২০২৬ সালের বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফল যাই হোক, ইতিহাসের পাতায় তা বাঙালি জাতির জন্য এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ হয়ে থাকবে। সময় পাল্টায়, শাসক পাল্টায়, কিন্তু জাতির বিপদের দিনে "ভদ্দরলোক" শ্রেণির সুবিধাবাদী চরিত্র বদলায় না। হ্যাঁ, ব্যঙ্গার্থেই শব্দটিকে ‘ভদ্রলোক’ না লিখে ‘ভদ্দরলোক’ লেখা হয়েছে। কারণ এদের ভদ্রতার নিচে লুকিয়ে থাকে প্রবল জাতি ও শ্রেণি বিদ্বেষ।বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (SIR) এর নাম করে বাঙালির ওপর যে সরাসরি আক্রমণ নেমে আসছে, তা বোঝার জন্য বিরাট পাণ্ডিত্যের প্রয়োজন ছিল না। মাত্র কয়েকমাস আগেই বিহারে এই প্রক্রিয়ায় কী করা হয়েছে তা জানা ছিল। আসামে এই পদ্ধতিতেই ... ...
"প্ল্যানড্ অবসলেন্স" এর বাংলা আমি জানি না। মানেটা মোটামুটি এরকম বাংলায় - কোনও ভাবে (অবশ্যই ইচ্ছাকৃত) পণ্যের মধ্যে এমন একটা কিছু ঢুকিয়ে দেওয়া যাতে সেই পণ্য আর জোড়াতাপ্পি দিয়ে চালানো না যায়। আরও নতুন পণ্য বিক্রি, আরও লাভ, সেই লাভের টাকায় ফের অন্য নতুন পণ্য। এই কিছুদিন আগেও ফোনের ব্যাটারি বদলানো যেতো, এখন ব্যাটারি খারাপ হলে নতুন ফোন নেওয়াই সস্তা পড়ে। অনেকভাবেই এটা করা যায় - সবটা ঠিক প্রযুক্তিরও ব্যাপার নয়। নেট প্রভাবী তাঁর পুরানো ফোন ছুঁড়ে দিয়ে নিলেন নতুন ফোন... এই অবধি বোঝা তেমন কঠিন না। আমরা যারা মধ্য চল্লিশে পৌঁছে গেছি বা যাবো যাবো করছি ... ...
এই মুহূর্তে বাংলার রাস্তাঘাটে একমাত্র আলোচনার বিষয়বস্তু, গণমাধ্যমের শিরোনাম হওয়া উচিত SIR প্রক্রিয়ার বাদ যাওয়া লক্ষ লক্ষ বাঙালির হয়রানি। এখানে হচ্ছে না। অন্তত পৃথিবীর আর পাঁচটা সভ্য সুস্থ জাত হলে তাই-ই হতো। অবাক হওয়ার বয়স পেরিয়ে গ্যাছে - তবু সহনাগরিকদের উদাসীনতা দেখে অবাক হই। হ্যাঁ এই উদাসীনতা এই সময়ে - যখন কমবেশি তিরিশ লক্ষ মানুষ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন - বস্তুতঃ বিচার চলছে এঁদের নাগরিকত্বের। যাঁদের নাম উঠে গ্যাছে অন্তত কোলকাতা শহরে আমার পরিচিত বৃত্তে - এঁরা নিশ্চিত এই এতজন মানুষের কিছু না কিছু গণ্ডগোল আছে নথিতে। আমার নেই, আমি নিশ্চিন্ত। রবিবারে খাসির মাংসের দোকানে বেঁধে রাখা, তখনও জ্যান্ত খাসির কাঁঠাল ... ...
রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স এর রেজাল্ট এবছর এখনও বেরোয়নি। কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত NEET এর রেজাল্ট বেরিয়েছে, কিন্তু এই রাজ্যে সরকারি নোটিশ জারি করে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। এই রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের যে অসুবিধার মধ্যে পড়তে হচ্ছে, তা অভূতপূর্ব। আমার ধারণা, একমাসের মধ্যে জট না খুললে, এই রাজ্যের বহু ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যত কেরিয়ার ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রেজাল্ট বেরোচ্ছে না কেনো? রাজ্য সরকার দাবি করছে আইনি সমস্যা রয়েছে। হ্যাঁ, দাবি আপাতভাবে ঠিকই। কলকাতা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ আছে রেজাল্ট বের করার ব্যাপারে (৭ অগাষ্ট ২০২৫)। এমনকি WBJEE বোর্ড ও রাজ্য উচ্চশিক্ষা দপ্তরের ওপর কনটেম্পট অফ কোর্ট এর মামলাও ঝুলছে পূর্ববর্তী ডিভিশন ... ...
টুথপেস্ট বা দাঁত মাজার ব্রাশের বিজ্ঞাপনে গলায় স্টেথোস্কোপ ঝোলানো ডেন্টিস্ট দেখে হাসাহাসি করি তো আমরা? কিন্তু যেটা আমাদের চোখ বা কান এড়িয়ে যায় - ক্ষুদে ক্ষুদে অক্ষরে লেখা - "ইন্ডিয়ান অমুক অ্যাসোসিয়েশন আমাদের ব্র্যান্ড সুপারিশ করেন"। না, এই লেখা টুথপেস্ট বা ব্রাশ সম্পর্কিত নয়। বরং দৈনন্দিন জীবনে তার চেয়ে যা ঢের বেশি ব্যবহার হয় এবং আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর যার সরাসরি প্রভাব আছে - পানীয় জল সংক্রান্ত। মধ্যবিত্ত বা উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারে পানীয় জল শোধনে যে "ফিল্টার" ব্যবহার হয়, সেগুলোর বিজ্ঞাপনের সাম্প্রতিক একটি দাবি নিয়ে আমার কিছু প্রশ্ন আছে। এই প্রশ্নগুলো কালো সাদার মাঝে - ধূসর। আর আমার কিছু ধারণা ... ...
কিছুদিন আগে পর্যন্তও ‘নতুন যুগের’ কর্পোরেট সংস্থাগুলি ছিল উদারতাপন্থার ধ্বজাধারী। সিলিকন ভ্যালির তরফে একের পর এক রেনবো মার্চেন্ডাইস, #MeToo ওয়ার্কশপ, বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব অঙ্গীকার — প্রগতিশীলতার হদ্দমুদ্দ যাকে বলে। নারী অধিকার, জাতিগত সমতা, LGBTQ+ অন্তর্ভুক্তি — এসব বুলির ছড়াছড়ি ছিল কর্পোরেট পলিসিতে। কিন্তু ট্রাম্পের উত্থান আর সাম্প্রতিক ‘কালচার ওয়ার’-এর মধ্যেই সুর কেমন পাল্টে গেলো। ডিইআই (ডাইভার্সিটি, ইকুইটি, ইনক্লুশন) টিম গুটিয়ে নেওয়া হচ্ছে, গর্ভপাত সংক্রান্ত সুবিধা আংশিক/ সম্পূর্ণ বাতিল করে দেওয়া হয়েছে, জলবায়ু প্রতিশ্রুতিও আর্থিক চাপের অজুহাতে স্থগিত। নিউ ইয়র্ক টাইমস (2024)-এর ভাষায়, কর্পোরেট উদারতা যেন হঠাৎই ফিকে হয়ে গেল। প্রশ্ন জাগে — হঠাৎ এই বিপরীতমুখী সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কি সত্যিই বিশ্বাসের বদল, নাকি ... ...
জীবনের "মানে" বা পারপাস খোঁজা মানুষ ঠিক কবে থেকে শুরু করলো? সঠিক সময় বলতে না পারলেও এটুকু বলাই যায় সার্ত্র বা কামুর জন্মের ঢের আগে থেকেই। এই খোঁজ এক অস্থিরতা। শিল্পবিপ্লব পরবর্তী ধ্রুপদী যে ধনতন্ত্র - সে জিনিস মানুষের মনের খোঁজ সেভাবে না রাখলেও, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিবর্তিত ধনতন্ত্র বিলক্ষণ জানে মানসিক অস্থিরতা বা মনে প্রশ্ন বয়ে নিয়ে চলা মানবসম্পদ উৎপাদনশীলতার অন্তরায়। বিশেষ করে পরিষেবাক্ষেত্রের কথা যদি আমরা বলি, সেখানে মানবসম্পদ-ই মূল পুঁজি। এখানেই একটি দুরন্ত চাল দিলো পুঁজিবাদ - কর্মীদের বলল তোমরা তোমাদের কাজের মাধ্যমে পৃথিবী বদলে দিচ্ছ। এই তোমার জীবনের উদ্দেশ্য। অবশ্যই এরকম কাঠখোট্টা ভাষায় নয়, অনেকটা ... ...
গরম পড়ল এবছর - দুম করেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় বছরকার চর্বিতচর্বন শুরু - ব্যক্তিগত স্তরে বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধ করুন, চান কম করুন, এসির ব্যবহার কমান, গাড়ির ব্যবহার কমান ইত্যাদি। এগুলোর কোনোটা নিয়েই আলাদা করে আমার আপত্তি নেই। আমার এই ধরণের বক্তব্য নিয়ে আপত্তির জায়গাটা অন্য। একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে বক্তব্যগুলো তৈরি হচ্ছে মূলতঃ বড় কর্পোরেট সংস্থার পক্ষ থেকে। সেখান থেকে হয়তো চুঁইয়ে আসছে এনজিওতে, আবাসনে, স্কুলপাঠ্যে। "কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি" নামের এক বকচ্ছপ জিনিসে ধোঁয়া দেওয়া হচ্ছে। "ব্যক্তি" হিসেবে আপনার দায়, সাথে কিছুটা অপরাধবোধ সুক্ষ্মভাবে চারিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু "ব্যক্তি" আপনি ঠিক কতটা কী করতে পারবেন? সোজা উত্তর কিস্যু ... ...
১. আমার বাবা মারা যায় গতবছরের ২৩ শে ডিসেম্বর। বাবার এন্ড স্টেজ প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার এটা আমি (আমার মা বা স্ত্রী উপস্থিত ছিল না ঐসময় হাসপাতালে) জানতে পারি ওই বছরই ১৫ ই অক্টোবর। মাঝের এই সময়টায় অনেকবার ভেবেছি আমার অভিজ্ঞতাগুলো লিখি, অন্য কারো জন্য নয়, নিজের জন্যই। আমি তো এই মুহূর্তে জানি না আমার শরীরের কোন্ কোণায় কোন্ জিন আস্তে আস্তে মিউটেট করছে, মোক্ষম সময়ে উবে যাবে স্মৃতি, ঠিক যে বয়সে স্মৃতিটুকুই ... ...