এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • এস আই আরের দিন

    Somnath লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ২০ বার পঠিত
  • কী বেয়াক্কেলে ঝামেলা! আর কারুর কোনও প্রবলেম হল না, আমারই নামের বানান নিয়ে কেস খেলাম। ভোটার কার্ডে তো বাংলায় লেখা শান্তনু বোস, যখন ভোটার হয়েছিল মনে হয় বাংলাতেই সব ফর্ম ফিল-আপ হয়েছিল। আমি চিরকাল ইংরিজি বানানে এস এ এন টি এ আন ইউ লিখি, এস-এইচ না। আধার, পাসপোর্ট, সার্টিফিকেট সর্বত্রই তাই। আর এই মালেরা কী কোড চালিয়েছে কে জানে, সিস্টেমে নাম উঠেছে এস এইচ দিয়ে। ফলে আধার-ভোটার মিসম্যাচ। অনলাইন এস আই আর ফর্ম ফিল-আপ করতে পারলাম না। বাড়ির সকলের করে দিলাম, ছেলেরটা বাদে অবশ্য, ওর এখন বারো। আমার নিজেরটাই হল না। ফলে কলকাতা গিয়ে পাড়ার বি এল ও-র থেকে ফর্ম নিয়ে হাতে হাতে করতে হবে।

    সময়টা খুব কঠিন এখন। মানে, সময় বের করা কঠিন- অফিসের কাজকম্মের যা অবস্থা। যাই হোক, মেয়েটার নাম সঞ্চারী, মানে যে বি এল ও আর কি। বলল পাড়ারই মেয়ে, বারাসতের একটা স্কুলে পড়ায়। আমি অবশ্য চিনতে পারলাম না। চাকরির সূত্রে এই বাড়ি ছেড়েছি নয় নয় করে প্রায় কুড়ি বছর হল তো। এরা তখন এত বাচ্চা ছিল যে ধর্তব্যেই আসত না। আবার এমনও হতে পারে, অন্যত্র থাকত। এখানে পরে এসেছে। বিয়ে-টিয়ে করেও হতে পারে। যাক-গে পাড়াটাই তো পালটে গেল, আমাদের বাড়িও তো ফ্ল্যাট। শুধু পার্মানেন্ট অ্যাড্রেস পালটানো হয়নি। প্রুফ হিসেবে ওই ভোটারটাই এই ঠিকানার আছে। সেই নিয়েই ঝামেলা। প্রচুর চাপ নিয়ে এই একটা দিন বের করেছি। সকালের ফ্লাইট নিয়ে এসেছি, আজকেই সব কাজ সেরে ফিরে যেতে হবে। মাঝরাতের একটা ডাইরেক্ট ফ্লাইট আছে পুনের, ওইটা নিলাম। আশা করি অনেকটা সময় থাকবে হাতে। আজকাল অতিরিক্ত চাপ নিতে চাপ হয়। মেয়েটা বলেছে বেশি সময় লাগবে না। নেমে ওকে ফোন করতে।

    ফ্লাইট ডিলে-ফিলে করে এয়ারপোর্ট থেকে বেরোলাম প্রায় এগারোটা। মহিলার ফোন বেজে গেল। উবের নিই, ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়ি। তারপর দেখব কোথায় আছেন তিনি। যাক ট্যাক্সিতে উঠে পেলাম-
    'সঞ্চারী ম্যাম, আমি শান্তনু বোস বলছি। আমি এখানে থাকি না, এস আই আর নিয়ে আপনাকে ফোন করেছিলাম'
    'হ্যাঁ স্যার, বুঝতে পেরেছি। আপনার ফর্ম আমি সরিয়েই রেখেছি। কবে আসছেন? আচ্ছা আপনি অনলাইন করলেন না কেন? আমাদেরও তো সুবিধে হত তাতে।'
    'ম্যাম, আপনাকে বলেছিলাম, আধার-ভোটার মিসম্যাচ'
    'এই রে! সে তো আবার অন্য ফর্ম ফিল আপ করতে হবে। সেগুলো তো এখন করছি না।'
    'কিন্তু, আপনি তো বলেছিলেন হয়ে যাবে। আমার আধার আর ভোটার লিস্টে এক আছে, অনলাইন স্পেলিং ইস্যু দেখাচ্ছে। আমি তো ম্যাডাম চলে এসেছি কলকাতায় শুধু এটা করব বলেই। আপনি তো বললেন।'
    'ওহ, হ্যাঁ হ্যাঁ। এটা সিম্পল। আপনি তাহলে এখন অগ্রণী ক্লাবে চলে আসুন। আমি ওখানে বসে কাজ করছি।'
    'ম্যাডাম, আমি এইমাত্র ট্যাক্সিতে উঠলাম, এয়ারপোর্ট থেকে। সোদপুর পৌঁছতে আরও মিনিট চল্লিশ লাগবে।'
    'কী ঝামেলা বলুন তো! আচ্ছা, আপনি নেমে আমাকে ফোন করবেন। আমি ভাবছিলাম বারোটার মধ্যে গুটিয়ে নেব। ঠিক আছে, ফোন করুন এখানে পৌঁছে।'

    যাক, বেশি বেগড়বাই করেনি। এত চাপ নিয়ে এসে কাজটা না হলে বিচ্ছিরি হত। যাক গে, একদিকে ভালো, ফ্ল্যাটটাতে অনেকদিন ঢোকা হয়নি। মেনটেনেন্সের কী অবস্থা কে জানে, দেখে নেওয়া যাবে। অফিসের দিনে কাউকে তো আর পাব না। আর আছেই বা কে সেরকম!

    তন্দ্রামতন এসে গিয়েছিল। ক্যাবওলার কথায় ঘুম ভাঙল। মেনরোডের ওপর দাঁড়িয়ে, স্যার এখানেই তো এন্ড দেখাচ্ছে। খেয়ালও করিনি ঠিকানাটা কী দিয়েছিলাম। যাক গে, নেমে যাই এখানেই। ফোন করি-
    একবারেই ফোন তুলল- 'স্যার, আমি একটা বাড়িতে এসেছি, বয়স্ক মহিলা, প্রায় বেডরিডেন। একা থাকেন আয়া নিয়ে। ওনাকে করিয়ে দিতে হবে তাই এলাম এখানে'
    'তাহলে আমারটা কখন দেখবেন।'
    'আপনি একটা কাজ করুন না স্যার, এইখানেই চলে আসুন। ঘরের মধ্যে বসে করে নেওয়া যাবে। আমাদেরও যেরকম যাচ্ছে না।'
    'জায়গাটা কোথায়? অগ্রণী ক্লাবের দিকেই?'
    'না না, ওদিকে না। আপনি ভোমলার মোড় থেকে বাঁদিকে ঘুরবেন, আচ্ছা আমি লোকেশনটা শেয়ার করছি।'
    'খেলার মাঠের দিকটা?'
    'কোন খেলার মাঠ? আপনি দাঁড়ান, লোকেশন পাঠাচ্ছি। আমার হোয়াটস অ্যাপটা অন্য নাম্বার কিন্তু-'
    'ওকে।'
     
    এসেছে লোকেশন। এইটা ভালো, ম্যাপ দেখতে দেখতে চলে যাব। ঠিকই, ভোমলার মোড়টা থেকে বাঁদিকে। আমাদের খেলার মাঠ ছিল। কতদিন পরে ঐ রাস্তায় যাব? পঁচিশ-তিরিশ বছর না চল্লিশ?
     
    বাজার গোটানোর সময় হয়ে গিয়েছে। সবজিওলারা প্লাস্টিক ঝাড়ছে। মাছওলা কাঁটাকুটো গুটিয়ে নিচ্ছে- ছবিগুলো বদলায়নি। ফুটপাতে পাশে ছোট্ট দোকানে খই মুড়ি চানাচুর, নকুলদানায় পিঁপড়ের… নাঃ, সেইসব দোকান নেই আর, মোড় হয়েছে এইখানে। মধুর মোড়ে চায়ের দোকান নেই অনেকদিন। বেঞ্চিটা দেখছি এখনও থেকে গেছে। আগে খেয়াল করিনি, আজকে কেমন নস্টালজিক লাগছে।
     
    আমার পেশা ইমোশন এনালিসিস করা। সে অবশ্য আমরা অ্যালগোরিদম রান করে করি, কিন্তু পেশার গৌরবে নিজেকে মাঝে মাঝে মনঃসমীক্ষক বানিয়ে নিই, পেশেন্ট নিজেই। ভাবি যখন যেরকমটা মনে হচ্ছে, সেইটা কেন হচ্ছে। আজ যেমন বুঝছি, এরকম অফিস-ডের দুপুরে এই অঞ্চলে গত একদশকে আসিনি, তাও একা আসা- ঘরে ঢুকেই অন্যত্র যেতে হবে এরকম কাজ ছাড়াই আসা। ফলে, পুরোনো সময়ের ছায়াটা দীর্ঘতর লাগছে।
     
    ভোমলার মোড় থেকে বাঁদিকে, এ কোন ল্যাবাইরিন্থ রে বাবা! সেই মাঠ, পুকুর, লেদ-এর কারখানা কিচ্ছু তো দেখতে পাচ্ছি না। শুধু সরু সরু গলি আর তার দুদিকে উঁচু উঁচু ফ্ল্যাট। রবীন্দ্রনাথ এখানে কক্ষনো আসেন নি! আমিই বা কি এসেছি নাকি? এই সব রাস্তা এখানে কখন গজিয়েছে জানিই না। একটা ফ্যাকট্রি ছিল, সেইটার পাশে পানাপুকুর, প্রচুর মশা হতো। পুকুর ছেড়ে আরেকটু এগিয়ে গেলে একটা ছোটো মতন মাঠ। বড়ো ছয় মারলে বল এসে পড়ত পুকুরে। কেউ একটা প্যান্ট নামিয়ে নারকোল লগি দিয়ে বল তুলত। আমি ওইসব পারতাম না বলে আমাকে একটু হেয় করেই দেখা হত। আমি পারতাম রেজাল্ট করতে। সেইসব তাহলে হারিয়ে গেল, শুধু রেজাল্টটাই পড়ে থাকল! আমি সত্যিই চিনতে পারছি না। আমাদের মতন আর সকলেই বাড়ি প্রোমোটিং-এ দিয়ে দিয়েছে। বাড়িগুলো মরে গেছে, ফ্ল্যাট উঠেছে। পুকুর-টুকুরও মনে হয় মরে গিয়েছে। কারখানাটাও নেই- ম্যাপে দেখাচ্ছে বেশি দূর না, ৪০০ মিটার। আমি অন্ধের আন্দাজে এগোচ্ছি এই পুরোনো পাড়ার রাস্তা দিয়ে। ফ্ল্যাটগুলোর নীচে বিভিন্ন দোকান, জিনিসপত্রের নয়, সার্ভিসের। এইসব কনসাল্টেন্সি সার্ভিস আর অর্ডার প্রসেসিং-এর খদ্দের এ-পাড়ায় আছে? নাকি বাইরের থেকে আসে, এই ল্যাবাইরিন্থ বেয়ে গুগল ম্যাপ মেপে। সরু গলি, উঁচু উঁচু বাড়িতে আলো আটকে আসে, আমি পাঁচিল থেকে পাঁচিলে ঠোক্কর খেতে খেতে এগিয়ে চলি। গলিগুলো যেখানে ভাগ হচ্ছে, চিনতে পারিই না কোনটা কোন দিকে গেছে- ম্যাপের নীল দাগ ধরে এগিয়ে যাই।
     
    কাছাকাছি এসেছি মনে হচ্ছে। আচ্ছা, এখনও তাহলে একটা অন্তত পুরোনো বাড়ি টিকে আছে! এইটাই তো ডেস্টিনেশন দেখাচ্ছে। একতলা রঙে ছোপ লাগা বাড়ি, ছাদের ওপর ঘর। কুড়ি-পঁচিশ-তিরিশ বছরের বিস্মরণ ঠেলে কিছু একটা মাথায় আসছে। মানুষ কীভাবে ভাবে, যখন আচমকা একটা দরজা খুলে যায়? দরজার ওপাশে নতুন ঘর- খুব বড়ো আর আলোময় লাগে যখন। আলোর মধ্যে কি ফুলের কুচি উড়তে থাকে? এরকম অনেকের অভিজ্ঞতা, যদি সোশাল মিডিয়া পোস্ট থেকে, আর্টিকেলের নীচের কমেন্ট বক্স থেকে আমরা তুলে নিতে পারি, তার ক্লাসিফিকেশন কী হবে? কতখানি নয়েজ থাকবে সেই প্রেডিকশনে? পাঁচিলে গ্রিলের দরজার গেট, খুলে ঢুকি- আমার মনে পড়ছে বাঁদিকে একটা তুলসী্র ঝাড় থাকার কথা। নাঃ, সেটা আর নেই, কিছু শুকনো জঞ্জাল জমে আছে। ধুলো ধুলো কোলাপসিবল গেট, বন্ধ হয়ে থাকা কাঠের জানলা। এইটা মনে হয় সেই বাড়িটা নয়, দুম করে যেটার কথা ভাবলাম- শিউলি দি-দের বাড়ি, নাঃ অন্যদিকে ছিল মনে হয়। কলিং-বেল টিপলাম, পায়ের আওয়াজ, বাড়ির বাঁদিকে নামফলকটায় চোখ পড়ল- সোম ভিলা! এবার সত্যিই সেই দরজা খুলে যাচ্ছে!
    একটা ছোটোখাটো চেহারার সালোয়ার কামিজ পড়া মেয়ে বেরিয়ে এল।
    ‘আমি সঞ্চারী, স্যার, ভেতরে আসুন। এখানে এসে একটু আটকেই গিয়েছি। দিদা একা থাকেন, আমাকে পেয়ে অনেক কিছু বলেই চলেছেন।‘
    ‘আ-আমার কাজটা এখন হবে তো।‘
    ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ। আপনি এলেন ভালোই হল। ওনাকেও একটু সামলে নিই। আপনার কাজটার কথা বলে জলদি জলদি করে নেব।‘
     
    আমাকে বাইরের ঘরের সোফায় বসিয়ে ঢুকে গেল মেয়েটা। বাড়ি ঘরের চেহারা বেশ কিছুটা পাল্টেছে এতদিন পরে। অযত্নের ছাপও বহুল। অন্ধকার হয়ে আছে বসার ঘরটা। জানলা টানলাগুলো খোলা হয় না সেভাবে। ড্যাম্প লাগার গন্ধ। কে এই দিদা? শিউলিদি-র ঠাকুমা-দিদা কাউকে তো এখানে থাকতে দেখিনি। হয়তো অন্য কোনও পরিবার থাকে এখানে। শিউলিদি আমার থেকে চার বছরের বড়ো ছিল। পড়াশুনোয় খুব ভালো, তবে আর্টসের। শিউলিদির বাবা ছিলেন আমার জেঠুর সহকর্মী, ব্যাঙ্কে। ছোটোবেলায় একসঙ্গে ফাংশন টাংশন করেছি, ওই অগ্রণী সঙ্ঘেই। তবে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে যখন আমি মাধ্যমিক দিলাম। ইংরিজিতে পড়াশুনো করব ঠিক করলাম জয়েন্ট আই আই টি দেব বলে। এদিকে সিক্স থেকে ইংলিশ। লার্নিং ইংলিশের অবস্থা তথৈবচ। জেঠু বললেন, শৈবালকে বলেছি, ওর মেয়ের ল্যাংগুয়েজ খুব স্ট্রং। দু-একদিন দেখে এসো কীভাবে কী লিখতে হবে। দুম করে মিডিয়াম চেঞ্জ করো না। বুঝে নিয়ে করো। -সে এক অদ্ভুত সময় এসে গেল। আমি বলতাম, সায়েন্সের কথা- মানে সায়েন্টিস্টদের জীবনী আর সায়েন্স ফিকশন। শিউলিদি বলত ইংরিজি সাহিত্যের গল্প, ইংরিজি ছাড়িয়ে স্প্যানিশ, ফরাসি লেখকদের কথা। - ফলে, যা হল। অন্ততঃ আমার দিক থেকে, ঘুঁটিরও সেই প্রথম মরণ!
     
    ‘স্যার, একটু ভেতরে আসবেন? দিদা এবার আপনাকে ধরবেন।‘ মেয়েটা চোখ নাচিয়ে বলল- ‘আমার মনে হয় আজ আর খাওয়া টাওয়া হবে না। তাও ভালো পার্টির লোকেরা আজ গায়ে সেঁটে নেই।।
    ‘মানে, বি এল এ? ওরাও তো এই পাড়ারই হবে। এই সঞ্চারী, তুমিও তো এখানকারই বললে। আমি আসলে কাউকেই আর চিনতে পারি না। হোপ ইউ ডোন্ট মাইন্ড, তুমি করে বলায়।
    ‘না না, আপনি অনেক সিনিয়র হবেন। আমার আসলে বাপের বাড়ি এখানে। এমনিতে আমি নিউটাউনে থাকি। তালেগোলে এইখানে বিএলও পেয়ে গেলাম, সুবিধেই হল। আমরা ফ্ল্যাট কিনে এসেছি তাও পনের বছর হল।‘
    ‘ওহ, তাহলে আমার চেনার কোনও সিনই নেই। যাক গে, তোমাদের তো খুবই ধকল যাচ্ছে। চল ভেতরে গিয়ে দেখি। বুড়ো লোকেদের আজকাল অনেক খাঁই।‘
    ভেতরে প্রায় বিছানার সঙ্গে মিশে যাওয়া যে বৃদ্ধাকে দেখলাম, রঙচটা নাইটি পরে শুয়ে আছেন, উনি যে শিউলিদি-র মা-ই, তা প্রত্যয় হলেও বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। সকলই ফুরায় ফুচকার প্রায়, পড়ে থাকে শালপাতা। আমাদের মায়েরা এখন দিদা হয়ে গেছে তো! দরজার শেষে ঘরের মধ্যে আলোয় এত ধুলোকণা যে মুখচোখ ঢেকে বসতে হচ্ছে। ভদ্রমহিলা হাত জোট করে নমস্কার করলেন। আমি কোনও প্রাচীন অভ্যাস বশতঃ পা ছুঁলাম।
    ‘আরে কী করেন? আপনি কে বুঝতে পারছি না আর। এই মেয়েকে বললাম, বাইরে বসাবে কেন- ভেতরেই বসুক। বাড়িতে তো আমি আর আমার দু-বেলার আয়ারা ছাড়া ফোর্থ পার্সন আসে না। তাও নতুন কারুর মুখ দেখলে ভালো লাগে।‘
    ‘কাকিমা, আমি শান্তনু, মনে করতে পারবেন? এই বাড়িতে অনেক এসেছি। শিউলিদি-র কাছে পড়তে আসতাম।‘
    ‘মিন্তির কাছে? মিন্তি আবার কবে টিউশন করত? আপনি- তুমি এই উত্তরপল্লীতেই থাকতে?’
    ‘আপনি চিনবেন, কাকু আমার জেঠুর কলিগ ছিলেন- অজয় বোস, আমার বাবা বিজয়’
    ‘ও- বুঝেছি, বুঝেছি। তোমরা এত বড়ো হয়ে গেছ, আমরাও সব ভুলে যাচ্ছি। বিজয়- না- অজয়দা, মারা গেছেন তো তাই না? তোমার বাবা বেঁচে?’
    ‘হ্যাঁ, জেঠু-জেঠিমা কেউ নেই আর। বাবা-মা আমার পুনেতে আমার কাছেই’
    ‘অনেকদিন তো তোমাদের কারুর সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ হয় না।, তোমার এই কাকুও মারা গেল, তাও অনেকদিন। আমার অবস্থা তো দেখছই বাবা। বিছানাতে পড়ে। আয়ারা এসে দেখে যেটুকু। কোমর ভাঙল, বল টল বসিয়ে দিল। কিন্তু, আর বাবা উঠতে পারি না। এই শুয়ে শুয়েই থাকি। ঐ বাথরুমটা একবার ধরে ধরে নিয়ে যায়। এ বাড়ি থেকে আর আমার বেরনো হবে না বাবা-।
    ‘শিউলিদি মানে মিন্তি-‘
    ‘আছে, সে আছে। আমাকে বলল তুমি তো গিয়ে আর ভোট দিতে পারবে না। তোমার এইসব ফর্মটর্মের কী দরকার। আরে আমিও টিভি দেখি। আমার বাবা কুমিল্লার লোক, মায়ে ছিল ফরিদপুর। এইসব ফর্ম ফিল আপ করতে ভুলে গেলে, আমাদের বিপদ- কী বলো মেয়ে? আমি মেয়েকে বলি, এইসব সামলে রাখতে। বাপে কাকায় অনেক মুশকিল পুইয়েছে। অবশ্য আমাকে বাংলাদেশে পাঠালে, তোর তো ভালো, ঝেড়ে ফেলতে পারবি এ ঝামেলা’
    ‘কাকিমা, ওরকম ভয়ের কিছু নেই। এস আই আরে নাম তুলে নিচ্ছেন সে ভালো। তবে টিভি ফিভিতে যত ভয় দেখাচ্ছে নেতারা, ওরকম নয়।‘
    ‘স্যার, আমিও দিদাকে বলছিলাম, না হয় নাই বা করলেন। নয়তো পরের রাউন্ডে কারেকশনের সময় করে দেব। কিন্তু উনি করবেনই! ঝামেলা তো আমার।‘
    ‘হ্যাঁ মা, তোমাদের ঝামেলা, আমার মেয়ের ঝামেলা, মোদি মমতা সারা দেশের ঝামেলা আমাদের নিয়ে’
    ‘আচ্ছা, ফর্মটা শেষ করি, তারপর স্যারেরটাও করতে হবে। কিন্তু, আপনার ছবিগুলো হবে না তো। এগুলোর যা অবস্থা স্ক্যান করলে কী আসবে?’
    ‘দেখো, তাহলে? তুমি করবে না আমার কাজটা’
    ‘দেখুন শুধু আপনার ফর্মটা আলাদা করে করব বলে অন্য কোনও কাজ না রেখে এ-বাড়ি এসেছি। আপনার কাছে আর ছবি নেই? নাহলে ছবি বাদ দিয়ে ফিল আপ করুন। আমি এজেন্টদের বলব এসে বাকিটা করিয়ে নিয়ে যেতে। নাহলে দেখুন না, ছবি আর আছে কি না?’
    ‘ওহ, দাঁড়াও। আমি তো উঠতে পারি না। এই মীনা, মীনা- আয়া মেয়েটা কোথায় গেল? ফাইলগুলো নিয়ে আসলে ছবি পাব’
    ‘দিদা, আমাকে বলুন কোথায় আছে, খুঁজে দেখি’
    ‘তুমি কি পারবে, মেয়ে? ওই যে সিঁড়ির পরের ঘরটা, ওখানে দেখবে আলমারি- না বুকশেলফ। ওখানে একটা লাল ফাইল আছে। একটাই, ওতে সব কাগজ টাগজ থাকে।‘
    আমি মুখ খুললাম এবার-
    ‘কাকিমা, আমি দেখব? আমি বাড়িটা চিনি তো। বুঝতে পারছি-‘
    ‘তুমি? আচ্ছা যাও’
     
    ধুলোধুলো পর্দা সরিয়ে অন্ধকার প্যাসেজে ঢুকলাম। বাথরুমটা বন্ধ, ভেতরে জলের শব্দ। বাঁদিকের ঘরটায় সাদা-কালো টিভি ছিল আগে, ছোটো টিভি, মনে হয় ওখানে দেওয়ালে কাকুর ছবি। তারপর একদিকে সিঁড়ি,আরেকদিকে রান্নাঘর। শেষের ঘরটা। শিউলিদির ঘর ছিল এটা। ক্রিম কালারের দরজা বন্ধ, ঘরের। দরজা ঠেলে ঢুকলে আবার সেই সব কিছু বড় করা আলো আসবে। হঠাৎ দরজা খুললে ভিন্নঘরে আসলে সেই যেরকম আলো আসে। সেই আলো দেখার দুরুদুরু বক্ষে দরজা খুললাম। জানলা বন্ধ বলে অন্ধকার। কাঠের ফ্রেমের জানলা, গরাদ ধরে দাঁড়িয়ে পেছনের জলা জমি দেখা যেত। অনেকটা টানা জমি, তার ওপারে রেললাইন, ছোটো ছোটো বস্তির বাড়ি। সেই বাড়িগুলোর ওপরে আমরা একদিন পূর্ণিমার চাঁদ দেখেছিলাম। আলোটা জ্বালাই, দপদপ করছে। ডানদিকে জানলার পাশে বুকশেলফ, আগেও এরকম ছিল। একটা নোটের খাতা টেনে নিই, ওপরে নাম লেখা, শেফালিকা সোম। এই ঘর যেন কতদিন ধরে দেখে চলা স্বপ্নের থেকে উঠে এসেছে। এই খোলা জানলার সামনে মুখ নেমে এসেছিল শিউলিদির চুলের ওপর। সেই ঘ্রাণ—
    টিউবটা এবার নিভেই গেল, মেনটেনেন্সের অভাবের ছাপ সর্বত্র। জানলা খুলি বরং। আলো আসছে, কী কী দেখা যায় এখান থেকে। সেই ল্যান্ডস্কেপ বুঝি সম্পূর্ণই পালটে গেছে এই দীর্ঘ অদর্শনের পর।
     
    ‘কীরে, শান্ত- এখন শান্ত না অশান্ত?’
    ‘শিউলিদি!!! তুমি? তুমি এখানে আছ এখন? সত্যি- ধ্যাত। তা কী করে হয়?’
    ‘মানে? আমার বাড়ি, আমি অন্য কোথায় থাকব রে?’
    ‘না, এই সময়ে থাকবে ভাবিনি?’
    ‘ওই সময়েও ছিলাম আর এই সময়েও আছি। এনি প্রবলেম হ্যায়? ঘাবড়ে গেলি? তুইই তো মাঝের সময়ে ছিলি না রে’
    ‘মাঝের সময়ে কি আমার থাকার দরকার ছিল?’
    ‘দ্যাটস পয়েন্ট, ভাববার। কিন্তু, তুই আছিস কেমন বল? বড়ো চাকরি করিস নিশ্চয়ই। বিয়ে করেছিস? আমার কাছে খবর টবর পৌঁছয় নি।‘
    ‘তুমি?’
    ‘ওই যা যা হয়। জানলা খুলে কী দেখছিলি?’
    ‘ওই আর কী, আলো আসছিল না। দেখবই বা কী বলো? সবই তো পালটে গেছে?’
    ‘ধুর, সব কেন পাল্টাবে? ওই দেখ না- আয় এদিকে- ওই যে মাঠটা, বুনো বুনো গাছের ঝোপ, বেথুয়া শাক হয় ওখানে- তারপর খালপাড়, রেললাইন। বস্তির মধ্যে দিয়ে শর্টকাট নিয়ে ফিরতাম আমরা। দেখছিস সব একই রকম। ওই দেখ দুটো কাঠবেড়ালি, একটা আরেকটার পেছনে দৌড়চ্ছে।‘
    আমি দেখছি, দুপুরের আলো গাছে মাটিতে রিফ্লেক্টেড হয়ে ঠিকরে লাগছে শিউলিদির গালে, চুলে। তার পাশ দিয়ে ফাঁকা পরিসর। এই পরিস্থিতিতে রিয়েল না। বাস্তব নয়, বা অন্য কোনও বাস্তব।
    ‘শিউলিদি-‘
    ‘বল।‘
    ‘এইখানেই সব থেমে গিয়েছিল তাই না। তারপর আর যা যা হয়েছে- সেদিন তো এগুলো ছিল না- ভাবনাতেও। এসব কি চেয়েছি? না অন্য কিছু?’
    ‘তুই সায়েন্স ফিকশন বলতি না? অ্যাসিমভ, লেম- তুই তাহলে নিজেই এখন ফিকশনে তাই না?’
    ‘আর তুমি? তুমি বুড়ো হওনি শিউলিদি?’
    ‘বালাই ষাট! বুড়ো কেন হব? বড়ো হয়েছি- হইনি?’
    ‘আমিও বড়ো হলাম। শুধু তোমার কথা ভাবতাম একসময়ে, সিরিয়াসলি-‘
    ‘বাব্বা!’
    ‘হ্যাঁ, এই গলিটা দিয়ে কতবার ঘুরে গেছি, এক্সট্রা এক্সট্রা ঘুরে গেছি, কলেজ যাওয়ার সময়ে কিম্বা আর অন্য কোথাও যাওয়ার সময়ে, যদি তুমি দেখো, যদি তোমাকে দেখি’
    ‘বোঝ, কী দেখতাম আমি?’
    ‘আমাকে, আমার তখন সদ্য হালকা ওঠা দাড়ি, সবুজ ঘাসের আভা, আমার নতুন চশমা- বাজিগর ফ্রেম, বা ক-বছর পরে চুলটা সলমনের মতন উলটো করে আঁচড়াই- কত দেখা ছিল’
    ‘বাব্বা! কী নার্সিসাস!’
    ‘এইসব করতে করতে একদিন হঠাৎ দেখি, অন্য ছবি, অন্য গল্প, অন্য বইখাতা। তুমি আর নেই।‘
    শিউলিদির কাছে ঘন হয়ে দাঁড়াতে ইচ্ছে করছে আমার। জানলার গরাদে রাখা ওর হাত, আমি যদি ধরে নিই, আবার--- নিশ্চিত জানি ওই হাতে কফিনের ঠান্ডা বাতাস থমকে আছে।
    ‘শান্ত, সব কিছু কিন্তু অন্যরকম হয় না। আমার জানলায় দাঁড়িয়ে কী দেখছিস? সব একরকম না- এই মাঠ, আকাশের রঙ-‘
    ‘ওই যে উঁচু পাহাড়ের মতন ফ্ল্যাট, কমপ্লেক্স- শপিং মলের আদল- ওইসবই তো দেখবে- ঠিক আছে দেখবে- ভালো করে দেখো’
    ‘ধুর, তুই ওইসব এখন দেখতেই পাবি না।।
    আমি তো শুধু ওকেই দেখছি। শিউলিদি- ওই চোখ, হঠাৎ ভীড়ের মধ্যে ভেসে উঠত। কবে? কতদিন আগে? সত্যিই কি দেখতাম? কেমন গুলিয়ে যায় না সব?
    ‘কিন্তু তুমি কি দেখতে, আমাকে। শিউলিদি- আমি কতবার ভেবেছি যদি আসো, যদি বেরিয়ে আসো রাস্তায়, যদি ডাকো আবার-?’
    ‘তুই কি আসতি আর আমার বাড়িতে? আজকেও কি আর নিজের থেকে এলি?’
    এই কথোপকথন তো সত্যি সত্যি হতে পারে না। একটাই পসিবিলিটি ভূতের সঙ্গে কথা বলছি। হোক ভূত, তাও তো বলা হচ্ছে এসব--
    ‘শান্ত, যদি আজ আমি আসি, মানে আমি তো এখানেই আছি। তুই থেকে যেতে পারবি? তোর রিয়েলিটি ছেড়ে? এইটা তোর রিয়েলিটি না ঐটা- যেটায় আজ থাকিস- ঐ বৌ-বাচ্চা-বাবার অসুখ-পুনের চাকরি, সেইটা রিয়েলিটি?
    ‘রিয়েলিটি যা আমরা বেছে নিই, তাই তো? না না না, যা আমাদের বেছে নেয়—তাই কি শিউলিদি, তুমি তো আমাকে বেছে নাও নি-‘
    ‘শান্ত, তুই মার্কেজ পড়েছিস নিশ্চয়ই- ম্যাজিক রিয়েলিস্ম? তখন তো আমিই ভালো করে পড়িনি।‘
    আমার ভীষণ ইচ্ছে করছে, শিউলিদির হাতটা ধরে নিই, চেপে। আহ- সেই ঘ্রাণ যদি আবার পাই। আচ্ছা, শিউলিদির হাত ধরে নিলেই কি কফিনের ডালা খুলে যাবে? সেইখানে কি আমাদের মেলার মাঠ? পুজোর দিন অঞ্জলির ফুল দুম করে ওর দিকে ছুঁড়ে দেওয়া? আধো অন্ধকার গলি ধরে হেঁটে ফেরা, সাইকেলের ক্রিং ক্রিং- এইসবই আছে? আমার আজকের ফ্ল্যাট, চাকরি,স্মার্টফোন, টুইটার হ্যান্ডেল, ইনভেস্টমেন্ট- এই সমস্ত কিছুই কি মুছে যাবে যদি ঝাঁপ দিই কফিনের ভেতর? আমি ওর চোখের দিকে তাকাই- পুকুরে ভাসছে চাঁদ…
    অ্যাই, তুই মায়ের ফাইলটা পেয়েছিস, এক্ষুনি ডাক পড়বে-।‘
    ‘ওহ, এই তো সামনেই আছে লাল ফাইল’
    হঠাৎ একদম অন্য এক গলার স্বর এল- ‘হ্যাঁ, দাদা এই ফাইলটাই’
    মোটাসোটা এক মহিলা, সস্তা সালোয়ার কামিজ পরা, আয়া হবে। শিউলিদি ভ্যানিশ।
    আমি ভূতগ্রস্তের মতন পেছন পেছন বাইরের ঘরে এলাম।
    সঞ্চারী হাত থেকে ফাইলটা টেনে নিল- ‘দিন, আমার সত্যিই এত দেরি হয়ে গেল’।
    আমি ভূতগ্রস্তের দশাতেই বৃদ্ধাকে জিগ্যেস করছি-
    ‘কাকিমা, শিউলিদি- মানে মিন্তি --- কী হয়েছিল?’
    ‘ও তো দিল্লিতে। পড়তে গেল, এখন ওখানেই আছে বিয়ে টিয়ে করে। কলেজে পড়ায়’
    আমি ডাবল ভূতগ্রস্ত এবার
    ‘আমি মেসেজ করে লিখলাম তোমার নাম। খুব খুশি হল। বলল, ফোন নাম্বার নিয়ে কথা বলতে। কথা বোলো কিন্তু বাবা’
     
    ---- হায়! এতক্ষণ কার সঙ্গে কথা বললাম আমি? কোন ডেটাপয়েন্ট ছিল সেইটা?

    (কল্পসামাজিক পত্রিকায় প্রকাশিত)
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন