এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • অন্তরালে, মুহাম্মদ ফজলুল হক 

    Fazlul Huque লেখকের গ্রাহক হোন
    ২১ আগস্ট ২০২৬ | ৪১ বার পঠিত
  • অন্তরালে
    মুহাম্মদ ফজলুল হক

    ​"অভিমান বোঝো?"
    একথা বলে অশ্রুসিক্ত চোখে উষসীর দিকে তাকিয়ে রইল ইভান।
    ইভানের কাণ্ড দেখে মনে মনে হেসে ওঠে উষসী। ইভান কি সত্যি সত্যি কেঁদে ফেলবে নাকি!
    সে টিস্যু বের করে ইভানের দিকে বাড়িয়ে দেয়।
    নেয় না ইভান। অভিমানে তার সত্যি সত্যি কান্না আসছে।
    উষসীর নির্বিকার ভাব দেখে ইভানের কষ্ট আরও বেড়ে যায়।
    ​এবার খিলখিল করে হেসে ওঠে উষসী। ইভানের পাশে এসে বসে। তার অশ্রুসিক্ত দুই নয়নে আলতো করে চুমু দেয়।
    এতটা আশা করেনি ইভান!
    মুহূর্তেই তার মন নেচে ওঠে। মনে হয়, লক্ষ পাখি ডানা মেলে আকাশে উড়াল দিল। সে জড়িয়ে ধরতে যায় উষসীকে।
    মুহূর্তেই সরে গিয়ে মুচকি হেসে উষসী বলে, "তলে তলে এই ছিল মনে!"
    লজ্জিত হয় ইভান। উষসীর চাতুরি ধরতে পারেনি সে। তবে উষসীর রসিকতায় মনটা ভালো হয়ে যায়।
    সব তো আমার মনেই থাকে। একটু আগে চুমু দিল কে?"
    চোখ বড় বড় করে ইভানের দিকে তাকায় উষসী।
    এই তো সুযোগ! কিছু বুঝে ওঠার আগেই ইভান জড়িয়ে ধরে উষসীকে।
    চারপাশের নিস্তব্ধতা তাদের ওপর ভর করে। কিছুক্ষণ মৌন থেকে তারা পরস্পরের উষ্ণতা উপভোগ করে।
    "হয়েছে, হয়েছে। আর সোহাগ দেখাতে হবে না," বলে সরে বসে উষসী।
    ​শহরের ইট-পাথরের আধিপত্য এই জায়গায় এখনো শুরু হয়নি। প্রকৃতি নীরব, চোখজুড়ানো সবুজে ভরপুর। যতদূর চোখ যায়, শুধু সবুজ আর সবুজ। ফসলি মাঠ ও বিল পেরিয়ে দূরে গাছের আড়ালে ঢাকা গ্রাম।
    ইভান বলে, "কী সুন্দর গাছগাছালি! মগ্নতায় ভরা চারপাশ।"
    "হুঁ, সব তো এখন রঙিন লাগবেই। মনে রং লেগেছে যে।"
    এই এক সমস্যা। উষসীর কথার তাৎক্ষণিক জবাব ইভান দিতে পারে না। সে চুপ থাকে।
    ইভানের এই দিকটাই ভালো লাগে উষসীর। ইভান যতক্ষণ চুপ থাকে, ততক্ষণ যেন তার ব্যক্তিত্ব উপচে পড়ে।
    ইভান উষসীর হাত নিজের হাতের মুঠোয় নেয়। হাতের পিঠে আলতো করে চুমু দেয়।
    উষসী কিছু বলে না।
    আবার চুমু দেয় ইভান।
    হাত সরিয়ে নিয়ে উষসী বলে, "থুতুর গন্ধ!"
    দুষ্টুমি খেলে যায় ইভানের মাথায়। সে উষসীর হাত টেনে নিয়ে সত্যি সত্যি থুতু দিয়ে দেয়।
    হেসে ওঠে উষসী। কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে জড়িয়ে ধরে ইভানকে। চুমু দেয় তার কপালে।
    হাতের থুতু যত্ন করে মুছে দেয় ইভান। উষসীর মন ভালো হয়েছে দেখে তারও ভালো লাগছে।
    "চল, এবার উঠি," বলে উষসী।
    "আরেকটু বসি। কতদিন পর তোমাকে একা পেলাম।"
    "না গো, " বলে ইভানের হাত ধরে টান দেয় উষসী।
    উঠতে গিয়ে ইভানের সঙ্গে উষসীর ধাক্কা লাগে। হেসে ওঠে দুজন।
    উষসীর এলোমেলো চুল ঠিক করে দেয় ইভান, ইভানের প্যান্টে লেগে থাকা ময়লা ঝেড়ে দেয় উষসী।

    ​তাদের ভালোবাসা এমনই, টক-ঝাল-মিষ্টি। মুহূর্তে মুহূর্তে মেজাজ পরিবর্তন হয়। ইভানের মন ভালো তো উষসীর মন খারাপ। উষসী মেজাজে থাকলে ইভান নীরব। তাতে তাদের ভালোবাসার কমতি হয় না। যতক্ষণ কাছাকাছি থাকে, খুনসুটির মাঝেই ভালোবাসা খুঁজে পায়।

    ​সূর্য তার প্রখরতা কমিয়ে লাল আভা বিকিরণ করছে। সেই আলোয় প্রকৃতি সেজে উঠেছে অপরূপ সাজে। শেষ বিকেলের স্নিগ্ধ আবেশ নিয়ে ফিরে চলে দুজন। কিছুদূর এগিয়ে উষসীর গাড়িতে ওঠে। উষসী নিজেই ড্রাইভ করে। পাশে চুপ করে বসে থাকে ইভান। মাঝে মাঝে সে উষসীর দিকে তাকালেও উষসী না তাকিয়েই প্রশ্ন করে, "কোন দিকে যাব? কী খাবে আজ?"

    ​গাড়ি তিনশ ফিট রাস্তা দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। রাস্তার নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করছে ইভান। সে কোনো উত্তর দেয় না। সে জানে উষসী কী করবে। তার পছন্দের হাঁসের মাংসের দোকানেই গিয়ে থামবে। এই এলাকাটি ক্রমবর্ধমান। দ্রুত অট্টালিকা গড়ে উঠছে। অট্টালিকার ফাঁকে ফাঁকে খালি জায়গায় নানাবিধ খাবারের দোকান বসছে। খাবারের চেয়েও পরিবেশের টানে এখানে প্রচুর মানুষ আসে, বিশেষ করে তরুণ-তরুণী।
    ​বামে গাড়ি থামিয়ে তারা হাঁটতে হাঁটতে এক দোকানে গিয়ে বসে। উষসী ইভানের দিকে তাকিয়ে বলে, মৌনতা ভেঙে ধন্য করো মোরে।"

    ইভান কিছু না বলে উষসীর ডাগর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। কী সুন্দর উষসীর চোখ! এক জীবন এই চোখ দেখে কাটিয়ে দেওয়া যায়।
    "আরে বাবা, কিছু তো বলো!"
    মুখে আঙুল রেখে উষসীকে চুপ থাকার ইঙ্গিত দিয়ে ইভান বলে, "নড়াচড়া করো না। যেমন আছ, তেমনই থাকো।"
    অবাক হয় উষসী, "মানে কী?"
    "তোমার চোখ দেখি, তোমাকে দেখি।"
    "কী আছে আমার চোখে?"
    "তা যদি তুমি বুঝতে, তবে নিজের চোখের দিকেই জীবনভর তাকিয়ে থাকতে।"

    ​এরই মধ্যে ওয়েটার হাঁসের মাংস ও রুমালি রুটি দিয়ে যায়।
    "কাব্য করতে হবে না, খাওয়া শুরু করো," উষসী বলে।
    এটাও বলার জন্য বলা। ইভান জানে, এখনই উষসী তাকে নিজ হাতে খাইয়ে দেবে। জীবন এক আনন্দময় অনুভূতির নাম। এই উপলব্ধি ইভানের জীবনে তীব্রভাবে ফিরে এসেছে উষসীর সাথে পরিচয়ের পর। এই মেয়ে শুধু ভালোবাসায় নয়, সবকিছুতেই পটু। তার পটুত্ব মেনে নিয়ে সুখী হতে মগ্ন ইভান।

    ​খাওয়া শেষ করে তারা শহরে ফেরে। ইভানকে হল গেটে নামিয়ে দেয় উষসী। হল গেটের সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে ইভান। রঙিন বিকেল এখন বড় নিঃশব্দ। বুকের ভেতর অদ্ভুত শূন্যতা নিয়ে ধীরে ধীরে হলে ঢুকে সে। মনে পড়ে উষসীর হাসি, চোখ আর চুলে হাত বুলিয়ে দেওয়ার মুহূর্ত। বাতাসে তখনো উষসীর চেনা ঘ্রাণ লেগে আছে।

    ​জীবনটা মাঝে মাঝে বড় অদ্ভুত লাগে ইভানের। কয়েক বছর আগেও সে ছিল একাকী এক দ্বীপের মতো। যেখানে কেবল নিস্তব্ধতা আর বইয়ের পাতা ছিল সঙ্গী। উষসী আসার পর তার পৃথিবী সাতরঙা এক ক্যানভাস হয়ে গেছে। উষসীর উদ্দেশ্য ভিন্ন। যতটা মহৎ প্রেমিকা সেজে আছে আসলে সে ততটা মহৎ নয়। রুমে ফিরে ইভান ফোনটা হাতে নিতেই কেঁপে ওঠে। মেসেজ এসেছে, "পৌঁছেছ?"
    মাত্র এক শব্দের প্রশ্ন। ইভানের ঠোঁটে হাসি ফুটে ওঠে। দ্রুত লেখে, "হ্যাঁ। তুমি?"
    "আমি তো অনেক আগেই।"
    "ঠিক আছে। "
    ওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা। মেসেজ আসে, "হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হও। আর শোনো, প্যান্টের ওই ময়লা ভালো করে পরিষ্কার করো।"
    ​ইভান হাসল। উষসীর এই শাসনটুকুই তার সবচেয়ে প্রিয়।

    পরদিন সন্ধ্যায় উষসী তার সাদা গাড়ি নিয়ে হলের সামনে হাজির। জানালার কাঁচ নামিয়ে বলল, "তাড়াতাড়ি ওঠো।"
    ​গাড়িতে উঠেই থমকে গেল ইভান। উষসীকে উপন্যাসের পাতা থেকে উঠে আসা নায়িকা মনে হচ্ছে। হালকা নীল শাড়ি, খোলা চুল, ছোট্ট টিপ ও রুপার চুড়িতে সন্ধ্যা আলোয় তাকে অপার্থিব সুন্দর লাগছে।
    মুগ্ধ হয়ে ইভান বলল, "আজ কি কোনো বিশেষ দিন?"
    উষসী গাড়ি স্টার্ট দিয়ে মুচকি হেসে বলল, "তোমার সাথে কাটানো প্রতিটি ক্ষণই আমার কাছে বিশেষ।"
    ​শহর পেরিয়ে একটি বহুতল ভবনের সামনে এসে গাড়ি থামল। উষসী ইভানকে নিয়ে লিফটে করে একদম উপরের তলায় চলে এল। লিফটের দরজা খুলতেই এক ঝলক শীতল হাওয়ায় শিউরে উঠল ইভান। রুফটপ গার্ডেন। চারদিকে নানা রঙের ইনডোর প্ল্যান্ট, নিবু নিবু আলো, মাঝখানে সাজানো কাঠের টেবিলে দুটি মোমবাতি জ্বলছে।
    ​পুরো ছাদ নীল আলোয় ছেয়ে আছে। কৃত্রিম আলো ও আকাশের রুপালি চাঁদ মিলে এক পরাবাস্তব পরিবেশ তৈরি করেছে। উষসী ইভানের হাত ধরে টেবিলে গিয়ে বসল। ইভান উষসীর হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরে রাখল। মোমবাতির আলোয় উষসীর চোখের মণি চিকচিক করছে। সে ইভানের শার্টের কলার ঠিক করে দিতে দিতে ফিসফিস করে বলল, "ভালো লাগছে?"

    ​বরাবরের মতো ইভান কিছু না বলে উষসীর চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। উষসী লজ্জিত হয়ে চোখ নামিয়ে নিল। ইভান আলতো করে উষসীর চিবুক ধরে মুখটা তুলে বলল, "কাল তুমি বলেছিলে আমার মৌনতা তোমার ভালো লাগে। আজ মৌনতা ভেঙে বলতে ইচ্ছে করছে, তুমি বড্ড বেশি সুন্দর। তোমার সৌন্দর্যের আলো ছাড়া আমার প্রতিটি মুহূর্ত অন্ধকার।"

    ​উষসী নিজেকে সামলাতে পারল না। সে ইভানের বুকে মাথা রাখল। ইভান অনুভব করল উষসীর হৃদস্পন্দন। নীল জোছনায় তারা এখন আলাদা জগতের বাসিন্দা।

    উষসীর চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ইভান বলল, "আমরা যদি সারাজীবন এভাবেই থাকতে পারতাম?
    ​মুখ না তুলেই বলল উষসী, "সারাজীবন কি একইভাবে চলবে? ঝড় আসবে, বৃষ্টি হবে।"
    নিরব থাকে ইভান।
    হঠাৎ মাথা তুলে দুষ্টুমিভরা চোখে তাকিয়ে উষসী বলল, "আচ্ছা, কাল তুমি আমার হাতে থুতু দিয়েছিলে কেন? ওটা কি রোমান্টিকতা?"
    ওটা তো দুষ্টুমি ছিল। তুমি বলেছিলে গন্ধ, তাই ভাবলাম সত্যি সত্যি গন্ধটা উপহার দিই!"
    উষসী খিলখিল করে হেসে উঠল। ইভানের কপালে টোকা দিয়ে বলল, "তুমি একটা পাগল। এই পাগলকে জীবনভর সামলানোর দায়িত্ব আমার।"

    ​খাওয়া শেষ করে তারা রেলিংয়ের পাশে গিয়ে দাঁড়াল। ইভান উষসীর কাঁধে হাত রাখল। উষসী বলল, "জানো ইভান, মানুষ বলে ভালোবাসা নাকি সময়ের সাথে পুরনো হয়। কিন্তু তোমার সাথে আমার প্রতিটা দিন মনে হয় একদম নতুন।"
    ইভান উষসীর কপালে চুমু দিয়ে বলল, "পুরনো হবে না কখনো, কারণ আমাদের ভালোবাসায় কোনো অভিনয় নেই।"
    উষসী কিছু বলল না। ভুবনজয়ী এক হাসি দিল।

    ​ইভান ভাবছিল আলোয় আলোয় ঘেরা সব সন্ধ্যা ছিল তাদের মিলনের শুভক্ষণ। সে জানত না, উষসীর প্রতিটি চুমু ছিল বিষাক্ত, আলিঙ্গন ছিল তার লক্ষ্য অর্জনের সিঁড়ি। ইভান যখন প্রেমে মগ্ন হয়ে পড়াশোনা শিকেয় তুলেছিল, উষসী তখন ইভানকে হারানোর কৌশল রপ্ত করছিল।
    ​ফলাফল প্রকাশের দিন দেখা গেল, উষসী বিভাগে প্রথম হয়েছে। ইভান ব্যর্থতার তালিকায়। উষসী সেদিন ইভানের ফোন ধরেনি। কোনো যোগাযোগ রাখেনি। ইভান যখন তার হলের সামনে গিয়ে দাঁড়াল, উষসী তখন গাড়ির কাঁচ নামিয়ে শীতল গলায় বলল, "আবেগ দিয়ে জীবন চলে না, ইভান।"

    ​বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা শিক্ষক উষসী আজ সফলতার শীর্ষে। দামি গাড়ি, আভিজাত্য ও ক্ষমতা সবই তার পায়ে লুটিয়ে আছে। তবু যেন কিসের অভাব। রাতে ঘুম আসে না। সাজানো ড্রয়িংরুমে কেবল নিস্তব্ধতার রাজত্ব। সেদিনের সেই "থুতু দেওয়া" দুষ্টুমি কিংবা হাতের পিঠে চুমু খাওয়ার মতো অকৃত্রিম আবেশ তার যান্ত্রিক জীবনে আর ফেরেনি।

    ​এক বিকেলে তিনশ ফিটের সেই পুরনো রাস্তার মোড়ে উষসীর গাড়ি এক মুহূর্তের জন্য থামল। রাস্তার পাশে ধুলোমাখা গাছের নিচে একদল পথশিশুকে মগ্ন হয়ে পড়াতে দেখল এক ব্যক্তিকে। জীর্ণ পাঞ্জাবি, কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ, মুখে স্বর্গীয় প্রশান্তি। চিনতে ভুল হয় না, ইভান!
    ​উষসী গাড়ি থেকে নামল না। সে শুনল, শিশুদের নিয়ে ইভান প্রার্থনার মতো করে গাইছে, "আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ, সত্যসুন্দর..."

    ইভানের মাঝে কোনো জৌলুস নেই, অহমিকা নেই, বিলাসিতা নেই। একদল শিশুর হাসির মাঝে ইভান যেভাবে হাসছে, সেই হাসি অনেক বছর উষসী হাসতে পারেনি। সমাজের চোখে ব্যর্থ হলেও ইভানের চোখ দুটো আগের মতোই উজ্জ্বল, নির্মল আলোয় আলোকিত। যে আলোয় নেই কোনো প্রতারণা, প্রবঞ্চনা, নেই অন্যকে ঠকানোর কৌশল। আছে শুধু মৌনতা ভেদ করে মানুষকে সুখী করার প্রয়াস।

    উষসী উপলব্ধি করল, প্রতারণা করে সে প্রথম হয়েছিল ঠিকই কিন্তু জীবনের পরীক্ষায় ফেল করেছে। সে আজ সফল, সুখী নয়। অথচ ইভান সব হারিয়েও নিজের ভেতরে এক টুকরো আকাশ ধরে রেখেছে। উষসী কাঁপা হাতে গাড়ির গ্লাস তুলে দিল। চোখের কোণে অশ্রু জমা হলেও পরাজয়ের গ্লানিতে নিজের শুদ্ধতা যাচাইয়ে ব্যর্থ সে। যা মুছে ফেলার অধিকার অনেক আগেই হারিয়েছে। গাড়ি চলতে শুরু করল, পেছনে পড়ে রইল ইভানের সেই চিরচেনা মৌনতা যা এখন উষসীর জীবনের সবচেয়ে বড় হাহাকার।

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু প্রতিক্রিয়া দিন