এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  আলোচনা   সমাজ

  • তসলিমা ও ভণ্ড ভাম!!!

    দীপ
    আলোচনা | সমাজ | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৭ বার পঠিত
  • তসলিমা ও বঙ্গীয় ভামেদের দ্বিচারিতা!
    এদের বামপন্থী বলতে ঘৃণাবোধ হয়!
     
    দিনের পর দিন আমাদের দেশের ভামেরা অবশ্য এসব‌ই করেছেন! ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে ইসলামী মৌলবাদী শক্তিকে তোষণ করেছেন! তসলিমার ব‌ই নিষিদ্ধ করে তসলিমাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়িয়েছেন,
    নাখোদা মসজিদের ইমামকে নন্দীগ্রামে এনে প্রচার করেছেন, আব্বাসের মতো ধর্মোন্মাদকে প্রলেতারিয়েত নেতা বলে তার সঙ্গে জোট করেছেন!
     
    এখনো তাঁদের কোনো লজ্জাবোধ নেই, আত্মসমালোচনা নেই!
     
    বিশ্বাসঘাতকতা ও দ্বিচারিতা এঁদের নিত্যসঙ্গী!
    ধ্বংস‌ই এঁদের অন্তিম পরিণতি!
     
    --------------------------------------------------------------------
     
    পশ্চিমবঙ্গের কিছু দলান্ধ কমিউনিস্ট আমার বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছেন। তাঁরা দেখাতে চাইছেন সিপিএমের লোকেরা বাংলাদেশের জিহাদিদের বিরুদ্ধে খুব পথে নামে। রিয়েলি? বেশ কয়েক যুগ ধরে ইসলামী মৌলবাদিরা যে বাংলাদেশের হিন্দুদের অকথ্য নির্যাতন করে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করছে, জিহাদিরা আমার মাথার দাম ঘোষণা করার পর শাসকেরা যে অন্যায়ভাবে আমাকে দেশ থেকে বিতাড়ন করলো, ব্লগারদের যে কুপিয়ে মারলো জঙ্গিরা, মুক্তচিন্তকরা যে একে একে দেশ ছাড়তে বাধ্য হলো, এখন যে দেশ জিহাদিদের স্বর্গরাজ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে; কদিন তাঁরা এসবের প্রতিবাদ করেছেন প্রগতিশীল শহর কলকাতায়?  
     
    আমি লজ্জা নামে একটি তথ্যভিত্তিক উপন্যাস লিখেছিলাম ৩২ বছর আগে, যে উপন্যাসে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুর ওপর অর্ধশতাব্দী যে নির্যাতন হচ্ছে, তার উল্লেখ করেছি। লজ্জা বইটি বিশ্বের প্রায় ২৫টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এই বইয়ের বিরুদ্ধে সিপিএমের মুখপত্র গণশক্তিতে ধারাবাহিকভাবে নিন্দে ছাপা হয়েছে। নব্বই দশক জুড়ে সিপিএমের পক্ষের পত্রিকা আজকালে লজ্জার বিরুদ্ধে অসংখ্য নিবন্ধ ছাপা হয়েছে। তাঁরা প্রচার করেছেন, লজ্জায় আমি মিথ্যে বলেছি, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর কোনও অত্যাচার হয় না। হিন্দুরা খুব ভাল আছে, সুখে শান্তিতে আছে, এবং মুসলমানরা খুব উদার, অসাম্প্রদায়িক। আমি নাকি লজ্জা কোনও বদ উদ্দেশ্য নিয়ে লিখেছি, ইত্যাদি। আশ্চর্য, তাঁরা তাঁদের দেশের সংখ্যালঘুর পাশে দাঁড়ালে সেটি মহানুভতা, উদারতা, আর আমি আমার দেশের সংখ্যালঘুর পাশে দাঁড়ালে সেটি বদ উদ্দেশ্য? 
     
    ২০০৩ সালে আমার আত্মজীবনীর তৃতীয় খণ্ড দ্বিখণ্ডিত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নিষিদ্ধ করেছিলেন। দ্বিখণ্ডিততে বাংলাদেশের মৌলবাদি অপশক্তির বিরুদ্ধে মুক্তচিন্তকদের প্রতিরোধের কাহিনী লিখেছি। সেক্যুলার সংবিধান পরিবর্তন করে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম আনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি । অথচ বইটিকে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নিষিদ্ধ করেছিলেন। বইটির বিরুদ্ধে গণশক্তিতে প্রচুর লিখেছেন দলান্ধ বুদ্ধিজীবিরা। এপিডিআর বই ব্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। হাইকোর্টে শুনানির সময় সরকার পক্ষের উকিল বলাই রায় একটি যুক্তিও দিতে পারেননি বই ব্যানের পক্ষে। কলকাতা হাইকোর্ট বইটি থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়েছিল। নির্লজ্জ মুসলিম মৌলবাদী তোষণের গালে বড় এক চপেটাঘাত বটে! 
     
    এতে কি তাঁদের কোনও লজ্জা হয়েছে? হয়নি। প্রকাশ্যে আমার মাথার মূল্য ঘোষণা করা বাকস্বাধীনতাবিরোধী নারীবিদ্বেষী ফতোয়াবাজ টিপু সুলতান মসজিদের ইমামের সঙ্গে সিপিএমের দহরম মহরম কিছু কিন্তু কমেনি!   
     
    ২০০৭ সালে সমাজবিরোধী মুসলিমদের রাস্তায় বের করে তাদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অধিকারের পক্ষে লড়াই করা, নারীর সমানাধিকারের পক্ষে সরব হওয়া, মানবাধিকারের পক্ষে আপসহীন সংগ্রাম করা নিজের দেশ থেকে নির্বাসনদণ্ড পাওয়া লেখকটিকে রাজ্য থেকে তো বের করলেনই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, তাঁর প্রিয় প্রণবদাকে দিয়ে দেশ থেকেও বের করেছিলেন। 
     
    সিপিএমের অবস্থান সব সময় মুসলিম মৌলবাদীদের পক্ষেই ছিল দেখেছি। ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমান নির্যাতিত হলে প্রতিবাদ তো করাই উচিত, আমিও করি। কিন্তু সিপিএমকে নারীবিদ্বেষী মুসলিম আইনের পক্ষ নিতে দেখে বড় আহত হয়েছি। সমানাধিকারের ভিত্তিতে ইউনিফর্ম সিভিল কোডের বিরুদ্ধেও তো তাঁরা। হিন্দু নারীরা সমানাধিকার পাবেন এতে তাঁদের সায় আছে, মুসলিম নারীদের সমানাধিকার পাওয়ায় তাঁদের সায় একেবারেই নেই। তাঁরা চান মুসলিমরা তাদের ধর্ম নিয়ে থাকুক, ধর্মে যদি বর্বরতা থাকে, নারীবিদ্বেষ থাকে, তাহলে সেই বর্বরতা আর নারীবিদ্বেষের আবর্জনায় তারা আকণ্ঠ ডুবে থাকুক। মুসলিমদের সভ্য করতে চাইলে ইসলামকে ছলে কৌশলে তাঁরা ডিফেন্ড করতেন না।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন