এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • কথা দুমিনিটের 

    SHANKAR BHATTACHARYA লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ৫৮ বার পঠিত
  • এই আর্টিকল #: 34128 
    কথা বলার সময় মাত্র দু মিনিট 
     
     
    আমাদের বাড়ি 
    ***************
    আমাদের বাড়ি ঘর আমাদের পরিচয়পত্র নিয়ে 
    আমরা এখন লাইনের সারি,
    আমাদের কথা বলার সময় মাত্র দু মিনিট,
    ইন্দ্রপ্রস্থের নৈতিকতার লগ্নি এখন জাতপাতে,
    ফাঁকা থাকে না সূচাগ্র মেদিনী ধর্মের আগ্রাসী মন্ত্রে,
    আমাদের বাড়ি মানে বিবেক বুদ্ধি বর্জিত রাজনীতির জমিদারি।
     
    আমাদের বাড়ি মানে 
    সুফলাং জাতপাত, 
    বাড়ি ঘরে 
    সুজলাং হিংসার বিষয়ীভূত চুনকাম– মলম!
    আমাদের পরিচয়ের অর্থ হলো 
     “কুসংস্কার আর প্রাচীন পুঁথিপত্র ঘেঁটে 
    বিশেষ ভাবে উৎপাদিত জাতপাত “!
     
    আহঃ কি দিন স্বপ্নে আসছে!
    জয় শ্রীসর্বনাম।
    হা হুতাশের দিন শেষ —
    নেই অর্থাভাবের চিন্তা,
    জাতপাতের খাঁড়িতে— লাইনের সারিতে 
    দীন দরিদ্র মানুষ খুশিতে ভাসছে।
     
    সভ্যতা এখন জাগতিক হিংসা বিদ্বেষ নিয়ে 
    সংরক্ষিত জাতপাতের বনাঞ্চল,
    শিক্ষিত ধর্মান্ধ ব্যাঘ্রকূল শিকারের সন্ধানে,
    জাত বেছে নরমাংস বড় সুস্বাদু উপাদেয়,
    আমরা এখন লাইনের সারিতে,
    পরিচয় পত্র নেবে ব্যাঘ্রকূলের কর্মকর্তারা!
     
    ইতিমধ্যে নির্দেশ এসেছে
    বাড়ীতে উড়াতে হবে ধজ্বা,
    জমিদারের চেহারা ঘাড়ে গর্দানে মহিষের মতো,
    অশিক্ষিত, ধর্মান্ধ,
    ক্রোধোন্মত্ত' আঁখি,
    বিবেক ও বুদ্ধির নেই নিয়ন্ত্রণ,
    ভাষা তরল পদার্থ – শুনলে লাগে ঝাঁকি!
     
    আমরা সবাই বিশেষ ভাগ্যবান, 
    ইন্দ্রপ্রস্থের তাহারা আসিয়া গাহে মহিষের জয়গান!
     
    জাতপাতে যত টাকা লাগবে – দেবে,
    চক্ষু মুদে 
    দুর্নীতি দমনে প্রতিষ্ঠানগুলো নিদ্রায় থাকবে।
     
    ইন্দ্রপ্রস্থে পাশার চালে পুর্বে প্রতিশ্রুতি ছিল লাখখানেক বড় অংকের টাকা— 
    আমি চুল্লুখোর বেচালাল ছিলাম তাদের ভরসাতেই, 
    বুঝিনি মাতাল কেও তারা দিতে পারে ধোঁকা!
     
    দাঁড়িয়ে আছি পিতৃপুরুষের জমিজমা দলিল এবং পরিচয় পত্র নিয়ে লাইনের সারিতে,
    দেখছি দাঁড়িয়ে আছেন মা – সন্তানদের পেটে ধরেছেন তার প্রমাণ দিতে হবে!
    দেখছি দীর্ঘ লাইনের সারিতে 
    অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে থেকে 
    কেউ ধপাস করে পড়লো— 
    সটান চলে গেল স্বর্গে।
     
    শুনছি কেউ ভিটেয় পৌঁছেও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য 
    নিজেকে ঝুলিয়ে অতঃপর পৌঁছে গেছে মর্গে।
    সদ্য স্বামীহারা এসেছেন সমন পেয়ে লাইনে দাড়াতে।
     
    বুঝতে পারছি — বিচার ব্যবস্থায় “সময়” জামিন অযোগ্য, সময়ের মূল্য নাই বা থাকল,
    কিন্তু মানুষের জীবন?
     
    সহায় সম্বল হীন দরিদ্র নাগরিক,
    অথর্ব, জরাগ্রস্ত, কোনরকমে নড়াচড়া,
    প্রতিদিনের ক্ষুধা জারি করে সমন।
    প্রতিদিনের রুটি-রুজি যাদের অনিশ্চিত,
    তবুও আজ লাইনের সারিতে তারা—
    স্বৈরাচারের হুকুমে।
     
    যদি সভ্যতার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ হয় খামখেয়ালি 
    পনায়, বন্য স্বভাবের আধিক্যে,
    ইন্দ্রপ্রস্থ কি বলে?
     
    শাসকের ইন্দ্রিয়গুলোতে বাসনা কামনা ক্ষমতার লোভ থেকেই যায়, বৃদ্ধি পায়, ঐ নিয়েই দেশ শাসনে ইন্দ্রপ্রস্থের ইতিহাস‌।
     
    সময়ের অন্তরাল থেকে যারাই এসেছে
    তারা সবাই ঘটনা, ভাবমূর্তিতে পরম্পরা।
    সাধারণ মানুষের অর্থে সুখ ভোগ,
    নিখরচায় আহার বিহার,
    বিলাশ পূর্ণ চালচলন ব্যতিরেকে 
    উন্নত মানুষ —- বিরল, কদাচিৎ দেখা যায়।
    জ্ঞানে বিজ্ঞানে শিক্ষায় দৃঢ়চেতা কর্মঠ সাধারণ মানুষ পান না সম্মান, পান না সমর্থন কর্ম রূপায়ণে,
    অথচ ইন্দ্রপ্রস্থে ধর্ম নাকি ন্যায় ও সত্যের দাঁড় টানে !
     
    জাতপাতের ধজ্বা উড়াতে হবে তড়িঘড়ি!
    যত টাকা লাগবে দেবে—-
    মাইক বাজবে আলো জ্বলবে, 
    প্রশ্নাতীত ইন্দ্রিয় গুলো ইচ্ছা মতো যত্রতত্র 
    যানে চড়ে উড়ে বেড়ায় টাকার থলি হাতে!
     
    ধর্মে নাকি বলা হয়েছে অর্থ, সম্পদ, সুখ ভোগ, জাতপাত, কুসংস্কার, হিংসা, বিদ্বেষ— শ্রম নিবিড় সম্পর্ক, এই ভাবেই ধর্মের পালে হাওয়া দিয়ে ক্ষমতা জলে স্থলে গগনে রূপ পেয়েছে!
     
    নাগরিক হয়ে সেই রূপ দেখতে ঘর বাড়ি ছেড়ে আমরা এখন লাইনের সারিতে,
    কথা দুমিনিটের!!
    —- শংকর ভট্টাচার্য্য ✍️ ২৯/০১/২৬
    প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা (Contextual Explanation)
    এই কবিতাটি সমসাময়িক ভারতের সামাজিক–রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে উৎসারিত হলেও এর বক্তব্য কেবল একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র, এবং রাষ্ট্র–নাগরিক সম্পর্কের অবক্ষয়—এই বৃহত্তর প্রবণতাগুলির দিকেও ইঙ্গিত করে।
    কবিতায় বারবার ফিরে আসা লাইনের সারি (Queue) নাগরিকদের উপর আরোপিত আমলাতান্ত্রিক সহিংসতার প্রতীক। এখানে মানুষ আর ব্যক্তি নয়—সে একটি ফাইল, একটি নম্বর, অপেক্ষমাণ একটি দেহমাত্র।
    পরিচয়পত্র শুধু প্রশাসনিক প্রয়োজন নয়; এটি নাগরিকত্বের শর্তাধীনতা, নজরদারি রাষ্ট্র এবং কল্যাণমূলক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বাছাই ও বর্জনের প্রতীক।
    “কথা বলার সময় মাত্র দু মিনিট”—এই বাক্যটি আধুনিক গণতন্ত্রের ভণ্ডামিকে প্রকাশ করে। নাগরিকদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়, কিন্তু সেই কথা শোনার কোনো ইচ্ছা বা দায় রাষ্ট্রের নেই। এটি অংশগ্রহণের অভিনয়, বাস্তবে সংলাপের অনুপস্থিতি।
    কবিতাটি মূলত সমালোচনা করে—
    ধর্ম, জাতপাত ও রাষ্ট্রক্ষমতার পারস্পরিক সংযুক্তি
    যন্ত্রণাকে স্বাভাবিক ও ধর্মীয় আচার–অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য করে তোলার প্রক্রিয়া
    দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও মৃত্যুকে প্রশাসনিক নিয়মের ভেতর বন্দি করে রাখার রাষ্ট্রনৈতিক প্রবণতা
    এই কবিতায় রাষ্ট্র কেবল শাসক নয়—রাষ্ট্র একটি মঞ্চ, যেখানে কষ্ট, ভয় ও আনুগত্যকে নিয়মিত দৃশ্যপটে রূপান্তর করা হয়।
     
    প্রধান রূপক ও ধারণার ব্যাখ্যা (Key Metaphors Explained)

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • SHANKAR BHATTACHARYA | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:১৬738164
  • প্রধান রূপক ও ধারণার ব্যাখ্যা (Key Metaphors Explained)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে মতামত দিন