এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বিপ্লব রহমান | ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:২৪746355
  • "মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই মানিকগঞ্জ সহ ঢাকার উত্তরাংশে বিস্তৃত এক অঞ্চলজুড়ে গড়ে উঠেছিলো স্বতন্ত্র একটি আঞ্চলিক গেরিলা বাহিনী। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত বাঙালি সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন আবদুল হালিম চৌধুরীর নেতৃত্বে গড়ে উঠা বাহিনীটি পরিচিত ছিল ‘হালিম বাহিনী’ নামে। মানিকগঞ্জ ট্রেজারি থেকে সংগৃহীত  থ্রি নট থ্রি রাইফেল নিয়ে শুরু করা হালিম বাহিনীতে একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল অন্তত ২ হাজার। 

    ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যার খবর ওয়্যারলেস মারফতে তাৎক্ষনিকভাবেই জানতে পেরেছিলেন মানিকগঞ্জের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। এমতাবস্থায় মানিকগঞ্জে  ৭ সদস্য বিশিষ্ট ‘মানিকগঞ্জ স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।  সংগ্রাম পরিষদের  অন্যতম সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বাঙালি সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন আবদুল হালিম চৌধুরী। পরিষদের সদস্যরা ক্যাপ্টেন হালিম চৌধুরীকে মানিকগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ সহ সার্বিক যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করেন।

    ২৭ মার্চ ক্যাপ্টেন হালিম চৌধুরীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা মানিকগঞ্জের ট্রেজারির তালা ভেঙে বেশ কিছু রাইফেল ও কয়েক হাজার গুলি তুলে নেন। শিবালয়ের প্রতিটি ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রশিক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়।  এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে মানিকগঞ্জ মহকুমার, সদর,  শিবালয়, ঘিওর, হরিরামপুর, সিঙ্গাইর সহ সর্বত্র  হালিম বাহিনীর তত্ত্বাবধানে মুক্তিযোদ্ধাদের  প্রশিক্ষণের কাজ শুরু হয়। 

    মে মাসের  মাঝামাঝি সময়ে রাজাকার ও শান্তিকমিটির সদস্যদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি সেনারা হরিণা গ্রামের থানা সদরের নবনির্মিত ভবনসমূহে ক্যাম্প স্থাপন করে। এরপরই মানিকগঞ্জের সর্বত্র হালিম বাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর একের পর এক যুদ্ধ শুরু হয়। পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে অন্তত ৪০টিরও বেশী যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন হালিম বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা। এসব যুদ্ধে কয়েকশো পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার নিহত হয়েছিলো।  

    প্রথম পর্যায়ের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ ছিল ১৭ জুনের সিঙ্গাইরের চারিগাঁও লঞ্চঘাট অপারেশন। ঢাকা থেকে লঞ্চ মারফত নিয়মিতভাবে মানিকগঞ্জে অস্ত্র-রসদ সরবরাহের খবর পেয়ে পাকিস্তানি লঞ্চ আক্রমণের সিদ্ধান্ত হয়। ১৭ জুন সিঙ্গাইরের কালীগঙ্গা নদীপাড়ের চারিগাঁওতে পজিশন নিয়ে অ্যামবুশের ফাঁদ পাতেন মুক্তিযোদ্ধারা। দুপুরে পাকিস্তানি লঞ্চ অ্যামবুশ পজিশনে ঢুকতেই অতর্কিত আক্রমণ করেন মুক্তিযোদ্ধারা। লঞ্চের মধ্যে ১২/১৪ জন মিলিটারি ছিল সবাই গুলিতে মারা যায়। কালীগঙ্গা নদীর মতো ধলেশ্বরী ও পদ্মা নদীতে একাধিক আক্রমণ চালানো হয়।

    হালিম বাহিনীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ ছিল সিঙ্গাইরের বায়রা গ্রামের অ্যামবুশ। ১৩ জুলাই সকালে খবর আসে বায়রা গ্রামের পার্শ্ববর্তী ধলেশ্বরী নদী দিয়ে পাকিস্তানি সেনারা একাধিক নৌকা যোগে মানিকগঞ্জে রসদ সরবরাহ করবে।  বিষয়টি জানতে পেরে একদল মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তানি রসদবাহী নৌকার উপর অতর্কিত আক্রমণের উদ্দেশ্যে নদীর দুপাশে অবস্থান নেন। এই  যুদ্ধে ২০ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছিলো।

    হালিম বাহিনীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ ছিল জুলাই মাসে সংঘটিত মাচাইন বাজারের যুদ্ধ। মাচাইন বাজার ও মাচাইন গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ইছামতি নদী। মাচাইন বাজারের পূর্বপাশে স্কুল বিল্ডিংয়ে পাকিস্তানি বাহিনী  তাদের ক্যাম্প স্থাপন করেছিল। গ্রামের বাজারের ঘাট থেকে পাকিস্তানি সেনারা নিয়মিতই ইছামতি নদী হয়ে পদ্মায় টহল দিতো।এদের ওপর আক্রমণের উদ্দেশ্যে মুক্তিযোদ্ধারা ১৫ জুলাই পর্যন্ত একাধিকবার রেকি করেন। বেশ কয়েক দফা রেকি করার পরে ১৮ জুলাই রাতে অপারেশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। ১৮ জুলাই রাত ১১টার দিকে আনুমানিক ১২০ জন মুক্তিযোদ্ধার দুটি দল জল ও স্থলপথে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্পের উপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। পাকিস্তানি সেনারা তখন পালাচ্ছিল। এসময়  রউফ খানের দলের গুলিতে  ৭/৮ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়।  

    ৯ আগস্ট ক্যাপ্টেন আবদুল হালিম চৌধুরী দুজন মুক্তিযোদ্ধা সহ নৌকাযোগে শিবালয়ের মালুচী গ্রামে আসেন। অতঃপর তিনি ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থানরত দারোগা ও পুলিশদের উপর অতর্কিত আক্রমণ চালান। পুলিশরা অস্ত্র ফেলে আত্মসমর্পণ করে। সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে পদ্মা নদীতে পাকিস্তানি লঞ্চে আক্রমণের পর ধ্বংস করা হালিম বাহিনীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন। এই যুদ্ধে ১১ জন পাকিস্তানি সেনা ও ৩ রাজাকার নিহত হয়েছিলো। কেবল জলেই নয়, স্থলপথেও পাকিস্তানি বাহিনীকে পুরোপুরি পর্যদুস্ত করেছিলেন হালিম বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা। ২৯ আগস্ট মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার নয়াডিঙ্গি ব্রিজে ধ্বংসের অপারেশনে মুক্তিযোদ্ধারা ব্রিজটি অনেকাংশেই চলাচলের অনুপযুক্ত করে দিয়েছিলেন।

    অধিকতর অস্ত্র সহযোগিতা পাওয়ার লক্ষ্যে সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের ত্রিপুরার মেলাঘরে যান ক্যাপ্টেন আবদুল হালিম চৌধুরী।  মেলাঘরে তাঁর সঙ্গে সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের সঙ্গে দেখা হয়। অক্টোবর মাসে হালিম বাহিনীর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ ছিল সিঙ্গাইরের বায়রা গ্রামের যুদ্ধ। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে পাকিস্তানি সেনাদের একটি দল রসদ আনার জন্য সিঙ্গাইর থেকে মানিকগঞ্জ গিয়েছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হালিম বাহিনী তাদের ফেরার পথে বায়ড়ায় ধলেশ্বরী নদীর দু’পাড়ে অবস্থান নিয়ে অ্যামবুশের ফাঁদ পাতেন। দুপুর ৩টার দিকে পাকিস্তানি সেনারা যখন নৌকাযোগে বায়রায় পৌঁছে তখন ধলেশ্বরীর উভয় পাড় থেকে মুক্তিযোদ্ধারা গুলিবর্ষণ শুরু করেন। একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন এলএমজি দিয়ে ব্রাশফায়ার শুরু করলে পাকিস্তানিরা পুরোপুরি ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এসময় ছত্রভঙ্গ অবস্থায় ১৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়।  

    এই যুদ্ধের কয়েকদিন পর ১৩ অক্টোবর পাকিস্তানি বাহিনীর হরিরামপুরের হরিণা ক্যাম্প দখল করেন মুক্তিযোদ্ধারা। বেলুচ সেনাদের সাহায্য নিয়েই এই যুদ্ধ জয় করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। হরিরামপুরের লেছড়াগঞ্জের হরিণায় সিও কার্যালয়ে ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর শক্ত ঘাঁটি।  ক্যাম্পটিতে শতাধিক পাকিস্তানি সেনা ছিল। হরিণা ক্যাম্পে থাকা ৪ জন বেলুচ সেনা বাকি পাকিস্তানি সেনাদের উপর বিরক্ত ছিল। নান্নু মিয়া নামের স্থানীয় একজনের মাধ্যমে তারা পাকিস্তানি পক্ষাবলম্বন ত্যাগ করে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দিতে চায়।

    সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৩ অক্টোবর বিকেলের মধ্যে ১২-১৫টি নৌকায় করে মুক্তিযোদ্ধারা সুতালড়ি ক্যাম্প  আক্রমণের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। মুক্তিযোদ্ধারা উত্তর- পশ্চিম দিক ও  বুড়ির বটতলা এবং পাটগ্রাম স্কুল বরাবর অবস্থান নেন। ঘেরাও শুরুর পরপরই শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণ।  প্রথমে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে পাকিস্তানি সেনারা পালাতে শুরু করে। একপর্যায়ে দুটি ক্যাম্পই মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে চলে এলে বেলুচ সেনারা আত্মসমর্পণ করে জানায় ক্যাম্পে আর কোন সেনা নেই। বেলুচ সেনাদের আত্মসমর্পণ করতে দেখে ৭ রাজাকারও আত্মসমর্পণ করে। মুক্তিযোদ্ধারা এসময় হরিণা ক্যাম্পের দোতালার একটি ঘর থেকে ৮ জন নির্যাতিত নারীকে উদ্ধার করে। 

    পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে হালিম বাহিনীর সবচেয়ে বিধ্বংসী যুদ্ধ ছিল অক্টোবর মাসে সিঙ্গাইরের গোলাইডাঙ্গার যুদ্ধ। মুক্তিযোদ্ধাদের কোনরূপ ক্ষতি ছাড়াই এই যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর ৮২ সেনা নিহত হয়েছিলো। গোলাইডাঙ্গা স্কুলে ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প। ২৮ অক্টোবর গোপনসূত্রে মুক্তিযোদ্ধারা খবর পান ১০/১২টি নৌকায় করে পাকিস্তানি সেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পটি দখলের লক্ষ্যে এগিয়ে আসছে।  তখন তবারক হোসেন লুডুর নেতৃত্বে অ্যামবুশের ফাঁদ পাতেন মুক্তিযোদ্ধারা।  পাকিস্তানি সেনারা প্রথমে স্কুলে ঢুকে মুক্তিযোদ্ধাদের না দেখতে পেয়ে নৌকাযোগে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অ্যামবুশ পজিশনে ঢুকতেই দুর্ধর্ষ আক্রমণ গড়ে তোলেন মুক্তিযোদ্ধারা।  আক্রমণে পাকিস্তানিদের সব নৌকাই ডুবে যায়। পানিতে ডুবে বেশীরভাগ সেনা মারা যায়। বাকিরা গুলিতে। 

    যুদ্ধে অংশ নেয়া মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন বলেন, ‘সেদিন আমরা মাত্র ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা সামান্য অস্ত্র নিয়ে পাকিস্তানিদের পানিতে নামিয়ে, কাদায় ডুবিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিলাম। টানা  তিনদিন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে সেই যুদ্ধের বীরত্ব প্রচার করা হয়েছিলো।’ 

    মুক্তিযুদ্ধে হালিম বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধগুলোর মধ্যে আরও ছিল  ১৩ জুলাই ও অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বায়ড়া গ্রামের যুদ্ধ, ১৮ জুলাই মাচাইন বাজারের যুদ্ধ, ৯ আগস্ট মালুচি গ্রামের অ্যামবুশ,  ২৮ নভেম্বরের ঘিওরের  নারচি ও কুস্তাগ্রামের যুদ্ধ। ৮ ডিসেম্বরে শিবালয়ের দাসকান্দি গ্রামের যুদ্ধ প্রভৃতি।

    মানিকগঞ্জের সদর, সিঙ্গাইর, ঘিওর, শিবালয়, দৌলতপুর, হরিরামপুর, ঢাকার দোহার, নবাবগঞ্জ, ধামরাই, সাভার, মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর সহ ২২টি থানার প্রায় ৮০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে  ছিল হালিম বাহিনীর বিস্তৃতি। হালিম বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের তিনটি ইউনিট ও পাঁচটি কোম্পানিতে ভাগ করা হয়েছিলো। অধ্যক্ষ রউফ খানের নেতৃত্বে  হরিরামপুর-শিবালয়-ঘিওর-দৌলতপুর অঞ্চল। তবারক হোসেন লুডুর নেতৃত্বে সিঙ্গাইর-মানিকগঞ্জ-সাটুরিয়া ও সাভার অঞ্চল এবং সিরাজউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন  ইউনিটটি ছিল ঢাকার নবাবগঞ্জ-দোহার-কেরানীগঞ্জে।"

    - লিখেছেন: 
    আহমাদ ইশতিয়াক, মুক্তিযুদ্ধে দেশের ভেতরের বাহিনী-২, সর্বজনকথা, ১২তম বর্ষ, ১ম সংখ্যা
  • বিপ্লব রহমান | ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:০৪746359
  • বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ড সম্পর্কে পাকিস্তানি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর বই থেকে: 

    "১০ ডিসেম্বর, সূর্যাস্তের কিছু আগে, ঢাকা কমান্ডের অধিনায়ক মেজর জেনারেল জামশেদ আমাকে ধানমন্ডির পিলখানা এলাকায় অবস্থিত তাঁর দপ্তরে আসতে বলেন। তাঁর কমান্ড পোস্টের কাছাকাছি পৌঁছে আমি একাধিক যানবাহন দেখতে পাই। তিনি তখন তাঁর বাংকার থেকে বের হচ্ছিলেন এবং আমাকে তাঁর গাড়িতে উঠতে বলেন। কিছুক্ষণ পর আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করি, এই যানবাহনগুলোর উদ্দেশ্য কী। তিনি বলেন, “এই বিষয়টি নিয়েই আমরা নিয়াজির সঙ্গে আলোচনা করতে যাচ্ছি।”

    সদর দপ্তরের পথে তিনি আমাকে জানান যে তিনি বুদ্ধিজীবী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একটি বড় সংখ্যাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ পেয়েছেন। আমি বলি, “কেন, কী উদ্দেশ্যে? এখন তো এমন কাজ করার সময় নয়।” জামশেদ বলেন, “এই কথাটিই আপনি নিয়াজিকে বলুন।”

    নিয়াজির দপ্তরে পৌঁছালে জামশেদ বিষয়টি উত্থাপন করেন। নিয়াজি আমার মতামত জানতে চান। আমি বলি, “এখন এর সময় নয়। এর আগে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের বিষয়ে আপনাকে জবাবদিহি করতে হবে। অনুগ্রহ করে আর কাউকে গ্রেপ্তার করবেন না।” তিনি এতে সম্মত হন।

    আমার আশঙ্কা হলো, আগে যে নির্দেশটি দেয়া হয়েছিলো সেটা বাতিল করার কোনো আদেশ হয়তো জারি করা হয়নি এবং কিছু লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আজও আমি জানি না, তাঁদের কোথায় রাখা হয়েছিল। সম্ভবত তাঁদের এমন কোনো এলাকায় আটক রাখা হয়েছিল, যার পাহারার দ্বায়িত্বে ছিলো মুজাহিদরা। আত্মসমর্পণের পর ঢাকা গ্যারিসনের কমান্ডার তাঁদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং তারা মুক্তিবাহিনীর ভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়, কারণ মুক্তিবাহিনী নির্মমভাবে মুজাহিদদের হত্যা করছিল। আটককৃত ব্যক্তিদেরকে হয়তো পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বদনাম করার উদ্দেশ্যে মুক্তিবাহিনী এমনকি ভারতীয় সেনাবাহিনীও হত্যা করে থাকতে পারে। তখন ঢাকা ইতিমধ্যেই ভারতীয় বাহিনীর দখলে চলে গিয়েছিল।" (হাউ পাকিস্তান গট ডিভাইডেড, মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী, পৃষ্ঠা ১৪৭)
    Source: Apnaorg https://share.google/dXenKOjPAH6BszCOh 
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। চটপট মতামত দিন