কতকগুলো বেসিক ব্যাপার পরিস্কার করে না নিলে, আধুনিক নাস্তিকদের পক্ষে হতাশাময় পরিস্থিতি থেকে বেরোনো সম্ভব না।
হোমো স্যাপিয়েন্স বিবর্তনের গোড়া থেকেই, তার চেতনার ব্যপ্তি নিয়ে সজাগ। এই যে "আমি" বোধ তার সীমানা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের বাইরে এইটে সে বুঝতে এবং বোঝাতে চেয়েছে। ধর্ম এবং বিজ্ঞান দুটোই কিন্তু ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের বাইরের কথা বলে। "আঁখো দেখি"-র সোক্র্যাটিক মডেল বিজ্ঞানের মডেল নয়। যা অঙ্কের যুক্তিতে অস্তিত্ববান তাই আদতে অস্তিত্ববান। ম্যাথেম্যাটিকাল রিয়ালিটি ইজ দ্য সায়েন্টিফিক রিয়ালিটি। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতা শেষ কথা নয়। ইন্দ্রিয় ইলিউশন ও তৈরী করতে পারে। যা বিজ্ঞান মানে না।
এবার, ধর্মও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার বাইরে বেরতেই " যারে যায়না দেখা যায়না শোনা " গোত্রের একটা মডেল আমদানি করে। যা আদতে চেতনার ব্যপ্তির অঙ্গ। যে তুমি লোকটা এই মাংস চামড়া নিউরনের বাইরেও একটা কিছু। যদিও সেই জগৎ টা অঙ্কের যুক্তির জগৎ না।
একেই স্পিরিচুয়ালিটি বলে। আমি, আমার বাইরেও কিছু এই চেতনার ব্যপ্তি। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের বাইরেও ব্যপ্ত হবার ক্ষমতা।
এটা কেও ধর্ম থেকে পায় কেও বিজ্ঞান থেকে। এটা এক্সিস্টেনশিয়াল খিদে, একে অস্বীকার করে চেতনাযুক্ত মানুষের অস্তিত্ব সম্ভব না।
আমাদের বুঝতে হবে, ব্যাপারটা স্পিরিচুয়ালিটি ভারসাস সায়েন্স নয়। এই জগাখিচুড়ি টা পাকিয়েচে মূলত প্রযুক্তিবিদ্যার জয় যাত্রা শুরু হবার পর। বিজ্ঞানের স্পিরিচুয়াল স্পেস টা মায়ের ভোগে গ্যাছে। বিজ্ঞান শিক্ষা বলতে রয়ে গেছে টেকনোলজি শিক্ষা। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগত টাই রয়ে গ্যাচে বিজ্ঞানের জগৎ নামে।
কাজেই, মানুষের মাথার স্পিরিচুয়াল স্পেসে যদি ঢুকতে হয় তাহলে, "এই দুহাজার চব্বিশে বসে আপনি ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন??? " মার্কা ফাঁকা বোলচাল দিয়ে হবে না। যে লোকটা ডাক্তারের ওষুধ খায় সেও একটা ইন্সটিটিউশনাল প্র্যাক্টিস করে মাত্র, ওষুধের গুণাগুণ নিয়ে পাব্লিশড পেপার সে পড়ে দেখেনি আর দেখাও সম্ভব নয় সর্বদা, বাস্তবে।
তাহলে কী সম্ভব?? টেকনোলজির রিচুয়ালিস্টিক জগতের বাইরে, বিজ্ঞান যে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার অতীত অঙ্কের জগতের কথা বলে, সেই স্পিরিচুয়াল স্পেসের সাধনা করা।
তবেই, ধর্মের স্পিরিচুয়ালিটির বাইরে বেড়িয়ে মানুষ আরও অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং একটা স্পিরিয়াচুয়াল স্পেসের দিকে এগিয়ে যাবে।
বাস্তবে আমরা কী দেখচি? থিওরিটিক্যাল সায়েন্সের চর্চায় অনুদান শুন্যে নেবে আসচে। দামড়া সব " বিজ্ঞানী " গনেশ পুজো করে রকেট ওড়াচ্চে! হবে না কেন?? ও তো বিজ্ঞানী নয় ও প্রযুক্তিবিদ। ওর রোজগার হয় বিজ্ঞান করে আর হেডস্পেসে যে স্পিরিচুয়াল ভ্যাকাম সেখানে বৈজ্ঞানিক অতিন্দ্রীয়তার কোন যায়গা নেই, ধর্মীয় অতিন্দ্রীয়তায় ঘর ভর্তি।
এই ফাঁকা টা ভরাতে হবে বাপু। যুক্তিশাস্ত্র দর্শন বিজ্ঞান পড়াতে হবে। থিওরিটিক্যাল সায়েন্সে জোর দিতে হবে। গন্ডায় গন্ডায় প্রযুক্তির কেরানি বানালে তারা দিনের শেষে সেই প্রযুক্তির মধ্যে দিয়েই ধর্মীয় রিচুয়াল ছড়াবে মাত্র। যেভাবে ফেসবুকে বড়মার মাহাত্ম্য প্রচার হয়। আধুনিক নাস্তিকরা শিক্ষাপদ্ধতি পরিবর্তনের দাবী তুলবেন এবং যেখানে যেখানে তাত্বিক বিজ্ঞানশিক্ষার বারোটা বাজিয়ে করপোরেট কেরানী বানানোর খেলা চলচে তার বিরোধিতা করবেন...এই দাবী করি।
আমরা কিন্তু ব্রুনো গ্যালিলিওর সময়ে নেই। তখন ও আস্তিক নাস্তিকের লড়াই ছিলো হেডস্পেস ভারসাস হেডস্পেস। মূলত দুইরকম স্পিরিচুয়ালিটির সংঘাত।
ওই জায়গাটা ফিরিয়ে আনতে হবে। নইলে পুনঃপুনঃ হতাশা ছাড়া কিছু নেই।