ওফ, এ তো দেখছি অল্বটের এক কাঠি ওপরে! চৈতন্য সম্পর্কে অল্বটের যা সব আলটপকা মন্তব্য, সুভাষকে নিয়ে দেখছি তরমুজ তাকেও ছাড়িয়ে গেছে এবং যথারীতি ছড়িয়ে ছত্তিরিশ করেছে।
//এটা আমার দারুন লেগেছে। সুভাষ নিজে ব্রিগেডের নাম দিল। গান্ধিজীকে জাতির পিতা আখ্যা দিল। সেসব কিছু না। কিন্তু সুভাষের অনুপস্থিতিতে ফরোয়ার্ড ব্লক কি রাজনীতি করেছে? সেটা দিয়ে সুভাষের রাজনীতিকে বিশ্লেষণ! যে সুভাষ হিন্দুত্ববাদীদের তাড়া করে বেড়াত। বাঙালি এত বুদ্ধি রাখে কোথায়? তবুও বলবেন ব্যক্তি আক্রমন কেন করি!//
সত্যিই সুভাষ হিন্দুত্ববাদীদের তাড়া করে বেড়াতেন? নাকি তাঁর সমর্থকেরা? সেই সমর্থকেরা যে প্রায় একই সময়ে প্যাটেল তো কোন ছাড়, স্বয়ং গান্ধীর দিকে চপ্পল নিক্ষেপ করেন - সেই তথ্যটা জানা আছে? সেই ঘটনাকে গান্ধী ব্রিগেডের নামকরণ দিয়ে মুছে ফেলা যায়?
সুভাষ জাপ বাহিনীর সমর্থন নেওয়ার পরে সুভাষ ও তাঁর ফৌজ সম্পর্কে নেহরুর বিখ্যাত উক্তিটি জানা আছে? সেই উক্তি সুভাষের কানে পৌঁছয়নি? তার পরেও তিনি যদি নেহরুর নামে ব্রিগেডের নাম রাখেন, তাহলে তার পেছনে বিন্দুমাত্র পরিকল্পনা ছিল না - এমনটা ভেবে নেওয়ার কী কারণ?
সুভাষের অনুপস্থিতিতে মানে? ফরওয়ার্ড ব্লক তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল, শরৎ বসু তাঁর নিজের দাদা। শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে একই মন্ত্রিসভায় থাকার ব্যাপারে সুভাষের হিন্দুত্ববাদী বিরোধী 'আদর্শ' যে মাটিতে গড়াগড়ি খাবে, সে কথা তাঁদের মনে হয়নি? একই শরৎ বসু কিন্তু পরবর্তীকালে শ্যামাপ্রসাদের বিভক্ত বাংলার বিরোধিতা করে আবুল হাশিমের সঙ্গে অখণ্ড সার্বভৌম বাংলার জন্য লড়াই করেছেন। তাহলে সেই শরৎ বসু আমাদের আদর্শ আর শ্যামার সঙ্গী শরৎ আমাদের পরিত্যাজ্য? তোফা!
তার থেকেও এক কাঠি সরেস হল এই মন্তব্যটি -
//সুভাষ বনাম শ্যামাপ্রসাদ
ওগুলো আন্তর্জাতিক চাপের জন্য দেখাতে হয়েছিল।আত্মগোপন করা সুভাষের সুরক্ষার জন্য।//
হে হে। সুভাষ আত্মগোপন করছেন ১৯৪১-এ। তার আগে ১৯৪০ সালে কলকাতা কর্পোরেশনে সামান্য এক অল্ডারম্যান পদের জন্য বহিষ্কৃত সর্বভারতীয় কংগ্রেস সভাপতি নির্দ্বিধায় হিন্দু মহাসভার সঙ্গে আঁতাত করছেন। এই আঁতাত সম্পর্কিত আলোচনার সময় শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে সুভাষ ও শরৎ - দুজনেই ছিলেন। আত্মগোপনটা তার পরের ব্যাপার।
//আমার বিজেপি আরএসএস এর অনেক নেতার সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে। তাই বলে আমি বিজেপি নাকি? জেপিও এবিভিপির প্রশংসা করেছিল। তার মানে জেপি আরএসএস ছিল নাকি?//
ঘনিষ্ঠতা এক জিনিস, আর সিট শেয়ারিং সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার। শেষেরটার অর্থ হল, আদর্শগত ভাবে আমরা এক সঙ্গে লড়াই করব। এই জিনিস সুভাষ হিন্দু মহাসভার সঙ্গে যেমন করেছেন, তেমনই করেছেন সেই 'সাম্প্রদায়িক' মুসলিম লিগের সঙ্গে, ১৯৩৮ সালে কংগ্রেস সভাপতি থাকাকালীন বাংলার যে মন্ত্রিসভাকে উৎখাত করার জন্য তিনি যথাসর্বস্ব চেষ্টা করেন ও বিফল হন। কাজেই এখানে জয়প্রকাশের উদাহরণটা ধোপে টিকছে না।