সকাল সাড়ে আটটা। কাঁচা রোদ লেগে আছে পিচের রাস্তায়। পাতলা কাঁচের আস্তরনের মতো। ফোটা দুধ আর উনুনের ধোঁয়ার গন্ধ রোজ একটা অদৃশ্য জাল বোনে এখানে। আটকে ফেলে আমাদের। ভাবির চায়ের দোকান। জীবনের ছোট ছোট টুকরোগুলো জড়ো হয় রোজ। আমি আর সোনালী। আমরা হাঁটছি। আমাদের হাত ছুঁয়ে যাচ্ছে একে অপরের হাতে। এই ছোট্ট হাঁটাটাই আমাদের ব্যায়াম… মনের…আমাদের দিনের শুরু। আমাদের নিজস্ব ছায়াপথ। দোকানে ভিড়। একটা ছোট্ট জটলা। ধোঁয়া ওঠা কেটলি।বাতাসে হালকা শব্দ। কোনো দাঁড়ি-কমা নেই। শুধু মিষ্টি কিছু শব্দ।ট্যাক্স কনসালট্যান্ট। আবার নাট্যকার। জিএসটি। রিটার্ন। ফাইল। কিন্তু কথা শুরু করলেই মনে হয় নাটকের ডায়লগ।বইপোকা। ঝুলো শার্ট আর সরু পাজামা। বিপ্লব। সিস্টেম পচে গেছে? নাঃ! শব্দজব্দে মুখ গুঁজে থাকে ... ...
“তুমি কি চালটা দেবে, নাকি সারারাত এভাবেই বসে থাকব আমরা?”লোকটার গলার স্বরে এমন কিছু একটা ছিল, যা আমার শিরদাঁড়া বেয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত নামিয়ে দিল। উল্টো দিকে বসা লোকটা হাসছে। সেই হাসিটা আমার চেনা। বড্ড চেনা। কিন্তু মনে করতে পারছি না কোথায় দেখেছি। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। জানালার কাঁচে বৃষ্টির জলের ঝাপটা এমন শব্দ করছে যেন কেউ নখ দিয়ে আঁচড়াচ্ছে কাঁচটা। ভেতরে আসার জন্য মরিয়া। টুর্নামেন্ট হলের এই ঘরটা বড্ড নিস্তব্ধ। অনেকটা মর্গের মতো। আমি দাবার বোর্ডের দিকে তাকালাম। সাধারণ প্লাস্টিকের ঘুঁটি। কিন্তু আমার কেন মনে হচ্ছে ওগুলো প্লাস্টিক নয়? আমার আঙুলগুলো কাঁপছে। ওগুলো ঘুঁটি নয়। ওগুলো চিতা। আমার নিজের হাতে দাহ করা সব ... ...
এতো রাগী জিনিকে কখনও দেখিনি। স্কুল থেকে ফিরে ছুঁড়ে ফেললো ব্যাগটাকে। ব্যাগটা ককিয়ে উঠে বললো "Jinny is upset". ইংরেজি পছন্দ করিনা তা নয় তবে...। "জিনির মন কেন খারাপ?""স্কুল থেকে প্রোজেক্ট দিয়েছে। কলকাতার রাস্তা নিয়ে গবেষণা করতে হবে। বন্ধুরা আগে ভাগে ভাগ করে নিয়েছে। কিছুই বাদ রাখেনি আমার জন্যে।"" পার্ক স্ট্রিট, বইপাড়া, কুমোরটুলি, বড়বাজার, ধর্মতলা... ""সব শেষ। কিছু বাকি নেই।""হুম্। তাহলে particular রাস্তা না নিয়ে থিম ভাব। যেমন কলেজ পাড়া, সাহেব পাড়া... "" সেও গেছে। "ঝুল বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। দৃষ্টিটা ঝাপসা হয়ে এলো। বুঝলাম সময় হয়েছে। কফি হাউস থেকে দুই যুবক প্রাণপণে দৌড়চ্ছে পাশের শ্যামাচরণের গলি ধরে। পেছনে মানুষরা দৌড়চ্ছে। খুন খুন ... ...
মা দিবস আজ। মা জন্ম দেয় শিশুকে। মা কী ঈশ্বরকেও জন্ম দেয়? রহস্যের সমাধানের আগে দেখি মা বলতে কী বুঝি আমরা? ম দিয়ে মাকে বোঝানো হয় নানান ভাষায়। ম মানে মিতকরণ বা পরিমিত করা। আর 'আ' হলো আধার। আমাদের অবস্থা যখন ছিলো ভ্রূণ অবস্থায় তখন আমাদের অবস্থা ছিলো ক্ষুদ্রতম বা পরিমিত। এই পরিমিত আমাকে ধারণ করেছিলেন ... ...
দিল্লি যখন গিয়েছিলাম তখন জামে মসজিদ ঘুরে তারই কাছে সারমাদ কাশানীর দরগায় গিয়েছিলাম। সারমাদ ছিলেন সুফি সাধক। রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের মতো তিনি নিজেকে লয়লা মনে করে মজনু রূপী আল্লাকে খুঁজতেন। মনে করতেন যন্ত্রের মতো কিছু রীতি না মেনে প্রেমের মাধ্যমে আল্লাকে পেতে হয়। আবার বলতেন 'লা ইলাহা' বা 'খোদা নেই' মানে আচারের মাঝে আল্লাকে পাবে না। নামাজ করা, হজ করা বা রোজা রাখা হলো স্থুল ... ...
পাখীদের নামের সাথে মানব সমাজের নানা ধরণের মানুষের মিল রয়েছে। নামগুলো মানুষ চরিত্র বোঝাতে ব্যবহার হতো। এ যেন মানুষের সমাজের প্রতিবিম্ব। চীল/চিল বলতে যে দেওয়া নেওয়ার সময় চিৎকার করে। ইংরেজীতে hawker শব্দটাও hawk থেকে এসেছে কারণ তারা চিৎকার করে জিনিস বিক্রি করে। । বাংলায় চিল্লানো মানে চিৎকার করা আর এটা চীল থেকে এসেছে। চীল চিৎকার মানে জোরে চেঁচানো। বেচাকেনার সময় খুব চিৎকার হয়। বাজারে গেলে তা মালুম চলে কারণ সকলেই একসাথে দরদাম করছে। পাইকারী বাজার বা নিলামেও খুব বোঝা যায়। এগুলো এক ধরণের যুদ্ধক্ষেত্র। এখানে রক্ত ঝরে না কেবল চিৎকার চলে। বিখ্যাত ভাষাবিদ কলিম খানের মতে সমাজে যারা চিৎকার করে কথা ... ...
কাক মানে কা কা করে যে পাখী। কা মানে কী কী করা। যেন বলছে কী আছে। কাককে বুঝতে হলে প্রাচীন সমাজ আর রীতিনীতি বুঝতে হবে। সে যুগে যজ্ঞ শেষে কাকের জন্যে সামান্য ভাগ রাখা হতো। গৃহস্থ মানুষ খাবারের অবশিষ্টাংশ কাকের জন্যে রাখতো। বিশেষ দিন ছিলো যেদিন কাকেদের উদ্দেশ্যে খাবার ঝোলানো হতো। শ্রাদ্ধে যে পিণ্ড মৃত আত্মার জন্যে রাখা হয় তা কাকেদের খাওয়ানো হয়। কাক যেন সেই মানুষের গোষ্ঠী যারা সকল অনুষ্ঠানে, দিনের শেষে কড়া নাড়ে আর বলে কী হয়েছে আজ। এদের অবশিষ্টাংশ দিয়ে বিদায় করা হয়। নইলে কাক চুরি করতেও সিদ্ধহস্ত। কলিম খান এক জায়গায় লিখেছেন গ্রাম বাংলায় এই মানুষদের ... ...
যার পক্ষ বা পাখা আছে সেই পক্ষী। পক্ষ মানে কী? প-য়ের ক্ষয় করে যে বা যার ক্ষয় হয়। প মানে পাওয়া, পালন। ক্ষয় করে বা ক্ষয় হয়। চাঁদের পক্ষ হয়। চাঁদ ক্ষয় হয় আবার পূরণও হয়। বর পক্ষ, কনে পক্ষ। বর গেলে কনের পূরণ আর কনে গেলে বরের। উভয় পক্ষ, বাদি পক্ষ, বিবাদি পক্ষ ইত্যাদিতে দুটি করে দিক আছে। একের ক্ষয় হলে অপরের লাভ হয়। পাখীরও দুটি ডানা বা পক্ষ। দুয়ের টানাপোড়েনে পাখী ওড়ে। পাখী এখানে বণিক শ্রেনীর প্রতীক। ক্রেতা আর বিক্রতার মাঝে দরাদরিতে ব্যবসা চলে। এতে এক পক্ষের অর্থ ক্ষয় হয় আর পণ্য লাভ হয় অপরের অর্থলাভ আর পণ্য ক্ষয় ... ...
নিমি ছিলেন রাজা। একবার তিনি যজ্ঞ করবেন বলে মনস্থ করলেন। যজ্ঞ মানে আদান প্রদান। কেউ কিছু দেবে আর তার বদলে কিছু পাবে। সাধারণ অর্থে ব্যবসা। ব্যবসায় লাগে দালাল। দালাল দুই পক্ষকে মেলায়। পুরোহিত হলো সেই দালাল। পুরের হিত করে যে। পুর মানে নগর বা পুর বা উৎপাদিত দ্রব্য। খাবারে তৈরী করা পুর পোরা হয়। পুরুষ তার দেহের পুর (বীর্য) স্থাপন করে নারী দেহে। নিমি তার পুরোহিত ঠিক করেছিলো বশিষ্ঠমুনিকে। মুনি হলো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ন ( বঙ্গীয় শব্দকোষ মতে) হলো বিত্ত আর ম হলো মিত বা ক্ষুদ্র ভাব। ছোট পুঁজিপতি মুনি দুই পক্ষকে ( পুঁজিপতি আর উৎপাদককে) মিলিয়ে দিয়ে সফল ব্যবসা ... ...
ব্রহ্মার অশ্রু থেকে জন্ম হলো এক বানরের। ঋক্ষরাজ। বনের ভেতরে আনন্দেই ছিলো সে। একবার মানস সরোবরের তীরে শরীরচর্চা করছিলো ঋক্ষরাজ। সরোবরের জলে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে চমকে উঠলো সে। এ কে? শত্রু না মিত্র? ঝাঁপিয়ে পড়লো জলে। জল থেকে যখন সে উঠলো তখন সে আর বানর নয়। সে তখন সুন্দরী এক নারী। এতো সুন্দরী সে যে দেবরাজ ইন্দ্র আর সূর্য কামনায় পাগল হয়ে উঠলো। ইন্দ্রের বীর্য গিয়ে পড়লো সুন্দরীর চুলে বা বালে। জন্ম নিলো বালী। আর সূর্যের বীর্য পড়লো সুন্দরীর গ্রীবায়। জন্ম নিলো সুগ্রীব। ঋক্ষরাজ কে? ঋক্ষ মানে ভল্লুক। ঋক্ষ মানে সপ্তর্ষি। দক্ষের ছিলো বহু কন্যা। দক্ষ নানা গোষ্ঠীর জন্ম দিয়েছিলো। তারা ... ...