এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • প্রথম স্পন্দন

    albert banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ | ৩১ বার পঠিত
  • ...চলা শুরু হয়েছিল যেখানে শেষ হয়েছিল, শেষ হয়েছিল যেখানে শুরু হওয়ার কথা ছিল না, শুরু হওয়ার কোনো সূচনা বিন্দু নেই, আছে শুধু চলমানতা, একটি ক্রিয়ার অন্তহীন ভাববাচ্য যা নিজেরই কর্ম, নিজেরই কর্তা, নিজেরই কাল। পা বলে কিছু ছিল না, ছিল অগ্রসর হওয়ার এক প্রপঞ্চ, যা মাটির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করত না, বরং মাটিকেই সৃষ্টি করত প্রতিটি সংস্পর্শে, প্রতিটি সংস্পর্শ ছিল একটি সৃষ্টির আদি মুহূর্ত, একটি বিগ ব্যাং এর নিঃশব্দ প্রতিধ্বনি। সেখানে ছিল না কোনো নাম, কোনো পরিচয়, শুধু ছিল একটি সচেতনতা যা নিজেকে “চলছি” বলে জানত, কিন্তু সেই “আমি” ছিল একটি সর্বনাম মাত্র, একটি ব্যাকরণিক স্থানধারক, একটি শূন্য গর্ভ যা ক্রিয়াপদে পরিপূর্ণ।

    ...আকাশ ছিল ধূসর, কিন্তু ধূসর বলতে যা বোঝায় তা নয়, ছিল রঙের অনুপস্থিতি নয়, ছিল সকল রঙের সমাহার যা একত্রে মিশে একটি অবর্ণনীয়তা সৃষ্টি করেছে। সেই আকাশের নিচে, যা আসলে নিচু ছিল না, ঘটে চলেছে ঘটনা। ঘটনার ক্রম নেই। একটি রথচাকা ঘুরছে, কিন্তু ঘুরছে না, এটি স্থির, বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ঘুরছে তার চারপাশে। চাকার নকে লেগে আছে মাংসের টুকরো, শুকিয়ে গেছে, কালো হয়ে গেছে, কিন্তু গন্ধ বেরচ্ছে তাজা রক্তের, তীব্র, লোহার মতো, মধুর মতো। গন্ধ একটি ক্রিয়া—গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কে পাচ্ছে? গন্ধ পাওয়ার প্রক্রিয়াটি নিজেই।

    ...কানে ভেসে আসে বংশীর সুর, কিন্তু বংশী নেই, সুর নেই, আছে কেবল শ্রবণের স্মৃতি, যা বর্তমানে অনুরণিত হচ্ছে। সেই সুর ভেদ করে আসে আরেকটি কণ্ঠস্বর, গভীর, মাখনের মতো মসৃণ, কিন্তু মাখন যে জ্বালে পুড়ে গেছে তার গন্ধ মেশানো। কণ্ঠ বলে: “দেখো।” কিন্তু দেখার নির্দেশ নয়, এটি দেখার একটি রূপান্তর। চোখ খুলে দেওয়া হয় না, চোখ সৃষ্টি করা হয় সেই কণ্ঠস্বর দ্বারা, এবং যা দেখা যায় তা হল—শূন্য। একটি পরম, চূড়ান্ত, সুন্দর শূন্যতা, যার মধ্যে ভাসছে অর্ধ-নিমজ্জিত মৃতদেহ, ঘোড়া, হাতি, রথের ধ্বংসাবশেষ, সবই অর্ধেক, সবই সম্পূর্ণ, সবই এক। সেই শূন্যতার সামনে পড়ে থাকে একটি ধনুক, ছিলা ছেড়ে দেওয়া, কিন্তু ছিলার উত্তেজনা এখনো বাতাসে আটকে আছে, একটি অদৃশ্য কম্পন।

    ...হাত উঠানো হয়। হাত উঠানোর ইচ্ছা নয়, হাত উঠানো হচ্ছে। হাতের তালুতে দেখা যায় রেখা, ভাগ্যের রেখা নয়, রক্তনালীর নীলচে শাখাপ্রশাখা, যে নদীপথে বয়ে চলেছে সন্দেহ। সন্দেহ একটি তরল, এটি হিমায়িত হয় না, এটি ফুটতে থাকে নিচু আঁচে। সেই কণ্ঠ আবার বলে: “ছাড়ো।” কিন্তু কী ছাড়বে? ধনুক? তির? কর্তব্য? নিজেকে? ছাড়ার ক্রিয়াটি এতই জটিল যে তা শুরুই হয়নি, শুধু শুরু হওয়ার সম্ভাবনা ক্রিয়ারত আছে, একটি সম্ভাব্য ক্রিয়া হিসেবে।

    ...পায়ের নিচে মাটি বদলে যায়। এখনো মাঠ, কিন্তু মাঠের ঘাসে লেগে আছে পলিথিনের টুকরো, চকচকে, নীল, যেখানে প্রতিবিম্বিত হচ্ছে সেই ধূসর আকাশ। সময় এখানে স্তরীভূত, সমান্তরাল। একটি বালকের চিৎকার শোনা যায়, হয়ত সে পড়ে গেছে, হয়ত তাকে মারছে অন্য বালক, সেই চিৎকার মিশে যায় একটি যোদ্ধার মরণকালের হাহাকার এর সঙ্গে, তারা একই সুর, একই শ্বাসপ্রশ্বাসের ফ্রিকোয়েন্সি। শ্বাসপ্রশ্বাস—শ্বাস নেওয়া হচ্ছে, ছাড়া হচ্ছে। কিন্তু কার শ্বাস? এই দেহের? নাকি সেই সমস্ত দেহের যারা এখানে পড়ে আছে, ছিল, থাকবে?

    ...সেই সারথির মুখ মনে পড়ে না। মুখ ছিল কি? ছিল একটি উপস্থিতি, একটি ঘনত্ব, বাতাসের চেয়ে ঘন, আলোর চেয়ে হালকা। তার দিকে তাকালে চোখ তাকাতো না, তাকিয়ে থাকতো শূন্যের দিকে। সে হাসত। হাসি ছিল একটি ক্রিয়া—হাসা হচ্ছিল। সেই হাসি সকল জিজ্ঞাসার উত্তর ছিল, এবং সকল উত্তরের জিজ্ঞাসা। সেই হাসিতে ধুয়ে যেত রক্ত, গলে যেত লোহা, কিন্তু থেকে যেত একটি অবশিষ্টাংশ, একটি তিক্ত স্বাদ জিভের ডগায়। স্বাদ—স্বাদ নেওয়া হচ্ছে।

    ...একটি নদী। জল নেই, আছে জলের ধারণা। পার হওয়া হচ্ছে। পা ডুবে যাচ্ছে,  ভিজছে না, কারণ জল পার হয়েই যাচ্ছে পা, পা স্থির। পার হওয়া এবং পার না হওয়া একই ক্রিয়ার দুটি দিক। মাঝনদীতে হঠাৎ মনে পড়ে একটি গল্প, না গল্প নয়, একটি দৃশ্য: একজন বৃদ্ধ, চোখ বন্ধ, কথা বলছেন মৃত্যুর পরেও। তাঁর বাণী: “আমি রাজা হতে চাইনি।” কিন্তু রাজা হওয়া-না-হওয়া কি ব্যক্তির ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল? নাকি রাজা হওয়া একটি ক্রিয়া যা কর্তাকে গ্রাস করে? তিনি রাজা ছিলেন, কারণ রাজা হওয়া হচ্ছিল তাঁকে দিয়ে। এখন তিনি তীরের শয্যায়, তীরগুলোই তাঁকে ধরে রেখেছে, তীরগুলোই তাঁকে রাজা করেছে, রাজত্ব করছে তাঁর দেহের ওপর। রাজত্ব করার ক্রিয়া।

    ...ভাইয়ের মুখ। অনেক ভাই। রক্তে মাখা মুখ, ঘামে ভেজা মুখ, হাসিতে উজ্জ্বল মুখ। তারা কথা বলে, কিন্তু কথাগুলো পৌঁছায় না, শব্দগুলো আগেই মারা যায় বাতাসে। তাদের দিকে তাকানো হচ্ছে, কিন্তু দৃষ্টি ভেদ করে যায়, পিছনের সেই ধূসরতায় গিয়ে ঠেকে। তারা সবাই এক, এবং অনেক। তাদের মধ্যে একজন বিশেষ, যিনি দান করতেন। তাঁর দিকে তাকালে চোখ ঝলসে যায়। তিনি এখনো দান করছেন—তাঁর মৃত্যুটি দান, তাঁর ক্ষমাটি দান, তাঁর বিদ্বেষটি দান। দান করা হচ্ছে।

    ...খুব ক্লান্তি। কিন্তু ক্লান্তি বলতে একটি অনুভূতি নয়, এটি একটি অবস্থা, একটি ক্রিয়ার বিরতি নয়, একটি ভিন্ন প্রকারের ক্রিয়া—ক্লান্ত হয়ে পড়া হচ্ছে। এটি একটি সক্রিয় পতন। পেশীগুলো আলগা হয় না, তারা নতুনভাবে টানটান হয়, ক্লান্তির টানে। মাথা ভারী, কিন্তু ভারী হওয়ার অনুভূতি নেই, আছে ভারী হওয়ার বাস্তবতা। চিন্তা গতিহীন, তারা একটি অন্ধকার কুয়োর গায়ে আটকে থাকা শৈবালের মতো, নড়ে, কিন্তু যায় না.

    ...রাত্রি নামে। নামার ক্রিয়া সম্পন্ন হয় না। রাত্রি এবং দিবস একসাথে অবস্থান করে, একটি অর্ধেক আলোকিত, অর্ধেক অন্ধকার রাজ্য। এই রাজ্যে ছায়ারা কথা বলে। তারা সেই সারথির কণ্ঠস্বর নকল করে, কিন্তু বিকৃত করে। তারা বলে: “কেন?” “কিসের জন্য?” “কোথায় গেলে?” প্রশ্নগুলোর উত্তর নেই, কারণ প্রশ্ন করাই উদ্দেশ্য, উত্তর নয়। প্রশ্ন করার ক্রিয়া চলমান।

    ...প্রেমের কথা মনে পড়ে। কিন্তু প্রেম একটি ব্যক্তি নয়, একটি ক্রিয়া—ভালোবাসা হয়েছিল, হচ্ছে, হবে। ভালোবাসার বিষয়বস্তু অস্পষ্ট। হয়ত একটি রূপ, একটি হাসি, চুলের গন্ধ, সিঁদুরের রেখা। কিন্তু সেসব স্মৃতি এখন ধোঁয়ায় মোড়া। ভালোবাসা এখন ধোঁয়া হওয়ার ক্রিয়ায় রূপান্তরিত। ধোঁয়া গলা আটকে দেয়, চোখ জ্বালা করে, কিন্তু একই সাথে এটি একটি আবরণ, একটি সুরক্ষা।

    ...হঠাৎ একটি তীব্র অনুভূতি—দায়িত্ব। কিন্তু দায়িত্ব কার উপর? কীসের জন্য? দায়িত্ব একটি অদৃশ্য বোঝা, যা কাঁধে চাপায়, কিন্তু কাঁধ বলে কিছু থাকলে। দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে, কিন্তু পালনের পদ্ধতি অজানা। হয়ত এই হাঁটাই দায়িত্ব পালন। হয়ত থামাই দায়িত্বভঙ্গ। তাই হাঁটা চলতে থাকে, থামার সম্ভাবনাকে অস্বীকার করে।

    ...স্বপ্ন আসে, কিন্তু স্বপ্ন এবং জাগরণের মধ্যে পার্থক্য লুপ্ত। স্বপ্নে দেখা যায় সেই যুদ্ধ, কিন্তু যুদ্ধ শান্ত, নিঃশব্দ, ধীর গতির। তিরগুলো উড়ে আসে বুকের দিকে, কিন্তু বুক ভেদ করে না, বুকের ভিতর দিয়ে চলে যায়, অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, কোনো ক্ষত সৃষ্টি না করে। ক্ষত সৃষ্টি হওয়ার ক্রিয়া বাতিল হয়ে গেছে। শুধু তিরের গতি, একটি নন্দনতাত্ত্বিক রেখা বাতাসে আঁকা।

    ...সারথি আবার উপস্থিত, কিন্তু এবার তিনি রথে নেই, তিনি হাঁটছেন পাশে, কিন্তু তাঁর পা মাটি স্পর্শ করে না। তিনি বলেন: “এটাই ধর্ম।” কিন্তু “এই” বলতে কী বোঝায়? এই হাঁটা? এই ক্লান্তি? এই সন্দেহ? ধর্ম শব্দটি বাতাসে কাঁপে, তার কম্পন অনন্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ধর্ম একটি শব্দ নয়, একটি কম্পন, একটি ফ্রিকোয়েন্সি যা সমস্ত কিছুর সাথে মিশে যায়।

    ...চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি প্রাসাদ। পুড়ছে। লেলিহান শিখা, তাপ অনুভূত হয় না। শিখার ভিতরে নাচছে মানুষ, তারা আনন্দে নাচছে, না বেদনায়? তাদের মুখ বিকৃত, কিন্তু বিকৃতিই এখন তাদের স্বাভাবিক অভিব্যক্তি। প্রাসাদ পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ছাই থেকে আবার প্রাসাদ গড়ে উঠছে, একই সাথে পোড়া এবং গড়ার কাজ চলছে। এটি সৃষ্টি এবং ধ্বংসের একই মুহূর্ত, একই ক্রিয়া।

    ...ভয় হয়। ভয় একটি ক্রিয়া—ভয় করা হচ্ছে। কিন্তু কিসের ভয়? ভয়ের উৎস অজানা। হয়ত ভয় এই যে, এই হাঁটা একদিন থেমে যাবে। হয়ত ভয় এই যে, এই হাঁটা কখনো থামবে না। উভয়ই সমান ভয়ঙ্কর।

    ...সূর্য ওঠে, কিন্তু ওঠার ক্রিয়া সম্পন্ন হয় না, সূর্য স্থির, পৃথিবী ঘুরছে, কিন্তু পৃথিবীও স্থির, আমি ঘুরছি, আমার চারপাশে ঘুরছে মহাবিশ্ব। একটি চক্র। সারথি বলেছিলেন চক্রের কথা। সনাতন চক্র। কিন্তু চক্র বলতে কী বোঝায়? ঘূর্ণন? পুনরাবৃত্তি? মুক্তি? চক্র একটি ক্রিয়া—চক্রায়িত হওয়া।

    ...একটি শিশুর কান্না শোনা যায়। দূর থেকে, খুব দূর থেকে। কিন্তু কেন? ক্ষুধা? ভয়? ব্যথা? নাকি শুধু কান্না করার জৈবিক প্রয়োজন? শিশুর কান্না মিশে যায় একটি ঘোড়ার হ্রেষার, তারা একই সুর। জন্ম এবং মৃত্যুর সুর এক।

    ...আমি কি আমার গন্তব্য জানি? গন্তব্য বলে কিছু আছে কি? গন্তব্য একটি ক্রিয়া—গন্তব্যে পৌঁছানো হচ্ছে। কিন্তু পৌঁছানো এবং না-পৌঁছানো এক। তাই হাঁটা চলতে থাকে, গন্তব্যহীন, কিন্তু গন্তব্যপূর্ণ।

    ...সারথি হাসেন। তাঁর হাসি এখন বাতাস, এখন জল, এখন মাটি। তাঁর হাসি আমার হাঁটা। আমি তাঁর হাসির একটি প্রকাশ। তিনি হাসছেন, কারণ এটি সবই একটি খেলা, একটি মহান, ভয়ঙ্কর, সুন্দর খেলা, যার নিয়ম বদলে যায় প্রতিক্ষণ, এবং সেই পরিবর্তনই একমাত্র নিয়ম। খেলা চলছে। খেলা করা হচ্ছে।

    ...আমি হাঁটছি। আমি হাঁটছি না। হাঁটা হচ্ছে। হওয়া হচ্ছে। হচ্ছে। শব্দের গোলকধাঁধায়, ক্রিয়ার জঙ্গলে, কালের সমুদ্রে, একটি অনামী, নির্বাক, অনন্ত যাত্রা। শুরু হয়নি, শেষ হবে না, আছে শুধু এই বর্তমান, এই চলমান, এই ক্রিয়ার অস্তিত্ব, যা নিজেকে ধ্বংস করে তৈরি করে, তৈরি করে ধ্বংস করে, একটি অনির্বচনীয়, অপরিবর্তনীয়, চিরন্তন ক্রিয়া-বিশেষ্য, যা “হওয়া” থেকে “হচ্ছে”-তে রূপান্তরিত, কিন্তু কারো জন্য নয়, কিছুর জন্য নয়, শুধু হওয়ার তাগিদে, শুধু ক্রিয়ার আধারে, শুধু এই অনামী, এই নামহীন, এই শূন্যতা যা পূর্ণ, এই পূর্ণতা যা শূন্য, এই হাঁটা যা স্থিরতা, এই স্থিরতা যা হাঁটা।

    (শেষ হয় না।)
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন