয়া। এতে জয় শুধু নন, তসলিমাও যে অপমানিত হয়েছেন এ তাঁর নিজেরই কথা। লজ্জার ব্যাপার লেখকের অপমানে বেশির ভাগ বাঙালি সহমত ! তার মানে কলকাতা ... ...
যাদবপুর ৮বি স্ট্যান্ডের কাছে কাউন্টার এরার দোকানে কিছু সংঘ পরিবার সংশ্লিষ্ট লোকজন আজ দুপুরে এসে হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ। তাদের নাকি বক্তব্য ছিল ওখানে দেশদ্রোহী বই বিক্রি হচ্ছে। এটা দেশজুড়ে ঘটমান প্রবণতা।সংঘ পরিবারের নানা সংগঠন বা আইটি সেলের কাজই এসব করা। প্রগতিশীল, সমন্বয়বাদী বা অম্বেডকরবাদী অথবা বামপন্থী ন্যারেটিভ যা হিন্দুত্বকে চ্যালেঞ্জ করে সব কিছুই তাদের দুচক্ষের বিষ।এসবকে দেশদ্রোহী তকমা লাগানোই এদের কৌশল। কথা বলেই কথার অধিকার আর হিন্দুত্ববাদী ন্যারেটিভের বিপরীতে সমন্বয়ের ন্যারেটিভের চর্চা করেই এসবের মোকাবিলা হবে। তবে ভদ্দরলোকের সুখী সুখী বইমেলার যে কী পরিণতি হতে চলেছে তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ... ...
ছোটবেলায় নেহরুর লেখা এন্ড অফ ফিয়ার পড়েছিলাম। বাপুজির নেতৃত্বে ভয়ের মুক্তি না হলে স্বাধীনতা আন্দোলন হতো না। এই ভয়ের মুক্তির ব্যাপারটা হিন্দুস্থানের লোক বোঝে।১৯৭৭ এ লোকনায়ক জয়প্রকাশজির নেতৃত্বে আর এক ভয়ের মুক্তি হয়। জরুরি অবস্থার সেই ভয়ের মুক্তির ঊষালগ্নে বিজেপির বীজও বপন হয়। সে আন্দোলনে সিঁদ কেটেই বিজেপির উত্থান।তারা যেন ভুলে না যায় তাদের এক লোকনায়কের দরকার ছিল যাঁর স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে মান্যতা আছে।সোনাম ওয়াংচুক আর সিজেপি বা আইসার নেহা সহ ছাত্রদের নেতৃত্বে এরকমই এক ভয় মুক্তির দরকার হচ্ছে কারণ লোকে অধিকাচ্যুতির ভয় থেকে মুক্তি চায়, সব ধরণের অধিকারচ্যুতির ভয় থেকে, পেপার লিক থেকে চাকরিচ্যুতি, ভোটার লিস্টে নাম বাদ থেকে জল জমি জঙ্গলের অধিকারচ্যুতির ... ...
সেদিন কলেজ স্ট্রিট কফিহাউসে আমায় মধুময়দা(মধুময় পাল, বিশিষ্ট কথাকার) বললেন,“ এটা দেখো।”দেখলাম তসলিমা নাসরিনের বই দ্বিখণ্ডিত নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে একটা সুন্দর মুসাবিদা করা প্রতিবাদ পত্রের খসড়া। সময়টা ২০০৩এর নভেম্বর। আমি তখন নিয়মিত কফি হাউসে যেতাম শনিবার শনিবার। আগে গিয়ে মধুময়দার সঙ্গে আড্ডা মারতাম তারপর রক্তকরবী পত্রিকার টেবিলে রবি সেন, প্রদীপ ভট্টাচার্য, শান্তি নাথ ও আরো অনেকের সঙ্গে সময় কাটিয়ে বাড়ি ফিরতাম রাতে। কফি হাউসে আড্ডার এক গভীর আঠা আছে যা গায়ে মাথায় লেগে থাকলে সহজে ওঠে না। আমার ক্ষেত্রে ওই আঠা বংশগত বলাও যায় কারণ এ আঠা ছিল বাবারও আর অনেকদিন আগে প্রথম বাবার সঙ্গেই কলেজ স্ট্রিট কফি হাউসে গিয়ে ছিলাম। ... ...
বিজেপির পুরো ন্যারেটিভটা দাঁড়িয়েছে হিন্দু হোমল্যান্ড হিসেবে ভারত তথা বাংলাকে দেখায়, আর সনাতনী সংস্কৃতির অনৈতিহাসিক ধারণার ওপর। ভারত ভাগে মূল দুটি প্রতিনিধিত্বমূলক শক্তি ছিল কংগ্রেস আর লীগ। কংগ্রেসের অবস্থান ছিল মূলত রাজনৈতিক প্রয়োজনবাদী আর ভূরাজনৈতিক স্বার্থতাড়িত। আর ভারতীয় মুসলমানের বড় অংশই মুসলিম হোমল্যান্ডের লীগের ধারণাকে সমর্থন করেন নি। আজকে হঠাৎ হিন্দু হোমল্যান্ডের ধারণাকে নিয়ে লাফানোর উদ্দেশ্য সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ। শ্যামাপ্রসাদ এখানে উপলক্ষ মাত্র। আর পাঁচ হাজার বছরের সনাতনী সংস্কৃতির ধারণাটাও হিন্দুত্ববাদী নির্মাণ। বেদের সময়কাল আড়াইহাজার বছরের মতো। হিন্দুত্ববাদীরা বৈদিক ... ...
-ভাইগণ সবে, করো না করো না বৃথা কোঁদল।ডিএর বকেয়া তুমি পাবে। -তবে কবে ?একথা কী কেউ কবে ? -ডিএর কথা ভেবে, তোমার নেতা সবে। ভোট করিয়েছে রামে। -তাই বিধি এখন বামে ? -কেমন ভোট করিয়েছে রামে।-তবে কবে ?একথা কী কেউ কবে ? -শুধালে তাই এখন কথার ফাঁকে ফাঁকে..-কবে! কবে ! কবে!- গরুর চাঁটা পড়বে তোমার চুলে কিম্বা টাকে!-ভোট করিয়েছে রামে। -তাই বিধি এখন বামে ?-চাঁটা পড়বে আহা চুলে কিম্বা টাকে ! ... ...
প্রিভেনটিভ ডিটেনশন সংক্রান্ত একটা বিল প্রায় বিরোধী শূন্য পশ্চিম বঙ্গ বিধানসভায় পাশ হয়ে গেলো তাতে বিচারের সাংবিধানিক অধিকারই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে বলে মনে হয়। অপরাধ আটকানোর জন্য কেন্দ্রীয় বা রাজ্যস্তরে যেসব আইন আছে তার মধ্যে কোনো আইনে কি অভিযুক্তকে এরকম একবছর বিচারহীন অবস্থায় ফেলে রাখার ধারা আছে ! এতো প্রিভেনটিভ ডিটেনশন রোধে অভিযুক্তের সাংবিধানিক রক্ষাকবচ হেবিয়াস কর্পাস জাতীয় আপিলের অধিকার হরণের সমান ! জানি না এ বিল রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে আইনে রূপান্তর হলে এর বিপক্ষে সাংবিধানিক বৈধতার আবেদনের ভিত্তিতে ... ...
২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধের দিন। ওইদিন বেরিয়েছিলাম, উদ্দেশ্য ইতিহাসে খোঁজাখুঁজি। প্রথমে পলাশী যুদ্ধের আম বাগানে ইংরেজের তৈরি করা জয়স্তম্ভের কাছাকাছি গিয়ে দেখলাম পলাশী দিবস উদযাপিত হচ্ছে ভারত বাংলাদেশ পিপলস ফোরামের উদ্যোগে। কাছেই পিডব্লুডি গেস্ট হাউস, সেখানে আয়োজকদের দিনের বিশ্রাম আর মধ্যাহ্ন ভোজনের আয়োজন চলছে। ইংরেজ ঔপনিবেশিক তাত্ত্বিকরা পলাশীর জয়কে বিপ্লব মনে করে। সে নিয়ে তাদের লেখাপত্র আছে। ব্যাপারটা আমাদের ভালো লাগার কথা নয়। ওই জয়স্তম্ভটা সেই মতলবে বানানো। এখনও দিব্বি আছে। তার চারপাশে পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। যার গেটের ঠিক বাইরে আয়োজক সংগঠনের উদ্যোগে নবাব সিরাজ উদ দৌলার একটা আবক্ষ মূর্তি, পাশেই মোহনলাল আর মীরমদনের নামে একটা শহীদ স্মৃতি ফলক ... ...