এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বল্লালবাটি  - ১ 

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ৭৮ বার পঠিত
  • ( ১ )

    ভাস্বর ব্যানার্জী নদীয়ার মায়াপুরের কাছাকাছি একটা জায়গায় এসেছেন। এটা বল্লাল সেনের ঢিপি থেকেও উত্তর দিকে আরও অন্তত দশ কিলোমিটার দূরে। জায়গার নাম বল্লালবাটি।

    শীত গিয়ে বসন্ত এসেছে। এখন দুপুরবেলা, দিনের তাপে ছ্যাঁকা লাগতে আরম্ভ করেছে এখন থেকেই। ভাস্বরবাবুর সঙ্গে তার এক সহকর্মী এসেছে। রাজর্ষি ঘোষ। সহকর্মী হলেও তার চেয়ে বয়সে প্রায় কুড়ি বছরের ছোট। পঁয়ত্রিশের মতো বয়স হবে।
    প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের কাজে বছরে অন্তত তিনবার ভাস্বরবাবুকে পূর্ব ভারতের নানা জায়গায়
    যেতে হয় সমীক্ষা করার জন্য। সঙ্গী হিসেবে রাজর্ষিকেই সবচেয়ে পছন্দ তার। ওর নামটাই তিনি প্রতিবার সুপারিশ করেন কর্তৃপক্ষের কাছে।
    রাজর্ষি শুধু বুদ্ধিমান এবং অনুসন্ধিৎসু না, অত্যন্ত কর্মঠও বটে।
    রিক্শা ছাড়া গতি নেই। তবে রিক্শাও একটা জায়গা পর্যন্ত এসে চলায় থামা দিল। এবার হেঁটে যেতে হবে। গ্রামের রোদ জল খাওয়া পোক্ত চেহারার একজন মধ্যবয়স্ক লোক একটা গাছতলায় দাঁড়িয়ে ছিল। ধুতি আর ফতুয়া পরা। তার পাশে পাজামা আর লাল ফুলশার্ট পরা আর একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে।
    একটা ছোটখাটো নির্জন শ্যাওলাধরা বয়স্ক মন্দিরের পাশে এসে রিক্শা দাঁড়াতে গাছতলা থেকে দুজন হাসিমুখে এগিয়ে এল।
    ধুতি ফতুয়া পরা মানুষটি বলল, 'নমস্কার স্যার, আসতে কোন কষ্ট হয়নি তো ? '
    ভাস্বরবাবু বললেন, ' না না... ভালোই এসেছি। অসুবিধে কিসের ? কোন দিকে ? '
    রিক্শা থেকে নেমে সুটকেসটা নামিয়ে নিলেন তিনি। রাজর্ষিও নামল। চারদিকে কত নাম না জানা পাখি কিচিরমিচির করছে। ঝিকিমিকি রোদ্দুর।
    ফতুয়া পরা লোকটি বলল, ' আমার নাম সহদেব আর এর নাম কান্তিলাল। হ্যাঁ, এই তো... বেশি দূর নয়। দশ মিনিট... একটু কষ্ট করে হেঁটে যেতে হবে... নে কান্তি মাল তোল... '
    লাল জামা পরা কান্তি ' দিন বাবু ... ', বলে একটা
    স্যুটকেস মাথায় তুলে নিল। আর একটা স্যুটকেস হাতে নিল সহদেব।
    সহদেব বলল, ' চলুন বাবু... '

    প্রায় বারো মিনিট হেঁটে পুরনো পাঁচিল দিয়ে ঘেরা
    প্রাচীন প্রাসাদের মতো একটা অট্টালিকার সিংদরজার সামনে এসে দাঁড়াল। যুগ যুগান্তের রোদজল ঝড় খাওয়া অট্টালিকার ক্ষতবিক্ষত শরীর বোবা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কার্নিশের এখানে ওখানে বটগাছের শিকড় জায়গা খুঁজে নিয়ে থিতু হয়ে বসেছে।
    গেট খুলে সহদেব বলল, ' আসুন স্যার... '
    ---- ' এখানে ? '
    ---- ' হ্যাঁ, এখানেই, তবে ভিতরে, পিছন দিকে। ওখানে আপনাদের মতো বাবুদের থাকার মতো ব্যবস্থা করা আছে। কোন অসুবিধা হবে না স্যার... আসুন... '
    একটুখানি জমি পেরিয়ে প্রাসাদে গিয়ে ঢুকতে হয়। জমি দিয়ে যেতে যেতে ভাস্বরবাবু দেখলেন একজন সাদা পাঞ্জাবী আর পাজামা পরা এক ভদ্রলোক বাঁদিকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে। বয়স্ক মানুষ, গৌর বর্ণ, মাথার চুল সব সাদা।
    ওখানে দাঁড়িয়ে কৌতূহলী চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে ভ্রু ওপরে তুলে। দূর থেকে দেখেই ভাস্বরবাবুর মনে হল চোখের দৃষ্টিতে যেন মজা আর বিদ্রূপ মাখানো।
    অট্টালিকার পিছন দিকটা ভেঙেচুরে সংস্কার করে
    অতিথিনিবাস বানানো হয়েছে। অতিথি বা পর্যটক অবশ্য কেউ আসে না এখানে। মাঝে মাঝে আর্কিওলজিকাল দপ্তর থেকে কর্মী গবেষক বা সমীক্ষকরা আসেন। তাদের এখানে থাকার ব্যবস্থা হয়। শীতাতপনিয়ন্ত্রক ছাড়া মোটামুটি সাধারণ মানের স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যবস্থা আছে। তাছাড়া এখানে ওসব থেকেও কোন লাভ নেই। বিদ্যুৎ চলাচল রীতি এ আবার অঞ্চলে খুবই অনিয়মিত।

    ঘরে ঢুকে মালপত্তর নামিয়ে রাখল কান্তি। ভাস্বরবাবু একশ টাকা বার করে কান্তির হাতে দিলেন। সে লাজুক হাসি হেসে হাত বাড়িয়ে টাকাটা নিল।
    রাজর্ষি বলল, ' এই ঘরগুলো কি প্রাসাদেরই অংশ ছিল ? প্রাসাদ ভেঙে করা হয়েছে ? '
    সহদেব বলল, ' হ্যাঁ স্যার। শোনা যায় প্রাসাদের এদিকটাতেই রাজা বলভদ্র থাকতেন। আমি অবশ্য ঠিক জানি না। কন্দর্পবাবু সব জানেন... '
    ভাস্বরবাবু বললেন, ' কন্দর্পবাবু কে ? '
    ----- ' ওই যে... আমরা ঢোকবার সময় সাদা পাঞ্জাবী পরে যে লোকটা দাঁড়িয়ে ছিল ওই হল কন্দবাবু, মানে কন্দর্প সেন। লোকে বলে ও নাকি রাজা বল্লাল সেনের বংশধর... ও নিজেও তাই বলে... কি মুশ্কিল বলুন দিকিনি...
    ---- ' তাই নাকি ! সত্যি তাই ? কন্দর্প... বেশ প্রাচীন কেতার নাম কিন্তু... তেমন শোনা যায় না...'
    ---- ' কী করে বলব বলুন তো ... এসব কি বলা যায় ? কবে সেই হাজার বছর আগের লোক সেই বল্লাল সেন। তার বংশধরের খোঁজ কে রাখে। তবে, এটা জেনে রাখুন, আপনাদের কাছে ঠিক আসবে। ওকে ছুঁয়ে ফেলবেন না যেন... '
    রাজর্ষি অবাক হয়ে বলল, ' কেন ছুঁলে কী হবে ? '
    ---- ' এই কিছু না... মাথায় কেমন যেন ঘোর লেগে যেতে পারে। কী সব স্বপ্ন দেখা যায় জেগে জেগে। সবাইকে বলে ও নাকি আসলে বল্লাল সেনের ছেলে লক্ষণ সেন... '
    ----- ' আচ্ছা ! কিরকম কিরকম ? তোমার এরকম হয়েছে কখনও ?', ভাস্বরবাবু ভীষণ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন।
    ----- ' হ্যাঁ ওই একবার... যাকগে, ওসব কথা পরে হবে'খন ... আপনারা এখন বিশ্রাম করুন। একটার সময় খাবার দিয়ে যাব। চল কান্তি চল। আপনারা চান করে নিন... '
    কান্তিকে সঙ্গে নিয়ে সহদেব বেরিয়ে গেল।
    রাজর্ষি এবং ভাস্বর দুজনেই বুঝতে পারলেন সহদেব কিছু এড়িয়ে গেল। এগুলো অবশ্য তাদের মাথা ঘামাবার বিষয়ই নয়। কথাগুলো অতি দ্রুত তাদের মাথা থেকে উবে গেল।

    একটু জিরিয়ে নেবার জন্য ভাস্বরবাবু ফ্যানের তলায় বসলেন। বললেন, ' অ্যাজ পার ডকুমেন্টেড ক্রনোলজি আট ন'শ বছর আগেকার
    অ্যানেকডোট। কতটা কী পাওয়া যাবে জানি না।
    তবে দু একটা ভ্যালিড স্পেসিমেন যদি রিট্রিভ করা যায় সেটাই যথেষ্ট... '
    ---- ' হ্যাঁ সেটাই। মার্কড স্পটটা এখান থেকে কতটা দূরে হবে ? '
    ----- ' যতদূর জানি... খুব কাছেই। এক কিলোমিটারের মধ্যে। ওই যে কী নাম বলল, সহদেব না কী, ওই স্পটে নিয়ে যাবে কাল সকালে। ম্যাপটা দেখতে হবে। যাক, সেটা কাল সকালে হবে। মনে হচ্ছে তিন দিনের মতো লাগবে। তার আগে বোধহয় কমপ্লিট হবে না। বিকেলে জায়গাটা একটু ঘুরে দেখলে হয় ... '
    ----- ' রাইট স্যার, জায়গাটা বেশ প্লেজ্যান্ট... বেশ একটা আনক্যানি স্মেল আছে... '
    ----- ' আনক্যানি স্মেল ? ' ভাস্বরবাবু ভ্রু ওপরে তুললেন।
    ---- ' হ্যাঁ স্যার.... ঠিক এক্সপ্লেন করতে পারব না। কিন্তু এখানে পৌঁছনোর পর থেকে, পার্টিকুলারলি এ বিল্ডিংটায় ঢোকার পর থেকে কিরকম একটা
    সেনসেশান হচ্ছে ... '
    ---- ' কী আশ্চর্য ! আমারও ঠিক তাই। আয়্যাম হ্যাভিং দা সেম কাইন্ড অফ ফিলিং .... অ্যাটমস্ফিয়ারে একটা যেন সিরসিরে ভাব। আসলে এটা কিছু না। সবে একটা নতুন অ্যান্টিক স্পটে এসেছি তো। সাবকনশাস মাইন্ডে একটা অবসেসান তো আছেই। তাই হয়ত ... '
    ----- ' কিন্তু স্যার আগের কোন স্পটে তো এরকম ফিলিং হয়নি... '
    ভাস্বরবাবু কথাটা স্বীকার করে নিয়ে বললেন, ' হুঁ... তা অবশ্য ঠিক। তবে ভেরি করে... ভেরি করে... '

    এদের দুজনেরই দুপুরে ঘুমোনোর অভ্যাস নেই। ভাস্বরবাবু স্যুটকেস থেকে ম্যাপটা বার করলেন। খুলে চোখ বোলাতে লাগলেন।
    ----- ' এই যে... এখান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে ওই স্পটটা। জায়গাটার নাম এখানে দেখাচ্ছে পেখম। একসময়ে হয়ত ময়ূরের মুক্তাঞ্চল ছিল ওটা। এটাই আমাদের এক্সপ্লোর করতে হবে। স্পটের ধার ঘেঁসে বেশ বড়সড় একটা জঙ্গল আছে... '
    ---- ' আমাদের টিমটা একটু বড় হলে ভাল হত। কতটা এরিয়া কভার করতে হবে কে জানে... ' রাজর্ষি বলল।
    ভাস্বরবাবু ঠিক একমত হলেন না।
    বললেন, ' না না... এই ঠিক আছে। অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট। আমরা রিপোর্টটা দিই আগে। তারপর যদি টিম পাঠায় পাঠাবে ... '
    ----- ' হমম্ ... তা হবে... '

    খাওয়া দাওয়া সেরে একটু কথাবার্তা বলতে বলতে ঘড়িতে চারটে বেজে গেল। ভাস্বরবাবু বললেন, ' চল রাজর্ষি... একটু ঘুরে আসি। ঘরে বসে থাকার জন্য তো এখানে আসিনি। অ্যামবিয়েন্সটার টেস্ট নেওয়া যাক। শুনেছি এখানে বাতাসের কনায় কনায় নাকি ইতিহাসের গন্ধ... '
    ---- ' চলুন দেখা যাক ... '
    নানা আগাছা এবং ঘাসে ছাওয়া ইঁট বেরোন মাটির রাস্তা। রাজর্ষি এবং ভাস্বর ব্যানার্জী হাঁটতে লাগলেন দক্ষিণ পশ্চিমে পেখমের দিকে। শেষ বিকেলের রোদ এসে পড়েছে গাছের পাতায়। অনেক পাখ পাখালির ডাক শোনা যাচ্ছে। কূলায় ফেরার সময় হয়ে এল। দুপাশের গাছের শুকনো ঝরা পাতা ছড়িয়ে আছে রাস্তায়। পথে কেউ নেই। নির্জন পরিপার্শ্ব। নিজেদের পথ চলার আওয়াজ নিজেরা পেতে লাগলেন ওরা। প্রায় দশ মিনিট হাঁটার পর রাজর্ষি বলল, ' ওই যে ওখানে জঙ্গলটা দেখা যাচ্ছে। ওটার পাশেই হবে মনে হচ্ছে... '
    ----- ' হমম্...তাই তো মনে হচ্ছে। চল তো দেখি... '
    আরও কয়েক পা এগোনোর পরে রাজর্ষি বলল, ' আরে ... ওই দেখুন স্যার... '
    ----- ' কী ? '
    ----- ' সেই লোকটা দাঁড়িয়ে আছে... '
    ভাস্বরবাবু বললেন, ' কই ? '
    রাজর্ষি অবাক হয়ে বলল, ' ওই তো... সাদা পাঞ্জাবী পরা সাদা চুলের ফর্সা লোকটা... আমাদের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে। কেন, আপনি দেখতে পাচ্ছেন না ? '
    ----- ' না তো... ওখানে তো খোঁটায় বাঁধা সাদা একটা গরু মাথা নীচু করে ঘাস খাচ্ছে। ওর মালিক নিশ্চয়ই একটু পরে এসে ঘরে নিয়ে যাবে... '
    রাজর্ষি বেশ ঘাবড়ে গিয়ে বলল, ' স্ট্রেঞ্জ ! '
    ----- ' কেন, কি হল ? '
    ----- ' না মানে... ', রাজর্ষি আঙুল দেখিয়ে বলল, '
    ওই তো দেখুন না... ওই তো দাঁড়িয়ে আছে... গরু টরু কিছু নেই... দেখতে পাচ্ছেন না ? '
    ভাস্বরবাবু বললেন, ' দাঁড়াও দাঁড়াও... '
    দুজনে নির্জন মেঠো পথের একধারে দাঁড়িয়ে পড়ল। ভাস্বরবাবু অবাক হয়ে তার জুনিয়র রাজর্ষির মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। পশ্চিম দিকে লাল আলো ছড়িয়ে সূর্য পাটে যাবার তোড়জোড় করছে।
    ভাস্বরবাবু বললেন, ' আচ্ছা ঠিক আছে চল এগোই... '
    ভাবলেন কোন কারনে রাজর্ষির সাময়িক দৃষ্টিবিভ্রম, মানে ভিসুয়াল হ্যালুসিনেশান হচ্ছে। এটা সাধারণত মিনিট তিনেকের বেশি স্থায়ী হয় না, এটা তিনি জানেন। তার এক আত্মীয়ের এ ধরণের সমস্যা হয়েছিল বছরখানেক আগে। তখন শুনেছিলেন শরীরের মধ্যেকার নানা রাসায়নিক উপাদান, বিশেষ করে ডোপামাইনের তারতম্য থেকে এরকম সাময়িক বিভ্রম আসতে পারে।
    তিনি বললেন, ' রাজর্ষি... এখন ঠিক আছ তো ? ওদিকে আর যাবে, না ফিরে যাবে ? '
    রাজর্ষি কিন্তু একদম স্বাভাবিকভাবে বলল, ' কেন কী হয়েছে ? আমি তো ঠিকই আছি... '
    ভাস্বরবাবু বললেন, ' এখন কাউকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে ? '
    রাজর্ষি সামনের দিকে তাকিয়ে এদিক ওদিক চোখ বুলিয়ে বলল, ' না... এখন তো দেখতে পাচ্ছি না, ওখানেই ছিল লোকটা। যাকগে, চলুন... '
    ভাস্বরবাবু দোনামোনা করতে লাগলেন। গরুটা এখনও ঘাস খেয়ে যাচ্ছে। মনে একটা অস্বস্তি খোঁচা মারছে। চল, এখন ফিরেই যাই। খানিকটা ঘোরা তো হল। কাল সকাল থেকে নয় কাজ শুরু করা যাবে.... '
    ----- ' বেশ, চলুন ... ', রাজর্ষি অরাজি হল না।

    দোতলায় উঠে নিজেদের ঘরের সামনে পৌঁছল ওরা। ভাস্বরবাবু পকেট থেকে চাবি বার করে তালায় ঢুকিয়ে ঘোরাতে লাগলেন তালা খোলার জন্য। কিন্তু চাবি ঠিকমতো ঘুরছে না। কেমন যেন এদিকে ওদিকে গাঁটে আটকে যাচ্ছে।
    ভাস্বরবাবু বললেন, ' আরে, দুত্ত্যারিকার ... এ তো মহা মুশ্কিল ! '
    রাজর্ষি বলল, ' কী হল স্যার... খুলছে না ? দেখি আমায় দিন তো... '
    রাজর্ষি তালায় চাবি ঢোকাল। কিন্তু লাভ কিছু হল না।
    রাজর্ষি বলল, ' নাঃ, মহা হ্যাজার্ড হল তো... '
    ----- ' এক্জ্যাক্টলি। ধারে কাছে তো কাউকে পাওয়া যাবে বলে মনে হচ্ছে না... লোকের মধ্যে তো ওই সহদেব আর তার সঙ্গের ওই ছেলেটা... কী যেন নাম ... '
    ----- ' কান্তিলাল... '
    ---- ' হ্যাঁ, ওই। তাদের তো রাতের খাবার দেবার সময় না হলে দেখা পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। সে তো... রাত ন'টার আগে নয় নিশ্চয়ই... ভাস্বরবাবু বললেন।
    ---- ' তাই তো মনে হচ্ছে... '
    ----- ' ওহ্ মাই গড ! ততক্ষণ কি আমরা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকব ? এসব সাইটগুলো এত পান্ডববর্জিত, ডেসার্টেড কী বলব... ' ভাস্বরবাবুকে হতাশ দেখায়।
    বারান্দায় একটা টিউবলাইট জ্বলছে। অন্তত পনের ফুট লম্বা বারান্দা। একটা মাত্র আলো। বাইরে ঘুরঘুট্টি অন্ধকার নেমে গেল। ভাস্বরবাবু ভাবলেন, কী চমৎকার সরকারি ব্যবস্থা... তারা কি মানুষ ! নামেই আর্কিওলজিস্ট। একটা ফুলটাইম কেয়ারটেকার পর্যন্ত নেই। একটা জং ধরা তালা খোলবার উপায় পর্যন্ত নেই ... রাবিশ!
    ভাস্বরবাবুর মনে নানারকম ক্ষোভ জেগে উঠতে লাগল।
    রাজর্ষি বলল, ' সহদেবের কোন মোবাইল আছে বলে তো মনে হয় না। আর থাকলেই বা কী... নাম্বার তো নেওয়া হয়নি। বোকামো হয়ে গেছে। জিজ্ঞেস করা উচিৎ ছিল... '
    ----- ' সেটা ঠিকই। কিন্তু তালাটা এভাবে জ্যাম হয়ে গেল কী করে। লাগাবার সময় তো কোন অসুবিধে হয়নি... স্ট্রেঞ্জ ! '
    ঠিক সেই সময়ে তার পাশ থেকে কে একটা বলল, ' তালা খুলছে না বুঝি... দেখব আমি ? '
    ভাস্বরবাবু ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলেন সাদা চুলওয়ালা কন্দর্প দাঁড়িয়ে আছে হাসি হাসি মুখে। তিনি রাজর্ষির দিকে তাকালেন। রাজর্ষি বিড়বিড় করে বলল, ' আরে... এ কখন এল এখানে। উড়ে এল নাকি ? এই দেখলাম ওখানে ! খুব স্পীডি বলতে হবে ... '
    ভাস্বরবাবু লোকটিকে একবার আপাদমস্তক চোখ বুলিয়ে নিলেন। বললেন, ' অ্যাঁ ... তা... দেখতে পারেন... এই নিন... '
    ভাস্বরবাবু চাবিটা বাড়িয়ে দিলেন কন্দর্পের দিকে।
    কন্দর্প বলল, ' ওটা লাগবে না... সরুন দেখি... ', বলে দুজনকে আলতো ঠেলা মেরে দুপাশে সরিয়ে দিল। কন্দর্পর হাতের ছোঁয়া লাগা মাত্র রাজর্ষি এবং ভাস্করবাবুদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত একটা শিহরণ বয়ে গেল এক মুহূর্তের জন্য।
    কন্দর্প তালাটা ধরে একটু এদিক ওদিক নাড়াচাড়া করতে তালা খুলে গেল।
    ---- ' যান... অপদার্থ সব। আলো জ্বালুন... সেন বংশের প্রাসাদ ভেঙে ঘর তোলা... সব দেখছে লক্ষণ সেন ... ঘরে যে ঢুকবে, তার একটা থাকবে একটা যাবে.... যাই এখন ... '
    সাদাচুলো কন্দর্প থপথপ করতে করতে বারান্দার একদিকে চলে গেল। তারপর আর দেখা গেল না। ভাস্বরবাবু বললেন, ' স্ট্রেঞ্জ স্ট্রেঞ্জার ! চল ঘরে যাই... '
    রাজর্ষি কেমন ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে রইল ভাস্বরবাবুর দিকে।
    ভাস্বরবাবু আবার বললেন, ' নাও চল.... অত ভাবছ কী? লোকটাকে কাল্টিভেট করতে হচ্ছে... রিয়েলি ইন্ট্রেস্টিং... '
    রাজর্ষি হঠাৎ যেন ঘুম থেকে জেগে উঠল আচমকা। বলল, ' হ্যাঁ চলুন চলুন... '
    ভাস্বরবাবু ভাবলেন, লোকটার কথাগুলো সব হেঁয়ালি মার্কা। যে ঘরে ঢুকবে, তার একটা থাকবে একটা যাবে... এর মানেটা কী ?
    মানে যাই হোক ভাস্বরবাবুর কেমন গা ছমছম করে উঠল এই নির্জন আলো আঁধারি পরিবেশে দাঁড়িয়ে। তিনি তাড়াতাড়ি ঘরে ঢুকে আলো জ্বেলে দিলেন।

    রাজর্ষি এক গ্লাস জল খেল। বলল, ' বল্লালবাটিতে তো যতদূর জানি লাস্ট সার্ভে হয়েছিল এগারো বারো বছর আগে ... '
    ভাস্বরবাবু জামাটা ছেড়ে আর একটা চেয়ারে বসলেন। একটা সিগারেট ধরালেন। এ অভ্যাসটা এখনও ছাড়তে পারেননি।
    বললেন, ' প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ আমবাগানের মধ্যে। হ্যাঁ ঠিকই বলেছ। দশ বছরের মধ্যে আমাদের ডিপার্টমেন্ট থেকে কোন সার্ভে হয়নি। সে আমলে নাকি ওখানে ওই আমবাগানের জায়গাটা দিয়ে গঙ্গা বইত। কাল একটু সকাল সকাল বেরোব। অনেক কিছু কালেক্ট করার আছে। যথেষ্ট সময় লাগবে... '
    ----- ' বিজয় সেনের ছেলে বল্লাল সেন তো যতদূর জানি কর্ণাটকের চালুক্য ডাইন্যাস্টির এক মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন... '
    ----- ' হ্যাঁ, তার নাম বামাদেবী। বল্লাল সেনের জন্ম আনুমানিক একহাজার তিরিশ সালে। রাজত্বকাল মোটামুটি এগারোশ' ষাট থেকে এগারোশ' উনআশি। তার রাজধানী ছিল নবদ্বীপ। সেন বংশের শেষ রাজা কেশব সেন। বল্লাল সেনের ঢিপি এক্সক্যাভেট করলে অনেক কিছু জানা যেত। কিন্তু কি আর করা হচ্ছে। আমরা তো শুধু রেকি করতে এসেছি। আমাদের রিপোর্ট পাবার পর চাকা আবার কতদিনে গড়াবে ঈশ্বরই জানেন... '
    ----- ' সেটাই হল কথা... ', রাজর্ষি একমত হয়।
    ---- ' এখন আমাদের কাজটা ঠিকমতো করে যেতে পারলে হয়... '
    ---- ' কেন, আপনার কোন ডাউট হচ্ছে ? আমাদের ডিজাইন তো ফেয়ারলি ফুলপ্রুফ আছে... '
    ---- ' তা আছে। তবে ডিজাইনের বাইরেও তো কিছু থাকে... ' ভাস্বরবাবু বললেন।
    ----- ' হ্যাঁ তা থাকে। সেটা অন দা স্পট গ্যাদার করতে হবে... '
    ----- ' না না আমি ঠিক স্পট পিকিংয়ের কথা বলছি না... '
    ----- ' তাহলে ? '
    ---- ' ঠিক বোঝাতে পারছি না। আই অ্যাম ফিলিং সামথিং এসোটেরিক... '
    ----- ' মানে ফিশি ? '
    ----- ' হ্যাঁ, ওইরকমই... আনক্যানি ফিলিং... '
    ----- ' পরিবেশের প্রভাবে মনে হয়। পরিবেশটাই কীরকম অদ্ভুত ... ' রাজর্ষি বলল।
    ----- ' সবচেয়ে অদ্ভুত হল ওই কন্দর্প সেন... কেমন যেন স্পুকি ধরণের। যাকগে, এখন দেখা যাক সহদেব কখন খাবার নিয়ে আসে ... '

    সহদেব এল সাড়ে আটটার সময় ভাত, রুটি, একরকম পাঁচমিশেলি তরকারি আর দেশি মুরগির ঝোল নিয়ে। খাবারের পাত্রগুলো টেবিলের ওপর নামিয়ে রাখল।
    সহদেবকে দেখে রাজর্ষিদের মনে যেন একটা স্বস্তির অনুভূতি হল।
    ভাস্বরবাবু বললেন, ' সহদেব তোমাদের এ জায়গাটা মোটেই সুবিধের নয়। কেমন যেন গা ছমছম করে... '
    সহদেব কথাটার কোন বিরোধিতা করল না। মৃদু হেসে বলল, ' তা হতে পারে। কি আর করা যাবে বলুন বাবু ... সাত পুরুষের ব্যাপার... '
    ----- ' সাত পুরুষের ব্যাপার... মানে ? '
    ---- ' বিজয় সেনের ছেলে হল গিয়ে আমাদের বল্লাল সেন। বল্লাল সেনের ছেলে লক্ষণ সেন, তারপর আরও অনেক সেন এল গেল... শেষ রাজা কেশব সেন... এসব তো আপনারা জানেন... এদের আগে পালেরা ছিল... '
    ----- ' হ্যাঁ, এসব জানি.... পালেরা মানে পাল রাজবংশ তো ? ' ভাস্বরবাবু বললেন।
    ---- ' ঠিক ঠিক আপনারা তো এসব জানবেনই.... '
    বলে সহদেব চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। ঘরে নিস্তব্ধতা, ঝিমোনো আলো। বাইরেও নিঝুম, ঝিঁঝিঁ ডাকছে একটানা।
    সহদেব নিস্তব্ধতা ভাঙল।
    ---- ' চেনেন না শুধু কন্দর্প সেনকে... '
    ----- ' কন্দর্প... মানে, সাদাচুলো ফর্সা বুড়োটা ? '
    ----- ' এখানে এসেছিল তো একটু আগে... '
    ----- ' হ্যাঁ হ্যাঁ... তোমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল নাকি ?'
    ----- ' না না... আমার সঙ্গে কী করে দেখা হবে ? ওনাকে কি ইচ্ছেমতো দেখা যায় ? '
    ----- ' তাহলে তুমি কী করে জানলে ? '
    ----- ' আমাদের জানা কথা। কেউ এখানে এলেই উনি আশেপাশে ঘোরাঘুরি করেন। আসলে এখানে কারও আসাই উনি পছন্দ করেন না। সেন বংশের বংশধর তো। সেন বংশের জমিতে কারও পা রাখা উনি একেবারেই পছন্দ করেন না। প্রাসাদ ভেঙে এই গেস্ট হাউস বানানোটাই ওনার বোধহয় পছন্দ নয়। এর আগে একজন ঠিকেদারকে নিয়েছিল। সে আর বাড়ি ফিরে যেতে পারেনি। আপনারা যে ক'দিন আছেন একটু সাবধানে থাকবেন... '
    ----- ' একজন ঠিকেদারকে নিয়েছিল, মানে ? '
    ---- ' মানে, ওই... ওই যে বললাম... সে আর বাড়ি ফিরে যেতে পারেনি। যারা আসে তাদের মধ্যে একজন আর বাড়ি ফিরে যায় না। যে দেখে সে ফেরে। আমি এখন যাই বাবু... রাত বেড়ে যাচ্ছে। টর্চটা খারাপ হয়ে গেছে। অন্ধকারে অনেকটা রাস্তা যেতে হবে। যাই আমি। বাসনপত্র কাল নিয়ে যাব ... '
    সহদেব হঠাৎ ঝড়ের বেগে বেরিয়ে গেল।

    ভাস্বরবাবু বললেন, ' কী বুঝলে ? '
    রাজর্ষি বলল, ' কেমন গোলমেলে কথাবার্তা। এরকম এক্সপিরিয়েন্স আগে কখনও হয়নি... '
    ----- ' হ্যাঁ গোলমেলে তো বটেই ... বেশ ইনসিকিউরডও ফিল করছি। আচ্ছা রাজর্ষি ... তুমি সত্যি কি ওই কন্দর্পকে বিকেলে রাস্তায় দেখেছিলে ? তোমার কোন ভুল হচ্ছে না তো ? '
    ----- ' একদম একদম... পরিষ্কার দেখেছি। তাই তো অবাক হয়ে গেলাম, এত তাড়াতাড়ি এখানে পৌঁছল কী করে ? অন্য কোন রাস্তা দিয়ে এল নাকি ? তারপর ওই তালা খোলার ব্যাপারটা... '
    ভাস্বরবাবু চিন্তিত মুখে বললেন, ' তাই তো... তবে আমি কিন্তু কাউকে দেখতে পাইনি... '

    রাত দশটা নাগাদ ওরা আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়লেন। ভাস্বরবাবুর ঘুম আসছিল না। এপাশ ওপাশ করছিলেন। অপরিচিত জায়গা, সেটাই স্বাভাবিক। কাল সকালে স্পটে গিয়ে কী কী করণীয় মনে মনে সাজিয়ে নিচ্ছিলেন। কাল এবং পরশু দুটো দিন ভালয় ভালয় কাটলে তবে স্বস্তি। পরশুদিন দুপুরের দিকে এখান থেকে রওয়ানা দেবার কথা। ঘুম আসছিল না, অন্ধকার ঘরে তিনি উসখুস করছিলেন।
    বাইরেও নিঝুম রাত।
    ঝিঁঝিঁ ডাকছে একটানা। ক'টা কুকুর হঠাৎ ডাকতে আরম্ভ করল।
    ( পরের পর্বে শেষ )

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • rina chakraborty | ২৬ আগস্ট ২০২৬ ২২:০৬742390
  • প্রত্নতাত্ত্বিক সমীক্ষার নামে এক গা ছমছমে রহস্যের মুখে ভাস্বরবাবু ও রাজর্ষি। সহদেবের সেই ভয়ার্ত সতর্কবার্তা—'যে দেখে সে ফেরে, একজন আর বাড়ি ফেরে না'—গল্পের পরের পর্বের জন্য এক অদ্ভুত উৎকণ্ঠা তৈরি করল।
  • Ranjan | ২৭ আগস্ট ২০২৬ ০৫:৩২742394
  • দারুণ লাগছে অঞ্জন বাবু l
     
    যে দেখে সে ফেরে!
     
    আমি দেখার অপেক্ষায় আছি l
  • Anjan Banerjee | ২৭ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৩৪742396
  • Ranjan
    আচ্ছা বেশ
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত প্রতিক্রিয়া দিন