এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • সকালের সন্ধানে। 

    Sobuj Chatterjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ৬৫ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • শর্বরী প্রভাতকে ডেকে ডেকে চলে গেছে অনেকক্ষন। প্রভাতের গাঢ় ঘুম ভাঙ্গে নি।
    খানিক পরেই দিবাকর এসে হাজির, তখন প্রভাত চোখ রগড়াতে রগড়াতে বিব্রত ও অপ্রস্তুত।

    আকাশ কে আজ ঘন নীল জামাতে দারুণ
    ধোপদুরস্ত লাগছে। সে মুক্তি কে সঙ্গে নিয়েই এসেছে।

    বাইরে ইতিমধ্যে মলয় এসে কড়া নাড়ছে আর মিষ্টি একটা চেনা সুরে গুন গুন করছে। মুক্তি সে সুর শুনে বলল মলয় এসে গেছে।নিশ্চয়ই দোয়েল কে নিয়ে বেরিয়েছে আমি যাই দেখি গিয়ে।

    সবাই কে অবাক করেই মেঘ এসে হাজির! তাকে এই জমায়েতে আশা করা যায় নি।
    আকাশ মুক্তিকে ফিস ফিস করে বলল সেরেছে ;আজই পরিষ্কার জামাটা পরে বেরোলাম।

    ও বলা হয়নি, মেঘের সঙ্গে ছায়াও এসেছে।
    সে বলল, কত করে বৃষ্টি কে ডাকলাম সাড়াই দিল না !
    ও একটা ঝড়ের রঙের শাড়ি পরে বসে আছে। বলল 'তান্ডব' নাটকের স্টেজ রিহার্সাল আছে।
    কি আর করা! চল আমরা বৃষ্টি কে ছাড়া ই বেরিয়ে পড়ি।
    ওরা সবাই মিলে পিচের রাস্তাটা ধরে বেরিয়ে পড়লো।
    মফস্বল শহরের রেলওয়ে স্টেশনটা খুব দূরে নয়। ট্রেন আসছে আর যাচ্ছে;যাত্রী উঠেছে আর নামছে। বিরাম নেই।
    ওরা তার ধার ধারে না।
    শুধু স্টেশন ছেড়ে গাড়ি যখন বেরিয়ে যায়, যখন তার আওয়াজ ছন্দময় ভাবে কমতে কমতে মিলিয়ে যায়, তখন মলয় কেমন যেন উদাস হয়ে যায়।

    এই নিয়ে বাকিরা সবাই হাসাহাসি করে।
    হঠাৎ দিবাকর প্রায় আবিষ্কারের ভঙ্গিতে বোমা ফাটালো যে প্রভাত কে পাওয়া যাচ্ছে না।
    মলয় আর আকাশ বললো, মাথার ওপর যতক্ষন তুই আছিস চিন্তা নেই। সবাই বেশ আশ্বস্ত হলো।

    ওরা রেললাইনের পাশাপাশি যে সরু মেঠো রাস্তা টা আছে সেটা ধরে এগোতে থাকলো।
    মেঠো পথে ধরতেই আনন্দের সাথে দেখা।
    সে সদাই হাস্যময় মুখ নিয়ে মোক্ষের সন্ধানে সঙ্গত করে।যেন এক সংসার ত্যাগী পরিব্রাজক। অথচ যে কোনো আসরে অপরিহার্য সম্পদ।

    মুক্তি প্রায় মণিপুরী নাচের ভঙ্গিতে মলয়কে অনুরোধ করে গলা ছাড়তে।

    মলয়, জো হুকুম বলে শুরু করে দেয়, --'আঁধার রাতে আশমান জমিন ফারাক কইরা থোও বন্ধু কত ঘুমাইবা।
    বাঁয়ে বিবি ডাইনে পোলা অকাল ফসল রোও মিঞা কত ঘুমাইবা... '
    আনন্দ প্রথমে, তারপর একে একে সবাই তালি দিয়ে সঙ্গত করতে থাকলো।
    মেঠো রাস্তা পেরিয়ে ওরা বিদ্যামন্দির স্কুলের পাশ দিয়ে একটা বড় মাঠে এসে পৌঁছালো।
    এবার রেললাইনের ধার ছেড়ে জিটি রোডের কাছাকাছি চলে এলো।

    দুরন্ত গতিতে অবিশ্রান্ত ভাবে বড় বড় ট্রাক গুলো সমস্বরে চিৎকার করতে করতে, নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করতে করতে ছুটে চলেছে।

    মাঠের প্রায় মাঝামাঝি একটা বিশাল বড় কদম গাছ যেন ডাল পালা মেলে ওদের ডাকছে। দিবাকর বললো এবার একটু জিরোনা যাক।
    সবাই এক কথায় রাজি।

    মুক্তি আর ছায়া হঠাৎ যেন আলৌকিক ভাবে তালি মেরে সবার জন্য খোলায় ভাজা চিঁড়ে মুড়ি আর বাদামের ছোটো ছোটো ঠোঙা ধরিয়ে দিলো।

    এক অনাস্বাদিত উল্লাসে ভরলো কদম তলা। সবাই তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতে লাগলো, যাতে একটা দানাও ফেলা না যায়।

    ইতিমধ্যে দিবাকর সবার কাছে গিয়ে ফিস ফিস করে কি যেন বলতে থাকলো।
    সবারই মুখ কেমন যেন আস্তে ধীরে বিষন্ন হতে শুরু করলো।
    মুক্তি আর ছায়া তাড়াতাড়ি করে কদম ফুল মাথায় গুঁজতে থাকে।
    মলয় গুন গুন করে, 'বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছো দান... '।

    ওদিকে দিবাকর কদম গাছের ছায়া ছাড়িয়ে উলটো দিকে একা হতে হতে মিলিয়ে যেতে থাকে।
    সবাই ওকে হাত নাড়িয়ে বিদায় জানায় কিন্তু শশব্যস্ত হয়ে ওঠে!
    শুধু আকাশ স্থির এবং সংযত।
    দিবাকরের সঙ্গে কি এক চিরন্তন সখ্যতার অটুট বন্ধন। তাই সে গোধূলির বার্তা বহন করে আবৃত্তি করতে থাকে," ...এ গান যেখানে সত্য অনন্ত গোধূলি লগ্নে... "

    আকাশের উদাত্ত গলায় যেন বাঁশির স্বরলিপি। এক অমোঘ বিষন্নতার কাব্য।
    সবাই কেমন আচ্ছন্ন বিভোর হয়ে যায়।

    হঠাৎ মেঘের গুরুগম্ভীর স্বরে সবাই সম্বিত ফিরে পায়। যেন মেলা ভাঙ্গার ডাক।
    সারা দিনের সুগন্ধ কেনা বেচার পালা শেষ।

    দিবাকর চলে যাওয়ার প্রায় সাথে সাথেই প্রদোষ ওদের খুঁজতে বেরিয়ে পড়েছে, সঙ্গে চুপটি করে আছে সন্ধ্যা।
    বেলা শেষের মিলনে ওদের সবার বিষন্নতা মুহুর্তে উধাও।
    ওরা তৎপর: ফিরতে উৎসাহী।
    শর্টকাটে জিটি রোড ক্রস করলো সাবধানে।

    দূর থেকে ভেসে আসে শাঁখের ক্ষীণ আওয়াজ।
    সন্ধ্যা বললো, - দেরি হয়ে গেছে।মা রাগ করবে।
    একটু বাদেই শর্বরী দি পড়াতে আসবে।

    সবারই তারা রয়েছে।
    সবাই আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলো। সে তখন মিট মিট করে হাসছে আর তারা গুনছে।

    সবার রাস্তা ফুরিয়ে দেখা দিয়েছে চৌকাঠ।
    জোনাকি আর তারার আলো কে হারিয়ে বিদ্যূৎ সবার আগে সবার ঘরে বিরাজমান।

    কেউই যেন এই তীব্রতা কে সহ্য করতে পারছিল না।
    মুক্তি আলো নিভিয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ দৃষ্টি তে আকাশ কে আদর করতে লাগলো।

    কতক্ষণ যে পেরিয়ে গেছে কেউ টেরও পায়নি।
    -- মুক্তি খেতে আয়... রাত হয়েছে... কাল সকাল সকাল উঠতে হবে... মনে নেই ...?

    মুক্তি বারান্দা থেকে মুখ বাড়িয়ে দেখলো শর্বরী একটা কালো শাড়ি পরে সন্ধ্যাদের বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে বনফুল আর জোনাকির সাথে কথা বলছে।
    শর্বরীর সারারাত ধরে অনেক কাজ। চলবে প্রস্তুতি, যতক্ষন না বেজে উঠছে প্রভাত ফেরির গান ড্রামের তালে তালে।

    সবার ঘরে একই রঙের ব্যাস্ততার ক্যানভাস। ওরা একে অপরের থেকে শুধু জিনগত বৈশিষ্ট্যেই আলাদা ;
    তবু বিস্ময়কর ভাবে মহাবিশ্বের কোন্ সে অজানা টানে ওরা একই ছায়াপথের পথিক ;অটুট কামারাদেরি তে সামিল।।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন