এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ফারেনহাইট ৪৫১’ (Fahrenheit 451) :  রে ব্র্যাডবেরি

    AR Barki লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ৭৪ বার পঠিত
  • ডিস্টোপিয়ান এই উপন্যাসটি ভবিষ্যতের এক কাল্পনিক সমাজকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটি রচিত, যেখানে বই পড়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    এই সমাজে ‘ফায়ারম্যান’ বা দমকল কর্মীদের কাজ আগুন নেভানো নয়। বরং কোথাও বইয়ের সন্ধান পেলে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে তা ধ্বংস করে দেওয়া!

    উপন্যাসের নাম ‘ফারেনহাইট ৪৫১’ রাখা হয়েছে কারণ ধারণা করা হয়, ৪৫১ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় কাগজের বই স্বতঃস্ফূর্তভাবে জ্বলে ওঠে।

    গল্পের মূল চরিত্র গাই মন্টাগ (Guy Montag), যিনি পেশায় একজন ফায়ারম্যান। তিনি ১০ বছর ধরে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই অন্ধের মতো বই পুড়িয়ে আসছেন এবং বিশ্বাস করতেন যে এটাই সমাজকে শান্ত রাখার উপায়।

    একদিন কাজ থেকে ফেরার পথে মন্টাগের দেখা হয় ক্ল্যারিস ম্যাকক্লেলান নামের ১৭ বছরের এক তরুণীর সাথে। ক্ল্যারিস ছিল সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা।

    সে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করত, প্রশ্ন করত এবং মুক্ত চিন্তায় বিশ্বাসী ছিল। ক্ল্যারিসের একটা প্রশ্ন—"তুমি কি সত্যিই সুখী?" এই প্রশ্নটা মন্টাগের সুপ্ত বিবেককে জাগিয়ে তোলে।

    মন্টাগ তার নিজের জীবনের শূন্যতা এবং তার স্ত্রী মিলড্রেডের যান্ত্রিক ও অনুভূতিহীন জীবন দেখতে পায়।

    এরপর এক অভিযানে গিয়ে মন্টাগ দেখেন, এক বয়স্ক নারী তার বইয়ের সংগ্রহের সাথে নিজেকেও আগুনে পুড়িয়ে মারতে রাজি, কিন্তু বই ছাড়বেন না।

    এই ঘটনা মন্টাগকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সে লুকিয়ে কয়েকটি বই বাড়ি নিয়ে আসে এবং পড়া শুরু করে।

    মন্টাগ বুঝতে পারে বইয়ের ভেতরে লুকিয়ে আছে মানুষের চিন্তা, ইতিহাস ও সত্য। তিনি ফ্যাবার নামে একজন বয়স্ক প্রাক্তন শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করেন।

    ফ্যাবার তাকে বইয়ের ভেতরের জ্ঞান ও সমাজকে কীভাবে পুনরুদ্ধার করা যায় তা বোঝান।

    মন্টাগের স্ত্রী মিলড্রেড এবং তার প্রতিবেশীরা মন্টাগের কাছে বই থাকার কথা পুলিশ ও ফায়ার ক্যাপ্টেন বিটিকে জানিয়ে দেয়। বিটি মন্টাগকে বাধ্য করেন নিজের বাড়ি নিজের হাতেই জ্বালিয়ে দিতে।

    কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মন্টাগ ক্যাপ্টেন বিটিকে ফ্লেম থ্রোয়ার দিয়ে পুড়িয়ে মেরে ফেলেন এবং শহর ছেড়ে পালিয়ে যান।

    শহর থেকে পালিয়ে মন্টাগ নদীর পাড়ে একদল মুক্তচিন্তক মানুষের সন্ধান পান। এরা সবাই ছিলেন সাবেক অধ্যাপক ও সাহিত্যপ্রেমী। পুলিশের চোখ এড়িয়ে তারা বই বাঁচানোর এক অনন্য উপায় বের করেছেন।

    প্রতিটি মানুষ একেকটি পুরো বই মুখস্থ করে রেখে দিয়েছেন! তারা নিজেদের মনে বইগুলো বাঁচিয়ে রাখেন, যেন ভবিষ্যতে সমাজ আবার যখন সুস্থ হবে, তখন এই বইগুলো পুনরায় লেখা যায়।

    এর পরপরই পরমাণু যুদ্ধে মন্টাগের পুরনো প্রযুক্তি নির্ভর শহরটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। মন্টাগ এবং তার নতুন সঙ্গীরা ছাই হয়ে যাওয়া শহরের দিকে হেঁটে চলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন এক আলোকিত মানবসমাজ গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে।

    বই পোড়ানোর মাধ্যমে রে ব্র্যাডবেরি প্রকৃতপক্ষে চিন্তার স্বাধীনতা হরণ, সেন্সরশিপ এবং অতিরিক্ত প্রযুক্তি নির্ভরতার কুফল তুলে ধরেছেন।

    যেখানে মানুষ বই পড়া ছেড়ে টিভি বা সস্তা বিনোদনে মেতে থাকে, সেখানে সমাজ তার নিজস্ব চিন্তা করার ক্ষমতা ও উদ্ভাবনী শক্তি হারিয়ে ফেলে—এটিই ছিল উপন্যাসের মূলভাব।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে প্রতিক্রিয়া দিন