তসলিমা ও বঙ্গীয় ভামেদের দ্বিচারিতা!এদের বামপন্থী বলতে ঘৃণাবোধ হয়!
দিনের পর দিন আমাদের দেশের ভামেরা অবশ্য এসবই করেছেন! ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে ইসলামী মৌলবাদী শক্তিকে তোষণ করেছেন! তসলিমার বই নিষিদ্ধ করে তসলিমাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়িয়েছেন,
নাখোদা মসজিদের ইমামকে নন্দীগ্রামে এনে প্রচার করেছেন, আব্বাসের মতো ধর্মোন্মাদকে প্রলেতারিয়েত নেতা বলে তার সঙ্গে জোট করেছেন!
এখনো তাঁদের কোনো লজ্জাবোধ নেই, আত্মসমালোচনা নেই!
বিশ্বাসঘাতকতা ও দ্বিচারিতা এঁদের নিত্যসঙ্গী!
ধ্বংসই এঁদের অন্তিম পরিণতি!
--------------------------------------------------------------------
পশ্চিমবঙ্গের কিছু দলান্ধ কমিউনিস্ট আমার বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছেন। তাঁরা দেখাতে চাইছেন সিপিএমের লোকেরা বাংলাদেশের জিহাদিদের বিরুদ্ধে খুব পথে নামে। রিয়েলি? বেশ কয়েক যুগ ধরে ইসলামী মৌলবাদিরা যে বাংলাদেশের হিন্দুদের অকথ্য নির্যাতন করে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করছে, জিহাদিরা আমার মাথার দাম ঘোষণা করার পর শাসকেরা যে অন্যায়ভাবে আমাকে দেশ থেকে বিতাড়ন করলো, ব্লগারদের যে কুপিয়ে মারলো জঙ্গিরা, মুক্তচিন্তকরা যে একে একে দেশ ছাড়তে বাধ্য হলো, এখন যে দেশ জিহাদিদের স্বর্গরাজ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে; কদিন তাঁরা এসবের প্রতিবাদ করেছেন প্রগতিশীল শহর কলকাতায়?
আমি লজ্জা নামে একটি তথ্যভিত্তিক উপন্যাস লিখেছিলাম ৩২ বছর আগে, যে উপন্যাসে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুর ওপর অর্ধশতাব্দী যে নির্যাতন হচ্ছে, তার উল্লেখ করেছি। লজ্জা বইটি বিশ্বের প্রায় ২৫টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এই বইয়ের বিরুদ্ধে সিপিএমের মুখপত্র গণশক্তিতে ধারাবাহিকভাবে নিন্দে ছাপা হয়েছে। নব্বই দশক জুড়ে সিপিএমের পক্ষের পত্রিকা আজকালে লজ্জার বিরুদ্ধে অসংখ্য নিবন্ধ ছাপা হয়েছে। তাঁরা প্রচার করেছেন, লজ্জায় আমি মিথ্যে বলেছি, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর কোনও অত্যাচার হয় না। হিন্দুরা খুব ভাল আছে, সুখে শান্তিতে আছে, এবং মুসলমানরা খুব উদার, অসাম্প্রদায়িক। আমি নাকি লজ্জা কোনও বদ উদ্দেশ্য নিয়ে লিখেছি, ইত্যাদি। আশ্চর্য, তাঁরা তাঁদের দেশের সংখ্যালঘুর পাশে দাঁড়ালে সেটি মহানুভতা, উদারতা, আর আমি আমার দেশের সংখ্যালঘুর পাশে দাঁড়ালে সেটি বদ উদ্দেশ্য?
২০০৩ সালে আমার আত্মজীবনীর তৃতীয় খণ্ড দ্বিখণ্ডিত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নিষিদ্ধ করেছিলেন। দ্বিখণ্ডিততে বাংলাদেশের মৌলবাদি অপশক্তির বিরুদ্ধে মুক্তচিন্তকদের প্রতিরোধের কাহিনী লিখেছি। সেক্যুলার সংবিধান পরিবর্তন করে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম আনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি । অথচ বইটিকে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নিষিদ্ধ করেছিলেন। বইটির বিরুদ্ধে গণশক্তিতে প্রচুর লিখেছেন দলান্ধ বুদ্ধিজীবিরা। এপিডিআর বই ব্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। হাইকোর্টে শুনানির সময় সরকার পক্ষের উকিল বলাই রায় একটি যুক্তিও দিতে পারেননি বই ব্যানের পক্ষে। কলকাতা হাইকোর্ট বইটি থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়েছিল। নির্লজ্জ মুসলিম মৌলবাদী তোষণের গালে বড় এক চপেটাঘাত বটে!
এতে কি তাঁদের কোনও লজ্জা হয়েছে? হয়নি। প্রকাশ্যে আমার মাথার মূল্য ঘোষণা করা বাকস্বাধীনতাবিরোধী নারীবিদ্বেষী ফতোয়াবাজ টিপু সুলতান মসজিদের ইমামের সঙ্গে সিপিএমের দহরম মহরম কিছু কিন্তু কমেনি!
২০০৭ সালে সমাজবিরোধী মুসলিমদের রাস্তায় বের করে তাদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অধিকারের পক্ষে লড়াই করা, নারীর সমানাধিকারের পক্ষে সরব হওয়া, মানবাধিকারের পক্ষে আপসহীন সংগ্রাম করা নিজের দেশ থেকে নির্বাসনদণ্ড পাওয়া লেখকটিকে রাজ্য থেকে তো বের করলেনই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, তাঁর প্রিয় প্রণবদাকে দিয়ে দেশ থেকেও বের করেছিলেন।
সিপিএমের অবস্থান সব সময় মুসলিম মৌলবাদীদের পক্ষেই ছিল দেখেছি। ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমান নির্যাতিত হলে প্রতিবাদ তো করাই উচিত, আমিও করি। কিন্তু সিপিএমকে নারীবিদ্বেষী মুসলিম আইনের পক্ষ নিতে দেখে বড় আহত হয়েছি। সমানাধিকারের ভিত্তিতে ইউনিফর্ম সিভিল কোডের বিরুদ্ধেও তো তাঁরা। হিন্দু নারীরা সমানাধিকার পাবেন এতে তাঁদের সায় আছে, মুসলিম নারীদের সমানাধিকার পাওয়ায় তাঁদের সায় একেবারেই নেই। তাঁরা চান মুসলিমরা তাদের ধর্ম নিয়ে থাকুক, ধর্মে যদি বর্বরতা থাকে, নারীবিদ্বেষ থাকে, তাহলে সেই বর্বরতা আর নারীবিদ্বেষের আবর্জনায় তারা আকণ্ঠ ডুবে থাকুক। মুসলিমদের সভ্য করতে চাইলে ইসলামকে ছলে কৌশলে তাঁরা ডিফেন্ড করতেন না।