এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • হ‍্যাপিনেস ডল

    Manali Moulik লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ১০২ বার পঠিত
  • পর্ব ১ | পর্ব ২
    || ১ ||

    বড়ো রাস্তা পার হয়ে এই মাঝারিমাপের গলিটায় প্রবেশ করা এক বিপদ পথচারীদের কাছে। ঝলমলে হাইওয়ে আর যানবাহনের কলরব থামতে থামতে মুখে মিলিয়ে যাওয়া চকোলেটের টুকরোর মতো হারিয়ে যায়, আর ঝিমধরা অন্ধকার - নৈঃশব্দ‍ জাঁকিয়ে বসে। ইঁটের পাঁজরা বের করা দুটি বাড়ি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। ভেঙেচুরে তাদের উভয়েরই অবয়ব হয়েছে বীভৎস, কার্নিশ খসে পড়ায় ডানদিকের বাড়িটাকে মুখ ফেরানো শক্ত চোয়ালের মনে হয়। যেন দুজনেই যেদিকে দুচোখ যায় চলে যেতে পারলে বাঁচে, নেহাৎ দেওয়াল জোড়া বলেই সে অবকাশ নেই। পড়ন্ত বিকেলে ট‍্যাক্সিটা এসে থামলো এই জোড়াবাড়ির সম্মুখে। আকাশ তখন আটপৌঢ়ে রোদের শাড়ি গায়ে জড়িয়ে শেষ রক্তিমতাটুকু মুছে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথ ধরছে। ট‍্যাক্সির দরজা খুলে প্রথমে এসে নামলেন এই প্রৌঢ় ভদ্রলোক। একবার পুরো ট‍্যাক্সিটাকে বেড় দিয়ে ঘিরে পরের দরজায় হাত দিয়ে ডাকলেন, "নেমে আয়, আমি ততক্ষণে ওপরে খবরটা দিয়ে আসি।"

    তবু দরজাটি খোলার শব্দ আর ট‍্যাক্সিচালকের ক্রমাগত বিড়ি খাওয়ার দৃশ‍্য ছাড়া কাউকেই দেখা গেলো না। দেয়ালে-দেয়ালে জুড়ে নিতান্ত অনিচ্ছাসত্ত্বেও দাঁড়িয়ে থাকা বাড়িদুটোও যেন অপার বিস্ময়ে এদিকে তাকিয়ে আছে। পথ ভুল করা পথিক, নিতান্ত দুর্ভাগা বাসিন্দারা আর ফেরিওয়ালা ছাড়া এদিকে তেমন কেউ আসে না। অধিকাংশ জীর্ণ বাড়িই তালাবন্ধ। 'ভদ্রাসন' বললে তা শুনতে 'অভদ্রতা' বোধ হয়।সেখানে এই শেষ বিকেলে ধোপদুরস্ত ট‍্যাক্সি চড়ে কেউ আসতে পারে নাকি? চেকশার্ট আর সাদা পাজামা পরিহিত প্রৌঢ় তখন সেই জোড়াবাড়ির ডানদিকের আধখোলা দরজাটি সম্পূর্ণ খুলে সিঁড়ি দিয়ে উধাও হলেন। ক‍্যাঁচকোঁচ শব্দে প্রাচীন দরজার বন্ধনমোচন, কিছুটা ধুলোর উড়ে যাওয়া আর বৃদ্ধের পদশব্দে একটা সাদা বেড়ালের ছুটে পালানো ছাড়া আর কিছুই দৃশ‍্যমান হলো না। ট‍্যাক্সি যেখানে দাঁড়িয়েছে, সেখান থেকে সামান‍্য দূরের মাঠে একটা বকুলগাছ। তাতে সহস্র পাখির কিচিমিচি, মাঠের শেষপ্রান্তের আকাশে কমলারঙের শেষ রোদের তুলির টান। ট‍্যাক্সির যে দরজাটি থেকে কাউকে নেমে আসতে আহ্বান করে গিয়েছিলেন প্রৌঢ়, হয়তো সেই ব‍্যক্তি এবার দ্রুতহাতে দরজা খুলে নেমে দাঁড়ালো। ট‍্যাক্সিচালক নিজের আসনে বসে বলে ওঠে, "ইঁহাসে কেয়া পৈদল যায়গা বাবুসাব?"
    -- "জরুর। ওহি তো হ‍্যায় মেরা ঘর।" আরোহী জীর্ণ জোড়াবাড়িটির দিকে হাত দেখায়। তারপর দুটি পাঁচশো টাকার নোট চালকের হাতে দেয়। ট‍্যাক্সি নিষ্ক্রান্ত হলে জীর্ণ প্রাসাদের অশথশাখার উপর যে বিকেলের রোদ পড়েছিলো, তা যেন তার সর্বদেহে ফুলের রেণুর মতো ছড়িয়ে পড়ে স্বাগত জানালো। ব‍্যক্তিটিকে তরুণ বলা চলে না। আবার প্রৌঢ়ত্বের বিন্দুমাত্র চিহ্ন তার কোনো অংশে নেই। হঠাৎ দেখলে মনে হয়, তারুণ‍্যের প্রচন্ড আবেগ ও উচ্ছ্বলতার শেষ ধাপে দাঁড়িয়ে সে হেলান দিয়েছে প্রৌঢ়ত্বের বিচক্ষণতা ও অভিজ্ঞতার স্তম্ভের গায়ে। মেধা ও তীক্ষ্মতার ছাপ মুখে প্রতীয়মান, চোখ স্বপ্নসাগরে ভাসমান দীপময় নৌকার মতো। নির্দিষ্ট দিকজ্ঞান আছে, আছে উজ্জ্বলতা, আবার অতল স্বপ্নসলিলের নীলাভ ছোঁয়া তাকে অতুলনীয় করেছে। স্নিগ্ধ নীলরঙের পাঞ্জাবী চোখের সঙ্গেই বোধহয় সাদৃশ‍্য রেখে নিজেকে বিকেলের পটভূমিতে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। ট‍্যাক্সি যাওয়ার পর দীর্ঘদেহী এই মানুষটি তার অনাবিল চোখদুটিকে অপার বিস্ময়ে তুলে ধরে স্বগতোক্তি করলো, "একই আছে সব।"
    জীর্ণ বাড়িদুটো আর শ্রীহীন বকুলগাছটার ওপর যদিও সূর্যের শেষ রশ্মিপাতে লাল - আভা ধরেছিলো, কিন্তু যেন মনে হলো তারা ওর দৃষ্টি দেখেই এক অনাস্বাদিত লজ্জায় রক্তিম হয়ে উঠলো। দীর্ঘ অদেখার পর দয়িতের সন্নিকটে প্রেমিকার যেমন অপ্রস্তত অবস্থা হয়, এদেরও তেমনি। প্রৌঢ় ভদ্রলোককে আবার ওপর থেকে হন্তদন্ত হয়ে নামতে দেখে সে প্রশ্ন করে, "কী হলো বড়কাকু?"
    প্রৌঢ়ের কথা বলার ভঙ্গি খুব দ্রুত। একহাতে তার হাত ধরে অপর হাত নেড়ে প্রায় নাটকের ভঙ্গিতে বললেন,
    "পিতার সমীপে পুত্র যাইবে তাহার আবার স্থানকাল নির্বাচন! আমাকে বাজে বকাসনে বাবু, দাদা আমার ওপর খচে ব‍োম হয়ে যাবে। চল শিগগির।"
    -- "তোমাকে জিজ্ঞেস করলো না যে, কেন এসেছি ; কী বৃত্তান্ত?" তার কন্ঠস্বর যথেষ্ট গভীর অথচ উচ্চারণভঙ্গী পরিশীলিত। প্রত‍্যেকটি শব্দ কাটা কাটা, স্পষ্ট ও স্বচ্ছ।
    প্রৌঢ়ের হাতের বাঁধন শিথিল হলো। ব‍্যথিত স্বরে তিনি বললেন, "বাবু, কী জানিস তো, মানুষমাত্রই ভুল করে। মায়ার জীব, সংস্কারের দাস। তোর মতো পড়াশোনা আমার নেই, তবু বলি -- মানুষের মন না বুঝলে জগতে টেকা যায় না।"
    দীর্ঘদেহী পুনরায় বৃদ্ধের হাতটা চেপে ধরে গাঢ়স্বরে বলে, "চলো।"
    ক‍্যাঁচ শব্দে ভারী পাল্লার দরজা খুলে যায় আবার। সিঁড়ির অন্ধকার, মাকড়সার জাল বোনা বোধহয় আগন্তুককে দেখেও থামে না। কতো সিঁড়ি পৃথিবীতে, কোনোটায় মানুষ উঠছে, কোথাও বা দাঁড়িয়ে হাহাকারে বলছে, "আমি কতো নীচে নেমে গেলাম!"
    অদৃশ‍্য সেসব সিঁড়ি নয়, সেনবাড়ির পাথুরে খাড়াই সিঁড়ি পেরিয়ে তারা এলো একটি শোওয়ার ঘরে। বেশ বড়ো ঘরটি। পুরোনো আসবাবে ঠাসা। পেন্ডুলাম যুক্ত ঘড়িটা দেখলে অজান্তেই মনে আসে ব্রিটিশ আমলের কথা। পালঙ্ক ধরণের বিশাল বিছানায় মেদবহুল চেহারার এক বৃদ্ধ। বালিশের সাহায‍্যে খাটে হেলান দিয়ে বসেছেন, গলা পর্যন্ত কম্বল টেনে। চশমার আড়ালে তার চোখদুটি আরো গোলাকার ও প্রখর দেখায়। প্রৌঢ় ঘরে প্রবেশ করেই দীর্ঘদেহীকে ইশারা করে। নিজের পরিচিত গন্ডি যদি সময়ের ব‍্যবধানে অপরিচিত হয়ে যায়, তবে মানুষ যেমন কুন্ঠা নিয়ে প্রবেশ করে, তেমনই দ্বিধাজড়িত ভাবে সে যেন বসলো খাটের সামনের চেয়ারে। প্রৌঢ় আশঙ্কা করেছিলেন হয়তো শয‍্যাগত মানুষটি আবেগে উদ্বেল হয়ে উঠবেন, কান্না ও হইচই করা সম্ভাষণে পুত্রকে স্নেহের স্রোতে ভাসিয়ে দেবেন, সেই ঘোরতর স্নেহপ্রাবল‍্য বন্ধ করতে কিছু কথা মনে মনে আগে থেকেই সাজিয়ে এনেছিলেন তিনি। সেগুলো জলে গেলো। বৃদ্ধ কেবল আরেকটু সোজা হয়ে বসে তার দিকে তাকালেন।
    -- " সময়, বুঝলে ভায়া, সময়ের চাল বোঝা বড়ো শক্ত। দ‍্যাখো না কেন, ছেলেকে নিমন্ত্রণ করে বুড়ো বাবার শয‍্যাস্পার্শে আনতে হয়। তা সে নিমন্ত্রণের বরকর্তাও তুমি, কনেকর্তাও তুমি।"
    প্রৌঢ় মুখে অমায়িক হাসি টেনে আনেন। একটানা কথা বলে টেবিলে রাখা কাঁসার গ্লাস থেকে জল খেলেন বৃদ্ধ। সরাসরি আত্মজের দিকে তাকিয়ে স্নেহসিঞ্চিত স্বরে বললেন,
    -- " কেমন আছো, বীতশোক?"
    সে উঠে পা ছুঁয়ে প্রণাম করে। আশীর্বাদের ভঙ্গীতে বৃদ্ধ হাতটা তুললেন। কিন্তু একই জায়গায় বসে থাকার কারণে পুত্রের মাথা পর্যন্ত তা গেলো না। বীতশোক নিজের জায়গাত ফিরে এসে বসে।
    -- " চলে যাচ্ছে একরকম।"
    প্রৌঢ় দরজার পাশ থেকে এগিয়ে এসে এতোক্ষণে মুখ খোলেন,
    -- " তা এখন আছিস কোথায়? সেই জামসেদপুরে? নাকি কলকাতার দিকে ফ্ল‍্যাট-ট্ল‍্যাট নিয়েছিস? "

    সে মাথা নাড়লো যেভাবে তার অর্থ হ‍্যাঁ অথবা না দুই-ই হতে পারে। মুখে বললো, "জামসেদপুরে ইস্তফা দিয়েছি, সে তো তোমাকে আসতে আসতেই বললাম। সেই ভাড়াবাড়িটাতেই আছি। যেখানে আগে তিনজন ছিলাম, আজ একজন। ভাড়াটাও রেসিও অনুযায়ী কমেছে। কিন্তু বাড়িওলার সঙ্গে সদ্ভাবটা কমেনি।"
    কথা শেষ করে নিজের মনেই হেসে ওঠে সে। বৃদ্ধের বিস্ফারিত চোখদুটি আরো গোল হয়ে ওঠে।
    -- " সেই ভাড়াবাড়িতে....মানে রাণাঘাটেই ছিলে এতোদিন? একটা সংবাদ দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করোনি তাও? "
    -- " সংবাদ দিয়েই তো এলাম।" স্মিত হেসে সে উত্তর দেয়। বলে, "আসলে কী জানো তো, একটা অপরাধবোধ আসা থেকে বিরত করছিলো। তার চলে যাওয়াতো রাণাঘাটের ওই বাড়িটাতেই। তাই ওখানকার দরজায় তালা দিতে গিয়ে মনে হতো, সে ভাবছে কিছু। ভাবছে, ' ও! আমিই তবে এতোদিন নিজের বাড়ি যাওয়া থেকে তোমাকে আটকে রেখেছিলাম! আপদ চুকলো, আর গুড বয় ভ্রম সংশোধনে ছুটলেন।"
    দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটু হাসলো সে।
    -- " না, ভ্রম কীসের!" পুত্রের শ্বাস পিতার মধ‍্যেও সংক্রামিত হয় যেন। কাঁসার গ্লাস যথাসম্ভব শব্দ বাঁচিয়ে টেবিলে রাখলেন তিনি।
    -- " অনেক আধুনিকাদের চোখেই তুমি আদর্শ পুরুষ হতে পারবে। স্ত্রীর কথায় এতোবড়ো উত্তরাধিকার, বংশমর্যাদা, এমনকি বাবা-মাকে ছেড়ে যেতেও দু-বার ভাবোনি! তারা তো এমনটাই চান! তাছাড়া ----"
    ওনাকে কথা শেষ করতে না দিয়ে প্রৌঢ় হইহই করে ওঠেন "তোমার ব‍্যাপার কী বলো তো দাদা? এতো কষ্টে ছেলেটাকে আনতে পারলাম আর আসা ইস্তক তুমি পুরোনো কাসুন্দি ঘাঁটছো?"
    লজ্জিত মুখে বৃদ্ধ বললেন, "না না, অন‍্যায় হয়েছে ভায়া। আসলে দীর্ঘদিন পরে কথার পিঠে ওরকম সুখ-দুঃখের কথা উঠে আসে। সুখ----সে আর কোথায়! দুঃখের কথাই ধরে নাও।"
    --"আমি কিন্তু দুঃখে নেই, বাবা।" বীতশোক বলে।
    বৃদ্ধ আবার হেসে ওঠেন।
    --- "তা থাকবে কেন, বাবা? কথায় বলে, খায় লয় চাঁদ রায়ের / নাম লয়ে কেদার রায়ের। বলেছিলাম কিনা, সুশিক্ষার একটা গুণ আছে? সেসব তো আর এমন কেউ দিতে পারে না যার নিজের সহবৎ জ্ঞান নেই। "
    অকস্মাৎ নিজের চেয়ার ছেড়ে বীতশোক উঠে দাঁড়ায়। প্রৌঢ় ঠিক এই আশঙ্কাই যেন করছিলেন। তিনি এগিয়ে আসতেই বীতশোক সরাসরি তাকিয়ে বলে, "বড়কাকু, প্রসঙ্গ না বদলালে আমাকে এবার উঠতে হবে।"
    -- " জানতাম আমি। চল তো, আমরা দুর্গাদালানে ঘুরে আসি একবার। দাদার কান্ডজ্ঞান এজন্মে আর হবে বলে আমি আশা রাখি না।"
    উভয়েই ঘরটি থেকে বেরিয়ে গেলে বৃদ্ধ বিষণ্ন হাসলেন। মাথাটা বালিশে এলিয়ে দেন আগের মতো। শেষ বিকেলের একচিলতে রোদ জানালার কাঁচে ঝিলমিলিয়ে উঠে আসন্ন সন্ধ‍্যার অন্ধকারে মিলিয়ে যায়।

    ( চলবে )
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    পর্ব ১ | পর্ব ২
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • শ্রীমল্লার বলছি | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:২৪737942
  • বেশ পরিণত লেখা। অনেকদিন পরে লিখলেন আবার! ভালো আছেন নিশ্চয়ই! smiley
  • Manali Moulik | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:০৪737946
  • হ‍্যাঁ। ভালোই আছি। ধন‍্যবাদ।
  • প্রবীণ পাঠক  | 165.225.***.*** | ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:৫৫737956
  • মানালী চমকে দিয়েছেন বটে! 
    দেখা যাক কদ্দূর যায় লেখাটা 
  • Manali Moulik | ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫৩737960
  • ধন‍্যবাদ সবাইকে
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ প্রতিক্রিয়া দিন