এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • হ‍্যাপিনেস ডল

    Manali Moulik লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ২৬ বার পঠিত
  • পর্ব ১ | পর্ব ২
    || ২ ||

    সূর্য উঠে পড়েছে কিছুক্ষণ আগে। একটি অ‍্যাম্বাস‍্যাডর গাড়ির ডিকিতে মালপত্র তুলতে ব‍্যস্ত ড্রাইভার। ঘরে ক্রমাগত ব‍্যস্ততার মধ‍্যে বাতাসকে ভারী করে তুলছে একটি বাচ্চা মেয়ের তীক্ষ্ণ কন্ঠের কান্নার শব্দ। ছোট্ট গোলাপীরঙা ব‍্যাগটি আঁকড়ে ধরে হাপুসনয়নে কেঁদে চলেছে সে। মাথায় একটি হাতের স্পর্শ অনুভব করতেই বাবার বুকে মুখ গুঁজে দিয়ে আরো জোরে ফুঁপিয়ে ওঠে সে। 
    -- "যাবো না, আমি কিছুতেই যাবো না। এখানেই থাকবো..."
    একরাশ চুলে ভরা মাথাটা দুহাতে বুকে চেপে ধরে তার বাবা বলে ওঠে,
    -- "এরকম করতে নেই, সোনা। গুড গার্ল তুমি, কতোকিছু বোঝো, এটা বুঝতে পারছো না? জামসেদপুর প্ল‍্যান্টে আমার কাজ রয়েছে তো! তোমাকে কোথায় রেখে যাবো বলো?"
     
    -"আমি যাবো না, যাবো না, যাবো না!...." অবিরল অশ্রুধারার সঙ্গে এবার মেঝেতে পা দিয়ে দুমদাম শব্দ করে ওঠে মেয়ে। তারপর হঠাৎ ডুকরে উঠে বাবার দিকে তাকায়, 
    -- "জামসেদপুরের আকাশে মা নেই।"
    মেয়ের অশ্রুবিধৌত সরল মুখটার দিকে তাকিয়ে তড়িতাহতের মতো বাবা প্রশ্ন করে,
    "কী ? কী বললি সোনা মা?"
    ছোট্ট দুহাতে চোখের জল মুছতে মুছতে সে চেঁচিয়ে ওঠে 
    -"তুমিই তো শিউলি গাছের ওপর ওই তারাটা ব‍্যালকনি থেকে দেখিয়েছিলে, বলেছিলে, ওটাতে মা আছে। জামসেদপুরের আকাশে মা নেই।"
     
    কবে, কোন্ তারাটা চিনিয়ে সে মেয়েকে প্রবোধ দিয়েছিলো, তা বীতশোকের মনে পড়ে না। তবে নিজের অজান্তেই একবার ব‍্যালকনির বাইরের আকাশে তাকায় সে। এখন সকাল দশটা। রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে।কিন্তু নক্ষত্রের যোজনব‍্যাপী দূরত্ব ছাড়িয়ে মনকে ফিরিয়ে আনতেই হয় এই ছোট্ট গ্রহে। তার আহ্নিক ও বার্ষিক গতি আছে, তাই গতির খেয়ালে চলতে হয় মানুষকে, স্থিতির খেয়ালে নয়। ক্রমাগত কাঁদতে থাকা শিশুটিকে প্রায় জোর করে শান্ত করার চেষ্টায় তখন বীতশোক হাঁপিয়ে পড়েছে। ক্লান্ত ডানহাতটা মেয়ের মাথায় দিয়ে গাড়ির সিটে প্রায় ঘুমন্ত মাথাটা হেলিয়ে দিয়েছে বীতশোক। এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে আজই তাকে যেতে হচ্ছে জামসেদপুরের প্ল‍্যান্টে। দিনকতক কলকাতার হোটেলে থাকা, নাহলে কোনোদিনই রাণাঘাট থেকে সব ব‍্যবস্থা করা যেতো না। কানে তীব্র শেলের মতো এতোক্ষণ বিঁধছিলো, 
    "তুমি খুব বাজে বাপী! খুব পচা! আমাকে কেন নিয়ে যাচ্ছো? জামসেদপুরের আকাশে ওই স্টারটা নেই ! মা নেই!  তুমি খুব বাজে!"
    বলিরেখা চোখের কোণে সীমান্ত দাখিল করার বয়স হয়নি বীতশোকের, কিন্তু চোখের জলের ধর্মই হলো সে প্রবাহিত হওয়ার জষ‍্য নির্দিষ্ট একটা উপত‍্যকা খুঁজে নেয়। আর মন শব্দ বিশ্লেষণ করে ভাবতে বসে, কতোটা বাজে একটি মানুষ হতে পারে সারাজীবনে?  যখন দামী ও প্রাচীন আসবাবে পূর্ণ ঘরে দাঁড়িয়ে কেউ বলে, 
    -- "অষ্টাঙ্গ গয়নায় মোড়া পুতুল আমার চাই না। চাকরিটা তার নিজের অর্জন, আর নাস্তিক মেয়ে নিয়ে আপত্তি অন্তত:  ঈশ্বরের নামে বুর্জুগদের করা চলে না। ভক্তি অন্তরের জিনিস, পুতুল খেলার নয়।"
    মনে আছে, একটা বিদেশী কাঁচের ফুলদানির সঙ্গে সশব্দে আছড়ে পড়েছিলো একটি বাক‍্য,   "স্ত্রৈণ কোথাকার!"
    আবার একটি ব‍্যক্তিত্বপূর্ণ নারীকন্ঠের কাটাকাটা উচ্চারণ কি একদিন ভাড়াবাড়ির রঙচটা দেয়ালে আছড়ে পড়েনি? 
    -- "ইউ আর ইমপসিবল্, বীতশোক, ইউ আর জাষ্ট ল‍্যুনাটিক।"
    -- "কী বলছো পারমিতা? কোন্ ল‍্যুন‍্যাসির কাজটা আমি করেছি?"
    গাড়ির গতিবেগের সঙ্গেই তার ঠোঁট বিড়বিড় করে চলে,
    -- "খুব বাজে রে আমি সোনা, সত‍্যিই পচা।"
    তার ভাবনার ঘোর কাটে আবার সেই বালিকারই কলকন্ঠের শব্দে,
    --- "বাপী, বাপী....ওই দ‍্যাখো ওইদিকে..."
    কান্না থেমে গেছে দেখে গাড়িটাকে থামতে বলে ছোট্ট তর্জনির নির্দেশ করা দিকটায় তাকালো বীতশোক। এক ঝালমুড়িওয়ালা। মাথায় রঙিন কাগজের টুপি, পরণে জরিদার ও তালি-মারা রঙবেরঙের বিচিত্র জামাকাপড়। গলায় ঝোলানো অনেকগুলি খোপকাটা বাক্সটায় মুড়ি ও ভেলপুরির হরেক সরঞ্জাম। কৌটো ঠুকে ঠুকে অদ্ভূত তাল দিয়ে গাইছে,
     
        "ঝালমুড়ি বড়ো ঝাল
        খাও তবে ভাত-ডাল
         ভেলপুরিতে লঙ্কা
           পাবে লবডঙ্কা
       চুড়মুড় খাও তরতাজা
       আচার, পেয়াঁজ, ঝুরিভাজা।"
     
    হাততালি দিয়ে মেয়েকে হেসে উঠতে দেখে দীর্ঘসময়ের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে বীতশোক হেসে ওঠে।
    -- কীরে, খাবি ঝালমুড়ি?" একবাক‍্যে মাথা নেড়ে সায় দেয় মেয়ে। তখনই জমে থাকা মেঘ অনেকটা কেটে গিয়েছিলো। কথায় কথায় জানা যায়, লোকটির নাম রমানাথ। এই রাস্তার মোড়ে মুড়িমাখা বিক্রি করাই তার পৈতৃক পেশা। প্ল‍্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে বীতশোককে যে কোয়াটার্স দেওয়া হয়েছিলো, তার দূরত্ব বড়ো রাস্তা থেকে খুব বেশী নয়। একটু এগিয়েই কোয়াটার্সের লনে রয়েছে ছোটো ছেলেমেয়েদের খেলার মাঠ। তার অনুরোধে রোজ বিকেলে এখানে এসেই মুড়ি বিক্রি করতো সে। দিব‍্যি ব‍্যবসা চলতো,  আবার বিতস্তা হোমওয়ার্কের খাতা ছেড়ে মাঝেমধ‍্যে এসে দেখে যেতো 'মুড়িকাকুর'  আজব সব ছড়া কেটে বিক্রিবাটার ধরণ। বীতশোক যখন প্ল‍্যান্ট থেকে ফিরতো, একেকদিন লোকটা বলে যেতো, 
    -- "খুকির মনটা একবারে সকালের আকাশের মতো বাবু, ওকে য‍্যান বকাঝকা করবেন না।"
    মনশ্চক্ষে সেই সকালের আকাশে কোনো শুকতারাকে খোঁজার ব‍্যর্থ চেষ্টা করতো বীতশোক। পারমিতার চলে যাওয়ার দিনটা মনে পড়তো। ডাক্তার মুখার্জী সেদিন ওর চোখের পাতাদুটি বন্ধ করিয়ে দিয়ে বলেছিলেন,
    --- "ভেরি স‍্যাড। মেয়েটা বড্ড ছোটো। মিষ্টার সেন, ওর যেন অযত্ন করবেন না। পুওর চাইল্ড।"
    অথচ কীই বা হয়েছিলো পারমিতার? ডাক্তারের সার্টিফিকেটে যতোই বলুক, 'ক্রনিক হার্ট ডিজিজ', গতসপ্তাহেও সে পূর্ণতেজে বলেছে 
    --- "খামখেয়ালিপনা রাখো বীতশোক!  বিতস্তার কথা ভাবো। একমাত্র মেয়ে আমাদের। চায়ের দোকানের শিশুশ্রমিকের কী হলো না হলো তাতে মধ‍্যবিত্ত গৃহস্থের কিছু যায় আসে না।কটা অসহায়, আর্তকে বাঁচাবে তুমি?"
     
    -- "তা বলে একটা আট-দশবছরের বাচ্চাকে চোখের সামনে দোকানের মালিক যদি মারে, আমি প্রতিবাদ করবো না? পুলিশকে ইনফর্ম করবো না?" রুদ্ধ কান্নায় রাগ আরো বেড়ে গিয়েছিলো বীতশোকের। পারমিতা কিন্তু যথেষ্ট শান্ত উত্তর দিয়েছিলো,  "বোঝার চেষ্টা করো, বীতশোক। মালিক পুলিশের ভয়ে বড়োজোর বাচ্চাটার চিকিৎসার খরচ দেবে। তাছাড়া ওদের বাড়িই এমন যে চায়ের দোকানে, গ‍্যারেজে কাজ করেই ওদের দিন যায়। এসব এতো সিরিয়াসলি নেয় না ওরা। শেষে দোকানের মালিক কিছু টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করিয়ে দেবে। মিটে গেলো। কেন অযথা তুমি নিজেকে জড়াচ্ছো এসবের মধ‍্যে?"
    মুখ ফসকে বীতশোক বলে বসেছিলো,  
    "ভেবে দ‍্যাখো তো, আমাদের বিতস্তার যদি ওইরকম সিচুয়েশন হতো? পারতে এতোটা নির্বিকার হয়ে কথাগুলো বলে যেতে।"
    তখনই ভাড়াবাড়ির রঙচটা দেয়ালে আছড়ে খানখান হয়ে পড়েছিলো পারমিতার তীক্ষ্ণ কন্ঠস্বর,
    -- "ইউ আর ইমপসিবল্, বীতশোক, ইউ আর জাস্ট ল‍্যুন‍্যাটিক।"
    চিন্তার জাল বারবার ছিন্ন হয় যে ডাকটিতে, তা আবার ধ্বনিত হয়ে ওঠে, --- "বাপী, বাপী --- আমাদের স্কুলে প‍্যারাগ্রাফ লিখতে দিয়েছে, 'হ‍্যাপিনেস'। আমি কী লিখবো?"
     
    ( চলবে )
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    পর্ব ১ | পর্ব ২
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন