সারাদিন গায়ে মেখেছ মাটি, উত্তেজনা, সমুদ্র আমি দূর থেকে দেখে ভেবেছি অন্যায় তারপর হাতে লেগেছে চকের গুঁড়ো, সান্ত্বনার সুর , দৈত্য দানব, রূপকথার ভগবান এখন বাড়ানো হাত শূন্যে বহুদূরে, নিস্তব্ধ রাত্রে, সবার সব কথার ফাঁকে ফাঁকে ... ...
ছোট ছোট কথা বড় হয়ে যাচ্ছে,পাহাড়ঘেরা একটা দীঘির ধারে বসে আছি, এখন সূর্যাস্ত,এর সঙ্গে নদীর যোগ তার সঙ্গে সমুদ্র ;মনে মনে ছবি আঁকা। তোমাদের বৃত্ত পেরোলেই বাইরে শৈত্য বাইরে মরুভূমি, হিমশীতল ছায়াপথ, তার বাইরে কিছু লিখতে পারি না, কিছু লিখতে চাইনা। মানুষ বড় দূর্বল, মানুষ বড় একা, তিন-চারজনের সংসার একটা দ্বীপের মত, বাকি পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ মূলত বাণিজ্যিক। শামুকের মত মন ভেতরে ভেতরে ছোট হয়ে আসে লবির বাইরের কারো কথা শোনা চলে না আর শুধু জ্ঞান দেওয়া, নিরাপদে দূরে বসে.. নিজেকে আদর্শ ধরে।.. ইত্যাদি। এসব তেমন কিছু নয়, ছেলেমানুষী যেমন একটা লাইন পেলে আরেকটা লেখা যায়, লিখতে লিখতে কোথাও একটা থামতে হয় । মনে হয় বৃত্তের বাইরে থেমে আছি অনেকক্ষণ মনে হয় বড় বেশী কথা বলা হল এবার থামা যাক, শেষ তোমাদের মুখ, আলগা ... ...
আমরা সবাই নিজেদের ভালবাসি মাঝে মধ্যে, হয়ত ছায়াহীন রোদের দুপুরে কিংবা জঙ্গলের মধ্যে যখন রাত্রি হয়ে যায়... ভালবাসা নিয়ে লেখালেখিও আছে, কমবেশী পেট খারাপের মত সবই স্মৃতি সংক্রান্ত যেভাবে মানুষ বেঁচে থাকে বা মরে যায় আসল কথাটা ভালোবাসা নয় ক্ষুদ্রান্ত্র বৃহদন্ত্র পাকস্থলী, গেস্ট হাউসের পাশে মিরামারে কাসল আর সমুদ্র আসল কথাটা সমুদ্রের জল নিয়ে কেন জল নীল কেন তীব্র লবনাক্ত ? কেন আজ নিজেকে বোঝাবার কেউ নেই ভেতরে ভেতরে ? ... ...
আলাদা করে চিহ্ন নেই তারিখ সময় গালাগালি হাসাহাসি লবিবাজি... নিষ্ঠুরতা সবসময়ই ক্যাজুয়াল সিরিয়াস অত্যাচার তুলনায় ভাল, প্রতিদিন নুরেমবার্গের কবিতা বদলায়। সাদা পায়রা উড়িয়ে দিয়েও সবসময় যুদ্ধ থামেনা শহর তাকে চেনে—নামে নয় , তারই মত অনেকের চলার ভঙ্গিতে।এই তাদের পরিচয়পত্র;বাসস্ট্যান্ডে চলতি ফুটপাতে স্টেশনে, টিকিট কাটার লাইনে খাদ্যে বস্ত্রে বাসস্থানে । ভারসাম্য হয়ত ভালো হয়ত ভারসাম্য বলতে নিরাপত্তা বোঝায় কিন্তু ভারসাম্য কোথায় ?দুপুরে বিস্বাদ ঠাণ্ডা ভাত কাঁধের ব্যাগটা ভারী লাগে, অসহনীয় একটা পুরোনো সিনেমার গান দূরে বাজছে কোথাও ।স্মৃতির সন্ধ্যায় সময় পিছিয়ে যায় শান্ত গ্রাম, ঘরে ঘরে কেরোসিনের আলো, যথেষ্টশহরের মত সর্বতোভাবে অতিরিক্ত নয় । অন্য সময় হলে কিছু প্রশ্ন দেখা দিতসে যে বসে থাকেসেই নিয়ে এই বসে থাকাটাঅপেক্ষা নাকি, শুধু বিরতি..ইত্যাদি বদলে নির্বিকার রাতেহলোকাস্টের শহরটা জানালা দিয়ে ঢুকে পড়ে, কৌতূহলবিহীন নির্বিকার কিছু মানুষ গলায় চাকতি দেখে চলে যায় আর নাজিদের নাইটক্লাবে গালাগালি হাসাহাসি লবিবাজি, আবার । শহরের ভেতর আমি আর আমার ভেতর শহর কে জানে কার বিবমিষা বেশী ,কে জানে কার ইটিনারিতে লেওভার কতক্ষণ !কাল কী ... ...
একটা স্বপ্ন আমার দেখা একান্ত দরকার যে কোনো স্বপ্ন নয়;তুমি ।না, ভুলিনি ভুলে যাব ভয় হয়, তবু নয় সন্দেহ হয় আরোপিত স্মৃতি;নিশ্চয়ই তা সত্যি নয় তবু স্বপ্ন চাই ।মাথা বড় কুটকুট করছে কয়েকদিনআয়নায় তাকালেনিজেকে চেনা যাচ্ছে নাট্রিমারটা চার্জে দিলাম আজ চুল কাটতে হবে,দাড়িও কামানো দরকার ।এই সব অস্বস্তিস্বপ্নের চেয়ে স্পষ্টআর আমার স্বপ্ন দেখার আগ্রহ অনেকদূর অতিক্রম করে যায় ।দিনের শুরুতেইস্বপ্ন হারিয়ে যায় পরে খুঁজি, খুঁজতে থাকি বাগানে, আলোকিত উঠোনেনির্ধারিত সব ভুল ঠিকানায় ।সব রহস্যের সমাধান করতে নেই শেষ প্রকৃতিস্থ পথের সীমানা পেরোতে নেই,তবু ফাঁকা ঘর মাথার ভেতর,তোমার অপেক্ষা করে,একটা সূর্যালোকিত দিনের স্বপ্নে তোমার গলায় গান শুনতে চায়,স্বাধীনতা যেমন হতে পারত । তা হয়না , বদলে সব পেয়েছির বুড়ো মাঝে মধ্যে আসেন সুর টুর করে নিতান্ত অনধিকারে, অবিশ্বাসীকে জ্ঞান দিয়ে যান ,যেমন বদ অভ্যাস আজীবন । ... ...
অন্য কারও জন্য নয় বড় কোনো লক্ষ্য বা আদর্শের জন্য নয় নিজের জন্য ,এই শহরে সে একা থাকে ।গাড়ির শব্দ শুরু হয় - ভোর বেলা নিজে থেকেই ঘুম ভেঙে যায়, সে বেরোয়,সস্তা ভাতের হোটেল থেকেবাসে ট্রেনে মেট্রোয় ভিড় ভিড় ভিড় ...লেদার ফ্যাক্টরীর সয়ে যাওয়া গন্ধেপ্রাণ ভরে শ্বাস নেয় আজকালফুসফুস ফিরিয়ে দেয় না ।বেঁচে থাকা একটা যান্ত্রিক প্রক্রিয়াচিন্তা ভাবনা অপ্রয়োজনীয়সত্যি বলতে তো আর তার জীবনে লক্ষ্য কিছু নেই কাজ নেই — কাজ নেইতবু দিন ভরে যায়;সেটা এই শহরের ক্রেডিট ।আশেপাশে পাশ-কাটানো মানুষের ভিড়চেনা নয়, এরা কেউ আবার অচেনাও নয়আন্তরিকতাহীন ;যান্ত্রিক সভ্যতার রথে যুতে দেওয়া ঘোড়া একে অন্যকে দেখতে পায়না চোখে ঠুলি থাকে অকারণ ঘাড় ঘোড়ালেই, চাবুক পড়ে সেই ভয় আর কাঁধের ভার বয়ে বয়ে চলে সারাজীবন ।তবু সে যেন কিসের একটা অপেক্ষা ... ...
প্রথম প্রথমঘরটা ছোট মনে হতপরে পরেছোট নয়, বন্ধমনে হয়।মনে হয় হেরে গেছি।দেয়ালে ক্যালেন্ডার,মেঝেতে দাগ,ওগুলো থাকে।ক্লান্ত লাগেএকজনের পর আরেকজনদিশা কে দেখাতে চায় ?দায়িত্ব কে নিতে পারে ?সবাই ?শুরুতে সে কাঁদত।শুরুতে ছিল সূর্যালোক সত্যিভরসা মতোধীরে ধীরে বোঝা যায় ছমাস অন্তর দিন রাতঅক্সিজেন ফুরিয়ে যায়মাথা ঘোরে।চুপিচুপি শরীর মানিয়ে নেয়।গন্ধ, ওজন।ধুয়ে ধুয়ে চামড়া জ্বালা করেপাতলা হয়ে আসে।তবু সভ্যতারস্পর্শ ধোয়া যায় না সবথেকে যায় গভীরে।যেভাবে মনের অনিন্দ্যে স্মৃতি,তাল সুপুরি পলাশ শিউলিবিরাট ধানের মাঠঘোলা জলের ছোট নদী ;তীরে তীরেনেশাতুর সূর্য ডোবে।একদিন হিসেবের খাতাটাহাতে আসে,এটাকে উন্নতি বলেভাগের কথা শোনা গেল—অর্ধেক,তারপর নিওন আলোর নীচেনেমে আসে অপর্যাপ্ত "স্বাধীনতা"।সে এখন নিজের দরজায়নিজেই তালা দিয়ে বসে থাকেবাইরে রাস্তা আছে,হাজার মানুষ আছে,কিন্তু ... ...
সকালের আলো,আধখানা পৃথিবী, মাঠঘাটআমার জানালা লাগোয়া দালানআলোর ভেতর ঢুকে পড়ে।ধানের পাতায় রোদ - স্মৃতিভার,জন্ম থেকে তিরিশ বছরআগুনে উনুনের ধোঁয়ার মত এখনধীরে ধীরে নিজের চেহারা ভুলে যায়।আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েশব্দ খুঁজি, স্মৃতির পাতায়হেঁটে আসা সেই সবযা কোনদিনতোমাকে বলা হয়ে উঠল না।মাটির নিচেজান্তব কামনা-বাসনা-পশুসময়ে ধীরে হাঁটে,যখন তখন উঠে এসে খেয়ে নিতে চায় কাঁচা ঘিলু,থালা সাজিয়ে এগিয়ে দিই,তাদের প্রতি আমার সহানুভুতি আছে।দিন এগোয়, গন্তব্য নয়,সন্ধ্যা সন্ধ্যা আলো।সারাদিনে কিছুই করা হল নাপাখিরা ফিরে এসেআমার আরেকটা ব্যর্থ দিন নিয়েউড়ে চলে যায়।আলোহীন,তোমার ভালোবাসার বাকি সব তরঙ্গ পথ,আলোর অভাবে উজ্জ্বল এখন,আরও নিস্তব্ধ,আরও ভাঙা, ভাঙা, অনিশ্চয় এখন। ... ...
ঘুম ভেঙে দেখি বিছানায় চ্যাপ্টা চকচকে কালো একটা সাপ চমকে উঠে তাড়া দি, দ্রুত অদৃশ্য হয়ে যায় পাশের জানালা দিয়ে ।সারা গায়ে হাতে পায়ে টিপে টুপে দেখি কোথাও কামড়েছে কিনা,সব সাপের কামড় সহজে বোঝা যায় না ।এখন চেনা অনেক মানুষের মত,যাদের মনের অন্ধকার বুঝতে বুঝতে অনেক দেরি হয়ে যায় ।তখন দিনের আলো কমে আসেসূর্য ডুবে যায় ।তখন সারারাত জেগে থাকি স্বর্নাভ আলোর অপেক্ষা আমি ভোর,আর মাঝে মাঝে, সেইসব রাতে বিষদাঁত লুকিয়ে,উষ্ণ বিছানায় আতিথ্য নেয় সাপ । ... ...
জীবন শুরু হয়কোনো ব্যাখ্যা ছাড়া।ধানক্ষেতের ওপরহালকা কুয়াশা,শীতের সকালে সোনালী সবুজ মাঠলাজুক মুখে চেয়ে থাকে,রোদের জন্য অপেক্ষা করে।মাঠের মাঝে শান্ত পুকুর, কচুরিপানা ভাবনা হয়ে ভাসে,রোদ এসে পড়ে ধানের শীষে,পুকুরের জলেতালগাছের ঋজু ছায়া ক্রমশ লম্বা হয়ে পড়ে।কখন দুপুর হয়বোঝা যায় নাখোলা মাঠে খাঁ খাঁ করে রোদআমি ভাবি—থাকা মানে কি শুধু থাকা ...চেয়ে চেয়ে থাকা ?ছায়ারও কি ছায়া থাকে ?প্রশ্নগুলোকড়া রোদে শুকিয়ে খটখট করে ,তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে পক্ষীরাজ ঘোড়া নেমে আসে এই বিস্তীর্ণ রোদের দেশে আসন্ন বিকেলে চেনা রাজকন্যা আর রাজপুত্রের খোঁজে |মাটির রাস্তা ধরে হেঁটেনরম শব্দে ধোঁয়াটে সন্ধ্যা আসে,হাটের মাঝেবুড়ো বটগাছের নীচেচায়ের দোকান থেকে ঘন সাদা ধোঁয়া ওঠে,আকাশ নরম, অন্ধকার হয়।অনবরত ডেকে ডেকেঝিঁঝিঁ পোকাবিশৃংখল জীবন সব স্তিমিত করে আনে।কানাকানি গল্পগুজব ফুরিয়ে ... ...