কেকেদা,কেউ যেন কারোর মতো না হয়। আমরা সকলেই আলাদা মানুষ। প্রত্যেকের নিজস্ব পরিচয়।
আমি মনে করি কেউ আলাদা করে কোথাও পৌছয় না, তবে সকলেই একদিন না একদিন মরে যায়।
জন্ম থেকে মৃত্যুর মধ্যের যে সময়কাল, তার অনেকটাই আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবুও সেসব্র মধ্যে থেকে চুকি চামারি করে বা ডাকাতি করে কতকটা সময় নিজের স্বাধীন ইচ্ছেকে না নি দিলে নিজের ওপরেই ইনজাস্টিস হয়ে যায় ভাই।
পশ্চিম ইয়োরোপে এসে প্রথম প্রথম একা বোকা লাগত নিজেকে, লজ্জা লজ্জা করত কেমন যেন। সাদাদের মধ্যে নিজ্কে বেমানান মনে হতো। তারপরে ঐ এক হ্যাঁচকায় লজ্জার হিজাব বোরখা ফেলে দিয়েছি।
গতকাল থেকে আমাদের শহরে টক্সিক ম্যাসকুলিনিটির বিরুদ্ধে একটা ড্রাইভ শুরু হলো। প্রত্যেকটি ট্রামে বাসে ট্রলিবাসে পোস্টার পড়েছে সরকার থেকে। হয়তো আমার প্রতিবাদও এই ড্রাইভের পেছনের একটা কারণ। ডিসিক্রিমিনেশন আমি প্রথমে বুঝতাম না। ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করার পরে প্রথমদিকে প্রতিবাদ করতে পারি নি। হাত পা বাঁধা ছিল বলে। কিন্তু প্রতিবাদ করতে হয় যখন সুযোগ আসে, লোহা সঠিক টেম্পারেচারে পৌঁছনোর জন্য যতটা অপেক্ষা। যেদিন সেই তাপাঙ্কে পৌছল সিচুয়েশন, হাতুড়ি রেডি ছিল। সে এক লম্বা গল্প। প্রতিবাদ ডকুমেন্টেড না হলে, কাগজে কলমে ডিস্ক্রিমিনেশন এগজিস্ট করবে না।
সাহসী সকলকে হতে হয় না জীবনে। কোণঠাষা হয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে শেষ অপশনের নাম সাহস।
ভয় আবার খুব বেশিক্ষণ কেউ কারোকে দেখাতেও পারে না। প্রথম কযেক মিনিট বড়জোর? আধঘন্টার আগেই ভয় থেকে বোর হয়ে যায় মানুষ।
তবে বিপন্ন অবস্থায় কি পড়ি নি? খুব পড়েছি। ভুলে থাকতে কি চাই নি বাস্তবকে? সেসব চেষ্টাও করেছি। কিন্তু নিজ্কে ভুলিয়ে রাখা মহা শক্ত কাজ। মনের অভ্যন্তরে বিপদ বা সমস্যাগুলো থেকে যাবেই। হয় সেগুলো সলভ করতে হবে, নতুবা বেপরোয়া হতে হবে। সমাজের সমস্ত রকমের আইন কানুন মেনে নিজের মতো করে বাঁচা যায় না।
দ যে সাহসী সে তো সকলেই জানে। তবে প্রত্যেকের লড়াই আলাদা — এই ক্লিশে হয়ে যাওয়া কথাটা ব্যাপক সত্য।
আমরা যারা প্রিভিলেজহীন হয়ে জন্মেছি, আমাদের জন্যেও এই পৃথিবীতে একটাই আকাশ। আর কী বলব? ভুলবার চেষ্টা করলে পুরোনো কষ্ট আরো বেশি করে উঁকি মারে।
খুবই শক্ত ভুলে থাকা। নিজেকে ভুলিয়ে রাখা।
তার চেয়ে বেপরোয়া বিন্দাস হতে পারলে সে এক আলাদা লেভেলের মজা।
চাপ নিও না। একদম।