এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • যে বাড়িটা কখনও আমার হবে না

    শুভ রায়চৌধুরী লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ | ১৬২ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (২ জন)
  • প্রায় দশ বছর ঘুমিয়ে থাকার পর আমি ঘুম ভেঙে উঠলাম। নিজের গায়ের দুর্গন্ধে ভয় পাচ্ছি, ঘেন্নায় যদি কেউ আমাকে থুতু দেয়! একটা ঘর। বাড়ি। যে বাড়িটা কখনও আমার হবে না
    সেটার কয়েকটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খুলে নিয়েছি, কতটা ঘাম কতটা রক্ত লেগে থাকলে তবে আমার বলা যায়, জিভ দিয়ে চেটে চেটে বোঝার চেষ্টা করছি।
         নোনতা
         বিস্বাদ স্বাদহীন
         আঁশটে গন্ধ
    মাথাটা, মাথাটা... মাথাটায় অসংখ্য শকুন জড়ো হয়েছে। খুবলে খাচ্ছে বিড়ালটাকে... চেটে নিচ্ছিল থাবায় লেগে থাকা রক্ত... আমার নিজের মাংসের জানালা দরজা সিঁড়ি ছাদ ঘরগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে... বাড়িটার মরচের প্রলেপ উঠে গিয়ে থকথকে কাঁচা মাংসের গোলাপি।

    স্মৃতি মহাকর্ষ ছাড়িয়ে ছিটকে পড়ছে, কাদায়। দুর্গন্ধময়, পচা জমা জলে পোকার কিলবিল। দিন কেটে যায়, স্মৃতি একত্রিত করার চেষ্টা করি। মৃত অতীতের কণ্ঠস্বর আমাকে ডাকে। রাতে ধোঁয়ায় ভরা ঘর, সিগারেটের টুকরো ছড়িয়ে। দূষিত। কাপুরুষতা। আমার আত্মসমর্পণ। আমি নিজেকে দেখতে দেখতে ব্যর্থতার চিতাভস্মে পড়ে যাই। বিষাক্ত হাসির একটি দল জানালা দিয়ে উঁকি দিচ্ছে। প্রবেশ করছে পতঙ্গের দল, তাদের কান্না শুনতে শুনতে ঘুমনোর চেষ্টা করি। বেদনার গন্ধ আমার ফুলগুলিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পুড়িয়ে দেয়। ধ্বংস করে দেয় প্রত্যয়। বাগানে ছড়িয়ে থাকে তার ক্ষতচিহ্ন, ছায়া দেওয়ার জন্য আমি চেষ্টা করি। আমি তার সঙ্গে হাতে-হাত রেখে হেঁটেছি। সে চাইত খুনির সঙ্গে আদিম খেলায় মাততে, কবরের ওপর একটা ঘর বানাতে যেখানে গড়ে উঠবে একটা সুন্দর সংসার।

    বিষক্রিয়ার কারণে আমার দিন, আমার রাতের আঙুল সবুজ। তারা খসে পড়ে। আমি মাটি খাই। বালি খাই। বমি হয়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বমি... ভবিষ্যতের প্রশ্বাস-নিঃশ্বাসে ভয় জেগে ওঠে। মুখে মুখোশ পরেছে ওরা। মুখোশ পড়তে পরতে পারিনি। খাটটা নেমে এসেছে সোজাসুজি, মেয়েটা দাঁড়িয়ে, মুখোশ ঘুরছে। বৃত্ত উপবৃত্ত... হাত পা খুলে গিয়ে বিচ্ছিন্ন জ্যামিতির পরিহাস... অধিবৃত্ত পরাবৃত্ত... ক্রমশ মিলিয়ে যাচ্ছে অমোঘ শূন্যতায়। তীব্র যন্ত্রণা। ছিঁড়ে যাচ্ছে। মাথাটা। যারা খুব অল্প বয়সে মারা যায়... মাথাটা, মাথাটায় যখন অসংখ্য কাক জড়ো হয়েছে। খুবলে খেতে চাইছে মেয়েটাকে। আঁশটে গন্ধ। দাঁড়িয়ে মেয়েটা, খাটের সামনে, নগ্ন। মৃত্যু চক্রাকারে ডিগবাজি খেল। কাঁচা মাংসের ওপর চাপানো হয়েছিল পোশাক। লাল ঠোঁটের শক্ত চামড়া দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে নিয়ে নোনতার আদিম নেশায় যে বাড়িটা আমার হল না... অন্ধ করেছে আমাকে। মুখোমুখি দাঁড়ালাম দু'হাতে ভর দিয়ে। পা উপরে তুলে ডিগবাজি খেলাম। পোশাক ছিঁড়ে যাচ্ছে। তার পা বাঁধা, হাত বাঁধা, মুখ সেলাই, শরীর বাঁধা। মন শরীরের থেকে বিচ্ছিন্ন। পেট ফুলে গেল। বিস্ফোরণ... বিস্ফোরণে শিশুর প্রথম কান্না, ছিন্নভিন্ন, একাকার, কত কত টুকরো... টুকরো টুকরো মাংসপিণ্ড ছুঁড়ে দিল সে আমার মুখে আমি আগুন দিয়েছিলাম মেয়েটির মুখে ক্ষত ম্যাপ এঁকেছিল মহাবিশ্বের
    প্রশ্ন করে চলেছে কেউ বা কারা আমার কানে— তুমি আজও কী নিয়ে খেলছ? তুমি কি ব্যথা পছন্দ করো? তুমি কি সবকিছুর ধ্বংস চাও? আমার প্রতিবেশী এক সন্ত্রাসবাদীর প্রেমিকা। মেয়েটির ঠোঁটে চুম্বন করতে ইচ্ছে করত। অশ্লীল ভাবনা। বাথরুম।
    আমার শরীরে রক্ত, মাখামাখি, জঞ্জাল নোংরা আবর্জনার স্তূপ চেটে নিলাম। ছেঁড়া পালক। ডাস্টবিন। প্লাস্টিক ছড়িয়ে চার দিকে। কাকের মুখে মাংসের হাড়, হাড়ে পচাগলা মাংসের সামান্য অংশ, কালো, কালো হয়ে গিয়েছে। সাদা ম্যাগট ডাস্টবিনের গা বেয়ে নেমে আসছে।

    অধিকাংশ রাতেই আমি ঘুমাতে পারি না। আমার মন একটা বড় বদ্ধঘরে ঘুরে বেড়ায়। সেই সুচগুলোর কথা ভাবি— চামড়ার মধ্যে গেঁথে আছে এবং অতীতের ক্ষত সেলাই করছে। আমার জিভ আর দাঁতের মধ্যে দিয়ে কালো সুতো দিয়ে ভাষার মন্তাজে বাঁধা জীবন মুখ থেকে নাভির গহ্বর পর্যন্ত রাতে আমি আমার শরীরকে আলিঙ্গন করি সেই সব নোংরা হাতের কাছে শরীর রাতে আমি ঘুমাতে পারি না আমি আমার শরীরকে নিজের করতে চাই না। সে চেয়েছিল হত্যাকারীর জুতো, জামা, বন্দুক, চিরুনি সাজিয়ে রাখবে।

    অন্ধকার কালোকে ঘেন্না করত মা... বিপদ, আত্মহত্যা, ব্যথার রঙ মুছে দিয়ে আমার শৈশবের রঙ পেন্সিল… উফ, কোথায় রাখলাম? একা থাকতে হবে। রাস্তার বাঁক। কতগুলো দেহ একসঙ্গে চাপা দেওয়া হয়েছে। ঢেকে দেয় সমস্ত চিহ্ন কালো পোশাক। তাদের শরীরের সমস্ত হাড়, জৈব কণা...
         একটা সাদা হসপিটাল।
         একটা সাদা নার্স।
         একটা সাদা বিছানা।
    জানালার বাইরে সাদা ফুল। মা দাঁড়িয়ে, এই মুহূর্তে, পর-মুহূর্তে, অনন্ত সময়ের টুকরো টুকরো মুহূর্তগুলোয়... মায়ের দুটো ডানা যেন... উড়ছে, উড়ছে... বলিরেখা, কালশিটে ত্বক, সমস্ত শরীর কালো হয়ে গেল...

    কী বলবে? আমার দেহের নীরবতা কুয়াশার মতো ঝুলে থাকা পাথর। অলৌকিক দৃষ্টি, সেই চোখ। কবর খুঁড়ে তুলে আনছে ওরা জন্মের প্রমাণপত্র। আজরাইলের ডাক। তুমি, তুমি... তোমার শরীর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে মাটি... তোমার চোখ... ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে শৈশব আমার। একটি, দুটি, কত কত মৃতের বসবাস আমার চিলেকোঠায়। তুমি কতবার ডাইনিদের আকৃষ্ট করেছিলে! জিভ থেকে লালারস ঝরে অধিমাংসের চাষ, উঠোনে। তোমার আত্মাকে বিবর্ণ হতে দেখেছি। তোমার চোখে তাকালে আমি, আমি তোমার কথা ভাবতে পারি না... সুন্দর সুগন্ধি ফুল কি ফোটাতে পারে? কেউ আমার মাথাটা ঠান্ডা জলের পাত্রে নিমজ্জিত করেছিল। অনিদ্রা। অপরাধবোধের অসহনীয় অস্তিত্বের খোলস নির্মোচন। খিদে পেলে আমি আমার আত্মাকে খেয়ে ফেলেছি, কতবার।

    এখন আমার জানালার শার্সি ভেঙে দ্রাক্ষালতা আর টিকটিকির সঙ্গমচিহ্ন। ডানাওয়ালা পিঁপড়ের ঝাঁক হাতের তালু ফুটো করে আঙুল বেয়ে প্রবাহিত সময় হঠাৎ হঠাৎ থমকে দাঁড়াচ্ছে। নিজেকে অন্ধ মনে হয়। একটা মুখ। মুখটা চিনতে পারি না। দেওয়ালটা আমার মাথার দিকে ভীষণ রকম হেলে পড়েছে। বেঁচে আছি, আমি ভেবেছিলাম বেঁচে আছি, আমি ভেবেছিলাম, এইভাবেই সবাই বেঁচে থাকে। জানালা-দরজার কাঠের ফ্রেমে পেচ্ছাবের দাগ। লাইকেনের সাদা ছোপ। একটাও বৃষ্টির ফোঁটা স্পর্শ করেনি। স্বপ্ন, কল্পনা, প্রতারণা। পাচিলের বাইরে ল্যাম্পপোস্টে মরা শালিক। মাকড়সার জাল। আমি কখনও সমুদ্র-বাতাসে ভিজতে চাইনি। তবু একবার জানালার কাচ ভেঙে পড়ল না। সবাই ছেড়ে যায়। আমি স্বপ্ন এড়িয়ে চলি, যেন আমি বৃষ্টি দেখিনি। এই আমি, বিবর্তনহীন অস্তিত্ব এক মাঝরাতে, আমি একটা ইঁদুর ধরেছিলাম, অ্যাম্বার-কালো আরশোলা আমাকে রাতে জাগিয়ে দিয়েছিল। এক-একটা পুরনো গল্প, গল্পের শুদ্ধ অর্থহীন সংস্করণ আমাকে বিভ্রান্ত করে তুলছে। তারা যেমন আকাশের প্রান্তে হামাগুড়ি দিতে পারে, তেমনই আরশোলাটা পালাচ্ছিল। কথা বলার উপায় নেই। ক্ষমা নেই। মহাবিশ্বের সকল বিস্মৃত মানুষেরা একই সময়ে জেগে ওঠে সব। ঝিরঝির টিভির পরদা, নতুন হিসাব, সমীকরণের দুই পাশে অশ্রাব্য সংলাপের স্রোত, কোনও খবর নেই যে খবরটা আমাকে নিয়ে হল না... শরীর বন্য পশুর মতো খুঁজছে একটুকরো আশ্রয়। আমার অস্তিত্ব অস্থি ক্ষয় হয়ে যায়।

    এই শহরে আমরা কোনওদিন চুম্বন করতে পারব না। আয় খেলবি আয়, আমার আঙুল ধর। খাওয়ার টেবিল। সিঁড়িঘরে ছেঁড়া সতীচ্ছদ। আমি নিজেকে জাগানোর চেষ্টা করি। আমার ঘাড়ের হাড়ে ব্যথা, নীলচে বাতাস আমার ফাঁপা শিরায়। দূরে একটা বাচ্চা কঁকিয়ে উঠল যেন,  মাথার ভেতরে ঝিম ঝিম, অনেক ইঁদুর মেঝে ফুঁড়ে উঠেছে... নেই, নেই, ছাদ নেই। ইলিউশনে ডুবে যত্তসব বাজে কল্পনা। তোমার শরীরের সমস্ত স্মৃতি আমাকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে।

    মুখ বুজে যন্ত্রণা সয়ে যাওয়া মানুষের মিছিলে দাঙ্গার মতো তুমি নৈঃশব্দের মধ্যেও তীব্র শব্দ ছিলে। আগত জোয়ারে ডুবে যাচ্ছে পাপ। কাঁপুনি তীব্র কাঁপুনি। আমি মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, আমি আকাশ, আকাশ পড়তে শিখিনি। ঘুমের মধ্যে হোঁচট খেয়েছি, অন্ধকারের পর অন্ধকার প্রতি রাতে আমি হারিয়ে যাই, স্থানান্তরিত অস্তিত্বের মানুষের স্থানান্তর ঘটে, আমার স্থানান্তর, সবাই কেমন ডুবে মরছে, তারা গান গাইছে, অসীম স্তবক, একঘেয়ে চিৎকার... অনুমতি অনুমতি বেঁচে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে... প্রাচীন পরিত্যক্ত খামার, পূর্বপুরুষের দল ভিড় করে আসছে, অমরত্ব জাল দিয়ে টেনে তুলছি... গল্পের স্রোত, বাদামি কাঠ, মস-ফার্ন আগে আমার ভাষা ছিল, বলতে হবে, হবে বলতে আমাকে। রাতের বাতাসে গোলাপি গন্ধ। আগুন বহনকারী ছিন্ন পাপড়ি। ওরা গান করছে কোরাস। গানে আগুনের কণা আরও উজ্জ্বল, মাথাটা মাথাটা মাথাটা ছিঁড়ে যাচ্ছে... বাতাসে নীলচে ব্যথা, আমার ছাদে তাকিয়ে থাকে বিবর্ণ আকাশ। সে দিল টুকরো টুকরো টুকরো কত কত ছিন্নভিন্ন কান্না
    আছি বেঁচে
    ভেবেছিলাম আমি। জাগানোর চেষ্টা করি নিজেকে। না পারি ঘুমতে রাতে আমি আমি আমি যে খবরটা আমাকে নিয়ে টেলিভিশন... ঝিরঝির... কালো সুতো দিয়ে ক্ষত সেলাই করছে, হাত— একটা নোংরা হাত, কঁকিয়ে উঠল... কান্না... কান্না... শিশু... পেট ফুলে উঠেছে। বীভৎস রতিক্রিয়া। দাঁত ছিঁড়ে ফেলে ঠোঁটের নরম চামড়া। মেয়েটাকে চাইছে খেতে খুবলে। পারিনি। মুখোশ। মৃত অতীতের কণ্ঠস্বর, রাতে ধোঁয়ায় ভরা কক্ষ, দূষিত, কাপুরুষতা আত্মসমর্পণ ব্যর্থতা শিরা উপশিরা ফুলে উঠছে সার্কাস ট্রাপিজের খেলা হাসির শব্দ  আমি আগুন দিয়েছিলাম মেয়েটির মুখে ক্ষত ম্যাপ এঁকেছিল মহাবিশ্বের। আমার মন একটা বড় বদ্ধঘরে ঘুরে বেড়ায়, সেই সুচগুলোর কথা ভাবি চামড়ার মধ্যে গেঁথে আছে, একঘেয়ে চিৎকার, উত্তরপুরুষের নাটকের ছেঁড়া দৃশ্যাবলি—ছিঁড়ে যাচ্ছে সমস্ত ছবি, আমার নিজের প্রতিকৃতি, ছবি থেকে জন্ম নিচ্ছে আরও আরও ছবি... সব ছবি ছিঁড়ে যাবে আবার... SLEEP DREAM SCREAM... মানব ইতিহাসের ছেঁড়া ছেঁড়া ছবি, আমি, আকাশনীল আঁচলে বাবার জামায় বেগুনি... আমি আমার ইতিহাস গল্প, এই শরীর ইতিহাস, সিনথেটিক ফ্র‍্যাগমেন্টস, আমাকে এমনভাবে মুড়িয়ে দিল আমি চারপেয়ে জন্তু... মুখোমুখি দাঁড়ালাম দু'হাতে ভর দিয়ে, পা উপরে তুলে ডিগবাজি খেলাম। পোশাক ছিঁড়ে যাচ্ছে। তার পা বাঁধা হাত বাঁধা মুখ সেলাই, লাল অন্ধ করল, পুড়িয়ে দিয়েছি সব ফুল, পোকা, মেঝের নিচের বজ্জাত ইঁদুর, জলে জমা দুর্গন্ধ কাদায় ছিটকে পড়ছে মহাকর্ষহীন স্মৃতি... আমি নর্দমার মধ্যে হামাগুড়ি দিয়ে পতঙ্গের মতো উড়ে গিয়ে বসলাম আলোর ধারে। ‘আমাদের স্বর্গ নেই, স্যারিডন আছে।’ গোলাপি মাংসের কাঁচা থকথকে বাড়িটার বাদামি মরচের প্রলেপ উঠে গিয়ে রক্তহীনতা ঘরগুলো ছাদ সিঁড়ি দরজা জানালা বারান্দা নিজের, আমার রক্তের ঘামের পেচ্ছাবের ক্লান্তির অবসাদের আনন্দে জড়ো হয়েছে কথা, অনেক পুরনো কথা, স্মৃতি, আমার নোটবুক, আমার কলম, কালির শিশি উফ... শব্দ ছড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ছে শূন্যতায়, ধরতে পারছি না। না।
    না

    লিখতে চাই, আমি আমিই আমার গল্প, অসংখ্য শব্দ অভিধান থেকে খসে পড়েছে, তারা খসছে যেন কিলবিল করছে পোকা শব্দ... জঞ্জালের টিন থেকে নির্গত... শব্দ নিজেকে উন্মুক্ত করে... চেটে নিচ্ছে বিড়ালটা নরম থাবায় আঁশটে গন্ধযুক্ত স্বাদহীন মুঠো মুঠো শব্দ ব্রাউনীয় গতিতে পৃষ্ঠায় ছুটছে... শব্দ অস্পষ্ট, উন্মত্ত। শব্দের বুদবুদ, উন্মত্ততা, আমার ভেতর থেকে উঠে আসা বুদবুদ, শব্দের ধোঁয়া, ধোঁয়ার মায়াজাল, আমার ভেতর থেকে সব ভাসছে... আমার সব শব্দ বিক্ষিপ্ত বিক্ষিপ্ত হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে... বাষ্পীভূত... আমি ধরে রাখতে পারছি না। ভীষণ জ্বর। তাপ। পুড়ে যাবে পৃষ্ঠা। বাক্যের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খুলে নিয়েছি। আমি শব্দের জঙ্গিপনার কাছে উলঙ্গ করতে চাই নিজেকে... কবজা ভেঙে যাচ্ছে... একটা চোরা দরজা খুঁজছি, যে-দরজা খুলে অস্তিত্বের যন্ত্রণা থেকে মুহূর্তের জন্য হলেও বের হয়ে যাওয়া যায়… কতটা ঘাম কতটা রক্ত কতগুলো কোশের ক্ষয় হলে একটা লেখা আমার, আমার যে বাড়িটা কখনওই আমার হবে না
     
     ['মধ্যবর্তী' পত্রিকার শরৎ ২০২৪ সংখ্যায় প্রকাশিত।]
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন