প্রিয় সায়নদাদা,
রাধিকাকীর্তন থেকে সম্প্রতি করবিকুসুমে এসে পৌঁছলাম . তোমার চোখে কলকাতা , নীল রঙ, শীত আর লেভেল ক্রসিং এর ছবি দেখে মনে করলাম তোমায় চিঠি লিখবো . ওই যে তুমি বলেছো, পাঠকের মনের তন্ত্রী সুর মিলিয়ে বাজলে তবেই কবিতার সার্থকতা . সেটি বোধহয় " চৌষট্টি ফৈজত সার্থক হয়েছে . তবে আমার তো চোখের ব্যামো আর সেই সঙ্গে মাথারও ব্যামো . আমি "রাধিকা সংবাদ " পড়ার সময় প্রতি পাতায় প্রতি কবিতায় মোটা অক্ষরে ছাপানো একটি করে লাইন দেখতে পেয়েছি . সেই লাইনগুলো এক দুপুরে বসে বসে সব কুড়িয়েছি . সেই সব লাইনগুলো নিয়ে পার্মুটেশন কম্বিনেশন খেলতে খেলতে দেখি জন্মে গেলো নতুন কবিতা . তাদের নামকরণ করে ফেললাম . " রাধিকা সংবাদ " আমার সত্যিই বড় ভালো লেগেছে .
সায়নদাদা তুমি রাগ করোনা . হয়তো খুব ভুল করে ফেলেছি .
ইতি
তানিয়া
যাপন
টিকে থাকা তিরিশের ঘরে, কোনোমতে টিকে যাওয়া পুতিগন্ধ
আর একটু সময় শুধু, ধুলোমাখা পায়ে ফেরা যেত ঘরে .
হঠাৎ তুমুল কড়ানাড়া বসন্ত অবসানে সোনা রূপা নহে .
জমেছে ধুলো কাজের টেবিলে চোখের ওষুধে
জ্বরের ট্যাবলেটের পাতায় .
মানুষের চলা যেন ছোট বড় পাথরের নীচে চাপা ফ্যাকাসে
পরিযায়ী কবিতার লাইন, দোপাটির নরম গোলাপী
এমনকি ক্ষয়ে যাওয়া কি যেন তিথির চাঁদ
সুবচনী, হলুদ পাতারা, আর হে বঙ্গ, নদীতীরে কাশ
নিঙাড়িয়া নীল এই নির্দায় খুব বহুরূপি
নুড়ি পাথরের শব্দ থেমে গেলে হল্লাপোকা
এসব কিছুই নেই শুধু গুটিগুটি বেঁচে থাকি .
উদাসীন
দিনে দিন আলোর প্রতি কৃপণমুঠি
ধ্রুপদী, তবু শাস্ত্র মতো নয়
ধূলায় লোটে সেতার, স্বরলিপি
মাঠের বাওয়াল কলের খেউড় রোলের দোকান জমজমাটি
রেলগাড়িটা দিনের মধ্যে দুয়েকবারই ঘাই মেরে যায়
পার করে দেয় বিশ্রামাগার, রেলের স্টেশন রিক্সাভাড়া
আর কি হবে দিন তো গেল পার করে দাও লেভেল ক্রসিং
একটা নিছক একলা বাড়ি, রেলস্টেশনের এপার ওপার
আমরা কেবল নদীর ধারে বিষণ্ন আর জলের খেলা
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।