নির্বাক ইশতেহারবাতাসে উড়ছে প্রতিশ্রুতির খইতুমি ভাবলে উৎসবের আবিরআর বুক ফুলিয়ে মেতে উঠলেএক রঙিন মিছিলে।আকাশে ঘুরছে SIR-এর চিলতুমি ভাবলে নিছক প্রশাসনিক ভুল,অথচ ভোটার তালিকার কাটাছেঁড়ায়তোমারই নাম আজ ‘রিজেক্টেড’ জঞ্জালে।এইভাবেই—তুমি আরজি করের রক্তকে ভেবেছিলে স্রেফ নিউজ ফিডতাই কাদা ছোড়াছুড়ির ভিড়ে বিচার হারিয়ে গেল।তুমি গিরগিটির প্রতিশ্রুতিকে ভেবেছিলে পাথরের দাগঅথচ দেখলে— অন্যান্য রাজ্যে সেই দাগ স্রেফ জলের আলপনা।তুমি দেখেছ— চিৎকার করে শুধু মান-সম্মান খোয়ানো সারটুনটুনির ফাঁকা বুলিতে আজ আর চিঁড়ে ভেজে না,তাই ‘মন্দের ভালো’র আশ্রয়ে তুমি এখন এক নীরব শিকার।ঘরে ফেরা মানুষটি জানে—যমুনার জলে প্রতিশ্রুতি ভাসে, আর গঙ্গার পাড়ে নামে অন্ধকার।"তোমাকে বোকা বললেপুরোটা বলা হলো না ওয়েস্টপেপার বাস্কেটরাও চিৎকার করে বলছে—"তোমার ইশতেহার তারা নিতে চাইনা। ... ...
জলঙ্গীর বাঁকে নধরের ভেলা: এক অস্তিত্বের মন্থর প্রতিবাদ আজ কৃষ্ণনগর পৌরসভার হলে ‘নধরের ভেলা’ সিনেমাটি দেখার সুযোগ হলো। প্রথাগত মাল্টিপ্লেক্সের চাকচিক্য ছেড়ে মিউনিসিপ্যাল হলের এই সাদামাটা পরিবেশে সিনেমাটি দেখা যেন গল্পের ‘নধর’-এর মতোই এক সহজ ও মাটির কাছাকাছি অভিজ্ঞতা। তবে এই ছবি দেখার পর আমার মনের ভেতর কিছু অন্যরকম ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। সিনেমাটির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব আমার কাছে মনে হয়েছে এর ‘ধীরতার রাজনীতি’। যখন পুরো পৃথিবী জেতার জন্য দৌড়াচ্ছে, তখন নধর যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে—তাল মেলাতে না পারা কোনো অপরাধ নয়। অভিনেতা অমিত সাহার অসামান্য অভিনয় নধর চরিত্রটিকে এক ... ...
নাগরিকত্বের গোলকধাঁধা ও ২০২৬-এর পাটিগণিত: বাংলার উদ্বাস্তু রাজনীতির এক নির্মোহ ব্যবচ্ছেদ বাংলার সামাজিক ও রাজনৈতিক মানচিত্রে ‘উদ্বাস্তু’ পরিচয়টি কেবল দেশভাগের ক্ষত নয়, বরং এটি এক চিরস্থায়ী অস্তিত্বের লড়াই। দশকের পর দশক ধরে যারা এদেশের মাটিতে নিজেদের শিকড় গেড়েছেন, আজ তারা এক অভূতপূর্ব মনস্তাত্ত্বিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। বিজেপি যখন ‘নিঃশর্ত নাগরিকত্ব’-এর স্বপ্ন দেখিয়ে মতুয়া ও নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের মন জয় করেছিল, তখন সেই আশ্বাসের পেছনে ছিল এক ধরণের আধ্যাত্মিক স্বস্তি। কিন্তু সিএএ কার্যকর হওয়ার পর সেই স্বস্তি আজ আতঙ্কে রূপান্তরিত হয়েছে। সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিতে দেখলে, একজন মানুষকে তার বর্তমান নাগরিক পরিচয়কে ‘অবৈধ’ বলে স্বীকার করতে বাধ্য করে ভবিষ্যতের নাগরিকত্বের টোপ দেওয়া আসলে ... ...
হোমো সেপিয়েন্স থেকে ডি-ভোটার: মানচিত্রের জঠরে হারানো মানুষবিবর্তনের আদিম লগ্নে মানুষ ছিল এক নিখাদ যাযাবর, যার কাছে গোটা পৃথিবীটা ছিল অবারিত বৈঠকখানা আর নীল আকাশটা ছিল উন্মুক্ত ছাদ। কিন্তু বিবর্তনের এক কুক্ষণে মানুষ শিকার ছেড়ে লাঙল ধরল, আর সেই সঙ্গেই জন্ম নিল ‘সীমানা’ নামক এক অদ্ভুত ভূত। যাযাবর যুগের সেই অবাধ মস্তানি থমকে গেল জমির সংকীর্ণ আলপথে; মানুষ ভাবল মাটি চাষ করে সে প্রকৃতিকে জিতছে, কিন্তু আসলে সে নিজেকেই এক-একটা ‘রাজনৈতিক খোপে’ বন্দি করে ফেলল। শুরু হলো ‘আমার জমি-তোমার জমি’র সেই আদিম ক্যাচাল, যা আজ আধুনিক রাষ্ট্রে এসে এক চূড়ান্ত ‘বেনাগরিক সার্কাসে’ পরিণত হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, মানুষ কাঁটাতার দিয়ে ... ...
মগজ বনাম মেশিন: এক যান্ত্রিক একনায়কতন্ত্র ও নাগরিকত্বের ডিজিটাল প্রহসনএকটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা যে সুস্থ গণতন্ত্রের প্রাথমিক শর্ত, সে কথা কেউ অস্বীকার করছে না। মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ভোটার কিংবা অস্তিত্বহীন ভোটারদের নাম সরিয়ে দিয়ে তালিকাটি পরিচ্ছন্ন করা নির্বাচন কমিশনের একটি আবশ্যিক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬-এর এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়াটি যে কারণে বিতর্কের মুখে পড়েছে, তা হলো এর যান্ত্রিক ও অমানবিক পদ্ধতি। রাষ্ট্র যখন মানুষকে কেবল একটি ‘ডিজিটাল ডেটা’ বা অ্যালগরিদমের বিন্দুতে রূপান্তর করে, তখন জন্ম নেয় এক ভয়াবহ অস্তিত্বের ... ...
সুরক্ষার বন্ধন ও প্রতীক্ষিত ইশারা: সমকালীন জনমতের এক নিবিড় ব্যবচ্ছেদনির্বাচনের ফল বেরোলেই একটা অদ্ভুত ছবি আমাদের চোখে ভাসে—হাজারো বিকল্প আর প্রার্থীর ভিড়েও দেখা যায়, এক অদৃশ্য জাদুবলে জনস্রোত একজনের বাক্সেই পাহাড়ের মতো জমা হচ্ছে। কেউ পাচ্ছেন পঞ্চাশটি ভোট, আর ঠিক তার পাশের জন হয়তো স্রেফ দুটো ভোট নিয়ে ধুঁকছেন। এই যে সংখ্যাতত্ত্বের আকাশ-পাতাল তফাৎ, এটা কি কেবলই প্রার্থীর জনপ্রিয়তা? নাকি এর গভীরে কাজ করে মানুষের এক জটিল মনস্তত্ত্ব আর ‘অস্তিত্ব রক্ষার আদিম প্রবৃত্তি’? এই প্রশ্নটি থেকেই জন্ম নেয় আজকের এই বিশ্লেষণ। ব্যক্তি কি একান্তই নিজের স্বাধীন ও যৌক্তিক বিচারবুদ্ধি দিয়ে তার প্রতিনিধি নির্বাচন করে, নাকি এক বিশাল অদৃশ্য জনস্রোতের টানে নিজের ... ...
মুখোশের মহোৎসব পাথরের চোখে জলের প্রত্যাশা, মিছে এই আয়োজন,যেখানে কসাই নিজেই সেজেছেব্যথার বিজ্ঞাপন।ত্যাগের বসনে লেগেছে গোপন লালসার গাঢ় দাগ,সেবার আড়ালে ফণা তুলে আছে কুটিল সর্প-রাগ।শহিদ রক্তে আলপনা দেয় যে বিষাক্ত হাত,তারাই সাজায় মঞ্চ এখন, জাগে সুবিধায় রাত।যারা লড়েছিল বিচার চেয়ে ওই কালবৈশাখী রাতে,তাদেরই স্বপ্ন আজ বিক্রি হয় ক্ষমতার ঐ-হাটে।আশ্রয়-বৃক্ষে লুকিয়ে ছিল যে অন্ধ মোহ-পাশ,বিশ্বাসে আজ ছোবল মারে—বিষাক্ত এক আশ।যারে ভেবেছি অটল পাহাড়, ন্যায়ের অতন্দ্র প্রহরী,সে-ও তো দেখি চোরাবালিতে—স্বার্থের জপমালা ধরি।বিচারপতির হাতুড়ি এখন হাততালি খোঁজে মঞ্চে,আদর্শ আজ ধুঁকছে কেবল স্বার্থপরতার দংশে।যাদের আমরা ভেবেছি ধ্রুবতারা, আঁকড়ে ধরেছি ত্রাণে,তারাই আজ গিরগিটি সম, মিশেছে সুবিধাবাদী গানে।এ এক শূন্য মাঠের খেলা, যেখানে রেফারিও বিক্রীত,বিবেক এখানে সস্তায় কেনা, সত্য আজ নির্বাসিত।মানুষ খুঁজছে মানুষকেই, কিন্তু পাচ্ছে কেবল ছায়া,রাজনীতির এই মরীচিকায় মিথ্যে মায়ার কায়া।দেউলিয়া সব তাসের ঘর, আজ সব ... ...
আস্থার অপমৃত্যুকল্পনাতে যখনই ওই কড়া হিসেবের হানাদারি,কষ্টেরা তখন কুঁড়ি মেলে দেয়, সুখের সাথে আড়ি। ভাবনারা সব ডানা ঝাপটায় বিষাক্ত খাঁচায় পড়ে,বিকিয়ে গিয়েছে বিশ্বাস আজ অর্থের থলি ভরে।বিত্তের রথে চড়েছে মানুষ, ধুলোয় মিশেছে প্রাণ,ভরসার হাটে পসরা সাজিয়ে নেমেছে অসম্মান।মানুষের কোনো মূল্য তো নেই, টাকাটাই বড় সত্য,আস্থার ঘাড় মটকে সেখানে মিটিমিটি হাসে ভৃত্য।পূর্ণিমা রাতে আলোর মুখোশেঅমাবস্যা দেয় হানাআলোর ভেতরে লুকিয়ে বসেছে অন্ধকারের ছানাবিবেকের ঘর পুড়ে ছাই হয় স্বার্থের এই রোষে,স্বপ্নরা সব ফ্যাকাশে হয়ে ঝড়ে অপরাধের দোষে। ... ...
হরমুজের জাঁতাকলে হ য ব র ল: বিবর্তনের এক ‘স্মার্ট’ প্রহসন বিবর্তনের চকমকি পাথর ঘষা সেই আদিম গুহামানব আজ বেঁচে থাকলে আমাদের এই ‘গ্যাস-সংকট’ দেখে নির্ঘাত শিউরে উঠতেন। চার্লস ডারউইন হয়তো তাঁর লম্বা দাড়ি চুলকে যোগ করতেন, "বিবর্তন মানে তো খাপ খাইয়ে নেওয়া! কিন্তু এই 'হোমো সেপিয়েন্স'রা তো বিবর্তিত হতে হতে উল্টো দিকে হাঁটা শুরু করেছে।" যে প্রজাতি একসময় বনের শুকনো ডাল দিয়ে আগুন জ্বেলে টিকে ছিল, তারা আজ পঁচিশ দিনের গ্যাস ডিলারের দোকানের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে বিলুপ্ত হওয়ার ভয়ে কাঁপছে। একে 'সার্ভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট' না বলে 'সার্ভাইভাল অফ দ্য বুকড' বলাই ভালো।এই চরম সংকটে সেন্টিনেলিজরাই আসলে বিবর্তনের আসল চ্যাম্পিয়ন। ... ...
তত্ত্ব বনাম তপ্ত জিলিপি...বাঙালির রঙিন জগাখিচুড়ি...পন্ডিতদের জন্য এক চিলতে আবির... আজকের এই দোল-পূর্ণিমা-গ্রহণ-মহাপ্রভু-গোপাল পূজা-রবীন্দ্রনাথের মহাজাগতিক বসন্ত উৎসবের ককটেলটি আসলে আমাদের তথাকথিত নাস্তিক আর শুষ্ক তাত্ত্বিক পণ্ডিতদের জন্য এক চরম দুঃস্বপ্ন। যখন কোনো মার্ক্সবাদী সমাজতত্ত্ববিদ চশমা ঠিক করতে করতে ল্যাপটপে টাইপ করেন—"ধর্ম হলো জনসাধারণের আফিম এবং দোল উৎসব হলো আসলে সামন্ততান্ত্রিক আধিপত্যের অবশেষ", ঠিক তখনই তাঁর জানলার বাইরে 'ওরে গৃহবাসী'-র রবীন্দ্র-সুর আর 'হরিবোল' ধ্বনি মিলেমিশে বাংলায় একাকার হয়ে তাঁর থিওরিকে সপাটে চড় মারে। আমাদের এই পণ্ডিতকুল যখন সেমিনারের এসি রুমে বসে ''সাবঅল্টার্ন কালচার" নিয়ে খাতা ভর্তি করেন, তখন রাঢ় বাংলার পিন্ডারের পলাশ বনে আগুন লেগে গেছে, আর সেই পলাশের রঙে রাঙা হয়ে ... ...